রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা টিনশেড বস্তি। দিনের বেলায়ই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। এই অন্ধকার বস্তি আরো অন্ধকারে ডুবে আছে। কারণ এখানে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি তেমনভাবে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ
শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান

বস্তিবাসী মা-বাবারা তাঁদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারেননি। একেবারেই নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়ায় চাইলেই স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে পারতেন না। অনেক অভিভাবক বেসরকারি স্কুলে ছেলেমেয়েকে ভর্তি করালেও আর্থিক সমস্যার কারণে লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে আবার বন্ধ করে দিয়েছেন; যে কারণে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছিল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। লেখাপড়া করতে না পারায় অপরিণত বয়সে অনেকে বিভিন্ন দোকানে, গার্মেন্টসে কাজে যুক্ত হয়ে যায়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নিম্নবিত্ত মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরাও আর নিরক্ষর থাকবে না। তারাও পাবে বিনা মূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা। টাকার অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করছে। অভিভাবকদের সচেতন করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। অভিভাবকরাও এখন সচেতন হয়েছেন। তাঁদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে বস্তির এই স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১০৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতি তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ পাচ্ছে। ফলে অভিভাবকরাও সন্তানদের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে পড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত হচ্ছেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে তাসলিমা আক্তার। মা বাকপ্রতিবন্ধী। বাবা নেই। জন্মের পর থেকে বাবাকে কখনো দেখেনি তাসলিমা। বাবা কোথায় আছেন, তা-ও জানে না তার পরিবার। তাসলিমা ও তার মায়ের ভরণ-পোষণ করেন তার মামা। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে মাসিক ৫০০ টাকা বেতন দিয়ে একটি স্কুলে পড়ত সে। মামার সামান্য বেতনে দুই পরিবারের খরচ বহন করা এবং তাসলিমার স্কুলের বেতনসহ আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তাসলিমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর তাসলিমা ও তার পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর হয়। তাসলিমা নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে। মেধাবী তাসলিমা এখন নিয়মিত স্কুলে আসে এবং নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি তার শ্রেণির দুর্বল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করছে।
বস্তির লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার আগে একটি বেসরকারি সংস্থা এই বস্তিতে স্কুল চালাত। করোনার সময়ে তারা কার্যক্রম প্রত্যাহার করে নেয়। বিপাকে পড়ে বস্তির বাসিন্দারা। আশপাশে স্বল্প দূরত্বে প্রাইমারি স্কুল না থাকায় এত দিন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এখানকার শিশুরা। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর অভিভাবকরা এখন নিশ্চিন্ত। বিনা বেতনে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। খাতা-কলম দিচ্ছে। অসচ্ছল অভিভাবকদের ওপর থেকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের চাপ কমে গেছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় তাঁদের সন্তানরা সুশিক্ষা পাচ্ছে। বস্তির মানুষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিনা মূল্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করায় বস্তিবাসী মা-বাবারা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষক সেলিনা আক্তার জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে সাপ্তাহিক টিফিন, গ্রীষ্মকালীন ফল, প্রতি মাসে সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশুরা যাতে অপরিণত বয়সে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সে জন্য তাদের নিয়মিত কিশোর অপরাধের কুফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দুই মাস পর পর কর্মশালার মাধ্যমে তাদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সর্বোপরি বসুন্ধরা গ্রুপের কল্যাণে বস্তির শিশুরা সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে।
সম্পর্কিত খবর

রমজান ও ঈদ ঘিরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা আয়োজন

শুধু সিয়াম সাধনাই নয়, রমজান মানবতার আলো ছড়ানোরও মাস। পবিত্র এই মাসে বসুন্ধরা শুভসংঘ নানা সহায়তা নিয়ে ছুটে গেছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে। ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তাদের মাঝে। রোজাদারদের জন্য ইফতারি ও সাহরি বিতরণ, দুস্থ পরিবারে খাদ্য সহায়তা, শিশুদের জন্য বিশেষ উপহার—সব মিলিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিটি উদ্যোগই ছিল মমতায় মোড়ানো।
নরসিংদীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘ঈদ মেহেদি উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে কোমলমতি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।
কুমিল্লার লালমাইয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
কুমিল্লায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় অসচ্ছল নারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
চাঁদপুরে মাদরাসার কোমলমতি শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুলাউড়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি শাখার আয়োজনে শ্রমজীবীদের মাঝে ইফতারি বিতরণ করা হয়েছে।

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি খুবই আনন্দিত। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এটি তাদের মহৎ একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করবে এই সেলাই মেশিন।

দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহতী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। এটি শুধু একটি অনুদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই সেলাই মেশিন।

পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন পিংকি রানী রায়। নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর বাবুপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের পিংকির স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।