ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ

শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান
শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান
শেয়ার
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ
রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের টিনশেড বস্তি এলাকার বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল-১-এর শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা টিনশেড বস্তি। দিনের বেলায়ই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। এই অন্ধকার বস্তি আরো অন্ধকারে ডুবে আছে। কারণ এখানে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি তেমনভাবে।

মূল রাস্তা থেকে পূর্ব দিকের গলি দিয়ে নেমে বেশ কিছুটা এগোলেই শোনা যায় শিশুদের পড়ার আওয়াজ। যে ঘরটি থেকে শিশুদের কোলাহল শোনা যাচ্ছিল, সেখানে হাজির হলে মনে হবে পুরো বস্তিতে আলো জ্বেলে দেওয়ার দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে এখান থেকে। ঘরটির সামনে সাইনবোর্ডে লেখা আছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। এই স্কুল থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বস্তিবাসী মা-বাবারা তাঁদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারেননি। একেবারেই নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়ায় চাইলেই স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে পারতেন না। অনেক অভিভাবক বেসরকারি স্কুলে ছেলেমেয়েকে ভর্তি করালেও আর্থিক সমস্যার কারণে লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে আবার বন্ধ করে দিয়েছেন; যে কারণে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছিল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। লেখাপড়া করতে না পারায় অপরিণত বয়সে অনেকে বিভিন্ন দোকানে, গার্মেন্টসে কাজে যুক্ত হয়ে যায়।

এতে বস্তিতে শিক্ষার প্রসার আর হয়ে ওঠেনি। অন্ধকারেই ডুবে ছিল পুরো বস্তি। অভিভাবকদের অসচেতনতা ও  শিক্ষার অভাবে এখানকার ছেলেমেয়েরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ত। পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে বস্তির অসচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিরপুর টিনশেড বস্তিতে দেশের প্রথম বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন কালের কণ্ঠর প্রধান সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বস্তিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। অসচ্ছল পরিবারের মা-বাবারা তাঁদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পথ খুঁজে পান। স্কুলটি উদ্বোধনের দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই, স্কুলড্রেস, ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মূলধারায় যুক্ত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে পড়তে শিক্ষার্থীদের কোনো খরচ দিতে হবে না। শিক্ষকদের বেতন, শিক্ষার্থীদের সব শিক্ষা উপকরণ আমরা বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে বহন করব। এই স্কুলের কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে ভালো ফল করে যত দূর পড়তে চায়, তাদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ। এখন পর্যন্ত ১৫টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

https://cdn.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2023/09.September/23-09-2023/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নিম্নবিত্ত মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরাও আর নিরক্ষর থাকবে না। তারাও পাবে বিনা মূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা। টাকার অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করছে। অভিভাবকদের সচেতন করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। অভিভাবকরাও এখন সচেতন হয়েছেন। তাঁদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে বস্তির এই স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১০৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতি তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ পাচ্ছে। ফলে অভিভাবকরাও সন্তানদের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে পড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে তাসলিমা আক্তার। মা বাকপ্রতিবন্ধী। বাবা নেই। জন্মের পর থেকে বাবাকে কখনো দেখেনি তাসলিমা। বাবা কোথায় আছেন, তা-ও জানে না তার পরিবার। তাসলিমা ও তার মায়ের ভরণ-পোষণ করেন তার মামা। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে মাসিক ৫০০ টাকা বেতন দিয়ে একটি স্কুলে পড়ত সে। মামার সামান্য বেতনে দুই পরিবারের খরচ বহন করা এবং তাসলিমার স্কুলের বেতনসহ আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তাসলিমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর তাসলিমা ও তার পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর হয়। তাসলিমা নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে। মেধাবী তাসলিমা এখন নিয়মিত স্কুলে আসে এবং নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি তার শ্রেণির দুর্বল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করছে।

বস্তির লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার আগে একটি বেসরকারি সংস্থা এই বস্তিতে স্কুল চালাত। করোনার সময়ে তারা কার্যক্রম প্রত্যাহার করে নেয়। বিপাকে পড়ে বস্তির বাসিন্দারা। আশপাশে স্বল্প দূরত্বে প্রাইমারি স্কুল না থাকায় এত দিন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এখানকার শিশুরা। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর অভিভাবকরা এখন নিশ্চিন্ত। বিনা বেতনে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। খাতা-কলম দিচ্ছে। অসচ্ছল অভিভাবকদের ওপর থেকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের চাপ কমে গেছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় তাঁদের সন্তানরা সুশিক্ষা পাচ্ছে। বস্তির মানুষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিনা মূল্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করায় বস্তিবাসী মা-বাবারা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষক সেলিনা আক্তার জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে সাপ্তাহিক টিফিন, গ্রীষ্মকালীন ফল, প্রতি মাসে সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশুরা যাতে অপরিণত বয়সে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সে জন্য তাদের নিয়মিত কিশোর অপরাধের কুফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দুই মাস পর পর কর্মশালার মাধ্যমে তাদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সর্বোপরি বসুন্ধরা গ্রুপের কল্যাণে বস্তির শিশুরা সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

