নরসিংদী

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী প্রতিনিধি
শেয়ার
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
নিহত দুই ভাই

নরসিংদীর পলাশ উপজেলা ঘোড়াশালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সহোদর দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার ঘোড়াশালের ভাগদী গ্রামের কুড়ইতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।

নিহতরা হলেন— পলাশ উপজেলার কুড়ইতৈল গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে রাকিব (২৫) এবং সাকিব (২০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতদের বাবা আশরাফ উদ্দিন ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। আটককৃতরা হলেন— কুড়ইতলী এলাকার পাভেল হোসেন, খবির মিয়া ও উসমান মিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোরে ভাগদীর কুড়ইতলী এলাকায় দুই যুবক অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে যায়।

এ সময় টের পেয়ে এলাকার লোকজন হিমেল নামের এক যুবককে ধরে ফেললেও আরেকজন পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় রাকিব, সাকিবসহ অন্যান্যরা।

এ সময় তারা ভাগদী এলাকার এক অটোরিকশা চালককে মারধর করে। পরে সন্ধ্যায় আবার ৩০ থেকে ৩৫ জন যুবক ভাগদীর কুড়ইতলী এলাকায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় কুড়ইতলী এলাকার পাভেলের নেতৃত্বে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় এলাকায় ডাকাত এসেছে। 

পরে স্থানীয়রা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাকিবের মৃত্যু হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় তার বড় ভাই রাকিব।

নিহতের চাচি হাজেরা বেগম বলেন, এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা চেয়ে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় আজকে ঈদের দিন ঘুরতে গেলে সন্ত্রাসীরা সাকিব ও রাকিবকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডা. সুদীপ কুমার সাহা বলেন, সাকিব ও রাকিব নামে দুই ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরমধ্যে সাকিবকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। আর রাকিবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হলে পথেই সে মারা যায়। তাদের মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, চোর সন্দেহে একজনকে ভোরে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরই প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুনরায় পিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন সদর হাসপাতালে এবং অপরজন ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়। নিহতরা দুজন সহোদর ভাই। আমরা চাঁদাবাজির কোনো তথ্য পাইনি।

আরো পড়ুন
ঈদের ছুটিতেও বায়ুদূষণে শীর্ষ দশে ঢাকা

ঈদের ছুটিতেও বায়ুদূষণে শীর্ষ দশে ঢাকা

 

আমরা তদন্ত করে দেখছি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

লাকসামে পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

    স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
লাকসামে পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম
আহত পুলিশ সদস্য সাদ্দাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার লাকসামে ছুটিতে আসা এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে‌ একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় নারীসহ আরো ৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মনপাল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের অভিযোগ, লাকসাম উপজেলার উওরদা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমরান হোসেনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক ও তরুণ এই হামলা চালিয়েছেন।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, বেশ কিছুদিন আগে ওই গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা এমরান হোসেন একই গ্রামের বেলাল মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি ব্যানার টানান। দুদিন আগে শিশুরা খেলার ছলে ঢিল ছুঁড়লে টানানো ব্যানারটি ছিঁড়ে যায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেন। পরে মধ্যরাতের দিকে এমরানসহ ২০/২৫ জন পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হই-হুল্লোড় শুরু করেন।

এ সময় পুলিশ সদস্য সাদ্দাম মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো জ্বালিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। যুবক ও তরুণদের হই-হুল্লোড় দেখে তিনি মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো তাদের দিকে ফিরিয়ে জানতে চান, কি হয়েছে? এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান উত্তেজিত হয়ে আলো বন্ধ করতে বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেন। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য তাদের এতো রাতে বাড়ির সামনে হই-হুল্লোড় না করতে বারণ করে ঘরে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর এমরান দলবলসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাদ্দামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।

পুলিশ সদস্য সাদ্দামসহ ঘরে থাকা তার মা, ভাইসহ অন্যান্যদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে সাদ্দাম ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। সেখানেও দুর্বৃত্তরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় বাড়ির অন্যান্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে আহত করা হয়।

আহত পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেনসহ আহত অন্যান্যদের লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ওই পুলিশ সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্য সাদ্দাম ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া থানায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন।

লাকসাম থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক একদল পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ওই এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা জানান, ঘটনাটি শোনার পর তিনি আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। এ মুহূর্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান হোসেনকে এলাকায় না পাওয়ায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য

দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ, গন্তব্যে যাওয়া হলো না সিয়ামের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
শেয়ার
দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ, গন্তব্যে যাওয়া হলো না সিয়ামের
সংগৃহীত ছবি

‘জীবনের নামই রিস্ক, মরলে লাশ বাঁচলে ইতিহাস’ কয়েক মাস আগে একটি ভিডিও শেয়ার করে এমন ক্যাপশনই লিখেছিলেন তরুণ বাইকার ফারহান আহমেদ সিয়াম। তার কথা যে এত দ্রুত মিলে যাবে কেউ এমন কথা ভাবেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে দলবেঁধে মোটরসাইকেলে ভ্রমণে বের হয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন তিনি।

