দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল ঢাকায় সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উপস্থিত ছিলেন। ছবি : পিআইডি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে সেনাবাহিনী। এর ফলে সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
গতকাল রবিবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বলে বাসস জানায়।
প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতি পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সবাইকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ বীর সেনানীদেরও স্মরণ করেন, যাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
ড. ইউনূস পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া সৎ, নীতিবান ও নেতৃত্বের অন্য গুণাবলিসম্পন্ন অফিসাররাই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তা ছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যেসব অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সেই সব অফিসারকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাঁকে স্বাগত জানান।
শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাবাহিনী প্রধান। সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষাসচিবও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
জগন্নাথ হলে এখন প্রায় ৬৫টি কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ান সুধন। ছবি : লুৎফর রহমান
মাঠের এক কোণে বসে কাঁদছেন একজন। তাঁর চারপাশে ঘুরঘুর করছে বেশ কয়েকটি কুকুর। তিনি ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন, ‘তোদের জন্য কিছু করতে পারছি না রে! আমারে মাফ কইরা দিস।’
কৌতূহলবশে জানতে চাইলাম, এই মাফ চাওয়ার কারণ কী? এবার কান্নার ঢল নামল তাঁর চোখে।
একটা কুকুরের দিকে আঙুল তুলে বললেন, ‘দেখেন না, খাবারের অভাবে বাবুটার হাড্ডি দেখা যাচ্ছে! আমার পরাণটা মানছে না। ওদের খাবারও দিতে পারছি না।’
খাবার দিতে সমস্যা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হল কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছে। হলে নাকি কুকুর বেড়ে গেছে।
খাবার বন্ধ করে দিলে কুকুরগুলো অন্য কোথাও চলে যাবে। আমার তো হাত-পা বান্ধা!’
তিনি নিজেও না খাওয়া। জানালেন, কুকুরগুলো অভুক্ত থাকলে তাঁর মুখ দিয়ে কিছু নামে না।
এটা দিন দশেক আগের কথা।
গতকাল আবার তাঁর সঙ্গে দেখা। মুখে এবার আকর্ণ হাসি। সেই মাঠেই কুকুরদের খাওয়াচ্ছিলেন। বললেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদের একটা সংগঠন (অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিম) আছে। তারা প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলেছে।
এখন আর খাবার দিতে বাধা নাই!’
আলাভোলা এই মানুষটার নাম সুধন চন্দ্র বর্মণ। বয়স পঞ্চাশের ঘরে। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী। স্বল্প আয় হলেও রোজগারের একটা ভাগ ব্যয় করেন কুকুর-বিড়ালের খাওয়ার জোগাড়ে। অথচ এগুলো তাঁর পোষাও নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে কুকুর-বিড়ালকে খাওয়াচ্ছেন সুধন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিমের সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী মিশকাত তানিশা বলেন, ‘সুধনদার সঙ্গে হল প্রশাসনের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের খাওয়ানোর জন্য কিছু জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন।’
টেনেটুনে দিন গুজরান
সুধনের জন্ম গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। চার ভাই-বোনের সংসারে তাঁদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। তাই পড়াশোনায় বেশি এগোতে পারেননি। তেজগাঁওয়ে একটা অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। একসময় মিরপুর চলে যান।
