নিজের দেশ নয়, তবু ভারতকে হাতের তালুর মতো করে চেনা ক্রিকেটারের সংখ্যা আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেহাত কম নয়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের কথাই ধরুন। প্রতিবছর আইপিএলের দামামা বেজে উঠতে না উঠতেই এসব দেশ থেকে দলে দলে খেলোয়াড় এসে ভারতে ভিড় জমাতে থাকে। বছরের অন্তত দুটি মাস ভারতের এক শহর থেকে আরেক শহরে ক্রমাগত ছুটে চলার ভ্রমণ ঝক্কির সঙ্গেও অভ্যস্ত বলে ওদের জন্য এবারের বিশ্বকাপ নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে না।
দক্ষতাই নির্ধারণ করবে ভাগ্য
- নাজমুল আবেদীন ফাহিম

কারণ বাংলাদেশের দু-একজন ছাড়া কারো এসব উইকেটে খেলার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। সেই সঙ্গে ভ্রমণসহ আরো নানা ধকল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যুক্ত হতে থাকবে।
লিগ পর্যায়ে বাংলাদেশ তাদের ৯টি ম্যাচ খেলবে ভারতের ছয়টি ভেন্যুতে। আগেই বলেছি, এই আসরে সাকিব আল হাসানদের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জগুলো কোথায় কোথায়।
ধর্মশালার দ্রুতগতির উইকেটে খেলার পর আমরা হয়তো একটু স্বস্তি পাব চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে গিয়ে। ওখানকার উইকেট কিছুটা শুষ্ক এবং তুলনামূলক স্পিন সহায়ক। দিন যত গড়াবে, এই উইকেটে স্ট্রোকফুল ইনিংস খেলা ততই কঠিন হয়ে পড়বে। টস জিতলে চিদাম্বরমেও প্রথমে ব্যাটিং করাই বোধ হয় সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। প্রথম ম্যাচে আফগানদের হারানোর আত্মবিশ্বাস যদি চেন্নাইযাত্রায় সঙ্গী হয়, তাহলে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক এবং খানিকটা ধীরগতির উইকেটের সুবিধা আমরা কাজে লাগাতে পারব আশা করি।
ঝড়ের বেগে আট দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলার পর চার দিনের বিশ্রামের ফুরসত মিললেও আমাদের খুব সুস্থির হওয়ার উপায় নেই। কারণ এর পরই পুনের ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশকে খেলতে হবে মহাপ্রতিপক্ষ ভারতের সঙ্গে। ওদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের জন্য এটি আদর্শ উইকেট। এই মাঠে প্রচুর রানের ইতিহাস আছে এবং স্পিনারদের জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষার জায়গা। জিততে চাইলে এই ম্যাচে আমাদের ব্যাটারদেরই জ্বলে উঠতে হবে এবং একই সঙ্গে লড়তে হবে ভারতীয় সমর্থকদের বিপক্ষেও। লিগ পর্যায়ে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটিও এখানেই। ভারত ম্যাচের মতো বিশাল সমর্থন অস্ট্রেলিয়ার পাশে থাকবে না ঠিকই, তবে মাঠের ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য অপরিবর্তিতই থাকবে। আমি চাইব, এই দুই ম্যাচে আমাদের দল যেন জিতে আগে ব্যাটিং নেয় এবং বড় স্কোর করে দুই পরাশক্তির ওপর চাপ তৈরি করে। ব্যাটিং উইকেট যেহেতু, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাটিং করে বিশাল স্কোর দাঁড় করালে আমাদের জন্য চাপে রান তাড়া করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সেই তুলনায় মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলাটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ার কথা। এই মাঠে খেলতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। মাঠটি কিছুটা ছোট এবং ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। পাশাপাশি পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলারদের জন্যই উইকেটে সহায়তা আছে বলে জানি। অর্থাৎ ওখানে সবার জন্যই কিছু না কিছু আছে। কিছুটা সহায়ক কন্ডিশনের কারণে আমাদের সুযোগ আছে এই ম্যাচে ভালো কিছু করার। মুম্বাইয়ের পর আমাদের খেলা চিরপরিচিত ইডেন গার্ডেনসে। এখানে প্রথম ম্যাচটি আমরা খেলব কাগজে-কলমে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্বল দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং একই মাঠে পরের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। কিছুটা ধীরগতির উইকেট হলেও এটি ব্যাটিং সহায়ক এবং স্পিনাররাও সামান্য সহায়তা পেয়ে থাকে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম ইডেনের তুলনায় আকারে অনেক ছোট এবং আউটফিল্ড খুব দ্রুত। ব্যাটিংয়ের জন্য যেমন ভালো, তেমনি স্পিনাররাও সহায়তা পায়। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের খেলা এখানেই। দুই দলের জন্যই আদর্শ কন্ডিশন নিয়ে অপেক্ষায় থাকবে এই ভেন্যু।
ভেন্যু থেকে ভেন্যুতে ঘুরে খেলতে থাকা বিশ্বকাপে আমাদের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর। প্রথমটি হলো উইকেট—প্রতিপক্ষ বিবেচনায় রেখে সঠিক একাদশ সাজাতে পারছি কি না। পাশাপাশি উইকেটের বৈশিষ্ট্য বুঝে ব্যাটিং-বোলিংয়ে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারার দক্ষতাই নির্ধারণ করবে আমরা কতখানি সফল হব।
লেখক : ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক
সম্পর্কিত খবর

