• ই-পেপার

ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে

  • তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় অনিয়মের শেষ নেই। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন, জেব্রা ক্রসিং দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ বহু অনিয়ম এখানে নিত্যদিনের চিত্র। পরিস্থিতি এমন, চিরচেনা এই শহরে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক নগরায়ণের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কে এরই মধ্যে ১২০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিগগির আরো ৪০০ এআই ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গেছে, ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। বর্তমানে ১১০টি ক্যামেরা থেকে ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে এগুলো এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেখা গেছে, অনেক অনিয়ম শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এসব ক্যামেরা। নিয়ম অমান্য করলে জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হতে না হতেই এটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। এক মোটরসাইকেলচালককে নাম্বার প্লেট ঢেকে চলাচল করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই চালককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর পর সেটি ফাঁকি দেওয়ার নানা চেষ্টা হতে পারে। এসব রোধে বিশেষ অভিযান চলবে বলে জানান তিনি। এআই ক্যামেরার সুফল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

এআই ক্যামেরা অনেক বেশি নিখুঁত ও স্বয়ংক্রিয়। বলা বাহুল্য, এর সংযোজন প্রচলিত ট্রাফিক ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা যোগ করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞমহল বলছে, ঢাকার সড়ক কি নতুন এই প্রযুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত? এআই ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য রাস্তায় সুনির্দিষ্ট লেন, জেব্রা ক্রসিং এবং রোড সাইন স্পষ্ট থাকা জরুরি, যা ঢাকার বেশির ভাগ সড়কেই নেই। অনেক গাড়িতে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নেই, অনেক ভুয়া নম্বর ব্যবহারের নজিরও রয়েছে। এতে দেখা যাবে, অপরাধ করবে একজন, আর এআই জরিমানা পাঠাবে আরেকজনের কাছে।

শুধু এআই ক্যামেরা বসানোই যথেষ্ট নয়, নতুন প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে এর সফল বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ লক্ষ্যে সুসমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, বাড়ছে খেলাপি ঋণ

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময়ে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গণহারে চাঁদাবাজি ও হামলার শিকার হতে থাকে। জ্বালাও-পোড়াও, মব সন্ত্রাস বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের নানাভাবে হয়রানি করা। মামলা, অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিদেশযাত্রায় বাধাসহ নানা কারণে উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ঋণের উচ্চ সুদের হার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট, আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নানা কারণে ধুঁকতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসা-বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নামে। বহু কারখানা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের এমন দুরবস্থার কারণে অনেক ঋণগ্রহীতাই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবে খেলাপি ঋণ অনেক বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ঘটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ছাড়ে ২০২৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বাড়ে আরো ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের হার, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম। এত দিন কোনো নির্বাচিত সরকার ছিল না। তাই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যবসাও করতে পারিনি। বেসরকারি খাতকে সহায়তা না করে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো ক্ষতি করেছে। তারা ছিল একটি ব্যবসাবিরোধী সরকার। শুধু বাণিজ্য খাত নয়, ওই সরকার ব্যাংকগুলোকে দুর্বল ঘোষণা করার মাধ্যমে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কঠোর কড়াকড়িতে বলতে গেলে ঋণই পাচ্ছেন না বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত থেকে বেসরকারি খাতের ঋণের এমন দুর্ভাগ্যজনক চিত্রই পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এটি গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দশকের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাস্তবে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ঋণপ্রবাহ।

আমরা মনে করি, দ্রুততম সময়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হোক

গভীর সংকটে বেসরকারি খাত

বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হোক

দেশের অর্থনীতির প্রাণ বা প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি খাত। অথচ সেই বেসরকারি খাতের সংকট ক্রমেই গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, উচ্চ সুদহার, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট, পাহাড়সম খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতিএই চতুর্মুখী আক্রমণের শিকার হয়েছে আমাদের বেসরকারি খাত। আসন্ন জাতীয় বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা, সরকার যেন বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙ্গা করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

বেসরকারি খাত কতটা বিপর্যস্ত তার কিছুটা প্রমাণ মিলে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৭২ শতাংশে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অর্থ হলো এই খাতে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতের এই সংকটের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই পড়বে না, সামাজিক ক্ষেত্রেও পড়বে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না, বেকারত্ব বাড়বে। আর বেকারত্ব বৃদ্ধি সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১০.৪৩ শতাংশ। সামগ্রিক আমদানি প্রবণতায়ও নিম্নমুখী ধারা লক্ষ করা গেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার এই ধারাবাহিক প্রবণতাকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়নের জন্য একটি বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে অনেক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জ্বালানিসংকট নিরসন না হলে বিনিয়োগের পরিবেশ ফেরানো কঠিন হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি ডলার সংকট, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরো অনেক কারণেই বেসরকারি খাতের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিই হলো বেসরকারি খাত। এই খাত যদি রুগ্ণ হয়ে পড়ে কিংবা মন্দায় আক্রান্ত হয়, তাহলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে বাধ্য। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো বেসরকারি খাত যাতে অর্থনীতিতে পূর্ণ মাত্রায় অবদান রাখতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙ্গা করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ থাকতে হবে।

বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশের বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরাতে হবে। বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই আসন্ন বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হোক। সেই লক্ষ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও দিকনির্দেশনা থাকুক।

চামড়াশিল্পে সুদিন আসবে কবে

পানির দরে পশুর চামড়া

চামড়াশিল্পে সুদিন আসবে কবে
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতিতে চামড়াশিল্প সম্ভাবনাময় খাত। অথচ বেশ কয়েক বছর থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে, কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হয়। তার পরও ক্রেতা পাওয়া যায় না। কোথাও নদীতে ফেলে দেওয়া, কোথাও মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটে থাকে। এবারও ঈদের পর একই হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে গত দুই বছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। তার পরও কাঁচা চামড়ার দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামড়া নামমাত্র মূল্যে কেনাবেচা হয়েছে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দাম মানা হয়নি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, সারা দিন চামড়া সংগ্রহ করে আড়তে গিয়ে দেখেন সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম দাম দিতে চাইছে। লোকসানে চামড়া বিক্রি করার চেয়ে ক্ষোভ আর হতাশায় অনেকেই সেই চামড়া রাস্তা ও ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। চট্টগ্রামে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পচে যাওয়া চামড়ার স্তূপ দেখা গেছে। দেশের সর্বত্র একই পরিস্থিতি। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মুসলিম উদ্দিনের মতে, সমস্যাটি কাঠামোগত। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় এবার দুই টাকা বাড়িয়েছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গতবারের চেয়ে প্রতি পিস চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে। চামড়া ক্রয় করতে ট্যানারি মালিকদের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক ১৬০ কোটি টাকা ঋণও দিয়েছে। এর পরও কাঁচা চামড়ার দরপতন ঠেকানো যায়নি।

চামড়াশিল্পের সবটাই দেশীয় কাঁচামালনির্ভর। এতে এই শিল্পকাঠামো মজবুত হওয়ার কথা। হয়েছে উল্টো। অথচ আশির দশকেও রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকের চেয়ে এগিয়ে ছিল চামড়াশিল্প। পরবর্তী সময়ে নীতিগত ব্যর্থতার কারণে সম্ভাবনাময় খাতটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

চামড়াজাত পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারে বিসিক চামড়াশিল্প নগরীতে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি এখনো পূরণ হয়নি। দীর্ঘ ৯ বছর পরও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

আমরা মনে করি, দেশের রপ্তানি আয় শুধু তৈরি পোশাক নির্ভর না করে বহুমুখী করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য চামড়াশিল্প হতে পারে অন্যতম খাত। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছা অতীব জরুরি।