জানা যায়, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে সিয়ামের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করতে রওনা হন ২০ জন তরুণ।

১৫টি মোটরসাইকেল রওনা দেন তারা। তারা ঢাকা থেকে রংপুর হয়ে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা দিয়ে তেঁতুলিয়ার পথে রওনা হন। তারা বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বটতলী নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গরুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিয়ামের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সিয়াম ও মাহফুজ গুরুতর আহত হন।

আরো পড়ুন
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-বোমাসহ আটক ৫

ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-বোমাসহ আটক ৫

 

স্থানীয়রা ও অন্য মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যায় সেখানেই মারা যান সিয়াম। মাহফুজ হাসান এখন শঙ্কামুক্ত, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। প্রিয় বাইকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শতাধিক বাইকাররা।

ফারহান আহমেদ সিয়ামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং এলাকায়।

থাকতেন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে। তিনি আমরা বাইকার গ্রুপের মডারেটর ছিলেন। মোটরসাইকেলে ট্যুর দেওয়া ছিল তার নেশা। মুন্সিগঞ্জে লৌহজং এলাকায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

মোটরসাইকেল আরোহী সাজেদুল হক সজন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ট্যুরে ১৫টি বাইক নিয়ে ২০ জন গিয়েছিলাম।

সিয়াম লিড দিয়ে সবাইকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন সিয়াম। আহত হন মাহফুজ। সিয়ামের মৃত্যুতে আমরা খুবই শোকাহত।’ 

আরো পড়ুন
গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডকে এভাবে সংযুক্ত করা যায় না : ডেনমার্ক

 

বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ট্রাকটি আটক রয়েছে, চালকের সহকারীকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

মন্তব্য

ক্রিকেটে কোকোর বিরাট অবদান রয়েছে : আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
শেয়ার
ক্রিকেটে কোকোর বিরাট অবদান রয়েছে : আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ক্রিকেটে বিরাট অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ।’ গতকাল (৩ মার্চ) বৃহস্পতিবার উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের মসদই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতো অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন করতে চাই না।

আমরা মানুষকে বিগত দিনের মতো ভালোবাসতে চাই।  ভাল কাজ করে মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকতে চাই। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে এমন কোন কর্মকান্ড ও রাজনীতি চাই না।

টুর্ণামেন্ট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোবারক উল্লাহ খান ও সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্শী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান লিমটন, সাধারণ সম্পাদক লিপ্টন মল্লিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওয়াজেদ মৃধা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি লাভলু সিদ্দিকী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম স্বপন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমন সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর নামে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের আয়োজন করায় মসদই গ্রামবাসী ও আয়োজক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে মসদই ভোট কেন্দ্রে যে ভোট হয়েছে ওই মার্কা নির্বাচন আর দেখতে চাই না। আমরা জনগণের ভোটে বিজয়ী হতে চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে্য বলেন, অন্যায় কাজ করবেন না। জনগণের পাশে থাকবেন। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হবেন না। মানুষের ক্ষতি হবে এমন কোনো কাজ করবেন না। আমরা যদি খবর পাই বিএনপির কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি করেছেন, মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, জবর দখল করেছেন তার বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনব্যাপী আয়োজিত খেলায় ধামরাই এক্সপ্রেস প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে। পরে  টাঙ্গাইল জয়েন্ট ক্রিকেট ৫ উইকেট হাতে রেখেই ১৯৯ রান করে জয়লাভ করে। 

মন্তব্য

ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-বোমাসহ আটক ৫

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলা প্রতিনিধি
শেয়ার
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-বোমাসহ আটক ৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২১টি হাত বোমা ও ৫৬৯টি ইয়াবাসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলেন- মো. জাহাঙ্গীর (৬৫), মো. মঞ্জু (৩৫), মো. জিয়া (৩০), আব্দুল আব্বাস (৩০) ও মো. সেলিম (২৬)। আটক জাহাঙ্গীর ভেদুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মঞ্জু ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাকীরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

তাদের সবার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলাধীন ভেদুরিয়া ইউনিয়নে।

আরো পড়ুন
টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ নগদ টাকা জব্দ

টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ নগদ টাকা জব্দ

 

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে একদল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ভেদুরিয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো। স্থানীয়রা কোস্ট গার্ডের শরণাপন্ন হলে কোস্ট গার্ড উক্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার রাত ২টার দিকে কোস্ট গার্ড ভোলা বেইস কর্তৃক ভেদুরিয়া ইউনিয়নে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘অভিযানে ওই এলাকা থেকে ৫ জন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২১টি হাত বোমা, ৫৬৯ পিস ইয়াবা ও নগদ ৪৪ হাজার ৫১০ টাকাসহ আটক করা হয়। আটককৃতদের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পরে সব আলামতসহ আটককৃত সন্ত্রাসীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে।

যার মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকাংশে উন্নত হয়েছে।কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