চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম। এ সময় অপহৃত পিকআপ চালক মো. সিদ্দিক (৪৫)-কে উদ্ধার করা হয়।
অপহৃত সিদ্দিক কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের নাগমুরা এলাকার মৃত সোনা আলীর ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের সেনের হাট এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
আটককৃত তিন অপহরণকারীরা হলেন- হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন গ্রামের দিদারুল ইসলামের ছেলে মিনজাজ (২৫), চরকানাই গ্রামের আবদুর রশিদ বাবুর্চির ছেলে মো. রানা (২৫) ও কুসুমপুরা ইউনিয়নে শাহ ইমরানের ছেলে মো. আরাফাত প্রকাশ পাভেল (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকের ছোট ভাই আরিফ এলাকার কিশোর গ্যাং, মাদক, অস্ত্র, জুয়া ও অপহরণসহ নানা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় রাজত্ব করছেন। তার নেতৃত্বে এসব একাধিক সিন্ডিকেটে ১৫-২০ জনের একেকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। গত ২৩ জানুয়ারি পিকআপ চালক সিদ্দিককে দিন দুপুরে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের সেনের হাট এলাকার সাম্পানঘাটা থেকে আরিফের নেতৃত্বে তুলে নিয়ে যায় ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র অপহরণকারী গ্রুপ।
তুলে নিয়ে যাওয়ার পর অপহৃত সিদ্দিকের স্ত্রী রেশমা আকতারকে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। চক্রটি আরো বেশ কয়েকবার ফোন করে সময়মতো মুক্তিপণের টাকা না দিলে সিদ্দিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
আরো পড়ুন
পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই
সূত্র আরো জানায়, কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রী রেশমা আকতার বাদি হয়ে এ ঘটনায় গত ২৭ জানুয়ারি পটিয়া থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরের নেতৃত্বে ও ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান এবং মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রাজু আহম্মেদ গাজীসহ একটি চৌকস টিম উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি মিনহাজ (২৫), রানা (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ভিকটিমের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে তিনটার দিকে কেলিশহর ইউনিয়নের ছত্তরপেটুয়া এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে আসামি মো. আরফাত প্রকাশ পাভেল (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে ভুক্তভোগী অপহৃত মো. সিদ্দিক (৪৫)-কে উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আসামি মো. মিনহাজ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এ সময় আদালতের বিচারক বেগম তাররাহুম আহমেদ আসামিদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরো পড়ুন
কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাজে ফিরেছেন ট্যাংকলরি শ্রমিকরা
পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, ‘এ মামলায় জড়িত প্রধান আসামি আরিফসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’