জগন্নাথ হলে প্রথম আসেন ১৯৮৫ সালে। সেবার হলের টিভি রুমের ছাদ ধসে প্রাণ হারান অনেক শিক্ষার্থী। তখন ছাত্রসংসদের পিয়ন ছিলেন চিত্তরঞ্জন দেবনাথ। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে তাঁর মেয়ে মালতি রানীর সঙ্গে বিয়ে হয় সুধনের। এর পর আরো দুটি কারখানায় কাজ করে বছরখানেক পর আবার চলে আসেন জগন্নাথ হলে। তখন হলের প্রভোস্ট ছিলেন দুর্গাদাস ভট্টাচার্য। বদলি ডিউটির (কেউ ছুটিতে থাকলে তাঁর বদলি হিসেবে) জন্য সুধনকে নিয়োগ দেন তিনি। ২১ টাকা বেতন। সেই থেকে জগন্নাথ হলেই আছেন। এত দিন মাস্টার রোলে কাজ করেছেন। কিছু দিন আগে ‘সাময়িক কর্মচারী’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এখন বেতন পান মোটে ১০ হাজার। এই টাকায় কোনোমতে টেনেটুনে চারজনের সংসার চালান।
৬৫ কুকুর-বিড়ালের জন্য খাবার
কাউকে কিছু খেতে দেখলে কুকুর গিয়ে কাছে দাঁড়ায়। সুধনের মনে এটা নাড়া দেয়—আহা, ওদেরও তো ক্ষুধা লাগে! সেই থেকে কুকুরকে খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হন। একই সঙ্গে বিড়ালকেও খাওয়াতে থাকেন।
জগন্নাথ হলে এখন ৫০টির মতো কুকুর ও ১৫টি বিড়াল আছে বলে জানালেন সুধন। হলের মাঠে, গ্যালারিতে, অক্টোবর ভবনের বারান্দায়, উত্তরবাড়িতে, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন, রবীন্দ্র ভবন, মেইন গেটে থাকে ওরা। একসঙ্গে অনেক খাবার জোগাড় করতে পারেন না তিনি। একসঙ্গে খাওয়াতে গেলে গোলমালও বাধে। তাই পালা করে সব কয়টিকে খাওয়ান।
মাছের কাঁটা, মাছের মাথা, মাংস, হাড্ডি, ভাত—কুকুর এগুলোই বেশি খায়। নিরামিষ মেস, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন ক্যাফেটেরিয়া, রবীন্দ্র ভবন ক্যাফেটেরিয়া থেকে এগুলো জোগাড় করেন সুধন। তবে ঈদের ছুটির কারণে এখন শুধু সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন ক্যাফেটেরিয়া খোলা। তাই খাবার কম পড়ে যায়। ঘাটতি পোষাতে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার টিমের সহায়তায় তিনি নিজে পাঁচ কেজি চাল আর দুই কেজি মুরগির মাংস (মূলত মাথা, গিলা, কলিজা) রান্না করছেন।
তবে কুকুর বিস্কুট বেশি পছন্দ করে—জানালেন সুধন। বিশেষ পছন্দ ড্রাই কেক। সুধন বলেন, ‘ড্রাই কেক ভালো খায় ওরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেকারির লোক এলে তাদের কাছ থেকে নিই। যেদিন যেমন টাকা থাকে সেদিন তেমন কিনি। এক কেজি দিয়ে দুই দিনের মতো চালাই।’
হাতে টাকা না থাকলে বাকিতেও কেনেন সুধন। বললেন, ‘বেকারির লোকজন চেনা হইয়া গেছে। বাকিতে দেয়। আজকাই যেমন পুরো টাকা ছিল না। দুই শ টেকা কইরা কেজি। আইজ এক কেজি নিয়া ৫০ টাকা দিছি।’
ঘুরে ঘুরে খাবার জোগাড়
সাধারণত দিনে দুইবার খাবার দেন ওদের। সকালে বিস্কুট, দুপুরে ভাত, মাছের কাঁটা, মাংসের হাড্ডি এসব। হলের খাবার দেওয়া শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে। দেড়টার দিকে একটা বালতি নিয়ে সেখানে হাজির হন সুধন। বলেন, ‘দাদা, আমার একটু এঁটো আর কাঁটাকুটা লাগব।’
রবীন্দ্র ভবন ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘লোকটা বেশ সহজ-সরল। কুকুরগুলো যখন তাঁর পেছনে হাঁটে, দেখে বড় ভালো লাগে!’
সন্তোষ চন্দ্র ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মনির বলেন, ‘ক্যান্টিন বয়দের বলে দিয়েছি, ওরা এখন উচ্ছিষ্ট এক জায়গায় রেখে দেয় সুধনদার জন্য।’
আনন্দের মাঝে বিড়ম্বনা
কুকুর-বিড়ালকে নিয়মিত খাওয়ানোয় সুধনকে অনেকে সাধুবাদ জানান। কেউ কেউ সাধ্যমতো টাকাও দেন। কোনো কুকুর অসুস্থ হলে চিকিত্সায় অনেকে সহায়তা করেন।
তবে মাঝেমধ্যে এ জন্য ঝাড়িও খেতে হয়। বলে, ‘এই এক জিনিস নিয়া পইড়া আছ! খালি ঘ্যান ঘ্যান!’
তাঁর স্ত্রী মালতি রানী বললেন, ‘কুত্তা-বিলাইরে খাবার দেয় বইলা লোকটার চাকরি নিয়াও টানাটানি। মাইনষেও কথা শোনায়। কতবার যে মানা করেছি। কে শোনে কার কথা!’
একটা আফসোস
এখন জগন্নাথ হলে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবনের পেছনে থাকেন সুধন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি পেয়েছেন।
ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম ভাঙে সুধনের। প্রথমে হলের পুকুরপারের লাইট নেভান। এর পর সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনে এসে ফ্লোর ঝাড়ু দেন। এভাবে সারা দিন কাটে পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন কাজে।
জীবনের এই বেলায় এসে একটা আফসোস রয়ে গেছে তাঁর—চাকরিটা আজও স্থায়ী হয়নি! বললেন, ‘চাকরি আজ আছে কাল নাই অবস্থা। চাকরিটা স্থায়ী হলে শেষ বয়সে পেনশনসহ কিছু সুবিধা পেতাম!’
