ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

চিকিৎসাব্যবস্থাই রুগ্‌ণ

শিমুল মাহমুদ
শিমুল মাহমুদ
শেয়ার
চিকিৎসাব্যবস্থাই রুগ্‌ণ

কেউ অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে, কেউ খানিক পর পর প্রতিবাদের ভঙ্গিতে কিছু বলার চেষ্টা করছে, কেউ হাসছে হিহি করে, কেউ কাঁদছে কোনো কারণ ছাড়াই, কেউ বা আবার একেবারেই নির্বাক।

গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর কক্ষের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সংখ্যায় তারা ২৫ থেকে ৩০ জন। সবাই যে মানসিক সমস্যায় ভুগছে, তাদের হাবভাবে তা স্পষ্ট।

স্বজন বা অভিভাবকরা তাদের চিকিৎসক দেখাতে নিয়ে এসেছে।

শিকলে বাঁধা এক পা তুলে চেয়ারে বসে আছেন এক যুবক। শিকলের অন্য প্রান্ত ধরে আছেন এক নারী। তাঁর নাম রোজিনা।

তিনি জানান, যুবক তাঁর ছোট ভাই সেলিম।

ঢাকার নবাবগঞ্জের বাসিন্দা রোজিনা জানান, সেলিমের বয়স এখন ২৬ বছর। ১৬ বছরে বয়সে সেলিমের এমন কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যা মানসিক সমস্যার প্রাথমিক উপসর্গ; কিন্তু ওই সময় তাঁরা এটা বুঝতে পারেননি। সেলিম তখন মাঝেমধ্যে স্থির বসে থাকতেন, কারো সঙ্গে কথা বলতেন না।

এরপর যখন-তখন খেপে যেতে লাগলেন। ক্ষিপ্ত থাকা অবস্থায় কাউকে সামনে পেলে গালাগাল ও মারধর করতেন। সারা রাত কথা বলতেন একা একা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিমের এই রোগটিকে বলা সিজোফ্রেনিয়া। সিজোফ্রেনিয়া উপসর্গ সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে প্রকাশ পেতে থাকে।

এ রোগের লক্ষণগুলো হলো ডিলিউশন বা হ্যালুসিনেশন। অর্থাৎ ভুল ধারণা, অবাস্তব চিন্তা-ভাবনা, অকারণ সন্দেহ, বিভ্রান্তি, বিড়ম্বনা।

রোজিনা বলেন, সেলিমের যখন মানসিক রোগ প্রকাশ পেতে থাকে, তখন আমরা তার মানসিক সমস্যা বুঝতে না পেরে কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করিয়েছি; কিন্তু ১০ বছরেও কোনো লাভ হয়নি। বরং ধোঁকাবাজ কবিরাজের পাল্লায় পড়ে জমি বিক্রি করে টাকা-পয়সা শেষ করেছি। 

রোজিনা বলেন, এক বছর ধরে এই হাসপাতালে ভাইয়ের চিকিৎসা করাচ্ছি। ভর্তি করাতে পারি না। যখনই আসি, বলা হয় বিছানা খালি নাই। আর তিন-চারজন মানুষ ছাড়া তো আসা যায় না। এতে খরচাও হয় অনেক।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকে। আর ২০০ রোগী গড়ে ভর্তি থাকে। তাদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া রোগীই বেশি।

বিধান রঞ্জন রায় বলেন, যেসব মানসিক রোগীকে বাড়িতে সামলানো যায় না, তাদেরই মূলত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়; কিন্তু আমরা সবাইকে ভর্তি করাতে পারি না। বেশির ভাগ সময় বিছানা ফাঁকা থাকে না।

তিনি বলেন, মানসিক রোগী যত দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসবে, তার উন্নতি তত দ্রুত হবে। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে তা হবে দীর্ঘমেয়াদি। চিকিৎসায় সময় বেশি লাগলে অনেক অভিভাবক ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। খরচ চালাতে না পেরে মাঝপথে থেমে যান অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা মূলত মানসিক রোগকে দুই ভাগে করে থাকেন। এর মধ্যে গুরুতর হলো সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিস-অর্ডার, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা, আলঝেইমারস। আর সাধারণ মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, শুচিবায়ু, ফোবিয়া বা ভীতি ও বিষণ্নতায় ভোগা। বাইপোলার ডিস-অর্ডার সমস্যার ক্ষেত্রে রোগী কখনো খুব আনন্দে আবার কখনো খুব বিষণ্ন থাকে। ডায়াবেটিসের মতো বাইপোলার ডিস-অর্ডার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যা। ওষুধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয় না।

