উন্নয়ন কর্মসূচিকে গতিশীল করতে বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনশক্তি গড়ে তুলতে কর্মভিত্তিক ক্যাডার সার্ভিস চালু করা হলেও তা আজ বিপন্ন। সমন্বিত ক্যাডার সার্ভিসের আওতায় সব ক্যাডারকে অভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। কর্মক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্যাডার অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে, আবার কিছু ক্যাডারে ন্যূনতম সুবিধাটুকুও নেই। এ কারণে নিজ ক্যাডার ছেড়ে সরকারের বিশেষ পদ উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হিড়িক পড়েছে।
ক্যাডার সার্ভিস বিপর্যস্ত
আশরাফুল হক রাজীব

উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পদশূন্যতাকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। শূন্য পদের অতিরিক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ পদ থেকে পরবর্তী সময়ে যুগ্ম সচিব বা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া চলছে। উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে বিদ্যমান পদেও অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ায় তাঁদের পদায়ন বা বদলি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে যে ২৭টি ক্যাডার রয়েছে তার মধ্যে পররাষ্ট্র ছাড়া অন্য সব ক্যাডার থেকে কর্মকর্তারা উপসচিব পদে পদোন্নতি নিচ্ছেন।
গতকাল উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৮৬ জন। যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন ১৪৫ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা এক শর কিছু বেশি। যুগ্ম সচিবের স্থায়ী পদ সাড়ে চার শ। আর উপসচিবের স্থায়ী পদ ৮৩৩টি। নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ায় অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫০ জনে। আর যুগ্ম সচিব ৬১৩ জন এবং উপসচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৭৯ জন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩১ জনকে অন্যান্য ক্যাডার থেকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব পদে নিয়ে আসা হলেও চাহিদা ছিল আরো অনেক বেশি। তথ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল সর্বোচ্চ ১০ জন কর্মকর্তার নাম পাঠানোর জন্য। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ২০ কর্মকর্তার নাম পাঠায়। একই অবস্থা অন্য ক্যাডারের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব (গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হিসেবে বদলীকৃত) ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী গত ৩ নভেম্বর কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন ক্যাডার থেকে উপসচিব পদে চলে আসার প্রবণতা এখন অনেক বেশি। দীর্ঘদিন একটি ক্যাডারে চাকরি করে সেই ক্যাডার ছেড়ে দেওয়ায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যে ক্যাডার ছেড়ে আসা হচ্ছে সেখানে কমর্ককর্তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সেসব ক্যাডারে দায়িত্ব দেওয়ার মতো কর্মকর্তা পাওয়া যাচ্ছে না। আর যাঁরা সরকারের বিশেষ পদে যোগ দিতে চাচ্ছেন, তাঁরা তুলনামূলকভাবে মেধাবী কর্মকর্তা। এসব মেধাবী কর্মকর্তা চলে আসায় সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটা বর্তমান ক্যাডার সার্ভিসের একটি বড় সমস্যা।’
প্রশাসন ছাড়া বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ক্যাডার ছেড়ে ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাধীন সরকারের বিশেষ পদে যোগ দেওয়ার পেছনে যেসব কারণ জানা গেছে, তার মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ না থাকাই মূল। গাড়ি সেবা নগদায়ন সুবিধাও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারে পদ সৃজন বা আপগ্রেডেশন জটিলতা কর্মকর্তাদের বিশেষ পদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বা মর্যাদাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় থাকে। প্রশাসন ক্যাডারে ১২-১৩ বছর চাকরি করার পর উপসচিব পদে পদোন্নতি মেলে। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারে এ পদোন্নতি মিলছে না ২০ বছরেও। তথ্য ও কৃষি ক্যাডারের কর্মকর্তারা একই পদে চাকরি করছেন ২০ বছর ধরে। প্রশাসন ছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারের পদোন্নতি দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি বা ডিপিসি। নিয়মিত ডিপিসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় না। বেশির ভাগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হচ্ছেন প্রশাসন ক্যাডারের। এ ছাড়া ডিপিসির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যেও থাকে প্রশাসন ক্যাডারের প্রাধান্য। কাজেই ভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হলেও তা প্রশাসন ক্যাডারের প্রভাবের বাইরে হয় না। এ কারণে নানা ছুতায় বিভিন্ন ক্যাডারের পদোন্নতি আটকে যায়।
সরকারের গাড়িসেবা নগদায়ন নামের একটি নীতিমালা আছে। তার অধীনে শুধু প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তারা গাড়ির মালিক হতে পারেন। এ দুই ক্যাডারের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সরকারের কাছ থেকে বিনা সুদে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পান। এ গাড়ি পরিচালনা ব্যয় বাবদ তাঁরা প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টাকা পান।
নিজের পছন্দের ক্যাডার ছেড়ে উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একই প্রশ্নে বিসিএস দিয়েছি। আমার মেধা তালিকার পেছনে থেকে অনেকে প্রশাসন ক্যাডারে গেছেন। তাঁরা আজ যুগ্ম সচিব হয়ে সরকারি ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। সেটা পরিচালনার জন্য মাসে ৪৫ হাজার টাকাও পান। আমি যুগ্ম সচিব হতে পারিনি। আমার মূল ক্যাডারে থাকলে হয়তো আমি চাকরির শেষ সময়ে যুগ্ম সচিব হতে পারতাম। কিন্তু একটা গাড়ির মালিক হতে পারব না। একটা ব্যক্তিগত গাড়ি খুব প্রয়োজন। অথচ এই গাড়ি কেবল পাবেন প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তারা। শুধু এ কারণেই আমি আমার মূল ক্যাডার ছেড়ে সরকারের বিশেষ পদে পদোন্নতি নিয়েছি। সরকারি চাকরি করে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনায় নানা সমস্যা। টাকা কোথায় পেলাম তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে দুর্নীতি দমন কমিশন। গাড়ির খরচ চালানোও চাট্টিখানি কথা নয়। সেই গাড়ি পরিচালনার জন্যও পাব ৪৫ হাজার টাকা। সব কিছু মিলেই আমি সরকারের বিশেষ পদ উপসচিব পদে পদোন্নতি নিয়েছি।’
