ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

গণহত্যার সুপ্রিম কমান্ডার মামুন, মুখ্য ভূমিকা জিয়াউলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
গণহত্যার সুপ্রিম কমান্ডার মামুন, মুখ্য ভূমিকা জিয়াউলের

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আটক, নির্যাতন, গুম, হত্যা পরিকল্পনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সেনাবাহিনীর জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানসহ আট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই আটজনের মধ্যে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ছাড়া পুলিশের সাবেক ছয় কর্মকর্তা হলেন ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি, ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, গুলশান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

গতকাল বুধবার প্রসিকিউশনের আবেদনে শুনানির পর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে রাখার আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেন, এই আটজনের বিরুদ্ধে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-আন্দোলনে আটক, নির্যাতন, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে। যথাযথ ও কার্যকর তদন্তের স্বার্থে তাদের কারান্তরিন রাখা প্রয়োজন। সেই জন্য পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এরপর আদালত আগামী ১৯ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের তারিখ রেখে তদন্ত সংস্থাকে এই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।   

আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ নোমান। আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী ও নাজনীন নাহার।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাইয়াদ বিন আমজাদ, মো. জসিম উদ্দিন মোল্লার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। আবুল হাসানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আরাফাত হোসেন।

প্রসিকিউশনের আবেদনে গত ২৭ অক্টোবর সাবেক ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এই ১৭ জনের মধ্যে অন্য মামলায় তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ছিলেন ছয়জন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ১৮ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাসহ ১৩ জনকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। তাদের বিরুদ্ধে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

গতকাল বিচারিক কাজের শুরুতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনই ছিলেন সুপ্রিম কমান্ডার : সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিষয়ে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন শাখা (র‌্যাব, কেপিবিএন, ডিবি, এসবি) দেশে গুম, হত্যা, আটক, নির্যাতন, লাশ পোড়ানোসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ও গণহত্যা চালিয়েছে। তিনি ছিলেন এসব কর্মকাণ্ডের প্রধান। তার নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সারা দেশে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে পুলিশের আচরণ ছিল বেপরোয়া। জুলাই-আগস্টের হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশনা, প্ররোচনাসহ দায় তার ওপর বর্তায়।  তিনিই ছিলেন এসবের সুপ্রিম কমান্ডার।

গণহত্যায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন জিয়াউল আহসান : এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান সম্পর্কে শুনানিতে তাজুল ইসলাম বলেন, ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে তিনি কমিশন লাভ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের মতাদর্শের বিরোধী ব্যক্তিদের গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারবিরোধীদের শায়েস্তা করতে নজরদারি করতেন। এনটিএমসির সঙ্গে সরকারের ৩০টি সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সময় সারা দেশে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধে জিয়াউল আহসানের ভূমিকা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। ইন্টারনেট বন্ধ করে ইনফরমেশন ব্ল্যাক আউটের মাধ্যমে গণহত্যায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

আয়নাঘরের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন এই জিয়াউল আহসান। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস হোসেন, যুবদল নেতা সাজেদুল হক সুমন, ইফতেখার দীনারসহ অসংখ্য বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিকে গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই জিয়াউল আহসান। তার এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরও তিনি তার পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। তিনি পতিত সরকারের এতই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে একের পর এক পদোন্নতি পেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আয়নাঘর নামক যে বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল সেখান থেকে এক ব্যক্তি মুক্তি পেয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এর পরই আয়নাঘরের বিষয়টি জানাজানি হয়। আয়নাঘর থেকে যারা বেঁচে ফিরেছেন তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা এ রকমআয়নাঘরের নির্যাতন ছিল নাৎসি বাহিনীর কনসেট্রেশন ক্যাম্পের চেয়েও ভায়বহ। আর জিয়াউল আহসানকে বসনিয়ার কসাই বলে খ্যাত রাদোভান কারাদিচ ও স্লোবোদান মিলোসেভিচের সঙ্গে তুলনা করা চলে।

তাজুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, এরপর গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর মাইকেল চাকমা, আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও মীর আহমেদ বিন কাশেম (আরমান) এই আয়নাঘর থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আকারে পরিচিতি পায়। এনটিএমসিতে ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউল আহসান একের পর এক ব্যক্তির কল রেকর্ড ফাঁস করেছেন, বিভিন্ন ব্যক্তির ফোনে আড়ি পেতেছেন। আড়ি পাতার নিষিদ্ধ যন্ত্রপাতির আমদানি নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু তার পরও এসব ব্যবহার করে কল রেকর্ড ফাঁস করা হয়েছে।

মিরপুর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন মোল্লার বিষয়ে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনে মিরপুরে যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার প্রধান নির্দেশদাতা ছিলেন এই ব্যক্তি।

লাশ পোড়ানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানো : ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল কাফির অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়, সাভারের শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশদাতা সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। তাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলন চলাকালে সাভারে পুলিশের এপিসি ভ্যানের ওপর থেকে ইয়ামিন নামের তরুণকে গুলি করে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির পরও ইয়ামিন জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে দেখা গেছে। এমনকি তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতেও বাধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পুলিশ ভ্যানে উঠিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানো, কিন্তু তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে এসেছে।

আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত সুপার মো. শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তদন্তে তা উঠে এসেছে বলে শুনানিতে ট্রাইব্যুনালকে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

গুলশান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হকের অপরাধ তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরের তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন এই ব্যক্তি। জুলাই-আগস্ট মাসে তিনি ছিলেন গুলশান থানার দায়িত্বে। এ সময় গুলশান জোনে কাফি, বাহাদুর হোসেন মানিক, সোহাগ, ওয়াসিমসহ যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তার নির্দেশদাতা ছিলেন তিনি।

 

আমাকে বাঁচান, আমার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে : এর আগে সাভারের আশুলিয়ায় গণহত্যার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে অপরাধের বিবরণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলে তিনি কাঠগড়া থেকে চিৎকার করে বলেন, আমি কখনোই সাভার-আশুলিয়ায় দায়িত্ব পালন করিনি। আমি তখন গুলশান থানার ওসি ছিলাম। আমি ছাত্রদের পক্ষে ছিলাম। আমাকে বাঁচান। আমার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে ন্যায়বিচার পাবেন। এ সময় মাজহার হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন।

 

গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশদাতা ছিলেন ওসি আবুল হাসান : যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণ-আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ওয়ারীতে শত শত লোককে হত্যা করা হয়। শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এই আবুল হাসান। স্বৈরাচারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হত্যা, জখম, নির্যাতন, গণহত্যায় তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশদাতা।

দুনিয়ার সামনে, আদালতের সামনে অপরাধ প্রমাণ করব : চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে ২০০ ভিকটিম পরিবার অভিযোগ দাখিল করেছে। সেসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে তদন্ত সংস্থা দেখতে পেয়েছে, একটা ঘটনার নির্মমতা আরেকটা ঘটনার নির্মমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। অভিযুক্তরা কিভাবে অপরাধ করেছেন তা দুনিয়ার সামনে, আদালতের সামনে প্রমাণ করব। ট্রাইব্যুনালের মাধমে তাদের অপরাধ জাতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে।

 

আমি কখনো আয়নাঘরে চাকরি করিনি : ট্রাইব্যুনালের আদেশ দেওয়া শেষ হলে অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের আইনজীবী তার মক্কেলের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চান ট্রাইব্যুনালের কাছে। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেন। এ সময় কাঠগড়া থেকে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি কখনো আয়নাঘরে চাকরি করিনি। আমি চাকরি করেছি যেখানে, সেটি একটি টেকনিক্যাল জায়গা। বারবার আমার বিরুদ্ধে আয়নাঘরকে জড়িয়ে মিডিয়ায় অপপ্রচার করা হচ্ছে।

তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, আপনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। আপনার আইনজীবী এখানে আছেন। তারা আপনার পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরবেন। তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হলে তখন কথা বলার সুযোগ পাবেন। এরপর বিচারকক্ষ ত্যাগ করেন ট্রাইব্যুনাল।   

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলের পতন ঘটে। আন্দোলনে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার ঘোষণা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৪ আগস্ট তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