ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬
সবচেয়ে কম মৃত্যুহার ঢাকায়

শিশুমৃত্যু বেশি সিলেট-চট্টগ্রাম বিভাগে

সাইদ শাহীন
সাইদ শাহীন
শেয়ার
শিশুমৃত্যু বেশি সিলেট-চট্টগ্রাম বিভাগে

দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে ৩৩টির মৃত্যু হয়েছে। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ২৮। ফলে চার বছরের ব্যবধানে শিশুমৃত্যু হাজারে বেড়েছে ৫টি।

আর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সবচেয়ে কম মৃত্যুহার ঢাকা বিভাগে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সিলেট বিভাগে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে ৩৯.৩৪টি শিশু মারা গেছে।

অন্যদিকে এই হার চট্টগ্রামে ৩৫.১০। সবচেয়ে কম মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে প্রতি হাজারে মৃত্যু ছিল ২৮.৫৫টি। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৩০.৪৪, খুলনা বিভাগে ৩২.৩৫, বরিশাল বিভাগে ৩৩.৪৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩.৬১ এবং রংপুর বিভাগে ৩৪.৭৯টি শিশুর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা দুটি প্রাকৃতিকভাবে দুই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। আবার সিলেট বিভাগে রয়েছে হাওর অঞ্চল। ফলে এই অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসবকালীন সেবা ও প্রসবোত্তর সেবা কার্যক্রম সঠিকভাবে শিশুরা পাচ্ছে না। এ ছাড়া এসব অঞ্চলে অন্যান্য সেবা পৌঁছানো অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফলে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এ অঞ্চলে বেশি হারে শিশু মারা যাচ্ছে।

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিকভাবে দেশে নবজাতক, এক বছরের কম বয়সী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুএ তিন ক্ষেত্রেই মৃত্যুহার বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে ছিল ২৪, যা ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ২৭। পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালে এই হার ছিল ২১।

অন্যদিকে ২০২৩ সালে এক মাসের কম বয়সী নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত নবজাতকের মধ্যে ২০টি মারা গেছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬। পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালে ছিল ১৫।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সব অঞ্চলে এখনো সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সেপসিস, মেনিনজাইটিস ও নিউমোনিয়ার কারণে অকালজন্ম ও অন্তঃসত্ত্বা জটিলতা দেখা দেয়। এতে নবজাতকের বেশি মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ও আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শিশুদের ঘর থেকে বের করতে চায় না। যখন বের করে, ততক্ষণে শিশুর রোগটি প্রকট আকার ধারণ করে। অন্যান্য অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া ও জন্মগত ত্রুটি; এ ছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যু। সামাজিকভাবে চিন্তা করলে যাত্রাপথে শিশু মারা যাচ্ছে। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়ার পথে পাঁচজন শিশুর একজন মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ ভালো রেফারেল সিস্টেম ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিশু মারা যাচ্ছে। হাসপাতালে আসার আগেই এক-তৃতীয়াংশ শিশু মারা যাচ্ছে। এই মৃত্যু প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো দেশের অনেক শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে। সেখানে প্রসূতি ও নবজাতকের জটিলতা তৈরি হলে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান জন্মদান বাড়াতে হবে।

দেশে শিশুমৃত্যুর কারণ বিষয়ে জরিপ করে তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বিবিএস। প্রতিষ্ঠানটির জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর বিষয়ে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ২৪ শতাংশ শিশু এখনো নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গতকাল বুধবার দুপুরে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কাইয়ুম ও তারেক নামের দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত হয়েছেন আরো তিনজন। কাইয়ুম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার করিম মিয়ার ছেলে এবং তারেক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গুরুহিত গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে। আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর মোগড়া রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের যাত্রীবাহী বগির ছাদে থাকা কয়েকজন যুবক উঠে দাঁড়ান। এ সময় রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়া ডিশ লাইনের তার পেঁচিয়ে তাঁরা চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আরেকজন জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়া তার পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান কয়েকজন যুবক। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

মন্তব্য

সাতক্ষীরায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শেয়ার
সাতক্ষীরায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ আরো ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে একজন এবং গতকাল বুধবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকি চারজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃতরা হলেন আশাশুনি উপজেলার শাহানগর গ্রামের বাসিন্দা ও কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন টিটু (৪০) এবং একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫)। তাঁরা দুজনই মাদুর ব্যবসায়ী ছিলেন।

মন্তব্য

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই : এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই : এনসিপি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে ও অস্থির করে তুলছেন বলেও অভিযোগ তাদের। গতকাল বুধবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তরে সংযুক্ত) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মার্চ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে হামলার শিকার হন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মাহিরের বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা।

এতে তাঁর হাত ভেঙে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ২৪ মার্চ নোয়াখালীর হাতিয়ায় পথসভা ও জনসংযোগের সময়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির কর্মী-সংগঠকদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

মন্তব্য

উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথসহ মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথসহ মাদক কারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথ ও অস্ত্রসহ মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গতকাল বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের শফির বিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৌবাহিনী। অভিযানে উখিয়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়।

এ সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা, সাতটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও তিনটি মোবাইল জব্দ করা হয়। আটক ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অভিযানের পর উদ্ধার করা মাদক ও অস্ত্রসহ তাঁকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ দমনে নৌবাহিনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