পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত হতে পারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বরগুনা

মিজানুর রহমান, বরগুনা
মিজানুর রহমান, বরগুনা
শেয়ার
পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত হতে পারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বরগুনা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বরগুনা

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বরগুনা, যেখানে প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্যের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণপিপাসুদের। অপার সম্ভাবনাময় এ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছড়িয়ে আছে সমুদ্রের গর্জন, সবুজ বনানীর শীতল পরশ, আর বন্যপ্রাণীর দুরন্তপনা।

বরগুনার তালতলীর আশারচর, সোনাকাটা, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, শুভ সন্ধ্যা কিংবা পাথরঘাটার লালদিয়ারচর, হরিণঘাটা, বিহঙ্গ দ্বীপ প্রতিটি স্থানেই প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপে ধরা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় বরগুনার এই পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়ছে আগ্রহ।

তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।

এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পরখ করা যাবে বঙ্গোপসাগরের শোঁ শোঁ গর্জন। শ্যামল ছায়ার কোমল পরশ, মায়াবী চিত্রল হরিণের দুরন্তপনা, রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনচিত্র, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযুদ্ধ যে কাউকে মুগ্ধ করে তুলবে। একই স্থানে প্রকৃতির এমন বাহারি সৌন্দর্যের সমাহার খুব কম জায়গায়ই মেলে।

বরগুনায় এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে এলে প্রকৃতির এমন নিবিড় সান্নিধ্য পাওয়া যায়।

টেংরাগিরি বনাঞ্চল

বঙ্গোপসাগরের কোলে ঘেঁষে গড়ে ওঠা তালতলী উপজেলার ফকিরহাটে অবস্থিত টেংরাগিরি এক সময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। প্রাকৃতিক এই বনকে স্থানীয় লোকজন ‘ফাতরা বন’ হিসেবে চেনে। সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় টেংরাগিরি বনাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৬৭ সালে।

12

তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৫৮ হেক্টর জমি নিয়ে গঠিত হয় টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এই বনাঞ্চলের তিন দিকে বঙ্গোপসাগর। বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১১ সালে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের অভয়ারণ্যে হরিণ, শূকর, চিতাবাঘ, অজগর, কুমির, বানর, সজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে।

সারি সারি গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, তাল, কাঁকড়া, হেতাল, তাম্বুলকাটা গাছের মধ্যে এখানে ঘুরে বেড়ায় কাঠবিড়ালি, বানর, ডোরাকাটা বাঘসহ হাজার প্রজাতির জীবজন্তু। তালতলীর ২৩টি পল্লীতে বসবাস করছে কয়েক শ বছরের পুরোনো রাখাইন সম্প্রদায়। তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন, প্রাচীন উপাসনালয়, বুদ্ধমূর্তিগুলো পর্যটকদের ভিন্ন মাত্রার আনন্দ দিবে।

সোনাকাটা ও আশারচর

টেংরাগিরি বনের খুব কাছেই আরেক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাকেন্দ্র সোনাকাটা ও আশারচর চরাঞ্চল। তালতলী সদর থেকে খুব কাছেই বঙ্গোপসাগরের কোলে সোনাকাটা। এর একদিকে টেংরাগিরি বনের সবুজ নৈসর্গ আর অন্যদিকে বিশাল সৈকতের বুকে কান পাতলে শোনা যাবে বঙ্গোপসাগরের কুল কুল ধ্বনি। সোনাকাটায় দেখা যাবে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্য। বালিহাঁস, গাঙচিল, পানকৌড়িসহ হরেক পাখির কুজনে সব সময় মুখর থাকে আশারচর। তালতলী সদর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত আশারচরে আছে শুঁটকির সাম্রাজ্য। রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে দূর সাগরের বুকে মাছ ধরতে নামা ছোট ছোট ডিঙিনৌকার টিপটিপ আলোর মিছিল দূর থেকে দেখলে মনে হবে ভাসমান কোনো শহর।

শুভ সন্ধ্যা সি বিচ

টেংরাগিরি বনের খুব কাছেই আরেক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্থান শুভ সন্ধ্যা সি বিচ। তালতলী সদর থেকে খুব কাছেই বঙ্গোপসাগরের কোলে শুভ সন্ধ্যা সি বিচ। এর একদিকে টেংরাগিরি বনের সবুজ নৈসর্গ আর অন্যদিকে বিশাল সৈকতের বুকে কান পাতলে শোনা যাবে বঙ্গোপসাগরের গর্জন। এখান থেকে দেখা যাবে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত।

