স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ৪ থানা পরিদর্শন

দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এসআই ও কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এসআই ও কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সব সময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলা করায় রাজধানীর গুলশান থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও একজন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় এসআই ও কনস্টেবলকে বরখাস্তের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা গতকাল ভোরে রাজধানীর চার থানা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য এই বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও ফাংশন করছে। যৌথ বাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে।

থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা দেখতেই এ পরিদর্শন।

উপদেষ্টা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখান। এই সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এ সময়ও সজাগ ও সতর্ক থাকে।

চলমান যৌথ অভিযান আর কত দিন চলবেসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্যান্য অভিযান চলমান থাকবে। তিনি জানান, গত বুধবার গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

উপদেষ্টা গতকল ভোরে তাঁর বারিধারার ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দাররুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমণ্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে যান।

এসব থানা পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা থানার অভ্যর্থনা কক্ষ, হাজতখানাসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।

পথিমধ্যে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তা ছাড়া উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত জনতা বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ক্যাপসের গবেষণা

ঈদের ছুটিতেও রাজধানীতে স্বাস্থ্যকর বাতাস ছিল না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ঈদের ছুটিতেও রাজধানীতে স্বাস্থ্যকর বাতাস ছিল না

ঈদের ছুটিতে অনেকে ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় রাজধানীতে মানুষ যেমন কম ছিল, তেমনি যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় ধুলাবালি আর কালো ধোঁয়াও বেশ কমে যায়। এর পরও স্বাস্থ্যকর বাতাসে ঈদের ছুটি কাটাতে পারেনি ঢাকাবাসী।

ঈদের দিনসহ আগে-পরে পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই ঢাকার বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া এক দিন শিশু, প্রবীণ ও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাস ছিল।

তবে এবার গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঢাকায় বায়ুদূষণ ছিল কিছুটা কম।

২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর পর্যন্ত ৪৫ দিনের বায়ুমান উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। গবেষণায় বিশ্বের বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজুয়ালের বায়ুমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) থেকে প্রাপ্ত ঈদের আগের-পরের পাঁচ দিনের (ঈদের দিন এবং ঈদের আগের দুই দিন ও পরের দিন) উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছে ক্যাপস।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে তাকে ভালো বা বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়।

৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে সহনীয় বা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ক্যাপসের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৫১। অর্থাৎ এই ঈদে ঢাকার মানুষ অস্বাস্থ্যকর বাতাস সেবন করেছে। ঈদের আগের দুই দিন (২৯ ও ৩০ মার্চ) ঢাকার একিউআই ছিল যথাক্রমে ১৫৫ ও ১৫৩, যা অস্বাস্থ্যকর অবস্থাকে নির্দেশ করে। ঈদের দিন (৩১ মার্চ) ও ঈদের পরদিন (১ এপ্রিল) বায়ুমান সূচক ছিল ১৫১ ও ১৫০। অর্থাৎ এই দুই দিনও রাজধানীর বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর।

তবে ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ২ এপ্রিল কিছুটা উন্নতি হয় ঢাকার বাতাসের। এদিন রাজধানীর গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৪৪, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিনের গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৯০। তবে এ বছর তা নেমে এসেছে ১৫১-তে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদের বাতাস কিছুটা ভালো ছিল।

এ বিষয়ে ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার ঈদে বায়ুদূষণ কিছুটা কম ছিল। একটা কারণ হতে পারে, গতবারের তুলনায় এবার বাতাসের গতিবেগ কিছুটা বেশি ছিল। এতে কিছুটা দূষণ কমতে পারে। এ ছাড়া ঈদের আগে রাজধানীর মাতুয়াইল ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধের দাবিতে পরিবেশবাদীরা মানববন্ধন করেন। তখন পরিবেশ উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা হয়। ঈদে বায়ুদূষণ কিছুটা কম থাকার পেছনে এটিরও কিছু অবদান থাকতে পারে।

