নিউজিল্যান্ড সফরের শুরু থেকে করোনা সংক্রমণের কারণে বাজে অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেই অবস্থা কাটিয়ে কয়েক দিন আগে শুরু হয়েছে অনুশীলন। কোয়ারেন্টিন মেয়াদ বাড়ায় টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে মাত্র একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার অনেকটা সময় বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।
বৃষ্টির ফাঁকে আগুন ঝরালেন তাসকিন-রাহি
অনলাইন ডেস্ক

মাউন্ট মঙ্গানুইতে আজ সারা দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ২৭.৩ ওভার। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড একাদশ সংগ্রহ করেছে ৫ উইকেটে ৭১ রান। বে ওভালের দুই নম্বর মাঠে টস জিতে বোলিং নেয় বাংলাদেশ।
দিনশেষে আবু জায়েদের শিকার ২৭ রানে ৩ উইকেট। তাসকিন নিয়েছেন ২৬ রানে ২টি। উইকেটের পেছনে চারটি ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। আবু জায়েদের বলে লিটনের গ্লাভসে ধরা পড়ে ০ রানে আউট হন চোট কাটিয়ে টেস্ট দলে ফেরা ডেভন কনওয়ে।
সম্পর্কিত খবর

নারাইনের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’
ক্রীড়া ডেস্ক

অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে আইপিএলের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে গতকাল দুই হাতে বল করে রেকর্ড গড়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডারের রেকর্ডের দিনে তাকে আউট করেই একটা মাইলফলক ছুঁয়েছেন আরেক স্পিনার সুনীল নারাইন।
আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার। শুধু কলকাতার নয়, আইপিএলের যেকোনো দলের হয়েও।
২০১২ সালে কলকাতার হয়ে আইপিএল শুরু করা নারাইন সব উইকেট অবশ্য ভারতীয় ফ্র্যাঞ্জাইজি টুর্নামেন্টে পাননি।
স্বীকৃতি টি-টোয়েন্টিতে সামিত উইকেটের ‘ডাবল সেঞ্চুরির’ রেকর্ডটি গড়েন নটিংহামশায়ারের হয়ে।
সামিত-নারাইনের কীর্তিতে ভাগ বসানোর খুব কাছে আছেন ক্রিস উড। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ১৯৯ উইকেট নিয়ে তিনে আছেন ইংল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার। চারে থাকা শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গার সেই সুযোগ অবশ্য নেই।

৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনাকে বাজে বললেন উয়েফা সভাপতি
ক্রীড়া ডেস্ক

তিন মহাদেশে হবে ২০৩০ বিশ্বকাপ। তবে মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো হলেও বিশ্বকাপের শতবছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি করে ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল উরুগুয়েতে।
সেই বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়ানো যায় কি না তা নিয়ে গত ৬ মার্চ অনলাইনে সভা করে ফিফা।
সম্প্রতি উয়েফার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সেফেরিন জানিয়েছেন, এটা বাজে পরিকল্পনা।
সেফেরিনের এমন মন্তব্যর পর নিশ্চয়ই ফিফাতে আলোচনা হবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হবে কি না। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ৪৮ দলের হবে তাতে কারো দ্বিমত নেই। আগের থেকে বেড়েছে ১৬ দল। আগামী বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়।