হরিণঘাটা বনাঞ্চল

মায়াবী হরিণের দল বেঁধে ছুটে চলা, চঞ্চল বানর আর বুনো শূকরের অবাধ বিচরণ, পাখির কলরবে সারাক্ষণ মুখর থাকে হরিণঘাটা বনাঞ্চল। পাথরঘাটা উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর তিন নদ-নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত হরিণঘাটা। সৃজিত এই বনে হরিণ, বানর, শূকর, কাঠবিড়ালি, মেছো বাঘ, ডোরাকাটা বাঘ, সজারু, উদ, শৃগালসহ অসংখ্য বুনো প্রাণীর বিচরণ। সুন্দরবনের চেয়ে আকৃতিতে বড় প্রজাতির মায়াবী চিত্রল হরিণের বিচরণস্থল হওয়ায় এই বনের নামকরণ হয়েছে হরিণঘাটা। দৃষ্টিনন্দন ঘন বন আর সবুজে ছাওয়া হরিণঘাটা বনের সৌন্দর্যকে আরো আকর্ষণীয় করেছে পাশাপাশি সুবিশাল তিনটি সৈকত লালদিয়া, পদ্মা, লাঠিমারা। এই বনাঞ্চল ৫ হাজার ৬০০ একর আয়তন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। ‘লালদিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি প্রকল্পের’ আওতায় ৯৫০ মিটার ফুটট্রেল (পায়ে হাঁটার কাঠের ব্রিজ) স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার বেঞ্চ, ঘাটলা ও ইটের রাস্তা। মিঠাপানির জন্য খনন করা হয়েছে পুকুর।

9

গোড়া পদ্মা ইকো ফরেস্ট-মোহনা পর্যটন কেন্দ্র

বিষখালী-পায়রা-বলেশ্বর বঙ্গোপসাগরে মিলেছে সোনাতলা এলাকায়। তিন নদনদীর সঙ্গমস্থলে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক নৈসর্গের আরেক লীলাভূমি গোড়া পদ্মা ইকো ফরেস্ট-মোহনা পর্যটন কেন্দ্র। সৃজিত এই বনভূমির আয়তন ৪ হাজার ৬০০ একর।

সারি সারি কেওড়া, গেওয়া গাছে ছাওয়া এই বনে শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণি রয়েছে। রয়েছে একটি পিকনিক স্পট, কয়েকটি গোলঘর, একটি ডাকবাংলো ও পুকুর।

বরগুনা পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, সাগর, নদী ও সবুজ বনানীর মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা বরগুনা জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তবে বরগুনার এই সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বরগুনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা উন্নয়নে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ঈদ ছুটিতে ঘুরে আসুন দেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ থেকে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ঈদ ছুটিতে ঘুরে আসুন দেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ থেকে
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ সন্দ্বীপ। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। দেশের অত্যন্ত প্রাচীন এই দ্বীপ প্রায় ৫ লাখের মতো মানুষ বাস করে। দ্বীপটি ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত।

দ্বীপের প্রত্যেকটি জায়গা দেখার মতো। ফসল ভরা মাঠ, সবুজ প্রকৃতি, হাট-বাজার সব কিছুই প্রকৃতির মতোই সুন্দর। দ্বীপের উত্তর থেকে দক্ষিণের সব প্রান্ত ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে। দ্বীপের উত্তরে তাজমহলের আদলে নির্মিত শত বছরের পুরনো মরিয়ম বিবি সাহেবানী মসজিদ।

মসজিদ সংলগ্ন বড় দিঘী, মাজার। দ্বীপের দক্ষিণের ঐতিহ্যবাহী শুকনা দিঘী। এ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা, বড় বড় খেলার মাঠ। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখেতে পারবেন পুরনো বাউল জারী সারি গানের আসর।

আরো পড়ুন
ঘুরে আসুন চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকত

ঘুরে আসুন চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকত

 