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না
খুলনা অফিস
খুলনা অফিস
শেয়ার
মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগ চেতনার কথা বলে জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সেই ফ্যাসিবাদকে নতুন এই বাংলাদেশে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের ফলে দীর্ঘদিন পর দেশবাসী উন্মুক্তভাবে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে।
কোনো অপশক্তি যাতে এই আনন্দ ম্লান করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ, বৈষম্য ও শোষণমুক্ত দেশ গড়তে ইসলামী শাসন বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক লোক এখন সময়ের দাবি, যা সাপ্লাইয়ের কারখানা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ইউনিয়ন আমির মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, ডুমুরিয়া-ফুলতলা কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল। আরো বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা হিন্দু বিভাগের সহসভাপতি ডা. হরিদাস মণ্ডল, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মফিজুর রহমান প্রমুখ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রয়োজন ছিল। বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই বৈঠক (ইউনূস-মোদি) নিশ্চয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এটার প্রয়োজন আছে এবং ছিল। এই বৈঠকের জন্য আমাদের সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা করছিল। এই সময়ে একটা বৈঠক হওয়ার দরকার ছিল, তাঁরা তা করেছেন। তবে আমি জানি না বৈঠকের অভ্যন্তরে কী আলোচনা হয়েছে।
’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং এই বিচার সময়ের দাবি, জনগণের দাবি, আমাদের দাবি। যদি শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কথাবার্তা হয়ে থাকে, তাহলে আমি একটু যোগ করতে চাইব, উনার (শেখ হাসিনা) যেসব সাঙ্গোপাঙ্গ আছে সেখানে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদেরও যেন সঙ্গে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে পাঠিয়ে দেওয়া, যাতে তাঁর বিচারটা হয়।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে।
তিস্তা বাঁধ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই। তিস্তার পানি আমাদের দিতে হবে এবং তিস্তা বাঁধের প্রয়োজনীয় সংস্কার আমাদের করতে হবে। তিস্তা ও ফারাক্কার বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ছাড় দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ একটা শক্ত অবস্থানে আছে। ভারতের সঙ্গে যেসব অসম চুক্তি বিগত সরকারের আমলে হয়েছে, এখন সেসব চুক্তি বাতিল করা দরকার।
যেসব অসম চুক্তি কার্যকর হয়নি, সেগুলো বাতিল করতে হবে।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। এক গ্রুপ দেশে, আরেক গ্রুপ বিদেশে আছে; যারা নাকি নির্বাচন বাদ দিয়ে সংস্কারের কথা বলছে। আবার বলার চেষ্টা করছে, সংস্কারের কথা শুনলে নাকি বিএনপির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার এখানে তীব্র আপত্তি। বিএনপি কখনো সংস্কারের বিপক্ষে নয়, বরাবর সংস্কার ও নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু এমন সংস্কারের পক্ষে বিএনপি নয়, যেটি দেশের জনগণের স্বার্থের ও অধিকারের বাইরে চলে যাবে।’
অনলাইনে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “গতকাল দেখলাম এক ভদ্রলোক—দরবেশ সালমান এফ রহমানের টাকা খেয়ে মোটা হয়েছেন, স্বাস্থ্য ভালো করেছেন, চেহারা সুন্দর করেছেন—তিনি লম্বা লম্বা কথা বলেন দেশের বাইরে থেকে। খুব দুর্ভাগ্যজনক, উনি গতকাল আমার সম্পর্কে খুব বাজে কথা বলেছেন। আমি প্রথমে বলেছি যে আমার বাগানে ক্ষুুদ্র ক্ষুদ্র শূকর পড়েছে। আমি শূকরের পর্যায়ে তাদের ধরে নেব। আরেকজন আছে ফ্রান্সে, আরেকজন কী যেন নাম, ‘জারজ মিল্টন’। সে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় বকা দিয়েছে, গালি দিয়েছে, আর তাকে সমর্থন করেছে পিনাকী। ওরা সবাই একই বংশের, একই গোত্রের সন্তান। কোনো ভদ্রলোক কোনো ভদ্রলোককে গালি দিতে পারে না। আমি ঢাকার মানুষ; আমার বাবা-মা ওদের মতো গালি দেওয়া শেখায়নি। ওরা আসলে মানুষ নয়, অন্য জাত। যারা দরবেশের টাকা খেয়ে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো করে এ দেশের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে কুৎসা রটায়, গালিগালাজ করে, তা দেশের