• ই-পেপার

মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অঘটন ঘটাবে অস্ট্রিয়া! ভিন্ন পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অঘটন ঘটাবে অস্ট্রিয়া! ভিন্ন পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ম্যাচে চমক দেখাতে পারে রাল্ফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের ধারণা, আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করতে পারেন লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ, আর অস্ট্রিয়ার হয়ে জালের দেখা পেতে পারেন মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক করেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল পেলেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৬ ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। টানা আট জয়ের ধারায় থাকা আর্জেন্টিনা এই ম্যাচেও ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে।

তবে অস্ট্রিয়াকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, গত ১২ ম্যাচে ১০ জয় তুলে নিয়েছে রাংনিকের শিষ্যরা। এই সময়ে তাদের একমাত্র হারটি এসেছে রোমানিয়ার বিপক্ষে।

বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, অস্ট্রিয়ার হাই-প্রেসিং ফুটবল আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সেট-পিস থেকে তারা বিপদ তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। যদি মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়, তাহলে বড় অঘটন ঘটাতেও পারে ইউরোপের দলটি।

তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মেসি। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই কিংবদন্তি এখন নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তার পা থেকে আরেকটি গোল এলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার মুকুট এককভাবেই মাথায় উঠবে।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল অপ্টা

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল অপ্টা
অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক ডেভিড আলাবা ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ‘জে’-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি অস্ট্রিয়া। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াইয়ের আগে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা।

২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়ে অপ্টার সুপারকম্পিউটার বলছে, ম্যাচটিতে পরিষ্কার ফেবারিট আর্জেন্টিনা। তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৬১.১ শতাংশ। অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ, আর অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৭ শতাংশ।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এখন তার গোলসংখ্যা ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।

শুধু গোলের রেকর্ড নয়, টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা তৃতীয় ফুটবলার হওয়ার সুযোগও রয়েছে মেসির সামনে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেইন ও ব্রাজিলের জর্জিনহো।

তবে অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাল্ফ রাংনিকের দল প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা টানা চার ম্যাচ জয়ের ধারায় রয়েছে। গত ১২ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয় ১০টিতে।

দুই দলই প্রথম ম্যাচ জিতেছে। ফলে এই ম্যাচের জয়ী দল নকআউট পর্বের পথে বড় সুবিধা পাবে। তবে পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখছে অপ্টার সুপারকম্পিউটার। 

সালাহ-জাদুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় মিশরের

ক্রীড়া ডেস্ক
সালাহ-জাদুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় মিশরের
ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেন সালাহ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মিশর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোল পিছিয়ে থাকা অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল। এই জয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিসরের জন্য সুখকর ছিল না। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। প্রথমার্ধজুড়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি মিশর। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে এক ভিন্ন মিশর। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে সমতায় ফেরে দলটি। ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হানির দারুণ ক্রসে হেডে জাল খুঁজে নেন মোস্তফা জিকো।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মিসর। ৬৭ মিনিটে দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ জ্বলে ওঠেন। জিকোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে মিশরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর ৮১ মিনিটে সালাহর আরেকটি নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় ট্রেজেগে। সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় মিশরের জয়।

ম্যাচে এক গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন সালাহ। অধিনায়কের নেতৃত্বে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মিশর। অন্যদিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।

প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করার পর এই জয় মিশরের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে সালাহরা। এখন শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

‘মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান, সে অতিমানব’—জাভি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান, সে অতিমানব’—জাভি

লিওনেল মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবু তার সাবেক সতীর্থ ও বার্সেলোনা কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজ মনে করেন, ফুটবল ইতিহাসে মেসির সঙ্গে কারো তুলনা চলে না। তার ভাষায়, মেসি হচ্ছেন ফুটবলের ‘মাইকেল জর্ডান’, যিনি প্রায় অতিমানব।

সম্প্রতি এক লেখায় জাভি স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রথমবার মেসির নাম শুনেছিলেন যখন আর্জেন্টিনার এক কিশোর বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দিতে যাচ্ছিল। তখন অনেকেই তাকে বলেছিলেন, এই ছেলেটি অন্য সবার চেয়ে আলাদা। কিন্তু জাভি শুরুতে বিষয়টি বিশ্বাসই করেননি।

তবে ২০০৪ সালে প্রথমবার মেসির সঙ্গে অনুশীলনে নেমে তার ধারণা বদলে যায়। জাভি বলেন, ‘প্রথম দিনই আমি বুঝেছিলাম, সে (মেসি) অন্যরকম। বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবল, পাস, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়। সবকিছুতেই সে অসাধারণ ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সে প্রায় ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়।’

বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন জাভি ও মেসি। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মেসির সঙ্গে খেলা খুব সহজ ছিল। আপনি যদি মেসির সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারেন, তাহলে ফুটবলই খেলতে পারবেন না। সে সবসময় নিখুঁত সময়ে, নিখুঁতভাবে বল ফেরত দিত। তার সঙ্গে খেলা ছিল এক ধরনের সৌভাগ্য।’

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ জাভি।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছিল মেসি আর আগের মতো নেই। কিন্তু সে মাঠে নেমেই হ্যাটট্রিক করে সবাইকে জবাব দিয়েছে। আমি ম্যাচের পর তাকে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ‘তুমি জোকস করতেছ! তোমার খেলা দেখে আমি শুধু হাসতে পারি।’

মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন জাভি। তার মতে, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলার পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা।

জাভি বলেন, ‘সে (মেসি) সবসময় চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। অনেক সময় হাঁটছে মনে হলেও আসলে প্রতিপক্ষের অবস্থান, ফাঁকা জায়গা সব বিশ্লেষণ করছে। তার ফুটবল মস্তিষ্ক অবিশ্বাস্য।’

শেষে মেসিকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে বার্সেলোনার সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমি বলি, মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান। তার সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। গত ২০ বছর ধরে সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তার মানসিকতা, প্রতিযোগিতার ক্ষুধা এবং দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থাকার ক্ষমতা সত্যিই অনন্য। আমি মনে করি, মেসির মতো আর কোনো ফুটবলার আমরা কখনো দেখব না।’

উল্লেখ্য, মাইকেল জর্ডানকে বাস্কেটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি এই তারকা ছয়বার এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে তিনি উৎকর্ষ, সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই জাভির এই তুলনা মেসির প্রতি তার সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।