• ই-পেপার

কেন অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন, মুখ খুললেন কোহলি

ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, আশা তামিমের

ক্রীড়া ডেস্ক
ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, আশা তামিমের
তামিম ইকবাল ও বিরাট কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ভারত ক্রিকেট দলের। প্রায় ৪ বছর পর এটিই হবে ভারতীয় দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। 

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এ বছর বাংলাদেশ দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডেরও সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের বাংলাদেশে খেলতে আসা পুরোপুরি নির্ভর করছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর। 

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের আশা, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়াবে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তামিম বলেছেন, ‘এ বছর ভারতের বিপক্ষে একটি নির্ধারিত সিরিজ রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী যে, ভারত বাংলাদেশে এসে পুরো সিরিজ খেলবে। এটি এমন একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, যা বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই উপভোগ করে। দর্শকরা মাঠে আসে এবং দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখা যায়। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছিল। এই দুই দেশ যখনই খেলে, বিশেষ করে ভারত যখন বাংলাদেশ সফরে আসে, তখন সেটি সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়।’

নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান তামিম, ‘সমস্যা সবসময়ই থাকবে এবং সেগুলো সমাধান করার দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। এখন আমাদের নতুন ক্রিকেট বোর্ড আছে এবং একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলবে। অন্য যাই হোক না কেন, ক্রিকেটের জয় হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সেজন্যই কাজ করতে চাই।’

বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি ওয়ানডে এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি হওয়ার কথা। 

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিকে অনেক আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন। ভারতের এই দুই মহাতারকা এখন শুধু ওয়ানডে খেলছেন। আশা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের সিরিজেও তারা খেলবেন। ভারতের স্কোয়াডে থাকলে এটিই হতে পারে কোহলি-রোহিতের শেষ বাংলাদেশ সফর। 

অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
অবসর ভেঙে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন নয়্যার। ছবি : রয়টার্স

পুরান চাল ভাতে বাড়ে—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদে বিশ্বাস রাখছে জার্মানি। বয়স ও অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফিরিয়েছে তারা। বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষককে রেখে আজ ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ হুলিয়ান নাগেলসমান।

২০২৪ ইউরো শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন নয়্যার। সে সময় ছন্দে থাকলেও বয়সটা তো কম হয়েছিল না তার। নতুনদের সুযোগ দিতে তাই ৩৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। নিজে সরে গেলেও জার্মান দল তার পিছু ছাড়ছে না। 

 

তাই তো ৪০ বছর বয়সী নয়্যারকে দরকার পড়ছে জার্মানির। তিন কাঠির নিচে তার ওপরই বিশ্বাস রাখতে চান নাগেলসমান। শিষ্যকে ফেরানোর বিষয়ে অন্য গোলরক্ষকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানান জার্মান কোচ। বিশেষ করে এতদিন গোলবারের নিচে প্রথম পছন্দ ওলি বাউমানকে তিনি জানিয়েছেন। নাগেলসমান বলেছেন, ‘মার্চের দিকে আমরা ওলিকে জানিয়েছি, মনুর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দেশের সেরা তিন গোলরক্ষকের দিকে নজর রাখাই আমার কাজ।’  

২ বছর আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও গ্লাভসে ধুলো জমতে দেননি নয়্যার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ সব সেভ করে তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তার ফেরার দিনে জার্মান দলে চমক হিসেবে আছেন লেনার্দ কার্ল। বায়ার্নের হয়ে এ মৌসুমের নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। যদিও ৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্টে তার পারফরম্যান্স পুরোটা ফুটে উঠবে না।

এদের বাইরে পরিচিতমুখরাই দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে নাগেলসমানের দলে জায়গা হয়নি গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানের মতো তারকার। জিরোনায় লোনে থাকা বার্সেলোনার সাবেক গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদ পড়েছেন রবার্ট এন্ডরিচ, নিকোলাস ফুলক্রুগ ও করিম আদেয়েমির মতো পরিচিত মুখরা।

জার্মানির বিশ্বকাপ দল :

গোলরক্ষক : ম্যানুয়েল নয়্যার, অলিভার বাউম্যান ও আলেকজান্ডার নুবেল।

রক্ষণভাগ : জোনাথান তাহ, জশুয়া কিমিখ, নিকো শ্লটারবেক, আন্তোনিও রুডিগার, ডেভিড রাউম, নাথানিয়েল ব্রাউন, ভালদেমার আন্তন ও ম্যালিক থিয়াও।

মধ্যমাঠ : প্যাসকাল গ্রস, লেয়ন গোরেৎস্কা, আলেকজেন্ডার পাভলোভিচ, ফেলিক্স নমেচা, নাদিয়েম আমিরি ও অ্যাঞ্জেলো স্টিলার।

আক্রমণভাগ: কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টমেড, দেনিজ উন্দাভ, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস, লেনার্ট কার্ল, জেমি লেভেলিং (২৫, স্টুটগার্ট), লিরয় সানে ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ার।

মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

ক্রীড়া ডেস্ক
মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

২০২৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক পরিবর্তন করে। হিটম্যান রোহিত শর্মার উত্তরসূরি হিসেবে তরুণ তারকা হার্দিক পান্ডিয়ার নাম ঘোষণা করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেই সময়ে এই পদক্ষেপটি যুক্তিযুক্ত ছিল। রোহিত আর আগের মতো সাফল্য পাচ্ছিলেন না এবং মুম্বাইও টানা তিনটি মৌসুম কোনো শিরোপা ছাড়াই কাটিয়েছিল। অন্যদিকে হার্দিক গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল । ২০২২ সালে দলটিকে আইপিএল শিরোপা জেতানোর পর পরের মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েছিলেন।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মৌসুমের খারাপ সময় পেছনে ফেলতে হার্দিককে অধিনায়ক করা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পয়েন্ট তালিকায় একবারে তলানিতে রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? 

