• ই-পেপার

রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা

সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য যুক্তিতর্ক করব : রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী

ইকরার আত্মহত্যা : আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইকরার আত্মহত্যা : আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা
অভিনেতা যাহের আলভী ও স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরা। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বনানী।

আবেদনে বলা হয়, ‘নাসরিন সুলতানা গত ২৬ এপ্রিল স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দেন। হাইকোর্টের আদেশক্রমে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বয়স্ক মহিলা, জামিন দিলে পালিয়ে যাবেন না।

পরে আদালত আগামী ২৪ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির ধার্য দিন পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

ইকরার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওইদিন রাতেই মামলা করেন তার বাবা কবির হায়াত খান। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়।

মামলায় ইকরার বাবা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’।

অসুস্থতার জন্য সময় আবেদন

পেছানো হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩ মামলার বিচারকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেছানো হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩ মামলার বিচারকাজ
সংগৃহীত ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত তিনটি মামলার বিচারকাজ পেছানো হয়েছে। সাক্ষী আনতে না পারায় পেছানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার ৭ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। প্রসিকিউশনের আবেদনে সেই সাক্ষ্যগ্রহণ ১০দিন পিছিয়ে আগামী ১৫ জুন তারিখ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এ মামলায় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে চব্বিশের গণআন্দালন চলার সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের হত্যার তথ্য আড়াল, হত্যাযজ্ঞে উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আজ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জয়কে পলাতক দেখিয়ে চলছে বিচারকাজ।

এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানিও পেছানো হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন ৪ জন। তাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী এম হাসান ইমাম আজ ট্রাইব্যুনালকে বলেন, বয়সজনিত নানা রোগে ভুগছেন ফজলে করিম চৌধুরী। এর মধ্যে একদিন ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। ফলে শুনানির জন্য সময় প্রয়োজন।

আর মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রসিকিউশন থেকে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম। পরে এসব বিবেচনায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি ১৮ দিন পিছিয়ে দেন। আগামী ২২ জুন শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। শুনানির দিন থাকায় গ্রেপ্তার বাকি ৩ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হিাজির করা হয়। তারা হলেন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।

এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ এবং মো. ফারুককে হত্যা করার কথা উল্লেখ আছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলায় আজ প্রসিকিউশনের তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। প্রসিকিউশনের সময় আরজির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিতর্ক দুই দিন পিছিয়ে আগামী ৭ জুন তারিখ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। সব আসামিই পলাতক। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

রামিসা হত্যা

সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ের দিন রবিবার (৭ জুন) ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন রাখেন।

আজ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান বলে সাংবাদিকদের জানান। 

তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলায় সম্পূর্ণরূপে সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে প্রমাণ হয়েছে। গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকারও করেছেন। সুতরাং আমরা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা মৃত্যুদণ্ড সেটি চেয়েছি।

আরো পড়ুন
ফরিদপুরে ৫ মাস ২ দিনে হামে ২০ শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে ৫ মাস ২ দিনে হামে ২০ শিশুর মৃত্যু

 

অপরদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুছা কালিমুল্যাহ আসামির দোষ স্বীকার করায় তার যাবজ্জীবন চান। অপরদিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার যেহেতু তাকে এ হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছেন এজন্য তাকে ২০১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড চেয়েছেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। শুনানি শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

এদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে  আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। পরে সকাল ১১টা ২১ মিনিটে সোহেল রানাকে ও পরবর্তীতে স্বপ্নাকে  শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। পরে ১১টা ৪৫ মিনিটে আদালতে বিচারক উঠলে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টা ৩৬ পর্যন্ত একটানা চলতে থাকে এই যুক্তিতর্ক। 

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে শুনানি করেন। এ সময় তিনি আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনান। একইসঙ্গে মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শোনান। 

এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলার প্রত্যেকটা সাক্ষী রামিসার গলা কাটা লাশ দেখেছেন বলে এখানে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

আরো পড়ুন
বিএসইসিতে ৩ কমিশনার নিয়োগ

বিএসইসিতে ৩ কমিশনার নিয়োগ

 

ডলারের নাম আসার বিষয়ে আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, এ আসামি জবানবন্দিতে বলেনি ডলারের নাম। এটা মূলত সে যখন অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে কারাগারে থেকেছে সেখান থেকে অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি-পরামর্শ পান। তবে একই সঙ্গে যেটা বলতে হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসামি সোহেল গতকাল কিন্তু স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়েছেন। বলা যায় এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। 

এ মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আইনজীবী দুলু আদালতে বলেন, সে কিন্তু রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে জানাতে পারত কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এমনটি না পুরো ব্যাপারে স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহায়তা করেছেন। যদি তিনি কাউকে জানাতে পারতেন, তাহলে তিনি নিরপরাধ হতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

আইনজীবী আরো বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, পল্লবী এলাকা এত ডেভেলপ না। এ জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত একটানা শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। পরে এ মামলায় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী পরবতীতে ১টা ৩১ মিনিট থেকে মুছা কালিমুল্যাহ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন।

তিনি আদালতে বলেন, শুধুমাত্র জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কি জবানবন্দি দিয়েছেন তা গ্রহণ করা যায় না। এটা বলে সে শুনানি শুরু করেন। পরে আইনজীবী দুলু বলেন, ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল সেটা কোথাও প্রমাণিত না।

এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী ও উপস্থিত ছিলেন। 

আরো পড়ুন
সিংগাইরে ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন

সিংগাইরে ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন

 

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের  সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মাথাবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা : অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা : অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।

তিনি বলেন, এ মামলায় আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ফজলে করিমকে আনা হয়নি। এজন্য আমরা আগামী ৭ বা ৮ জুন পর্যন্ত সময় চাই।

ফজলে করিম প্রসঙ্গে জহিরুল আমিন বলেন, তিনি (ফজলে করিম) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য তাকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি তারা।  

হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন– সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।