বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে বগুড়ার গাবতলীতে শতাধিক নিমগাছের চারা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার গাবতলীতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিনা মূল্যে শতাধিক নিমগাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন গাবতলী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নূরে আলম সিদ্দিকী, গাবতলী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হামিদুল হক শিলু, নিউজ টোয়েন্টিফোর বগুড়ার রিপোর্টার আব্দুস সালাম বাবু, তরুণ সংগঠক ফরিদ আহমেদ মুন, বসুন্ধরা শুভসংঘের সংগঠক শাফিউল ইসলাম শাফি, অরুপ রতন, সজল শেখ, আব্দুল গণি ও দৌলতজ্জামান দিপুসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃক্ষ বিতরণ করছে, যা একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মানবিক কর্মকাণ্ড অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেওয়া নিমগাছ এখন মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রিয়তার কারণে নিমগাছ সেখানে ‘জিয়া ট্রি’ নামেও পরিচিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি গাবতলীতে বিনা মূল্যে নিমগাছ বিতরণের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
কর্মসূচির শেষ পর্বে শতাধিক শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে নিমগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। চারা গ্রহণকারীদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেন।
নিমগাছের চারা পাওয়া তরুণী আফরিন ও হুসনে আরা বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে কিছু খালি জায়গা রয়েছে। সেখানে গাছগুলো রোপণ করব। নিম একটি উপকারী ও ঔষধি গাছ। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সুরক্ষিত করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গঠনে ভূমিকা রাখে।