রমজান ও ঈদ ঘিরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা আয়োজন

শেয়ার
রমজান ও ঈদ ঘিরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা আয়োজন
বসুন্ধরা শুভসংঘ ও সৌল জাংশনের আয়োজনে রাজধানীর মিরপুরে শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শুধু সিয়াম সাধনাই নয়, রমজান মানবতার আলো ছড়ানোরও মাস। পবিত্র এই মাসে বসুন্ধরা শুভসংঘ নানা সহায়তা নিয়ে ছুটে গেছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে। ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তাদের মাঝে। রোজাদারদের জন্য ইফতারি ও সাহরি বিতরণ, দুস্থ পরিবারে খাদ্য সহায়তা, শিশুদের জন্য বিশেষ উপহারসব মিলিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিটি উদ্যোগই ছিল মমতায় মোড়ানো।

নতুন পোশাক পেয়ে পথশিশুরা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি অসহায় পরিবারের সদস্যরা ঈদ উপহারে খুঁজে পেয়েছে ভালো থাকার অনুপ্রেরণা। ঈদের দিনেও থেমে থাকেনি বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা কার্যক্রম। পথশিশু ও অসহায়দের জন্য আয়োজন করা হয় ঈদ আনন্দ উৎসবের, যেখানে নতুন জামা ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে ভালোবাসায় ভরে ওঠে চারপাশ। সমাজের প্রতিটি স্তরে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালিত পুরো মাসের কার্যক্রমের তথ্য ও ছবিসহ বিস্তারিত তুলে ধরেছেন শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব

https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

নরসিংদীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

রাজধানীর মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ঈদ মেহেদি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ঠাকুরগাঁওয়ে কোমলমতি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

কুমিল্লার লালমাইয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে  কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

কুমিল্লায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় অসচ্ছল নারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

চাঁদপুরে মাদরাসার কোমলমতি শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুলাউড়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি শাখার আয়োজনে শ্রমজীবীদের মাঝে ইফতারি বিতরণ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ

শেয়ার
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ
মনিরুজ্জামান মন্টু, কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখা

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি খুবই আনন্দিত। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এটি তাদের মহৎ একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করবে এই সেলাই মেশিন।

সুদূর ঢাকা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিদল আমাদের নীলফামারীর খোকসাবাড়ীতে এসে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ, যা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে আর্থিক সচ্ছলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আমরা দেখছি, বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসার সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের এই উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে তাদের দক্ষ করে মেশিন বিতরণের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বসুন্ধরা গ্রুপ, তা নিঃসন্দেহে গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে তারা আরো ব্যাপক পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে আরো বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে। দরিদ্র নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
তাদের এই মহান উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে এবং আরো বিস্তৃত হয়, সেই প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাদের আরো সমৃদ্ধ করুন। তাদের হৃদয়কে আরো উদার করুন এবং তাদের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে বেশি বেশি দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য

দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল

শেয়ার
দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল
উচ্ছ্বাস রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নীলফামারী জেলা প্রশাসন

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহতী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। এটি শুধু একটি অনুদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই সেলাই মেশিন।

প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে নিজেকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। সেলাই মেশিনের আয়ে দরিদ্র পরিবারের নারীদের সংসারে সচ্ছলতার চাকা সচল হবে। তাদের পরিবারের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি তাদের এই আয় দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগ হবে।
শক্ত হবে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি। সরকারিভাবে সারা দেশেই এমন নানা কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে অনেকে এগিয়ে আসছে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই কাজের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই নয়, নারীদের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মন্তব্য

পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

শেয়ার
পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন পিংকি রানী রায়। নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর বাবুপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের পিংকির স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।

নিজের সঙ্গে ছোট বোন ও ভাইকে প্রতিষ্ঠিত করবেন সমাজে। কিন্তু ২০২২ সালে মা চন্দনা রানী রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বিপদে পড়েছেন তিনি। এ সময়ে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করেও মৃত্যু ঠেকাতে পারেননি মায়ের। এখন তাঁর বাবা শংকর রায় অনেকটাই হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
পিংকি বলেন, ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। হঠাৎ মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ সময় সহায়-সম্বল যা ছিল বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা চালান আমার বাবা। তার পরও মাকে বাঁচানো যায়নি।
মায়ের অবর্তমানে ছোট বোন ও ভাইয়ের দায়িত্ব পড়ে আমার ঘাড়ে। পরিবারে চলছে চরম অর্থকষ্ট। এমন সমস্যায় আমারসহ ভাই-বোনদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। চোখের সামনে যখন আমার ঘোর অন্ধকার, তখনই আশার আলো দেখায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমাকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয় তারা।
আমি সেলাই শিখলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের বিনামূল্যের সেলাই মেশিন পেলাম। এখন আমার চিন্তা নেই। কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ পারি। এই মেশিনে সেলাইয়ের কাজ করে আমার স্বপ্ন পূরণ করব। পাশপাশি ভাই-বোনদের স্বপ্নও পূরণ করব। দিশাহারা বাবাকে পথের দিশা দেখাতে পারব। আমাকে এমন সহযোগিতা করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