সন্দীপের দর্শনীয় স্থান

দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটি

সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে নির্মিত হয়েছে দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটি। জেটির দুই পাশের ল্যাম্পপোস্টের আলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন। সাগরের গর্জনের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে সাগরের শীতল হাওয়া আপনাকে এনে দিবে অনাবিল প্রশান্তি। এই জেটির দুই পাশে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন, যা জেটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

1
সংগৃহীত ছবি

সমুদ্রসৈকত

সৈকতটি সন্দ্বীপের রহমতপুরে ইউনিয়নে অবস্থিত।

স্থানীয়দের কাছে এটি রহমতপুর পুরাতন স্টিমারঘাট নামে পরিচিত। পড়ন্ত বেলায় পশ্চিম আকাশে তেজ কমে যাওয়া সূর্যটা সৈকতের প্রান্ত জুড়ে ছড়িয়ে দেয় রক্তবর্ণ আভা। এই সমুদ্র সৈকতে আপনি দেখতে পাবেন সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য। সৈকতটি ভ্রমণ পিপাসুদের তীর্থস্থানে পরিনত হয়েছে, যা ক্যাম্পিংয়ের টেন্টপিচের জন্যে আদর্শ। সমুদ্র সৈকতটির দৈঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার।

আরো পড়ুন
খেজুর থেকে দূরে থাকবেন যারা

খেজুর থেকে দূরে থাকবেন যারা

 

সবুজ চর

নাম শুনেই হয়তো অনেকটা অনুমান করতে পারছেন, কেন এই জাইগাটির নাম সবুজচর। স্থানীয় অনেকে এই স্থানটিকে গ্রিনল্যান্ডও বলে। এই স্থানটি সন্দ্বীপের দীঘাপাড় ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধরূপ, সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়ানো এই চরটি। যতদূর চোখ যাবে সবুজ আর সবুজের নয়নাভিরাম দৃশ্য আপনাকে উৎফুল্ল করবে।

2
সংগৃহীত ছবি

এই চরে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন এবং এই বনে রয়েছে বক, চিল, মাছরাঙা, বালিহাঁস, ময়না, টিয়া, ঘুঘুসহ আরো অনেক রকম পাখি। শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই গ্রীনল্যান্ডটি। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, সিএনজি দিয়ে সন্দ্বীপ কমপ্লেক্স থেকে ৩০-৪০ মিনিটে মধ্যে পৌঁছে যাবেন সবুজ চর।

আরো পড়ুন
চুল আঁচড়ানোর যেসব ভুল বাড়িয়ে দেয় চুল পড়া

চুল আঁচড়ানোর যেসব ভুল বাড়িয়ে দেয় চুল পড়া

 

ভ্রমণের সেরা সময়

সন্দ্বীপ ভ্রমণ করার জন্য যদিও শীতকালকে সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়, তবে আপনি চাই বর্ষা ছাড়া অন্য যেকোনো ঘুরতে যেত পারেন। এ সময় আপনি চাইলে ক্যাম্পিং করতে পারবেন সেখানে।

খাবারের সুবিধা

সন্দ্বীপের স্থানীয় খাবার হোটেলে সাধারণ সকল খাবার পাবেন এবং খাবারের মানও স্বাভাবিক মানের হবে। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান, চাইনিজসহ অনেকে ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাবেন। শিবের হাট এলাকায় গেলে পাবেন প্রায় ৮০ বছরের ঐতিহ্য বিনয় সাহার ছানা মিষ্টি।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে স্টীমারে সন্দ্বীপ যেতে চাইলে প্রথমেই যেতে হবে সদরঘাট। সপ্তাহে তিন দিন এই সার্ভিস থাকে, যা সকাল ৯ টায় সদরঘাট ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের উদ্দেশে।

আরো পড়ুন
সমুদ্রসৈকত ছাড়া কক্সবাজারে আরো যা আছে, পর্ব-১

সমুদ্রসৈকত ছাড়া কক্সবাজারে আরো যা আছে, পর্ব-১

 

সড়ক পথে যেতে চাইলে

সড়ক পথে যেতে চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্ত হতে চট্টগ্রামগামী বাসে করে চলে যান সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টিমার ঘাট। সেখান থেকে ভাড়ায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা করে চলে যাবেন স্টিমার ঘাটে। এই ঘাটের নাম কুমিরা-গুপ্তছরা ঘাট। এই প্রান্তে কুমিরা এবং অপর পাশে সন্দ্বীপের গুপ্তছরা।

কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে পাবেন স্পীডবোট, ট্রলার এবং সি-ট্রাক। ট্রলার জোয়ারের সময় ছাড়ে, আর সি-ট্রাক বেলা বারোটার দিকে। তাই সবচেয়ে ভালো অপশন স্পীডবোট। তাই সেখানে পৌঁছেই কাউন্টারে গিয়ে নাম লিখিয়ে সিরিয়াল নিয়ে নেবেন। ওপারে পৌঁছে গুপ্তছরা ঘাট থেকে এনাম নাহার (মূল শহর) পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা পাবেন। এ ছাড়া সরাসরি পশ্চিমপাড় ঘাট চলে গেলেও পারেন।

আরো পড়ুন
ঈদে এক দিনে ঘুরে আসুন ঢাকার আশপাশের কিছু মনোরম জায়গা থেকে

ঈদে এক দিনে ঘুরে আসুন ঢাকার আশপাশের কিছু মনোরম জায়গা থেকে

 

তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটি ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে গুপ্তছরা ফেরিঘাট পর্যন্ত যায় এই ফেরি। দিনে দুই আসা যাওয়া করে এই ফেরি। সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো। এ যাত্রায় ভাড়া পড়তে পারে ৮০-১০০টাকা। তবে ফেরির রুটটি নতুন হওয়ায় এখনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তাই আপাতত অন্যপথে যাওয়াই ভালো হবে। তবে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই পথটি এ পথে চলাচল করা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

থাকার ব্যবস্থা

সন্দ্বীপ টাউন কমপ্লেক্সে পৌঁছে হোটেল নিয়ে নিন। এনাম নাহারে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থাকা যেতে পারে। এজন্য যোগাযোগ করতে হবে উপজেলা পরিষদে।

3
সংগৃহীত ছবি

ক্যাম্পিং সুবিধা

যারা ক্যাম্পিং করতে চান তারা সন্দ্বীপ টাউন কমপ্লেক্সে পৌঁছে সরাসরি চলে যান দ্বীপের পশ্চিমে একেবারেই নদীর কিনার ঘেঁষে রহমতপুর বিচ। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে পারেন। উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে তাবু করে নিন। রাতের মিটিমিটি আলো, খোলা আকাশের নিচে নদীর কলকল ধ্বনি ঘন কুয়াশায় কয়েকটি রাত পার করে দিতে পারবেন একেবারেই অনায়াসে। এ ছাড়া কবির কফি হাউজ তো আছেই। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কবির কফি হাউজের দেখা মিলবে।

আরো পড়ুন
মাথা ব্যথা মানেই কি মাইগ্রেনের সমস্যা?

মাথা ব্যথা মানেই কি মাইগ্রেনের সমস্যা?

 

সূত্র : আদার ব্যাপারী

মন্তব্য

ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
শেয়ার
ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের টানা ছুটিতে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটকের ভিড় জমেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামায় হোটেল-মোটেলের বুকিং ১০০% পূরণ হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের ভিসা জটিলতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবানের বিজয়, কেউক্রাডং, নাফাখুম, দেবতা খুমের মতো পর্যটন স্পটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।

'বাংলার দার্জিলিং' খ্যাত নীলগিরি, চিম্বুক আর মেঘলায় পর্যটকদের আনাগোনা চলছে অবিরাম। গত কয়েক বছর সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্থিরতায় পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান শান্ত পরিস্থিতিতে ফিরেছে জেলার স্বাভাবিক গতি।

ঢাকার মোহুয়া রহমান বলেন, 'প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে যায়। আগেও এসেছি, এবারও ছুটে এলাম।

' সাইফুল ইসলামের মতে, পাহাড়ের হিমেল বাতাসে মনে হয় সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে! মেঘলায় ঘুরতে আসা ইভা রহমান বলেন, '২ দিনের ট্রিপে এসে মুগ্ধ।'

গত বছর কুকিচিনের অস্থিরতায় ক্ষতি হলেও এবার ঈদে বুকিং ধরা দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক জাফর উল্লাহ জানান, ২৫টি রুম আগাম বুক হয়েছে। আরণ্যক হোটেলের জসিম উদ্দিন বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আরামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।

