মা-ভাইকে কুপিয়ে জখম করলেন বড় ভাই

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শেয়ার
মা-ভাইকে কুপিয়ে জখম করলেন বড় ভাই
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাতে রক্তাক্ত হয়েছেন মা ও ছোট ভাই। আহতরা হলেন মো. মাসুম (৩৫) ও  জুলেখা খাতুন (৫৫)। 

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের ফকিরা বন এলাকার ভোলা গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত ইয়াসিন পালিয়ে যান।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো রামদা দিয়ে আপন ছোট ভাই মো. মাসুম ও মা জুলেখাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বড় ভাই ইয়াসিন। এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

 

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

পাংশায় ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ওসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
শেয়ার
পাংশায় ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ওসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রতীকী ছবি

হয়রানি, ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজবাড়ীর পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী। ওসির দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে ওসি মো. সালাউদ্দিনের নির্দেশে এসআই হিমাদ্রি হাওলাদার ও সহযোগী আরিফ হোসেন ওই গৃহবধূর বাড়িতে হানা দেন।

এসময় হিমাদ্রি ও আরিফসহ সঙ্গীয় ফোর্স ওই গৃহবধূর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তার স্বামীকে খোঁজার অজুহাতে তল্লাশি চালান। স্বামীকে না পেয়ে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। 

আরো বলা হয়েছে, রাতেই ওই গৃহবধূকে থানায় নিয়ে ওসির নির্দেশে শারীরিক, মানসিক ও দৈহিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে ছাড়িয়ে আনার জন্য থানায় গেলে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণসহ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা।

বিক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে পরদিন ওই গৃহবধূকে ছেড়ে দেন তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। 

রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. মো. জাহিদ হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্তের জন্য মামলার নথিপত্র পিবিআই দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পাংশা থানার ওসি জানান, একটি অপহরণ মামলার আসামি ওই নারী ও তার স্বামী।

তাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ওই নারীকে আটক করে আনা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর অপহৃতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তারপর সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে তাকে মুচলেকায় পারিবারিক জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

মন্তব্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার তিতাস নদ থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সি অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে লাশটি উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন। 

ওসি মো. মোজাফফর বলেন, ‘তিতাস নদে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

কচুরিপানার মধ্যে লাশটি পড়েছিল। লাশের গায়ে পচন ধরেছে। লাশটি সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি কিংবা অন্য কারো কি না, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য
বগুড়া

নারীর সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের ৪ নেতাকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
শেয়ার
নারীর সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের ৪ নেতাকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ায় ট্রেনযাত্রী নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের ৪ নেতা। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে রেলস্টেশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ রবিবার ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১২ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন আহত যোবায়েরের বাবা গোলাম ফারুক। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন।

আহতরা হলেন বগুড়া চকসুত্রাপুর এলাকার গোলাম ফারুকের ছেলে ও শহর শাখার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা যোবায়ের (২১), ছাত্রদলকর্মী একই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে পিয়াল (২০), আব্দুস সালামের ছেলে নাঈম (১৭) ও মৃত শাহিনুরের ছেলে তানভীর হোসেন শরৎ (১৯)। আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত যোবায়েরের বাবা গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন রাতে জেলার সোনাতলা উপজেলা স্টেশন থেকে পিয়াল আর রিফাত পদ্মরাগ ট্রেনে আসছিল। তাদের বগিতে সেউজগাড়ী এলাকার ইমন, মঈন, মুন্নাসহ ৪ জন যুবক সন্দেহজনকভাবে ব্যাগ রাখে।

ব্যাগটি রেলযাত্রী ২ নারীর ওপর পড়ে গেলে পিয়াল ও রিফাত তা সরিয়ে রাখতে বলে। এ সময় ইমনরা কয়েকজন হঠাৎ নারী যাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে এবং পিয়াল ও ফারুককে স্টেশনে নেমে মারপিট করে হত্যা করার হুমকি দেয়। 

তিনি আরো জানান, ভয় পেয়ে আত্মরক্ষার্থে বিষয়টি মোবাইল ফোনে যোবায়েরকে বিস্তারিত জানায় পিয়াল। এরপর পিয়াল ও রিফাতকে সহযোগিতা করতে যোবায়ের বগুড়া রেলস্টেশনে যায়।

কিন্তু ট্রেন থেকে নামতেই ইমনরা সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী স্টাইলে মুখোশ পরে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে যোবায়েরদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় যোবায়েরসহ ৪ জন ছুরিকাঘাত হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

যোবায়ের বাবা জানান, ইমন, মঈন ও মুন্না সংঘবদ্ধ একটি চক্র এবং পেশাদার ছিনকারী।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান দৈনিক কালের কণ্ঠকে জানান, ছুরিকাঘাতে আহত প্রত্যেকেই স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়।

তারা আগস্টে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 

তিনি বলেন, থানা পুলিশ যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিসহ তাদের সঙ্গীদের গ্রেপ্তার না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ, ইমন, মঈন ও মুন্নাসহ সঙ্গীরা রেলওয়ের বিতর্কিত কর্মচারী বুকিং সহকারী শ্রমিকলীগ নেতা রায়হানের পোষ্য হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্তর বাহিনীর সদস্য হিসেবে পেশাদার ছিনকারী। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মামলার কারণে নেতারা কিছুটা গা-ঢাকা দিলেও তাদের বাহিনী এখনও সক্রিয় রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, বুকিং সহকারী শ্রমিকলীগ নেতা রায়হানের ছত্রছায়ায় বেড়ে এসব ছিনতাইকারীরা বর্তমানে স্টেশন এলাকায় বিভিন্নভাবে অপকর্ম সংগঠিত করছে। পুলিশ বিভাগের উচিত দ্রুত এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

পানিসংকট দূরীকরণে বাঁশ লাগানোর আহ্বান পার্বত্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
শেয়ার
পানিসংকট দূরীকরণে বাঁশ লাগানোর আহ্বান পার্বত্য উপদেষ্টার

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা উন্নয়নকাজের সঠিক গুণগতমান ঠিক রাখতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রবিবার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে জেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেলার বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা আর তাদের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সমাজের সবাইকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে, কে কোনো জাতি তা মুখ্য নয়, সবাই মানুষ আর মানুষের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’ 

এ সময় তিনি পাহাড়ের পানি সংকট দূরীকরণে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বৃক্ষ নিধনরোধ করে পাহাড়ে পানির সমস্যা সমাধানে পার্বত্য জেলা পরিষদকে আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মতবিনিময়সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সমাজের সব স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া এবং সবার মানসম্মত জীবনধারণ ও সঠিকভাবে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিজের ভাগ্য উন্নয়নে পরনির্ভরশীলতা ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

এ সময় সভায় উদ্যোক্তারা পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার আরো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, সহজ শর্তে ব্যাংক লোন পেতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

মতবিনিময়সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