বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। দিন দিন এই খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনি ড্রাগন চাষে অভিনব এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন এক উদ্যোক্তা। তার এই প্রযুক্তি ড্রাগন চাষে এনে দিয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
ঝিনাইদহে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃত্রিম আলোর ড্রাগন বাগান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বাংলাদেশে এমন পদ্ধতি দেখা মেলা ভার। অভিনব লাইট ইনডোর্স পদ্ধতি ব্যবহারে একদিকে যেমন অপরূপ সৌন্দর্যেও সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে ফলন বৃদ্ধি করেছে তিনগুণ। আবার অসময়ে ড্রাগন উৎপাদন করে দেশের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন এই উদ্যোক্তা।
বলছিলাম ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা গ্রামের বিপ্লব জাহানের ড্রাগন বাগানের কথা।
জানা যায়, ৪ বছর আগে হরিণাকুণ্ডুর চারাতলা গ্রামে ১১ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয় এই ড্রাগন বাগান। এখানে ৩০ হাজার গাছে প্রতি বছরে ফলন হতো গড়ে ৪৫ টন। বাগানটিতে প্রতি মাসে খরচ ২ লাখ টাকা।
সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি লাইট আর নিচে সবুজ ড্রাগন গাছ ও ওপরে সাদা ফুলের হাতছানি। দেখে মনে হবে আঁধার রাতে আলো আর সবুজ-সাদার মিলনমেলা। প্রতিটি ড্রাগন গাছের মাথার ওপর একটি করে লাইট জ্বালানো। প্রতিটি গাছেই ধরে আছে ফল আবার ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে লাইটগুলো জ্বালানোর পর তা অপরূপ সৌন্দর্যে রূপ নেয়। এমন ভিন্নতা দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হচ্ছে শত শত মানুষ। বৈচিত্র্যময় চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় গা ভাসাতে বিভিন্ন জেলা থেকেও আসছে দর্শনার্থী।
মহেশপুরের গুড়দহ এলাকা থেকে থেকে বাগান দেখতে আসা উদ্যোক্তা আল-রিয়াদ বলেন, ‘ড্রাগন বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য বাগান দেখতে এসেছি। সাধারণ ড্রাগন চাষ পদ্ধতির থেকে আল্ট্রা হাইড্রেনসিটি পদ্ধতি অনেক ভালো ছিল, তবে এই আলো জ্বালিয়ে যে পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করা হচ্ছে তা অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু অন্য পদ্ধতিগুলো থেকে এই পদ্ধতিতে খরচ বেশি হলেও এতে অসময়ে যেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে, আবার দামটাও অন্য মৌসুমের তুলনায় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ভাবছি এমন পদ্ধতিতে চাষ শুরু করবো।’
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে আসা দর্শনার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘ফেসবুক-ইউটিউবে গতবছর এই বাগানের ভিডিও অনেকবার দেখেছি। ইচ্ছে ছিল বাগানটি সরাসরি দেখবো। তাই বাগান দেখতে এসেছি। ড্রাগন বাগানে আসার পর দেখতে অনেক ভালো লাগল। এমন সৌন্দর্য সত্যিই আগে কখনো দেখিনি।’
বাগানের ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাগানে নিয়মিত ১২ জন কাজ করে। রাতে একজন নাইট গার্ড বাগান পাহারা দেয়। যখন ফুল ফোটে তখন রাতেও ফুলগুলো কৃত্রিম পরাগাইনের জন্য কাজ করতে হয়।’
ড্রাগন ফ্রুটস এগ্রোর স্বত্বাধিকারী বিপ্লব জাহান জানান, ‘ইউটিউব দেখে এ চাষাবাদ সম্পর্কে জেনেছিলাম। অভিনব এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক ফলন পাচ্ছি। প্রথম দিকে বড় অঙ্কের টাকা লাগলেও লাভও হয় বেশি। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টায় দুই দফা লাইটগুলো জ্বলে। শীতকালে দিন ছোট হয় তাই দিনের আলো কম হয়। ড্রাগন বেড়ে ওঠে মূলত দিনের আলোয়, তাই এ পদ্ধতিতে চাষ করলে রাতেও ড্রাগনের সঠিক বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাগানে ৩৫ হাজার ড্রাগনের গাছ রয়েছে। যা থেকে তিনি গতবছর ৪০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেছেন। এ বছর ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ড্রাগন উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।’
সম্পর্কিত খবর