জনগণ মেনে নেবে?” তিনি বলেন, ‘তারা আমার সম্পর্কে, আমার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবার সম্পর্কে বাজে, খারাপ ভাষায় কথাবার্তা বলা শুরু করেছে। অপেক্ষা করুন, কদিন পর ওরা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকেও ধরবে। ওরা চাচ্ছেটা কী? ওরা বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কাউকে ভালোবাসে না। ওরা ভালোবাসে ভারতকে। ওরা এ দেশে যাতে ভারতের আধিপত্য বিস্তার হয় এবং ভারতের কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীকে বসাতে পারে, ওই সমস্ত লোকের জন্য ওরা কাজ করছে। এই গ্রুপটা, এই শূকরের গোষ্ঠী বাংলাদেশে কখনো কোনো সরকারকে স্থিতিশীল থাকতে দেবে না।’
তিনি আরো বলেন, “আমি আজকে হলপ করে বলছি, এই গোষ্ঠী দেশকে স্থিতিশীল থাকতে দেবে না। কখনো আমার বিরুদ্ধে, কখনো অমুকের বিরুদ্ধে লেগেই থাকবে। ওরা ইউটিউবের মধ্যে পয়সা কামাইতেছে এসব মিথ্যাচার, কুৎসা রটনা করে। ওরা যে ভাষায় কথা বলছে, আমি আর বললাম না। আমি বন্দে আলী মিয়ার কবিতাটাই বলতে চাই, ‘কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়ে, তাই বলে কুকুরে কামড়ানো কি মানুষের শোভা পায়?’”
প্রত্যাবাসনে দীর্ঘদিন নীরব থাকা মায়ানমার এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি জানানোর পরপরই ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমারের জান্তা সরকারের এমন ঘোষণাটিই এখন আলোচনার একমাত্র বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মায়ানমারের আকস্মিক ঘোষণায় তারা (রোহিঙ্গারা) মোটেই বিচলিত নয়। কেননা বাংলাদেশের ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা মনে করছে, এই মুহূর্তে মায়ানমারের জান্তা সরকার যতই ঘোষণা দিক না কেন, তারা (জান্তা সরকার) কোনোভাবেই প্রত্যাবাসন করতে পারবে না।
কারণ, রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান (রাখাইন রাজ্য) এখন সরকারের হাতছাড়া।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের ওপারের রাজ্য আরাকানের বেশির ভাগ এলাকা মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বলছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী এত দীর্ঘ সময়েও তাদের (রোহিঙ্গা) দেশে ফিরিয়ে নেয়নি জান্তা সরকার। এত দিন পরে আকস্মিক ঘোষণা দিয়ে তারা বলছে, এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত।
তা ছাড়া আরো ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে তালিকা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর চা দোকান থেকে শুরু করে তাদের ঘরে ঘরে এই মুহূর্তে আলাপ-আলোচনার বিষয়টিই এটি। ভাসানচর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শেড মাঝি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে ফিরে না যাওয়ার কোনো কারণই নেই। কিন্তু আমাদের কোথায় নেবে? আমাদের জন্মস্থান আরাকান তো এখন আরাকান আর্মির দখলে।
যেখানে জান্তা সরকারই আরাকান আর্মির কবল থেকে পালিয়ে গেছে, সেখানে আমাদের কিভাবে নেবে?’
কুতুপালং ক্যাম্পের শেড মাঝি হামিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ‘২০১৭ সালে আমাদের বিতাড়িত করে জান্তা সরকার আবার বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল আমাদের ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু এত দিন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও না নিয়ে এখন ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কুতুপালং ক্যাম্পের অন্য রোহিঙ্গা নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মায়ানমার সরকার এখন সম্মত হলেই আমাদের প্রত্যাবাসন হবে না। এ ক্ষেত্রে এখন আরাকান আর্মির বিষয়টিও যোগ হয়েছে। এখন প্রত্যাবাসনে আরাকান আর্মির সঙ্গে মায়ানমার সরকারের বোঝাপড়া হতে হবে।
’ রোহিঙ্গা নেতা জাহাঙ্গীর বলেন, আরাকান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের আদি এলাকা। সেই আরাকানে তাদের ফিরিয়ে নিলে তারা এখনই চলে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মায়ানমারের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া রয়েছে। এর আগে কয়েক দফায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য করা হলেও বাস্তবে প্রত্যাবাসন বারবার ভণ্ডুল হয়ে গেছে। সর্বশেষ গতকাল বিমসটেক সম্মেলন উপলক্ষে এক বৈঠকে মায়ানমারের পক্ষে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতির কথা জানিয়েছে।