ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ শাবান ১৪৪৬

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদ নিয়ে টানাটানি

(কুমিল্লা) সংবাদদাতা
(কুমিল্লা) সংবাদদাতা
শেয়ার
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদ নিয়ে টানাটানি
কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে সাবেক সরকার শেখ হাসিনার পতন হয়। পালিয়ে যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। সেইসঙ্গে পালিয়ে যায় তার সরকারের এমপি, মন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরাও। 

যার ফলে সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি ও ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হয়।

এদিকে, কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার গভর্নিং, ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিপাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭৩টি, বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪৯টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ৩১ টি, দাখিল মাদরাসা ১৭ টি, আলিম মাদরাসা ৮ টি, ফাজিল মাদরাসা ৫ টি, কামিল মাদরাসা ১টি, কলেজ (সহপাঠ) ৭টি। 

অপরদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৩টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৭টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় (বালিকা) ১টি, উচ্চ বিদ্যালয় (সহশিক্ষা) ২৬টি, উচ্চ বিদ্যালয় (বালিকা) ২টি, দাখিল মাদরাসা ১৩টি, আলিম মাদরাসা ৫টি, ফাজিল মাদরাসা ৩টি, কলেজ (সহপাঠ) ৯টি। 

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা হতে গত ২৪ আগস্ট সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিচালনা করার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে কমিশনার, জেলা পর্যায়ে ডিসি, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও এবং তাদের মনোনীত প্রতিনিধিকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

 

তারপর গত ১৮ নভেম্বর একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ, জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডকে অনুরোধ করা হয় কলেজ পর্যায়ে এডহক কমিটির সভাপতি স্নাতকোত্তর এবং স্কুল পর্যায়ের সভাপতি স্নাতক পাস ব্যক্তিকে সভাপতি করে এডহক কমিটি গঠন করতে এবং এই কমিটি ৬ মাসের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। 

এরপর ২৪ নভেম্বর একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব  সাইয়েদ এ, জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং  ৯ম গ্রেডে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত ব্যক্তিকে সভাপতি করে এডহক কমিটি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর একই মন্ত্রণালয়ের একই বিভাগ থেকে উপসচিব সাইয়েদ এ, জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ২৪ নভেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপন রহিত করে এবং গত ১৮ নভেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপন প্রতিস্থাপন করে কার্যকরের নির্দেশ প্রদান করা হয়। একই বিষয়ে একই মন্ত্রণালয় থেকে পরপর ৪টি প্রজ্ঞাপন জারি করে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করায় কমিটি গঠন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয়েছে সভাপতি পদ নিয়ে নিয়ে টানাটানি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন দলীয় গ্রুপিং, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বের। প্রত্যেকটি গ্রুপ কিংবা রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা চাচ্ছে তাদের পছন্দ অথবা মনোনীত ব্যক্তিকে এডহক কমিটির প্রধান ও অন্যান্য সদস্যের পদে বসাতে। এতে চাপের মুখে রয়েছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সুপার, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা। 

তাছাড়া উপজেলা পর্যায় থেকে কমিটির নামের তালিকা প্রেরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইউএনওরা।

বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশ, দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের তদবির ও লবিং এবং এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে সঠিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল ইউএনওরা। 

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আদেশে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় রেষারেষির সৃষ্টি হচ্ছে। ঝগড়া ঝাটির সূত্রপাত ঘটছে এবং এই সুযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা মাথা নাড়াচাড়া দিয়ে উঠছে। দিনদিন দ্বন্দ্ব সংঘাতের দিকে ধাপিত হচ্ছে।

ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধানরা স্কুলের নিয়মিত কাজ বাদ দিয়ে এডহক কমিটি নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে আবার কখনো সামাজিক পরিবেশে মিটিং সেটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও লাঞ্চিতের শিকার হচ্ছেন প্রধানরা। তাছাড়া হুমকি ধামকি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বুড়িচংয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। সেইসঙ্গে বিভিন্ন দল ও গ্রুপের লোকজনও নিয়মিত আনাগোনা এবং তদবির, লবিং,সুপারিশসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চাপের মুখে রাখছেন ইউএনও এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন নিয়মিত অন্তর্যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। যার ফলে জয় পরাজয় ইস্যু এবং কারো কারো ক্ষেত্রে ইগোতে লাগার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল, গ্রুপ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, এলাকার স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গরা এডহক কমিটির বিষয় নিয়ে একে অপরের কুৎসা রটাচ্ছে। অন্যদিকে আমাকেও বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এই কমিটি নিয়ে মহাবিপদের মধ্যে আছি। 

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) সাহিদা আক্তার কলের কণ্ঠকে বলেন, এডহক কমিটির বিষয়ে আমি অনেক তদবির ও সুপারিশ পাচ্ছি। তারপরেও আমি চেষ্টা করছি, যাচাইবাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করতে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা জাহান কালের কণ্ঠকে জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। শুনেছি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক ও অন্যান্য নেতারা আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত আ. লীগের ৪ চেয়ারম্যান, অতঃপর...

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত আ. লীগের ৪ চেয়ারম্যান, অতঃপর...
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টো, ফুলকোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন, ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম লিটু ও শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সায়েদুর রহমান।

আরো পড়ুন
‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার চলছে’

‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার চলছে’

 

সূত্র জানিয়েছে, এদিন দুপুরে তারা মেলান্দহ উপজেলা হলরুমে উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নিতে এসেছিলেন।

সভা শেষে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, শাহাদাৎ মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, মামুন ফুলকোচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, লিটু মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও এস এম সায়েদুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

তিনি আরো বলেন, চারজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জনতার ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্টের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচলের হুঁশিয়ারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচলের হুঁশিয়ারি
সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ে ২০১৬, ২০২০ ও ২০২১ সালে আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক অবরোধ করেছে তৌহিদি জনতা। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার ব্যানারের এই কর্মসূচি থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছরে আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৫টি মামলা করা হয়।

এসব মামলায় আলেস-ওলামাসহ হেফাজতে ইসলামের তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। মিথ্যা মামলায় অনেকে জেল খাটেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন জানান, আন্দোলনের সময় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা হয়।

আগামী রবিবার প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হবে।

মন্তব্য

‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার চলছে’

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শেয়ার
‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার চলছে’
ছবি : কালের কণ্ঠ

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মু. আ. আউয়াল হাওলাদার বলেছেন, ‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার চলছে। তাই বিভিন্ন বিভাগের সংস্কার হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’ 

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

যা ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামী সংস্কৃতি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নামাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ালে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। তাই মডেল মসজিদ উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

প্রসঙ্গত, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী জ্ঞানের চর্চা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রসারে ২০২৩-২০২৫ সালে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদর নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ডে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন তলা এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহর সভাপতিত্বে মোরেলগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ : ইবিএল চেয়ারম্যানসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শেয়ার
১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ : ইবিএল চেয়ারম্যানসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে গ্রাহকের ১১ কোটি আত্মসাতের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান  মো. শওকত আলি চৌধুরীসহ ব্যাংকটির ৪৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালতে মামলাটি করেন মুর্তুজা আলী নামে এক ব্যবসায়ী।

আরো পড়ুন
প্রেম করার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখের গাড়ি অফার করে: মিষ্টি জান্নাত

প্রেম করার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখের গাড়ি অফার করে: মিষ্টি জান্নাত

 

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল বিন মঞ্জুর তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবসায়ী মুর্তুজা আলী ইস্টার্ন ব্যাংক সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টসহ এফডি (ফিক্সড ডিপোজিট) অ্যাকাউন্ট খোলেন।

২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ী মুর্তুজা আলীর সম্ভাব্য পাওনার পরিমাণ ১১ কোটি টাকা। এই ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

