একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগের মামলায় পলাতক ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল প্রথম দিনে রাষ্ট্রপক্ষের তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী আবুল কাশেম বলেছেন, 'খোকন রাজাকারসহ পাকিস্তানী বাহিনী নগরকান্দার ঈশ্বরদী গ্রামে পাঁচ-সাতজন, কোদালিয়া গ্রামে শিশুসহ ১৬ জন এবং বাগাট গ্রামের দক্ষিণ পাশে পাটক্ষেতে পলায়নরত নিরস্ত্র ১০-১৫ জনকে হত্যা করেন বলে লোকমুখে শুনেছি।'
অন্য দুই সাক্ষী এ আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, লুটপাট ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলেছেন।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, পাঁচজন সাক্ষী প্রস্তুত আছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। এরপর ট্রাইব্যুনাল একে একে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে বিকেল হয়ে যাওয়ায় ২৬ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিয়োগকৃত আইনজীবী আব্দুর শুকুর খান।
আবুল কাশেম বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল খোকন, তাঁর বড় ভাই জাফর, বাচ্চুসহ অনেকেই আর্মিদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর খোকনের বড় ভাই জাফরের নেতৃত্বে একটি, মাওলানা আবুল কালামের নেতৃত্বে মুজাহিদ বাহিনী গঠন করে।
পরে তাঁরা নগরকান্দার হিন্দুদের এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের লোকজনের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে লিপ্ত হন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল জাহিদ এবং তাঁর সহযোগীরা বনগ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে এবং ১৭ জন লোককে ধরে নগরকান্দা থানায় নিয়ে নির্যাতন করে। ২৭ মে চাঁদহাটে খোকন রাজাকার এবং তাঁর সহযোগীরা লুটপাট করে নারী ধর্ষণ করে। রাধা রানী নামে এক গৃহবধূকে খোকন রাজাকার ধর্ষণ করেন। আর তাঁর সহযোগীরা অন্য একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে। ৩০ মে একাত্তর সালে ঈশ্বরদী গ্রামে খোকনসহ পাকিস্তানি বাহিনী পাঁচ-সাতজন লোককে গুলি করে হত্যা করে।