২৫ শতাংশ সিজোফ্রেনিয়া ভালো হয় : মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আহসানুল হাবিব বলেন, সিজোফ্রেনিয়া বেশির ভাগ সময় ক্রনিক হয়ে যায়। তবে ২৫ শতাংশ সিজোফ্রেনিয়া এক পর্যায়ে সুস্থ হয়ে ওঠে। ৫০ শতাংশ সিজোফ্রেনিয়ার রোগী ওষুধ খেলে স্বাভাবিক থাকে, ঠিকমতো ওষুধ না খেলে আবার অসুস্থ হয়ে যায়। বাকি ২৫ শতাংশ কখনো ভালো হয় না। তখন এরা সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

আহসানুল হাবিব বলেন, উন্নত বিশ্বে দেখা যায়, রোগীর যত্নে পরিবারে মানুষ থাকে না। কারণ যিনি রোগীর যত্ন নেন, তিনি তাঁর নিজের কাজগুলো করতে পারেন না। তখন রাষ্ট্র তাঁদের দায়িত্ব নেয়। হোটেলের মতো থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে রোগীরা ওষুধ খায়, শুশ্রূষা চলে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কাজ শেখানো হয়, যাতে তারা সমাজে স্বাভাবিকভাবে থাকার উপযোগী হয়ে ওঠে। এতে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে কাজ শুরু করতে পারে। আমাদের দেশে এমন কোনো ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান নেই। যারা মানসিক রোগী, তাদের আমরা সঠিক সেবা দিতে পারি না নানা সংকটে।

অপ্রতুল চিকিৎসাব্যবস্থা : বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনা ২০২০-৩০-এ বলা হয়েছে, দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ৯২ থেকে ৯৪ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থেকে যায়। এসব রোগীর মধ্যে ১৮.৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ শিশু। মানসিক রোগীদের মধ্যে ১০ থেকে ১৪ শতাংশের ভেতর আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে মানসিক রোগের সামগ্রিক প্রবণতা ১৮.৭ শতাংশ। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে মানসিক রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, যা ২০.২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রবণতা ১৯.৪ শতাংশ, ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রবণতা ১৬.৫ শতাংশ, ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মানসিক রোগের প্রবণতা ১১ শতাংশ।

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, দেশে যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, তাদের একটি অংশ আক্রান্ত হয় বায়োলজিক্যাল এবং জেনেটিক কারণে। কিন্তু বড় একটি অংশ আক্রান্ত হয় পারিবারিক ও সামাজিক কারণে।  নানা ধরনের মানসিক চাপ, দারিদ্র্য, সামাজিক ও পারিবারিক অসংগতি এর অন্যতম কারণ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, মানসিক রোগের ক্ষেত্রে এখনো সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়ায় ঘাটতি রয়েছে। সরকারিভাবে ২০০ শয্যার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল,  ৫০০ শয্যার পাবনা মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল, ৪০ শয্যার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সামরিক ও সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হাসপাতালেও এই সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এখনো দিবাযত্ন চিকিৎসা-সুবিধা প্রতিষ্ঠা হয়নি। সব মিলিয়ে এক লাখ মানুষের জন্য শয্যাসংখ্যা ০.৪ শতাংশ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনা ২০২০-৩০-এ আরো বলা হয়, সরকারের মোট স্বাস্থ্য বাজেট থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ ০.৫০ শতাংশ। মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালগুলোতে ব্যয়ের পরিমাণ মোট মানসিক স্বাস্থ্য বাজেটের ৩৫.৫৯ শতাংশ। সে অনুযায়ী, প্রতিজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় ২.৪ টাকা। সারা দেশে মোট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ৩৫০ জন আর মনোবিজ্ঞানী ৫০০ জন। এ ছাড়া অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার্স খুব অপ্রতুল। অর্থাৎ এক লাখ মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ০.১৩ জন, ০.১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ০.৮৭ স্বাস্থ্যবিষয়ক সেবিকা ও ১.১৭ মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী।  

ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি চারজনে একজন কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। এর মধ্যে বছরে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছে। আর মোট মানসিক রোগীর ৯৪ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থাকে। যাদের বেশির ভাগ প্রথম দিকে  ঝাড়ফুঁকের মতো অপচিকিৎসা নিয়ে থাকে। তিনি বলেন, মানসিক চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হয়। এতে অনেকের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য থাকে না। ফলে অনেক রোগী ওষুধ বন্ধ করে দেয়, ফলোআপ করে না। এ ছাড়া আমাদের মানসিক চিকিৎসাব্যবস্থা খুব অপ্রতুল। যারা চিকিৎসা নিতে আসে, তারাও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছে না।

 

মন্তব্য
ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