প্রকাশ্য জনসভায় ‘কতলের’ পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী। সবাইকে শুধু আহ্বান জানিয়ে হবে না, প্রয়োজনে মারধর, এমনকি ‘কতল’ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলারে পিডান লাগবে, কতল করা লাগবে, এগুলারে মাইর ছাড়া কোনো উপায় নেই। এগুলা দাওয়াতে ফেরবে না।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সৈয়দ মোসাদ্দেক বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য এবং বরিশালের চরমোনাই আহছানাবাদ রাশিদিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল।
সম্মেলনে সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ‘দাওয়াত দিয়া সব মানুষ হেদায়েত হবে... (আরবিতে কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে) তাহলে কেসাসের কথা, খুনের পরিবর্তে খুন—আল্লাহ কেন এই আয়াত নাজিল করল। আল্লাহ জানেন তাঁর কিছু বান্দা আছে, এরা চতুষ্পদ জানোয়ারের চেয়ে, গরুর দলের চেয়ে খারাপ। এগুলারে পিডান লাগবে, কতল করা লাগবে, এগুলারে মাইর ছাড়া কোনো উপায় নেই।
এগুলা দাওয়াতে ফেরবে না। এই যে দলিল।’
ইসলামী আন্দোলনের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘যেসব ইসলামপন্থী বলে দাওয়াত দিয়া সব হেদায়েত হবে, এটা সম্পূর্ণ কোরআন-হাদিস বিরোধী কথা। আপনাকে প্রয়োজনে মারতে হবে।
আপনাকে লড়তে হবে প্রয়োজনে।’
সম্প্রতি কদমতলীতে একটি আয়োজন ‘ধ্বংস’ করার উদাহরণ দিয়ে মোসাদ্দেক বিল্লাহ বলেন, ‘পরশু দিন আমাদের এই কদমতলীতে ওরা বিশাল ডেকপার্টি করছে। যত বলে কেউ শোনে না। আমাদের শত শত মুসল্লি ভাইয়েরা তাওহিদি জনতা যাইয়া পিডাইয়া নাস্তানাবুদ করে, সব ধ্বংস করে দিছে। উলঙ্গ মহিলা প্রায় ২৫ জন ছিল।
কালকে... মাদরাসায় প্রগ্রাম করছি। সেখানেও সব পিডাইয়া লড়াইছি। এগুলা এমনে যায়? এগুলারে মারতে হবে। এই যে আমরা এগুলা বাদ দিছি, আমি সেই হাদিসটাই বলছি। যখন তোমরা তোমাদের ঘরে, সমাজে, রাষ্ট্রে অন্যায় দেখবা, প্রথমে শক্তি দিয়া ফিরাইবা। ঈমানের শক্তি না থাকলে তাকে মুখে মুখে বল। খালি মনে মনে ঘৃণা করলে হবে না, সবচেয়ে দুর্বল ঈমান হচ্ছে ওইটা।’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘হাসিনা ভারত সরকারের পুতুল হিসেবে ছিল। তুমি যেমনে নাচাও তেমনে নাচি পুতুলের কী দোষ। এখন তাদের ফিরিস্তি বাইর হচ্ছে। শেখ হাসিনা কত লক্ষ কোটি টাকা পাচার করছে। তাঁর ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল ও তাঁর বোন রেহানা লক্ষ লক্ষ টাকা পাচার করছে। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী, তিনশ এমপি, মন্ত্রী, গুণ্ডা-পাণ্ডাসহ সব ভাগছে। এদের ভারত আশ্রয় দিছে। তাহলে দেখা গেল ভারতই এটার সব কিছুর মূল।’
সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ‘এই যে অপকর্মগুলো হলো, আমরাও তো সাপোর্ট করছি। কিভাবে ভোট হয়...নাই ধরলাম। ১৪, ১৮, ২৪-এ ভোট হয়নি ধরলাম। তার পরও তো আমাদের ছেলে-পেলেরাই, আমাদের লোকজনরাই, এই প্রশাসনের লোকসহ সব জায়গায় তারা এই হাসিনার পেছনে থেকে তার অপকর্মগুলোকে সাপোর্ট করে গেছে।’
এ পর্যায়ে তিনি চিৎকার করে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান—‘করছে, কী করে নাই।’ সমাবেশ থেকে জবাব আসে,‘করছে’।