তবে এবারের ঈদে বায়ুদূষণ কিছুটা কমলেও তা খুব তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নয় বলে মনে করেন কামরুজ্জমান মজুমদার। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে ঢাকার বায়ুদূষণ খুব একটা কমেনি। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা এখনো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির মতো কাজগুলো বিধি মেনে করানো যাচ্ছে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, দেশের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম, সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা, শিল্প-কারখানার উন্মুক্ত নিঃসরণ ও যানবাহনের ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া, কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও বায়োমাস পোড়ানো ইত্যাদি বায়ুদূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত। আন্তঃসীমান্ত দূষণও দেশের বায়ুদূষণ অনেকাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ক্যাপস বলছে, এবার ২৬ মার্চ ছুটির দিন থাকলেও ওই দিন ঢাকার গড় বায়ুমান সূচক (২০০) খুব অস্বাস্থ্যকর ছিল। কিন্তু ঈদের ছুটিতে মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বায়ুমানের উন্নতি হয়েছে। প্রতিবছরই ঈদের দিন এবং ঈদের পরের দিন ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। যাতায়াতের জন্য বেশির ভাগ মানুষ রিকশা কিংবা নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার করে। নির্মাণকাজ ও কলকারখানাও বন্ধ থাকে। এ সময় ঢাকার আশপাশের বৈধ এবং অবৈধ বেশির ভাগ ইটভাটা ও শিল্পকারখানাও বন্ধ থাকে। এতে বায়ুদূষণ কিছুটা কমে আসে।

সবচেয়ে বেশি দূষণ মিরপুর-৬ নম্বরে, কম মগবাজারে : গবেষণায় ক্যাপস ঢাকার ১০টি স্থানের বায়ুমান উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, ঈদের পাঁচ দিনে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ ছিল মিরপুর-৬ নম্বরে। এ এলাকায় পাঁচ দিনের গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১৬৬.২। ১৬৬ একিউআই কম নিয়ে এর পরের অবস্থানেই রয়েছে রাজধানীর লালবাগ এলাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দূষণ পাওয়া গেছে মগবাজারে। এ এলাকার গড় বায়ুমান সূচক ছিল ১১৮.৬।

এ বিষয়ে কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, লালবাগ ও মিরপুরের মতো এলাকাগুলো ঈদের আগে-পরে বেচাকেনা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ততা বেশি দেখা যায়। মানুষের চলাচল ও ব্যস্ততা বেশি থাকায় বায়ুদূষণও তুলনামূলকভাবে বেশি এসব এলাকায়।

 

মন্তব্য

এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তি

দীর্ঘ ৯ দিনের ঈদের ছুটিতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সচল রয়েছে এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিকল্প ডিজিটাল সেবাগুলো। এসব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগাম নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। চুরি, ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় এখন আগের মতো আর নগদ অর্থ বহন করেন না অনেকেই। সুবিধামতো এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার আশায় প্লাস্টিক কার্ড সঙ্গে রাখেন।

ঈদের ছুটিতে ব্যাংকের শাখাও বন্ধ। তাই এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চাহিদা বেশি। কিন্তু টাকা মিলছে না অনেক এটিএম বুথে। ঢাকার বাইরে এ সমস্যা বেশি।
ঈদে বাড়ি গিয়ে টাকা ওঠাতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

উদাহরণস্বরূপ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কথা বলা যায়। সেখানে বেসরকারি চারটি ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম বুথ রয়েছে। কিন্তু বুথগুলোতে গত ৩০ মার্চ থেকে টাকা নেই।

এতে বিপাকে পড়েন ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিজ এলাকায় আসা ঘরমুখী গ্রাহকরা।

বুথে টাকা না থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কালাইয়া বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক মো. আল মামুন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত (আগামী রবিবার) বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে দুঃখ প্রকাশ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু বাউফল নয়, একই অবস্থা রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী।

বর্তমানে দেশে ১২ হাজার ৯৪৬টি এটিএম বুথ এবং সাত হাজার ১২টি ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) রয়েছে।

তবে এরই মধ্যে অনেক এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা গেছে এবং কিছু ব্যাংক নিজেদের গ্রাহক ছাড়া অন্যদের লেনদেন সীমিত করেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

দেশে এখন সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথ রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। ব্যাংকটির ফাস্ট ট্র্যাক বুথগুলো চালু থাকলেও সীমিত করা হয়েছে বুথের সংখ্যা। অন্য ব্যাংকের গ্রাহক ডাচ-বাংলার বুথ থেকে টাক উত্তোলন করতে পারলেও বিপত্তি অন্য জায়গায়। রাজধানীর ফাস্ট ট্র্যাকগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ ফাস্ট ট্র্যাকে একটি করে বুথ চালু। অনেক ক্ষেত্রে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রাহককে। তাদের মতো সব বুথ খোলা থাকলে ভোগান্তি আরো কম হতো।

