শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

শেয়ার
শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগ আপ্লুত এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শোভা রায়। নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে সে। বাবার দিনমজুরির আয়ে ঠিকমতো সংসারই চলছিল না। অনেক কষ্ট করেও বাবা চালাতে পারছিলেন না শোভার কলেজে পড়ার খরচ।

অর্থাভাবে লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে গিয়েছিল। অন্ধকার নেমে এসেছিল স্বপ্ন দেখা শোভার জীবনে। তার সেই অন্ধকার স্বপ্নের জগত্টাকে আলোকিত করল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিনামূল্যে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাপড় কাটা ও সেলাই শিখেছে সে।
হাতে পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া বিনামূল্যের সেলাই মেশিন। সেই মেশিনে এখন শোভা দেখতে শুরু করেছে আশার আলো। শোভা বলে, বাড়ির ভিটা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নেই বাবার। তাঁর দিনমজুরির সামান্য আয়ই আমাদের একমাত্র ভরসা।
সেই আয়ে ঠিকমতো খাওয়া জোটে না পরিবারে। এর ওপর আমার লেখাপড়ার খরচ। অভাব-অনটনে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন কাপড় কাটতে ও সেলাই করতে পারি।
আজকে সেলাই মেশিন পেলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি এখন সেলাই কাজের আয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব, পাশাপাশি বাবাকেও সহযোগিতা করতে পারব। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারকে। আমার মতো অসহায় দরিদ্র নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছেন।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

রমজান ও ঈদ ঘিরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা আয়োজন

শেয়ার
রমজান ও ঈদ ঘিরে বসুন্ধরা শুভসংঘের নানা আয়োজন
বসুন্ধরা শুভসংঘ ও সৌল জাংশনের আয়োজনে রাজধানীর মিরপুরে শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শুধু সিয়াম সাধনাই নয়, রমজান মানবতার আলো ছড়ানোরও মাস। পবিত্র এই মাসে বসুন্ধরা শুভসংঘ নানা সহায়তা নিয়ে ছুটে গেছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে। ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তাদের মাঝে। রোজাদারদের জন্য ইফতারি ও সাহরি বিতরণ, দুস্থ পরিবারে খাদ্য সহায়তা, শিশুদের জন্য বিশেষ উপহারসব মিলিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিটি উদ্যোগই ছিল মমতায় মোড়ানো।

নতুন পোশাক পেয়ে পথশিশুরা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি অসহায় পরিবারের সদস্যরা ঈদ উপহারে খুঁজে পেয়েছে ভালো থাকার অনুপ্রেরণা। ঈদের দিনেও থেমে থাকেনি বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা কার্যক্রম। পথশিশু ও অসহায়দের জন্য আয়োজন করা হয় ঈদ আনন্দ উৎসবের, যেখানে নতুন জামা ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে ভালোবাসায় ভরে ওঠে চারপাশ। সমাজের প্রতিটি স্তরে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালিত পুরো মাসের কার্যক্রমের তথ্য ও ছবিসহ বিস্তারিত তুলে ধরেছেন শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব

https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

নরসিংদীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

রাজধানীর মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ঈদ মেহেদি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ঠাকুরগাঁওয়ে কোমলমতি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

কুমিল্লার লালমাইয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে  কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

কুমিল্লায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় অসচ্ছল নারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

চাঁদপুরে মাদরাসার কোমলমতি শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুলাউড়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।


https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2025/04.April/05-04-2025/2/kalerkantho-ss-1a.jpg

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি শাখার আয়োজনে শ্রমজীবীদের মাঝে ইফতারি বিতরণ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ

শেয়ার
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ
মনিরুজ্জামান মন্টু, কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখা

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি খুবই আনন্দিত। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এটি তাদের মহৎ একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করবে এই সেলাই মেশিন।

সুদূর ঢাকা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিদল আমাদের নীলফামারীর খোকসাবাড়ীতে এসে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ, যা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে আর্থিক সচ্ছলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আমরা দেখছি, বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসার সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের এই উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে তাদের দক্ষ করে মেশিন বিতরণের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বসুন্ধরা গ্রুপ, তা নিঃসন্দেহে গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে তারা আরো ব্যাপক পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে আরো বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে। দরিদ্র নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
তাদের এই মহান উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে এবং আরো বিস্তৃত হয়, সেই প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাদের আরো সমৃদ্ধ করুন। তাদের হৃদয়কে আরো উদার করুন এবং তাদের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে বেশি বেশি দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য

দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল

শেয়ার
দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল
উচ্ছ্বাস রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নীলফামারী জেলা প্রশাসন

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহতী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। এটি শুধু একটি অনুদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই সেলাই মেশিন।

প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে নিজেকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। সেলাই মেশিনের আয়ে দরিদ্র পরিবারের নারীদের সংসারে সচ্ছলতার চাকা সচল হবে। তাদের পরিবারের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি তাদের এই আয় দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগ হবে।
শক্ত হবে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি। সরকারিভাবে সারা দেশেই এমন নানা কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে অনেকে এগিয়ে আসছে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই কাজের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই নয়, নারীদের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মন্তব্য

পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

শেয়ার
পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন পিংকি রানী রায়। নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর বাবুপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের পিংকির স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।

নিজের সঙ্গে ছোট বোন ও ভাইকে প্রতিষ্ঠিত করবেন সমাজে। কিন্তু ২০২২ সালে মা চন্দনা রানী রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বিপদে পড়েছেন তিনি। এ সময়ে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করেও মৃত্যু ঠেকাতে পারেননি মায়ের। এখন তাঁর বাবা শংকর রায় অনেকটাই হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
পিংকি বলেন, ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। হঠাৎ মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ সময় সহায়-সম্বল যা ছিল বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা চালান আমার বাবা। তার পরও মাকে বাঁচানো যায়নি।
মায়ের অবর্তমানে ছোট বোন ও ভাইয়ের দায়িত্ব পড়ে আমার ঘাড়ে। পরিবারে চলছে চরম অর্থকষ্ট। এমন সমস্যায় আমারসহ ভাই-বোনদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। চোখের সামনে যখন আমার ঘোর অন্ধকার, তখনই আশার আলো দেখায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমাকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয় তারা।
আমি সেলাই শিখলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের বিনামূল্যের সেলাই মেশিন পেলাম। এখন আমার চিন্তা নেই। কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ পারি। এই মেশিনে সেলাইয়ের কাজ করে আমার স্বপ্ন পূরণ করব। পাশপাশি ভাই-বোনদের স্বপ্নও পূরণ করব। দিশাহারা বাবাকে পথের দিশা দেখাতে পারব। আমাকে এমন সহযোগিতা করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