'

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটন স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়তি ভাড়া রোধে মোবাইল টিম কাজ করছে। বিদেশী পর্যটকদের জন্য অনলাইন সেবাও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, 'এবারের ঈদে পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন।'

হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, ৬ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা সম্পূর্ণ ভরা রয়েছে।

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য

যেখানে গেলে দেখতে পাবেন কালো বালির সমুদ্র সৈকত

শেয়ার
যেখানে গেলে দেখতে পাবেন কালো বালির সমুদ্র সৈকত
সংগৃহীত ছবি

সমুদ্রের কথা মনে পড়লে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল জলরাশি, যা আছড়ে পড়ে সৈকতে। তবে কখনো কি ভেবেছেন কালো বালির সৈকত সম্পর্কে? 

কালো বালির সৈকতগুলো এমন জায়গা, যেখানে বালির রঙ সাধারণত কালো বা ধূসর হয়ে থাকে। এগুলো বিশেষভাবে আগ্নেয়গিরির লাভা বা তুষারের অবশিষ্ট অংশ থেকে তৈরি হয়। সমুদ্রের নীল পানি কালো বালির উপর আছড়ে পড়লে তখন সাদা-কালোর এক অদ্ভুত ক্যানভাস সৃষ্টি হয়।

এখানে ছোট ছোট শিলাখণ্ড ও বড় ব্যাসল্ট রক পাওয়া যায়। গোধূলির নরম আলো এই সৈকতগুলোর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তোলে। হাওয়াই, আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার কালো বালির সৈকতগুলো বেশ জনপ্রিয়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কিছু বিখ্যাত কালো বালির সৈকত সম্পর্কে।

পুনালুউ সমুদ্র সৈকত, হাওয়াই
হাওয়াইয়ের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত পুনালুউ বিচ কালো বালির জন্য বিখ্যাত। এটি আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি হয়েছে এবং এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপহার দিয়েছে। সৈকতটি তার শান্ত পরিবেশ ও বিশাল ঢেউয়ের জন্য জনপ্রিয়। এখানে পর্যটকরা সাঁতার কাটার জন্য আসেন।

কালো তিমি ও সি টার্টলও দেখা যায় পুনালুউ সমুদ্র সৈকতে।

রেইনিসফিয়ারা সমুদ্র সৈকত, আইসল্যান্ড
আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত রেইনিসফিয়ারা সমুদ্র সৈকত একটি অসাধারণ কালো বালির সৈকত। যা আগ্নেয়গিরির লাভা প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে। এখানে বিশাল আগ্নেয়গিরির পাথর ও নানা আকৃতির শিলা দেখতে পাওয়া যায়। এই সৈকতটি পেঙ্গুইন ও অন্যান্য প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

লাভা সমুদ্র সৈকত, ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার লাভা সমুদ্র সৈকত বালি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত। যেখানে আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া কালো বালির দৃশ্য অসাধারণ। সৈকতের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখানে আসা পর্যটকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

সান্তিয়াগো সমুদ্র সৈকত, চিলি
চিলির সান্তিয়াগো কেন্দ্রীয় উপকূলে অবস্থিত এবং পর্যটকদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। সৈকতের আশেপাশে রয়েছে কিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ। যেখানে পর্যটকরা সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আরাম করতে পারেন। 

এই কালো বালির সৈকতগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।

সূত্র : কলকাতা ২৪×৭

মন্তব্য

ঘুরে আসুন চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ঘুরে আসুন চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকত
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পারকি সি-বিচ। একটা সময় সমুদ্রসৈকত বলতে শুধু কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত বোঝানো হলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে এই পারকি সমুদ্রসৈকতও। একদিকে ঝাউবনের সবুজের সমারোহ, আরেক দিকে নীলাভ সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি আপনাকে স্বাগত জানাবে।

এ ছাড়া সমুদ্র তীরের মৃদুমন্দ বাতাস আপনার মনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেবে নিমেষেই।

সৈকতের নগরী চট্টগ্রাম অনেক সৈকতের মাঝে এটি আরেকটি প্রাকৃতিক সৈকত। যদিও এখানে যেতে হলে আপনাকে চট্টগ্রাম শহরের কর্ণফুলি নদী পার হয়ে অন্য পারে যেতে হবে। এখানে রয়েছে লাল কাঁকড়া, ঝাউবনসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।

