টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংসদীয় ককাস গঠনের আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্ল্যাটফর্মটি মূলত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে থাকে। এই লক্ষ্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে নিতে একটি স্বাধীন সংসদীয় ককাস গঠনের প্রয়োজন।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এক বৈঠকে এই আহ্বান জানায় প্রতিনিধিদলটি। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, উইম্যান উইথ ডিস-এবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিডিএফ) নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেটওয়ার্ক ফোকাল পয়েন্ট তারান্নুম জিনান।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও আমি সংখ্যালঘু, মানবাধিকার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করেছি। যে কারণে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গারো ও হাজং সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। এই প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের দুর্দশা লাঘবের জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির সংসদীয় ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদে সংসদীয় ককাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আগ্রহী সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে ককাস গঠনের মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান সংসদের তরুণ সদস্যরা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন।’ আলোচনাকালে উভয় পক্ষ মানসম্পন্ন শিক্ষা, জনসেবা, সুশাসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।