বগুড়ায় ট্রেনযাত্রী নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের ৪ নেতা। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে রেলস্টেশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ রবিবার ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১২ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন আহত যোবায়েরের বাবা গোলাম ফারুক। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন।
আহতরা হলেন বগুড়া চকসুত্রাপুর এলাকার গোলাম ফারুকের ছেলে ও শহর শাখার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা যোবায়ের (২১), ছাত্রদলকর্মী একই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে পিয়াল (২০), আব্দুস সালামের ছেলে নাঈম (১৭) ও মৃত শাহিনুরের ছেলে তানভীর হোসেন শরৎ (১৯)। আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত যোবায়েরের বাবা গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন রাতে জেলার সোনাতলা উপজেলা স্টেশন থেকে পিয়াল আর রিফাত পদ্মরাগ ট্রেনে আসছিল। তাদের বগিতে সেউজগাড়ী এলাকার ইমন, মঈন, মুন্নাসহ ৪ জন যুবক সন্দেহজনকভাবে ব্যাগ রাখে।
ব্যাগটি রেলযাত্রী ২ নারীর ওপর পড়ে গেলে পিয়াল ও রিফাত তা সরিয়ে রাখতে বলে। এ সময় ইমনরা কয়েকজন হঠাৎ নারী যাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে এবং পিয়াল ও ফারুককে স্টেশনে নেমে মারপিট করে হত্যা করার হুমকি দেয়।
তিনি আরো জানান, ভয় পেয়ে আত্মরক্ষার্থে বিষয়টি মোবাইল ফোনে যোবায়েরকে বিস্তারিত জানায় পিয়াল। এরপর পিয়াল ও রিফাতকে সহযোগিতা করতে যোবায়ের বগুড়া রেলস্টেশনে যায়।
কিন্তু ট্রেন থেকে নামতেই ইমনরা সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী স্টাইলে মুখোশ পরে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে যোবায়েরদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় যোবায়েরসহ ৪ জন ছুরিকাঘাত হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যোবায়ের বাবা জানান, ইমন, মঈন ও মুন্না সংঘবদ্ধ একটি চক্র এবং পেশাদার ছিনকারী।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান দৈনিক কালের কণ্ঠকে জানান, ছুরিকাঘাতে আহত প্রত্যেকেই স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়।
তারা আগস্টে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পতনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, থানা পুলিশ যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিসহ তাদের সঙ্গীদের গ্রেপ্তার না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ, ইমন, মঈন ও মুন্নাসহ সঙ্গীরা রেলওয়ের বিতর্কিত কর্মচারী বুকিং সহকারী শ্রমিকলীগ নেতা রায়হানের পোষ্য হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্তর বাহিনীর সদস্য হিসেবে পেশাদার ছিনকারী। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মামলার কারণে নেতারা কিছুটা গা-ঢাকা দিলেও তাদের বাহিনী এখনও সক্রিয় রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, বুকিং সহকারী শ্রমিকলীগ নেতা রায়হানের ছত্রছায়ায় বেড়ে এসব ছিনতাইকারীরা বর্তমানে স্টেশন এলাকায় বিভিন্নভাবে অপকর্ম সংগঠিত করছে। পুলিশ বিভাগের উচিত দ্রুত এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।