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ
- রাহেনুর ইসলাম

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গ্রুপ ম্যাচ, ১৯৭৫
এজবাস্টনে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান তুলেছিল ২৬৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগুনে বোলিংয়ের মুখে মাজিদ খান (৬০ রান), মুশতাক মোহাম্মদ (৫৫), ওয়াসিম রাজাদের (৫৮) দৃঢ়তায় জয়ের ভালো ভিতই পেয়েছিল পাকিস্তান। এরপর সরফরাজ নেওয়াজের চমৎকার বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের গলা চেপে ধরে পাকিস্তান। ৪৪ রানে ৪ উইকেট পাকিস্তানি এই পেসারের।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া
গ্রুপ ম্যাচ, ১৯৮৭
গ্রুপ ম্যাচ হলে কী হবে, বিশ্বকাপ এলেই চিপকের সেই ম্যাচটির কথা আসে ঘুরেফিরে। এমন টান টান উত্তেজনার ম্যাচ খুব কমই দেখেছে বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেছিল মাত্র ১ রানে। জিওফ মার্শের সেঞ্চুরিতে (১১০) প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া করে ২৭০ রান।
ভারত-ইংল্যান্ড
গ্রুপ ম্যাচ, ২০১১
রানের উৎসবই হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে। ভারতের ৩৩৮ রানের জবাবে ঠিক ৩৩৮ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। রুদ্ধশ্বাস এই ‘টাই’ ঠাঁই করে নিয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায়। শচীন টেন্ডুলকারের ১২০, গৌতম গম্ভীরের ৫১ আর যুবরাজ সিংয়ের ৫৮-তে ৪৬ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৩০৫। সেটা ৩৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু টিম ব্রেসনানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে (৪৮ রানে ৫ উইকেট) ১ বল বাকি থাকতে ৩৩৮ রানে থামে ভারত। জবাবে ৪৩তম ওভারে ২ উইকেটে ২৮০ করে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ৪৩তম ওভারে জহির খান অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (১৫৮) আর ইয়ান বেলের (৬৯) সঙ্গে ম্যাচে ফেরান ভারতকেও। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার পড়ে ২৯ আর শেষ ওভারে ১৪। গ্রায়েম সোয়ান ও আজমল শেহজাদ শেষ ওভারে মুনাফ প্যাটেলের প্রথম তিন বল থেকে নিয়েছিলেন ৯ রান। কিন্তু শেষ তিন বলে আর ৫ রান নেওয়া হয়নি। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। সোয়ান মিড অফে বল পাঠিয়ে ১ রান নেওয়ায় রুদ্ধশ্বাস ‘টাই’ হয় ম্যাচটি।
অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা
সেমিফাইনাল, ১৯৯৯
শুধু বিশ্বকাপ নয়, ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ এটা। বার্মিংহামে শন পোলক (৫ উইকেট) আর অ্যালান ডোনাল্ডের আগুনে পুড়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২১৩ রানে। ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২০০ পেরোয় স্টিভ ওয়াহর ৫৬ আর ‘দ্য ফিনিশার’ মাইকেল বেভানের ৬৫ রানে। জবাবে বিনা উইকেটে ৪৮ থেকে ‘চোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকা শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণিতে ৬১ রানে হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কঠিন হয়ে পড়ে ম্যাচটা। তবে ল্যান্স ক্লুজনারের ১৪ বলে ৩১ রানের ঝড়ে অনেকবার দিক বদলানো ম্যাচটি হাতের মুঠোয় এসে গিয়েছিল প্রোটিয়াদের। চার বলে দরকার মাত্র ১ রান, স্ট্রাইকে ক্লুজনার নিজে। অন্য প্রান্তে শেষ ব্যাটার অ্যালান ডোনাল্ড থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনালে ওঠা নিয়ে তখন আর কোনো সংশয়ের কারণ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ড। ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের চতুর্থ বলে হ্যাঁ-না-হ্যাঁ করতে করতে ওভার থ্রো থেকে একটি রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ডোনাল্ড। ডোনাল্ড ওপ্রান্তে যাওয়ার অনেক আগেই মিড অন থেকে মার্ক ওয়াহর থ্রো অ্যাডাম গিলক্রিস্টের হাত হয়ে ভেঙে দেয় উইকেট। ম্যাচটা ‘টাই’ হলেও আগের রাউন্ডে রান রেটে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া।
ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড
ফাইনাল, ২০১৯
ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ম্যাচ ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। হেনরি নিকোলসের ৫৫, টম ল্যাথামের ৪৭ আর কেন উইলিয়ামসনের ৩০ রানে নিউজিল্যান্ড থামে ২৪১ রানে। জবাবে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকেই ১১০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। বাটলার ৫৯ করে আউট হলেও মহাকাব্যিক ৮৭ রানের ইনিংসে ম্যাচ ‘টাই’ করেন স্টোকস। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। চতুর্থ বলে দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় স্টোকসের ব্যাটে বল লেগে পেরিয়ে যায় বাউন্ডারি, আম্পায়াররা দেন ৬ রান। কিন্তু ফিল্ডার থ্রো করার সময় ব্যাটাররা একে অন্যকে অতিক্রম না করলে এটা ৫ রান হতো। শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের দুজন রান আউট হলে ম্যাচ হয়ে যায় ‘টাই’। এরপর সুপার ওভারেও ‘টাই’ করে দুই দল! তবে বেশি বাউন্ডারির সুবাদে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পায় ইংল্যান্ড।