এ নিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মুরলী কার্তিক এবং মনোজ তিওয়ারির জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের সিদ্ধান্ত একবারেই সঠিক ছিল না। কারণ তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা এড়াতে মুম্বাই লখনউর সঙ্গে লড়ছে, তাতে পান্ডিয়ার আগমন ভালোর চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৫ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

তারা আরো বলেছেন, মুম্বাই এমন একজন অধিনায়ক সরিয়ে দিয়েছিল, যে কিনা পাঁচটি শিরোপা জয় করেছিলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য। দেশের হয়ে টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন। তাকে সরিয়ে দিলে সমস্যা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। 

যেখানে রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহ এবং সূর্যকুমার যাদবের মতো তারকারা থাকার পরেও বাইরে থেকে একজনকে এনে অধিনায়ক করলে, তার প্রভাব ড্রেসিং রুমে পড়েই। তাই হয়েছে। হার্দিকের এমন আচমকা আসা ড্রেসিংরুমে ভালোভাবে গৃহীত হয়নি বলে যোগ করেন কার্তিক।

অধিনায়ক হিসেবে ৩৮টি ম্যাচে হার্দিক জিতেছেন মাত্র ১৫টি, জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৪৭ শতাংশ, যা ১০টির বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মুম্বাই অধিনায়কদের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

সূর্যকুমার যাদব এবং জসপ্রিত বুমরাহর মতো একাধিক নেতৃত্বের দাবিদার সুযোগের অপেক্ষায় থাকায় কেনো হার্দিক আনতে হলো এর প্রশ্নও অজানা এই দুই সাবেক ক্রিকেটারের কাছে।

‘নাশতার টেবিলে লিটন-রিজওয়ানের ঝামেলা মিটমাট করে দিয়েছি’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নাশতার টেবিলে লিটন-রিজওয়ানের ঝামেলা মিটমাট করে দিয়েছি’
সিলেট টেস্টে লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াইয়ের মুহূর্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট টেস্টে শুধু ব্যাট-বলের লড়াইই দেখেননি দর্শক-সমর্থকরা। দেখেছেন বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে তর্কযুদ্ধও। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে লিটন দাসের কথার লড়াই তো বেশ জমে উঠেছিল।

দুজনের তর্ক-বিতর্ক থামাতে পরে আম্পায়ারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাতে অবশ্য শেষ হয়নি। কেননা আম্পায়ারের হস্তক্ষেপের পর রিজওয়ানকে স্লেজিং করতে লিটনের সঙ্গে যুক্ত হন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমও। তবে মাঠে না হলেও নাস্তার টেবিলে তাদের ঝামেলা শেষ হয়েছে এমনটা দাবি করছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।

রিজওয়ান-লিটনের দ্বন্দ্ব মিটমাট করার বিষয়টি পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে জানিয়েছেন মুশতাক। তিনি বলেছেন, ‘নাশতার টেবিলে রিজওয়ান-লিটনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা মিটমাট করে দিয়েছি। তাদের মধ্যে আর কোনো সমঝোতা নেই।’

 

দলের কৌশল অনুসরণ করতে গিয়ে রিজওয়ান-লিটন মনোযোগ হারিয়ে ফেলায় এমনটা হয়েছে জানিয়ে মুশতাক বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সে (রিজওয়ান) কৌশলগতভাবেই এটা (বোলারদের থামিয়ে দেওয়া) করে যাচ্ছিল। প্রতিপক্ষকে হতাশায় ডুবাতে কিছু বিষয় সে জেনেবুঝেই করে। সে সময় তাই নিজেদের বলয় থেকে বেরিয়ে এসেছিল। খেলার পরিকল্পনা দূরে সরে গিয়েছিল এবং মনোযোগ হারিয়েছিল তারা।’

লিটনকে পরামর্শও দিয়েছেন মুশতাক। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ বলেছেন, ‘আমি তাকে (লিটন) সীমা অতিক্রম না করার পরামর্শ দিয়েছি। সঙ্গে অন্যায্য মন্তব্য না করারও।’

তবে স্লেজিংকে টেস্ট ক্রিকেটের অংশ মনে করে মুশতাক বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যের একটা অংশ এটি। একপক্ষ আরেকপক্ষকে হতাশ এবং টিজ করবে। প্রতিপক্ষকে তাদের পরিকল্পনা এবং মাইন্ডসেট থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করবে। কৌশলগতভাবে এটি একটি স্মার্ট পন্থা। এমনটা অস্ট্রেলিয়ানরা প্রচুর করে।’

সিলেট টেস্টে লিটন-রিজওয়ানের মধ্যেকার কথা কাটাকাটি ধরা পড়েছে স্টাম্প মাইকে। সেটাই নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো—লিটন ‘কি হলো? কি করছেন?’ রিজওয়ান ইশারা দিয়ে বলেন, ‘তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।’

 

লিটন এবার বলেন, ‘প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।’ রিজওয়ানের উত্তর, ‘এরকম তো হচ্ছেই…!’ লিটনের উত্তর, ‘ওদিকে তাকানোর কি দরকার? ব্যাটিং করুন…!’ উত্তেজিত কণ্ঠে রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোমার কাজ?’ লিটনের উত্তর, ‘আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।’ 

আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে সে সময় মিটমাট হওয়ার পর ম্যাচ শুরু হলে লিটনের সঙ্গে এবার যোগ দেন অধিনায়ক শান্ত। শুরুটা লিটন করেন এভাবে, ‘কিছু রান করেছে, এখন অভিনয় শুরু করে দেবে।’ শান্ত বলেন, ‘অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখা হবে।’