এটিএম বুথের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। টাকা না তুলতে পেরে ব্যাংকটির অনেক গ্রাহকও ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজধানীর মধুবাগ এলাকার এটিএম বুথে আউট অব সার্ভিস লেখা। টাকা তুলতে এসে ঘুরে গেছেন অনেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রামাঞ্চলের বুথগুলোতে টাকা শেষ হয়ে গেলে নতুন করে টাকা পাঠানো একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া ঈদ হওয়ার কারণে এক দিনেই টাকা শেষ হয়ে যায়। এক হাজার টাকার নোট দিলে একবারে ৭০ লাখ দেওয়া যায়। আর ৫০০ টাকার নোট দিলে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া যায়। এখন ঈদ হওয়ার কারণে টাকা উত্তোলনের চাপ এত বেশি যে এক দিনেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ১০ শতাংশ বুথে সমস্যা থাকবেএটাই স্বাভাবিক। ব্যাংক পুরোপুরিভাবে চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না বলে মত ওই ব্যাংকারের।

ঈদকে কেন্দ্র করে এবার ছুটি শেষে অফিস খুলবে আগামী ৬ এপ্রিল থেকে। গত ২৮ মার্চ থেকে টানা ৯ দিন বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ বিজয় দিবসের ছুটির পরদিন এক দিন ছুটি নিয়ে অনেকে টানা ১১ দিনের ছুটি কাটাচ্ছেন। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার গ্রামে গেছেন অনেকেই। টাকা তুলতে ভোগান্তিও বেশি হয়েছে গ্রামে। অনেক বুথে টাকা নেই। কোনো কোনো ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বুথের সামনে আউট অব সার্ভিস লেখা রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ রেখেছে। আর নগদ টাকার সংকটে থাকা অনেক দুর্বল ব্যাংকর বুথে ঈদের আগের দিন থেকেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্যাংকাররা জানান, সাধারণভাবে ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে। টানা বন্ধের মধ্যে শাখা বন্ধ থাকায় বুথ থেকেই চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হয়। এ সময় শহর ছেড়ে গ্রামে যান প্রচুর মানুষ। সেই অনুপাতে এটিএম বুথ বা বুথে টাকা রাখার ব্যবস্থা থাকে না। কেননা প্রতিটি বুথের টাকা রাখার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা থাকে। এ সময় এটিএম বুথের টাকা অন্য সময়ের তুলনায় দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অথচ লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে টাকা ফিডিংয়ের (বুথে টাকা ঢোকানো) সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এসব কারণে সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে টাকা তোলার জন্য বুথ রয়েছে ২০ হাজারের মতো। এর মধ্যে শুধু টাকা তোলার এটিএম বুথ ১২ হাজার ৯৩৮টি। যার মধ্যে শহরেই ৯ হাজার ৯১টি। আর সিআরএম আছে সাত হাজার ১২টি। এ রকম একই বুথে টাকা জমা ও উত্তোলন করা যায়। যে কারণে এই ধরনের বুথে টাকার সংকট কম হয়। এই সিআরএম ৯টি শহরে আছে পাঁচ হাজার। আর গ্রামে আছে দুই হাজার ৩টি। গ্রামীণ বুথ বলতে ঢাকাসহ সব বিভাগীয়, জেলা ও পৌর এলাকার বাইরে স্থাপিত বুথকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদের আগের মাস মার্চে দুই উপায়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু এটিএম বুথ থেকে ৩২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা এবং সিআরএম থেকে ১৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

 

মন্তব্য

স্বপ্নপূরণে রুশ সেনা হিসেবে যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশি নিহত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
শেয়ার
স্বপ্নপূরণে রুশ সেনা হিসেবে যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশি নিহত
ইয়াসিন শেখ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল ইয়াসিন শেখের। অনেক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি তিনি। তবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্নপূরণ হয় তাঁর। এরপর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন ইউক্রেন যুদ্ধে।

ইউক্রেনের মিশাইল হামলায় থেমে যায় তাঁর স্বপ্নের যাত্রা। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ইয়াসিনসহ তাঁর চার সহযোদ্ধার দেহ। ২৭ মার্চ ইউক্রেনে যুদ্ধরত অবস্থায় নিহত হন ইয়াসিন।

২৭ মার্চ ইয়াসিন নিহত হলেও রাশিয়ায় থাকা তাঁর বন্ধু মেহেদী জানতে পারেন ঈদের পরদিন।

ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা গ্রামের মৃত সত্তর মিয়ার ছোট ছেলে ইয়াসিন শেখ। চার ভাই-বোনের মধ্যে দুজন আগেই মারা গেছেন।

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও নিয়মিত তাঁর ফেসবুকে আপলোড করতেন ইয়াসিন।

গত ১ মার্চ ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। ভিডিওতে জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় একটি চায়না কম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করেন ইয়াসিন। গত সেপ্টেম্বর মাসে অফার লেটার পেয়ে চলে যান রাশিয়ায়। তিন মাস চাকরির পর অনলাইনে আবেদন করে সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। দেশে না হলেও বিদেশে সৈনিক হওয়ায় বাবার স্বপ্নপূরণ হয় বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধে মৃত্যু হলেও তাঁর কোনো আফসোস থাকবে না বলেও ভিডিওতে জানান ইয়াসিন।

এদিকে ইয়াসিনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, লাশ দেশে আনা যাবে কি না তা নিয়ে কোনো তথ্যই পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা।

ইয়াসিনের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম রবি জানান, ইয়াসিন রাশিয়ায় একটি কম্পানিতে ভালো চাকরি পায়। সবই ঠিকটাক চলছিল। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে সব ওলটপালট হয়ে যায়।

 

 

মন্তব্য
চৈত্রেও কুয়াশাঢাকা ভোর

দিনে গরম রাতে শীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
দিনে গরম রাতে শীত
ঠাকুরগাঁওয়ে গতকাল ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চৈত্রের খরতাপে দিনের বেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিন্তু রাত হলে ক্রমে তাপমাত্রা কমে ভোরে দেখা মিলছে কুয়াশার। দেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিলে এসেও ভোরের দিকে অনুভূত হচ্ছে মৃদু শীত। উত্তর, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের কিছু জেলাসহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে এই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এবারই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কখনো কখনো এমন চিত্র দেখা গেছে। মূলত জলবায়ু ও ঋতুর ধরন পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতিতে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে।  

উত্তরের জেলা রংপুরে সকাল ৭টা পর্যন্ত চারদিকে থাকে ঘন কুয়াশা মোড়ানো সঙ্গে হিমেল বাতাস।

গোধূলির আলো নিভতেই শীতল হচ্ছে প্রকৃতি। রাত যত গভীর হয় শীতলতা তত বেড়ে চলে। রীতিমতো কাঁথা মুড়ি দিয়ে রাত পার করতে হচ্ছে গ্রামগঞ্জের মানুষকে। রংপুরে প্রকৃতির এমন চিত্রের কথা জানিয়েছেন কালের কণ্ঠের রংপুর প্রতিনিধি।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বজলুর রশিদ এবারের ঈদের ছুটিতে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে অবস্থান করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকেই নিজের অভিজ্ঞতা ও আবহাওয়ার এমন আচরণের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন কালের কণ্ঠের কাছে।

বজলুর রশিদ বলেন, আমি পঞ্চগড়ে, কুয়াশার ভেতরে আছি। এটার মূল কারণ, শীতকালের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে দেরিতে।

মার্চের তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে এপ্রিলে। শীতকালের বাতাসের ধরন (উইন্ড প্যাটার্ন) এখনো অবস্থান করছে। অর্থাৎ এখনো বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিক থেকে। এ জন্য দিনে তাপমাত্রা বেশি হলেও সকালের দিকে ঠাণ্ডা লাগছে। কারণ শীতের বাতাসের প্রবাহ এখনো পুরোপুরি যায়নি। শুধু এ বছরই নয়, গত বছরও এমন চিত্র কিছুটা দেখেছি আমরা। ইদানীং এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রবাহটা থাকছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৭.২ ডিগ্রি। এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৪.৩ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ১৭ ডিগ্রি। কিছুদিন ধরে দেশের বেশ কিছু জেলায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব জেলায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১৫ ডিগ্রি বা এর আশপাশে থাকছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাতে অনেক কমে যাওয়ায় শীত ও কুয়াশার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

বজলুর রশিদ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এই পার্থক্য অস্বাভাবিক বললেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেক বেশি হলে অর্থাৎ রাতের তাপমাত্রা যদি বেশি নিচে নেমে যায় বাতাসের জলীয় বাষ্প কুয়াশা আকারে ছড়িয়ে পড়ে। শীতের পর এ সময় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। এ রকম হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গেলে আবার এই কুয়াশা ভাব থাকবে না।

তবে গত বছর প্রকাশিত বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও নরওয়ের আবহাওয়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে করা এক গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু প্রভাব উঠে এসেছে। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন : ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আবহাওয়ার প্রবণতা এবং পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ শীর্ষক গবেষণাটি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ ও নরওয়েজিয়ান মেটিওরজিক্যাল ইনস্টিটিউটের জলবায়ু বিভাগের প্রধান হেন্স ওলেভ হেইগেনের নেতৃত্বে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছর ধরে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ক্ষেত্রে ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে তাপপ্রবাহ শুরু হতো মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। তবে ১৯৯৭ সালের পর থেকে এই প্রবণতার লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। তাপপ্রবাহের সময় পিছিয়েছে মার্চের তৃতীয় বা শেষ সপ্তাহে। এপ্রিল ও মে মাসের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই থাকছে তাপপ্রবাহ।

অন্যদিকে ঢাকায় জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি শৈত্যপ্রবাহ হলেও এতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে। সার্বিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ কমে গেছে এই বিভাগে। রাজশাহীতে ২০০৬ সালের পর থেকে শীত দেরিতে আসছে। উত্তরের আরেক বিভাগ রংপুরেও পিছিয়েছে শৈত্যপ্রবাহের শুরুর সময়। তাপপ্রবাহ ক্রমে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তিন মাস শীত মৌসুম। মার্চ থেকে মে তিন মাস প্রাক বর্ষা মৌসুম। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষা মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর বর্ষা পরবর্তী মৌসুম।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ঈদ করতে যাওয়া স্কুল শিক্ষিকা কোহিনুর বেগম বলেন, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। রাত ১০টার দিকে শীত অনুভূত হয়। মধ্যরাতে হাল্কা কম্বল বা কাঁথা গায়ে দিতে হচ্ছে। ফজরের নামাজের সময় উঠলে দেখা যায়, চারদিকে ঘন কুয়াশা। এর আগে এমনটা হয়নি।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানও কিছুদিন ধরে প্রকৃতিতে এমন কুয়াশা দেখে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কেবল চলতি বছর নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে এমনটা হচ্ছে এই অঞ্চলে। অসময়ে কুয়াশা আবার অসময়ে তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে। এই পরিবর্তন প্রকৃতির  অস্বাভাবিক আচরণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি না হলে ক্ষতির কোনো কারণ নেই।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা মাঝেমধ্যে তাপপ্রবাহের আওতায় চলে আসছে। এতে গরমে কষ্ট বাড়ছে। আবার রাতে তাপমাত্রা অনেকটা কমে শীত শীত ভাব হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। রাত-দিনের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য দেখা দিচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই এবার দেখা দিয়েছে এ অবস্থা। সাধারণত মরুভূমিতে এমন অবস্থা দেখা যায়।

অন্যদিকে চৈত্রের সকালেও ঠাকুরগাঁওয়ে ঘন কুয়াশা ও শীতে শরীরে জড়াতে হচ্ছে জ্যাকেট। কালের কণ্ঠের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া ছিল। সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত কুয়াশার তীব্রতা এতটা ছিল যে কিছু দূরত্বের বস্তু দেখতেও কষ্ট হচ্ছিল।

 

১৫ জেলায় তাপপ্রবাহ

এদিকে গতকালও দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, নীলফামারী, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি) থেকে মাঝারি (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি) তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজ শুক্রবারও তা অব্যাহত থাকতে পারে।

 

তাপমাত্রা কমতে পারে, বৃষ্টি বাড়তে পারে 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে আজ। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল শনিবার রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে পরদিন রবিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আগামীকাল ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরদিন রবিবারও একই পরিস্থিতি থাকতে পারে। তবে পরের দুই দিনে বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি আবার কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে, ৩৮.২ ডিগ্রি। ঢাকায় এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬.৬ ডিগ্রি।

 

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন রংপুর ব্যুরোপ্রধান, চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি]

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