বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে হজম করতেও পারছে না আবার বমি করতেও পারছে না। ফলে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বদ হজম হয়েছে। তাই তাদের দেশের তথাকথিত মিডিয়া সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের সব মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দুর্গন্ধ বাড়াচ্ছে। তাদের ছড়ানো দুর্গন্ধ বাংলাদেশেও কিছুটা আসছে।
হাসিনা দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন : দুলু
নাটোর প্রতিনিধি

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো রকম সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা না ঘটলেও হাসিনার কিছু দোসর সেসব মিডিয়ায় হাজির হয়ে নিজের জন্মভূমির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। নিজের দেশকে ছোট করতে এই দোসরদের একটুও লজ্জা হচ্ছে না। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে নিজের দেশকে ছোট করছে। ১৬ বছরের শাসনে হাসিনা দেশকে ভারতের অঙ্গ রাজ্যে পরিণত করেছিলেন।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জোনাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাসেলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ।
জোনাইল মহিলা কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুলুর সহধর্মিনী ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম ও ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন, নাটোর শহর বিএনপির আহ্বায়ক এমদাদুল হক আল মামুন, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, সদস্যসচিব আলী আকবর, সদস্য লিয়াকত আলী আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, বড়াইগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র ইসাহক আলী, বনপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক মুক্তা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশরাফ আলী, আব্দুস সালাম মোল্লা ও শামসুল আলম রনি বক্তব্য দেন।
সম্পর্কিত খবর

দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই : সরোয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, ‘একাত্তর ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে যারা কথা বলবে, তাদের বরদাশত করা হবেনা। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। চব্বিশে বিপ্লবও হয়নি। একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে মাত্র।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। গত ১৬ বছর এ দাবিতে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সরোয়ার আরো বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান অনেক বড় নেতা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান আমরা অস্বীকার করতে পারি না।
সরোয়ার আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল, কিন্ত তাদের অহংকার বেশি। শেখ মুজিবর বড় মাপের নেতা।
এ সময় বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র ব্যটবল ও নুরুল আলম ফরিদ, সাংবাদিক নাছিমুল আলম ও হুমায়ুন কবীর, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ইলেকশন আনার চেষ্টা করতেছি আমি একা : ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি একা এই দেশে ইলেকশন আনার চেষ্টা করতেছি। আমি একা প্রথম এই কথা বলছি। ইলেকশন হবে, ভোট দেবে মানুষ। আমাকে ভোট দিলে আমি হবো এমপি।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার এলংজুরি বাজারসংলগ্ন মাঠে এলংজুরি ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিই, অনেকের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক সময় হয়। কী বক্তব্য দিই? আমি কারো বিরুদ্ধে নয়, কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। আমি মানুষের পক্ষে।
তিনি আরো বলেন, ‘হাসিনা আর মুক্তিযুদ্ধ এক রকম না। হাসিনা কেউ না, আরইলের ডিম। মুক্তিযুদ্ধ হলো মহাসাগর।
তিনি বলেন, ‘এই দেশে ইলেকশন আনার চেষ্টা করতেছি আমি একা। আমি একা প্রথম বলছি, এটার জন্য জামায়াতে ইসলামী আমাকে বলবে (গালাগাল করবে)। কিন্তু ইলেকশন দিতে হবে। কারণ দেশটা হলো জনগণের। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে ভোটের মাধ্যমে দেশটা কারা চালাবে। ইলেকশন হবে, ভোট দেবে মানুষ। আমাকে ভোট দিলে আমি হবো এমপি। আমার দলকে বেশি ভোট দিলে আমার দল হবে সরকার। অন্য দলকে দিলে তারা হবে। ভোটটা হলে দেশ হবে জনগণের। আমি মনে করি, ভোট হওয়া উচিত।’
ফজলুর রহমান আরো বলেন, ‘ভোট যদি হয় আমি এই দেশে আসব। ভোট হলে আমি এ দেশে আসবই। আমি ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামের ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে বলব, হে ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইনের মানুষ, আপনার জন্য তো আমার জীবনের যৌবন ত্যাগ করেছি। আমি তো আপনার পাহারাদার বস্তিওয়ালা, জাগো। দেখেন বৃদ্ধ বয়সে ফজলুর রহমান আপনাদের কাছে এসেছে, আপনারা তাকে চান কি না, সেই কথা বলে দেন।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতি মানুষের জীবনের জন্য। মানুষের জীবন ভালো কাজ করার জন্য। এই যে মানুষের জীবন, এই মানুষের জীবনের পক্ষে আমি আমার জীবনে ৬১ বছর দিনের পর দিন সংগ্রাম করেছি। আমার জীবনে কোনো টাকা হয়নি, পয়সা হয়নি, ব্যাংক ব্যালান্স হয়নি। আমি জীবনে কোনো দিন মানুষকে ঠকাইনি। আমি ফোর টুয়েন্টি না, বাটপারি না, চিটার না। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। ভাটি এলাকাতে জন্মগ্রহণ করে আমার জীবন ধন্য হয়েছে।’
এলংজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারিছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যদের মধ্যে ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন প্রমুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন।

‘ঐক্যমতের ভিত্তিতে ড. ইউনূস ২ থেকে ৪ বছর সরকারে থাকতে পারেন’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে ড. ইউনূস ২ থেকে ৪ বছর সরকারে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘এতে বাংলাদেশের গত ৫ দশক ধরে যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হবার আকাংখা সেটা পূরণে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গনঅভ্যুত্থানের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এতো জনসমর্থন নিয়ে কোনোদিন আবির্ভূত হয়নি। রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্র, নির্বাচনী দাবী ও সংস্কারের বিষয়ে তরুণদের যে আকাঙ্খা সবগুলোই যৌক্তিক।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো ১৫ বছর ধরে বার বার বলে আসছে আমরা ভোট চাই, নির্বাচন চাই, গণতন্ত্র চাই। কিন্তু তরুণদের আঙ্খাকাগুলো যদি পড়েন, দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে তাদের শ্লোগানগুলো।
সভায় বক্তব্য দেন- বরিশাল জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এস আনিক, এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ সহ বরিশালের সাংবাদিকগণ।

ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তি প্রদর্শন, জামায়াত সেক্রেটারির নিন্দা
অনলাইন ডেস্ক

সরকারি তত্ত্বাবধানে ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তি প্রদর্শন করায় নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদ নিয়ে আলাদা ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না। কিন্তু এবারের ঈদ সবার মাঝেই যেন প্রকৃত ঈদ হয়ে ফিরে এসেছে। সরকারি উদ্যোগে সুলতানি আমলের মতো করে ঈদ উদযাপন আমাদের জীবনে আনন্দের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি পবিত্র উৎসব এবং ইসলাম মূর্তি, প্রতিমা বা কোনো দৃশ্যমান অবয়বের মাধ্যমে ধর্মীয় আনন্দ প্রকাশের অনুমতি দেয় না। ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই, যেখানে রাসুল (সা.), সাহাবা বা পরবর্তী খলিফারা ঈদ উদযাপনে মূর্তি বা প্রতিমা বহন করেছেন।
আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ঈদ আমাদের ধর্মীয় আবেগের বিষয়।
ওই বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঈদ মিছিলে মূর্তিসদৃশ প্রতীক বহনের ঘটনা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও ঈদের পবিত্রতার পরিপন্থী। যারা ঈদ আয়োজনে অপ্রয়োজনীয় এই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।