স্ত্রী-সন্তানের ওপর রাগ করে নিজবাড়িতে আগুন
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুরে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের ওপর রাগ করে নিজবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত। তিনি প্রায়ই নেশা করে বাড়ি ফেরায় পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি নাজমুল হক জানান, নেশাগ্রস্থ আমিনুল ইসলামকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাঘার ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতিকে অব্যাহতি
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিমকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল হাসান বাবলু ও সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন স্বাক্ষরিত নোটিশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,দলের দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ থেকে ও প্রাথমিক সদস্য পদ হতে কেন অব্যাহতি প্রদান করা হবে না, তার উপযুক্ত জবাব বাঘা উপজেলা বিএনপির কাছে লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল হাসান বাবলু ও সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন।

লাকসামে পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম
- স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার লাকসামে ছুটিতে আসা এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় নারীসহ আরো ৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মনপাল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আহতদের অভিযোগ, লাকসাম উপজেলার উওরদা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমরান হোসেনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক ও তরুণ এই হামলা চালিয়েছেন।
পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, বেশ কিছুদিন আগে ওই গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা এমরান হোসেন একই গ্রামের বেলাল মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি ব্যানার টানান। দুদিন আগে শিশুরা খেলার ছলে ঢিল ছুঁড়লে টানানো ব্যানারটি ছিঁড়ে যায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেন। পরে মধ্যরাতের দিকে এমরানসহ ২০/২৫ জন পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হই-হুল্লোড় শুরু করেন।
এ সময় পুলিশ সদস্য সাদ্দাম মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো জ্বালিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। যুবক ও তরুণদের হই-হুল্লোড় দেখে তিনি মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো তাদের দিকে ফিরিয়ে জানতে চান, কি হয়েছে? এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান উত্তেজিত হয়ে আলো বন্ধ করতে বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেন। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য তাদের এতো রাতে বাড়ির সামনে হই-হুল্লোড় না করতে বারণ করে ঘরে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর এমরান দলবলসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাদ্দামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
আহত পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেনসহ আহত অন্যান্যদের লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্য সাদ্দাম ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া থানায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন।
লাকসাম থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক একদল পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ওই এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা জানান, ঘটনাটি শোনার পর তিনি আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। এ মুহূর্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান হোসেনকে এলাকায় না পাওয়ায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ, গন্তব্যে যাওয়া হলো না সিয়ামের
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

‘জীবনের নামই রিস্ক, মরলে লাশ বাঁচলে ইতিহাস’ কয়েক মাস আগে একটি ভিডিও শেয়ার করে এমন ক্যাপশনই লিখেছিলেন তরুণ বাইকার ফারহান আহমেদ সিয়াম। তার কথা যে এত দ্রুত মিলে যাবে কেউ এমন কথা ভাবেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ভ্রমণে বের হয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন তিনি।
জানা যায়, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে সিয়ামের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করতে রওনা হন ২০ জন তরুণ।
স্থানীয়রা ও অন্য মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যায় সেখানেই মারা যান সিয়াম। মাহফুজ হাসান এখন শঙ্কামুক্ত, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। প্রিয় বাইকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শতাধিক বাইকাররা।
ফারহান আহমেদ সিয়ামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং এলাকায়।
মোটরসাইকেল আরোহী সাজেদুল হক সজন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ট্যুরে ১৫টি বাইক নিয়ে ২০ জন গিয়েছিলাম।
বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ট্রাকটি আটক রয়েছে, চালকের সহকারীকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’