‘আসল যুদ্ধের’ বাস্তবতায় বাংলাদেশও
- ওয়ানডে নিয়ে আমাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার ছিল যে কিভাবে খেলতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদিক থেকে সবার ফোকাসটা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। সামনে আরো কমে যাবে। আমাদের উপায় নেই। আসল যুদ্ধে টিকে থাকতে গেলে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো করতেই হবে। -নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ওয়ানডে একসময় ভালো খেলত বাংলাদেশ। ‘একসময়’ বলার কারণ এখন আর সেভাবে এই সংস্করণে নিজেদের তারা মেলে ধরতে পারে না। নিকট অতীত অন্তত সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে। তাই বলে পেছনের সোনালি দিনগুলোও মুছে যায়নি।
এর একটি ব্যাখ্যাও আছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে, ‘৫০ ওভারের সংস্করণটি আমাদের সঙ্গে খুব যেত। কারণ টেস্ট ক্রিকেট খেলতে গেলে যেসব দক্ষতা থাকা চাই, এই সংস্করণে এর শতভাগ দরকার পড়ে না। আবার টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য যে ধরনের শারীরিক সক্ষমতা ও গতি থাকা দরকার, সেদিকটাতেও আমরা পিছিয়ে আছি।
অবচেতনেই হোক বা সচেতনে, তিনিও বলছেন যে ‘পারত’। এখন এই না পারার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে এই সংস্করণে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার কোনো বিকল্প নেই।
এই চর্চা অবশ্য নতুন নয়।
অবশ্য বর্তমান বাস্তবতায় ওয়ানডে আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমনকি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছেও। প্রায়ই এই আলোচনাও উঠতে শোনা যায় যে চার বছরে ওয়ানডে বলতে শুধু একটি বিশ্বকাপই হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দুই পক্ষ চাইলেই শুধু ওয়ানডে জায়গা পেতে পারে। এসব আলোচনাকে অবাস্তবসম্মত বলেও মনে হয় না ফাহিমের, ‘এমন আলোচনা বাস্তবসম্মতই। এখন সব কিছুকে সমানভাবে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। অগ্রাধিকারের কথা বললে এখানে প্রথমে আসে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির কথাই। তারপর হয়তো ৫০ ওভারের সংস্করণের কথা আসে। এ জন্যই হয়তো ওয়ানডেটা একটু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এই মুহূর্তে।’
নিজেদের অগ্রাধিকারও বদলানোর সময় এসে গেছে বলে মনে করেন ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান, ‘(টেস্টে বাংলাদেশ যে অবস্থায় আছে) এখান থেকে বের না হয়ে কোনো উপায় নেই। ক্রিকেটে ভালো করতে গেলে এই সংস্করণে ভালো করতেই হবে। এই জায়গাটায় আমরা গুরুত্ব দেব।’ আসল যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ক্রমেই গুরুত্ব হারাতে থাকা ওয়ানডের বাস্তবতাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখেন না তিনি, ‘ওয়ানডে নিয়ে আমাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার ছিল যে কিভাবে খেলতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদিক থেকে সবার ফোকাসটা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। সামনে আরো কমে যাবে। আমাদের উপায় নেই। আসল যুদ্ধে টিকে থাকতে গেলে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো করতেই হবে।’

দুই হাতে বোলিং করে উইকেট নিয়ে আইপিএলে রেকর্ড শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডারের
ক্রীড়া ডেস্ক

কামিন্দু মেন্ডিসকে সব্যসাচী ক্রিকেটার বললে ভুল হবে না। কেননা দুই হাতেই বোলিং করতে পারদর্শী তিনি। সঙ্গে ব্যাটিংটাও ভালো পারেন বাঁহাতি ব্যাটার। গতকাল ইডেন গার্ডেনসে এমন দক্ষতা দেখিয়ে রেকর্ডও গড়েছেন শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার।
আইপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে দুই হাতে বোলিং করার কীর্তি গড়েছেন কামিন্দু। সেটিও আবার আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে। শুধু কি ওভার করেই নিজের কাজ সেরেছেন তিনি, সঙ্গে একটি উইকেটও নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটার। গতকাল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষেই এই কীর্তি গড়েছেন শ্রীলঙ্কার তিন সংস্করণের একাদশের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠা এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচে অবশ্য একটি ওভারই করেছেন কামিন্দু। ১৩তম ওভারের তিনটি করে বল বাম ও ডান হাতে করেছেন তিনি। সেই ওভারের চতুর্থ বলে সতীর্থ হার্শাল প্যাটেলের দারুণ এক ক্যাচে অঙ্কৃশ রঘুবংশীকে আউট করেন শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার। এমন কীর্তি দিনে অবশ্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি।
দুই হাতে বল করার অভ্যাসটা শৈশব থেকেই করে আসছেন কামিন্দু। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে এসে দুই হাতে বোলিং করে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা পরে জাতীয় দলেও দেখিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য দুই হাতে বল করা প্রথম ক্রিকেটার কামিন্দু নন, এমনকি শ্রীলঙ্কারও নন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন বাংলাদেশের নারী দলের সাবেক প্রধান কোচ হাশান তিলকরত্নে। আর দুই শ্রীলঙ্কানের আগে এই কীর্তি গড়েছেন মোহাম্মদ হানিফ।
১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই হাতে বল করেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার হানিফ। কিংস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেদিন ৩৬৫ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স। ১৯৯৪ সালের আগ পর্যন্ত টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস ছিল সেটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেন্ট জনসে ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলে পূর্বসূরীর রেকর্ড ভাঙেন ওয়েস্ট ইন্ডিজির আরেক কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।