বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘খুনের মাস্টারমাইন্ডকে ভারত আশ্রয় দিয়ে জেনেভা কনভেনশন এবং সব আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। তাহলে আমরা এটা বলতে বাধ্য, এত বছরের জুলুম, নির্যাতন, লুটপাট খুনের পেছনে তাদেরও হাত ছিল।’
গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুরে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে এ কর্মী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে দুই হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, ৪০ হাজার আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। যারা চলে গেল তারা তো বিজয় দেখে যেতে পারল না। তাদের রক্তের এই ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। তারা যে ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য রক্ত দিল, সেই স্বাধীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র আমাদের গড়তে হবে।
’
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা রাজপথে ছিলাম, রক্ত দিয়েছি, তাঁদের কাছে আমার মিনতি, জুলাই অভ্যুত্থানের যে চেতনা, এই ঐক্যের আলোকে আসুন জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করি। একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন সেই সংস্কারটুকু করে আমরা নির্বাচনে যাই।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনি সন্ত্রাসী ফ্যাসিস্ট সমস্ত গুম, হত্যাকাণ্ড, রিমান্ড, ক্রসফায়ারের মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনার নির্দেশে পল্টনে দিয়ে আমাদের সাতজন তরুণ নেতাকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা একটি কালো অধ্যায় পার করেছি।
এই সময় আমাদের কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার ছিল না। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতিসত্তা পায়ের নিচে পিষে ফেলা হয়েছিল।’
জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে বৃদ্ধ বয়সে কারাগারে নিষ্ঠুর নির্যাতন করেছে, তাঁদের ফাঁসি দিয়েছে। মিথ্যা মামলা, মিথ্যা বাদী, মিথ্যা সাক্ষী, মিথ্যা ট্রাইব্যুনাল, মিথ্যা বিচারক সাজানো রায় দিয়ে ইতিহাসের বর্বরতম জুডিশিয়াল কিলিং করে আমাদের নেতাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন শেখ হাসিনা।
’
জেলা সেক্রেটারি মো. সফিউদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মো. সামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবুল হাশেম খান, গাজীপুর মহানগর শাখার আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দিন, সিনিয়র নায়েবে আমির মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম।