পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘সংক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে একদল বিক্ষোভকারী সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় ছয় শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।
এদিকে এনসিটিবির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থীসহ ‘সংক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভাগটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা।
ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে : নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দসংবলিত গ্রাফিতি বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকায় কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে রাঙামাটিতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরের রাজবাড়ি জিমনেসিয়াম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে ফিরে এসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করা হয়। এ সময় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বান্দরবানে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ : ঢাকায় কর্মসূচি পালনকালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে বান্দরবানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীরা। গতকাল বিকেল ৩টায় শহরের শহীদ আবু সাঈদ মুক্তমঞ্চে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রাজার মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন পাহাড়ি নেতা নেলুন খুমী, ছাত্রনেতা জন ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা।
এ সময় বক্তারা পাঁচটি দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে—১. সংক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা, ২. হামলায় আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার কর্তৃক বহন করা, ৩. পাঠ্যপুস্তক থেকে বাতিলকৃত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি পুনর্বহাল করা, ৪. পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে পাঠ্যপুস্তকে পাহাড়ি জাতিসমূহের সঠিক ইতিহাস ও পরিচিতি তুলে ধরা, ৫. সংবিধানে পাহাড়ি জাতিসমূহের স্বীকৃতি দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
গ্রেপ্তার আরিফ-আব্বাস কারাগারে : রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার আরিফ আল খবির ও মো. আব্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
গতকাল তাঁদের আদালতে হাজির করে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক কাজী আরমান হোসেন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বুধবার রাতে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা অন্তর্বর্তী সরকারের : রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এই হামলার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধি।]