মামলার আরজিতে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিকে প্রথম ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলি চৌধুরীকে দ্বিতীয় আসামি করেছেন ব্যবসায়ী মুর্তুজা আলী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির পরিচালক এম গাজিউল হক, সেলিনা আলি, আনিস আহমেদ, মুফাক্কারুল ইসলাম খসরু, গাজী মো. সাখাওয়াত হোসাইন, কে জে এস বানু, জারা নামরীন, ড. তাওফিক আহমেদ চৌধুরী, রুসলান নাসির, কে এম তানজিব উল হক, খন্দকার আতিক-ই রাব্বানী, মাহরীন নাসির। এছাড়াও ব্যাংকটির ব্যস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী জামান, রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরী, এম খোরশেদ আনোয়ার, মাহমুদুন নবী চৌধুরী, এম খোরশেদ আলম, মহিউদ্দিন আহমদ, ইউনিট হেড  কর্পোরেট ব্যাংকিং মো. ওবাইদুল ইসলাম, মাহদিয়ার রহমান, মো. মাইনুল হাসান ফয়সাল, ট্রানজেকশন ব্যাংকিং হেড মো. জাবেদুল আলম ও হেড অব কর্পোরেট বিজনেস সঞ্জয় দাশ। হেড অব প্ল্যানিং আশরাফ উজ জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাসুদুল হক সরদার, হেড অব ট্রেড অপারেশন মো. মোকাদ্দাস, হেড অব ব্যাকিং মো. জাহিদ হোসাইন, হেড অব বিজনেস সৈয়দ জুলকার নাইন, হেড অব ডিজিটাল ফিন্যান্স আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, চিফ টেকনোলজি অফিসার জাহিদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আবদুস সালাম, হেড অব কমিউনিকেশন জিয়াউল করিম, হিউম্যান রিসোর্সের প্রধান মনিরুল ইসলাম, হেড অব বিজনেস ইনফরমেশন মাসকুর রেজা, হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মোস্তফা সরওয়ার, কম্পানি সেক্রেটারি মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকে। 

আরো পড়ুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শিগগিরই

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শিগগিরই

 

এছাড়াও মামলায় আসামি করা হয়েছে, চান্দগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক পারভেজ আলম, নিজাম উদ্দিন, ওআর নিজাম রোড শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মাইনুদ্দিন, কর্পোরেট এরিয়া হেড ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী এম এ কিউ সরওয়ার এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অডিট প্রধান মো. রেজাউল ইসলামকে।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী মো. মুর্তুজা আলী একজন ব্যবসায়ী এবং ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক। ২০১৭ সালে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক ও আর নিজাম শাখায় স্থায়ী আমানত করার উদ্দেশে চার কোটি ১২ লাখ টাকা সঞ্চয়ী হিসেবে জমা করেন। কিন্তু ব্যাংক স্থায়ী আমানতের সুদের হার ৭ শতাংশ নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণ মুনাফাসহ ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা দাঁড়ালে মর্তুজা আলী সেই অর্থ ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় স্থানান্তর করেন।  আর এই টাকা স্থানান্তর করার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও প্রতারণার স্বীকার হন।

 

২০১৭ ও ১৮ সালে মর্তুজা আলী ইস্টার্ন ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার ছয়টি স্থায়ী আমানত খোলেন এবং এর বিপরীতে একটি এসওডি (সিকিউরড ওভারড্রাফট) ঋণের জন্য আবেদন করেন। ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে মামলার বাদী বিদেশে থাকার সময় তিনি ব্যাংকটির চান্দগাঁও শাখায় তার নামে দুটি জাল সঞ্চয়ী হিসাব ও চারটি জাল ঋণ হিসাব সনাক্ত করেন। মুতুর্জার স্বাক্ষর জাল ও ভুল তথ্য দিয়ে যে সঞ্চয়ী হিসাব ও জাল ঋণ জিসাব চালু করা হয়েছে তাতে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭ টাকা লেনদেন করে জাল ঋণের  পাঁচ কোটি ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।  এই অর্থ আত্মসাতের সময় মুর্তুজা আলী বিদেশ ছিলেন। 

বাদী তার হিসাব সমূহে সম্পাদিত সমস্ত প্রতারণা মূলক কার্যকালাপের কথা উল্লেখ করে পাওনা পরিশোধ করার জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক বরাবর চিঠি, রিমাইন্ডার লেটার ও দুইটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয় বিভিন্ন সময়। তবে ইস্টার্ন ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আইনি নোটিশের উত্তরে মুর্তুজার সকল পাওনা পরিশোধ করতে অস্বীকার করেন। এছাড়া তার হিসাবের সকল কাগজাদি সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করলেও ব্যাংক কর্তপক্ষ কোন কাগজ সরবরাহ করেনি বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে,২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মো. মুর্তুজা আলীর ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে সম্ভাব্য পাওনার পরিমাণ ১১ কোটি টাকা।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