একটা সময় এই সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার রাস্তাটি খুব একটা ভালো ছিল না।

কিন্তু ধীরে ধীরে এখানে ভ্রমণপিপাসুদের আনা-গোনা বেড়ে যাওয়াতে কর্তৃপক্ষ রাস্তাটিকে সংস্কার করেছে। এ ছাড়া জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও। সমুদ্রসৈকতের সাথেই ঝাউবনের ছায়াতলে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকানসহ অনেক দোকানপাট।

আরো পড়ুন
ঈদে এক দিনে ঘুরে আসুন ঢাকার আশপাশের কিছু মনোরম জায়গা থেকে

ঈদে এক দিনে ঘুরে আসুন ঢাকার আশপাশের কিছু মনোরম জায়গা থেকে

 

এ ছাড়া রয়েছে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর জন্য স্পিডবোট, সমুদ্রতীরেই ঘুরে বেড়ানোর জন্য সি-বাইক আর ঘোড়া।

ঝাউবন ঘেঁষে উত্তর দিক বরাবর হেঁটে গেলে দেখতে পাবেন বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মোহনা।

পারকি সি-বিচ যাওয়ার উপায়

বোটে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো জায়গা থেকে যেতে হবে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর যেটি। এ যাত্রায় যেতে পারেন সিএনজি বা অন্য যেকোনো বাহনে। সেখান থেকে বোটে করে কর্ণফুলী নদী পার হতে হবে। সেখানে অপেক্ষমাণ অটোরিকশা নিয়ে যেতে পারেন পারকি সৈকতে।

একই পথে ফিরে আসতে পারবেন শহরে। শহর থেকে পারকি সৈকতে যেতে মোট সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। 

আরেকটি ভিন্ন পথ আছে। সেটি হচ্ছে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু দিয়ে সরাসরি যেতে পারবেন পারকি সৈকতে। তবে সে ক্ষেত্রে সময় ও অর্থ দুই বেশি যাবে। এর জন্য চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো স্থান থেকেই বাস অথবা টেম্পোতে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু বা তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর কাছে যেতে পারেন। সেখানে গেলেই আপনি বটতলী মোহসেন আউলিয়ার মাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ভুলে যেন বাস কন্ডাক্টরের বৈলতলী উচ্চারণের সঙ্গে বটতলীকে গুলিয়ে ফেলবেন না। দুটি কিন্তু দুই জায়গা।

আরো পড়ুন
সমুদ্রসৈকত ছাড়া কক্সবাজারে আরো যা আছে, পর্ব-৩

সমুদ্রসৈকত ছাড়া কক্সবাজারে আরো যা আছে, পর্ব-৩

 

পারকি বিচে যেতে হলে আপনাকে বটতলী মোহসেন আউলিয়া মাজারগামী বাসে উঠতে হবে। প্রাচীন এই মাজারটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত। বাসে উঠে কন্ডাকটরকে বলতে হবে যেন আপনাকে সেন্টার নামক স্থানে নামিয়ে দেয়। জায়গাটির প্রকৃত নাম মালখান বাজার, তবে এটি সেন্টার নামেই পরিচিত।

সেন্টারে নেমে বিচে যাবার জন্য রিজার্ভ নেওয়ার মতো সিএনজি পাবেন। বিচে যাওয়ার আগে খাবারদাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সেন্টার বাজার কিংবা কিছুটা দূরেই চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার হাউজিং কলোনী সংলগ্ন বাজার থেকে নিয়ে নিতে পারেন। বিচেও কিছু দোকানপাট রয়েছে। তবে তাতে সবকিছু নাও পেতে পারেন, পেলেও দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। আর চাইলে চট্টগ্রাম শহর থেকেও সিএন জি রিজার্ভ করে যেতে পারেন।

আরো পড়ুন
অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা দ্বীপ মনপুরা, যেভাবে যাবেন

অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা দ্বীপ মনপুরা, যেভাবে যাবেন

 

সমুদ্রসৈকতের কাছেই রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ি। যেকোনো সমস্যায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সূত্র : আদার ব্যাপারী

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