কৃষি ক্যাডারের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় তিন বছর আগে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বিভিন্ন ক্যাডারে সচিব পদমর্যাদায় একটি করে ‘এ গ্রেড’ পদ সৃষ্টি করার। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অধিদপ্তরে ‘এ গ্রেডের’ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ‘বি গ্রেডের’ও কিছু পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু সৃষ্টি পর্যন্তই, আজও সরকারের সেই আদেশ কার্যকর হয়নি বিভিন্ন ক্যাডারে। সরকার বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন ক্যাডারের পদ আপগ্রেড করার। তথ্য ক্যাডারের বিভিন্ন পদ আপগ্রেড করার কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। দুই বছর পরিশ্রম করে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যখন তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন তখন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জানান আপগ্রেডেশনের প্রস্তাবটি পরিপূর্ণ নয়।
বছরের পর বছর চাকরি করার পর ক্যাডার ছেড়ে দেওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে শূন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ শূন্যতা পূরণে অনেক সংস্থায় আবার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদেরই পাঠানো হচ্ছে। আবার বিশেষ পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের পদায়ন বা বদলি নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যুগ্ম সচিব হয়েও দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র সহকারী সচিবের। অনেক কর্মকর্তাকে পদায়নই করতে পারে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিভিন্ন সেক্টরে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে ক্যাডার কম্পোজিশন রুলের আওতায় ৩০ ক্যাডার সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯২ সালে সচিবালয় ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে এক করা হয়। মাজদার হোসেন মামলার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা পৃথক করায় বিচার ক্যাডার আর ক্যাডার সার্ভিস হিসেবে নেই। বর্তমানে ২৭টি ক্যাডার রয়েছে। ক্যাডার সার্ভিস গঠনকালে বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করে মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার কথা ছিল। তাঁরা সরকারের মাঠ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবেন। ১৯৯৮ সালে সরকার উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়ন করে। এ নীতিমালায় উপসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার এবং অবশিষ্ট ক্যাডারের জন্য ২৫ শতাংশ কোটাব্যবস্থা চালু করা হয়। কোটার ক্ষেত্রে বৈষম্য হলে তা আদালতে গড়ায়। আদালতের রায় পাওয়ার আগ পর্যন্ত উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্য ক্যাডারগুলোর কোটার ২৫ শতাংশ দেওয়া হতো না। এসব ক্যাডারেও যোগ্য প্রার্থী নেই বলে বঞ্চিত করা হতো।
উচ্ছ্বাস-দীর্ঘশ্বাসে ভরা পদোন্নতি : এতসংখ্যক পদোন্নতির পরও সবাইকে খুশি করা যায়নি। গতকাল সকালে আদেশ জারির পর কারো চেহারায় ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস, কারো চোখেমুখে নামে হতাশা। পাশাপাশি কক্ষে বসে থাকা দুই কর্মকর্তার একই সঙ্গে দুই রকম খবরে কোথাও আনন্দ, কোথাও দীর্ঘশ্বাসের চিত্র ফুটে ওঠে। অতীতে কয়েক দফায় বঞ্চিত হওয়া অনেক কর্মকর্তা এবারও যেমন পদোন্নতি পাননি, তেমনি কয়েক ব্যাচ আগের কর্মকর্তাদের টপকিয়ে পদোন্নতি পেয়েছেন অনেকে। আগে যোগদান করা যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি, পরে যোগদান করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের এখন থেকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে হবে, যা ব্যক্তিগতভাবে অনেক কর্মকর্তার জন্যই কষ্টকর।
সচিবালয় ও তার বাইরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্য ব্যাচমেট, পরিবার-আত্মীয়, সাবেক ও বর্তমান সহকর্মীদের কাছ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবাণীতে সিক্ত ছিলেন তাঁরা। আদেশ জারির পরই পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা জনপ্রশাসনে যোগদান করতে আসতে থাকেন। তাঁদের কেউ কেউ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য মিষ্টিও নিয়ে আসেন।
দুপুর দেড়টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে আসেন বিআরটিএতে কর্মরত উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হওয়া নাজমুল আহসান মজুমদার। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘শরীরটা খুব একটা ভালো না। তবুও পদোন্নতির পর যোগদান করতে এসেছি।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের তিনজন পরিচালক আশায় ছিলেন যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব হবেন। আশা পূরণ হয়নি, ফলে দিনভর অফিসে বিমর্ষ চেহারায় বসে ছিলেন। এর আগে তিনবার পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) একজন যুগ্ম সচিব। এবারও বঞ্চিতই রয়ে গেলেন তিনি। একই চিত্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগেও (ইআরডি)। সেখানকার পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের চিত্রও একই রকম। ইআরডির বেশ কয়েকজন উপসচিব আশায় ছিলেন, তবে এবারও হয়নি। পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব ও যুগ্ম সচিবের পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও হয়নি।
সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।’
বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।
এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।
কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।
গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।
স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি। এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।
বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।
বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।
রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।
জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।’
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।’