এবারই তাঁদের শেষ!
- বিশ্বকাপে কেউ আসে প্রথমবার খেলতে, আবার কেউ-বা শেষবার। এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁরা শেষবারের মতো এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাঁদের নিয়েই এই আয়োজন। লিখেছেন রানা শেখ।

সাকিব আল হাসান
অধিনায়ক, বাংলাদেশ
এর আগে চারটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ২০১১ সালের পর আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়ের বয়স এখন ৩৬ বছর। বয়সের তুলনায় এবারই তাঁর হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে দলীয় ব্যর্থতার মাঝেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পুরো আসরে মোট ৬০৬ রানের করার পাশাপাশি ১১টি উইকেটও তুলে নেওয়ার অনন্য ইতিহাস গড়েন তিনি।
মুশফিকুর রহিম
উইকেটরক্ষক, বাংলাদেশ
২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ। এর পরের তিন বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন মুশফিকুর রহিম।
মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ
অলরাউন্ডার, বাংলাদেশ
এবারের বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কি না, সেটা নিয়েই তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। অনেকেই তো ভেবেই নিয়েছিল ২০১৯-এ শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের বিমানে চড়েন এই অলরাউন্ডার। জায়গা করে নেন ১৫ সদস্যের দলে। ভারতেই যে শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন, সেটা অনুমেয়ই। কারণ বয়স তাঁর এখন ৩৭ বছর। পরের বিশ্বকাপে বয়স হবে ৪১ বা তার বেশি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান এই মাহমুদ উল্লাহ। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ঐতিহাসিক সেই সেঞ্চুরি। খেলেছিলেন ১০৩ রানের ইনিংস। এর পরের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম ভাবাচ্ছে। এ বছরের মার্চ মাস থেকে দলে ছিলেন না। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুই ইনিংস ব্যাট করে এক ম্যাচে করেছেন ৪৯ রান। তবে সেসব ছাপিয়ে শেষ বিশ্বকাপ ব্যাটে বলে রাঙাতে চাইবেন এক ক্রিকেটার।
রোহিত শর্মা
অধিনায়ক, ভারত
এ বছরের এপ্রিলে ৩৬-এ পা দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর অধিনায়কত্বেই এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। বয়সের ব্যাপারটি মুখ্য হলে এটাই হয়তো রোহিতের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। রোহিতও বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০১৫-এর পর খেলেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।
২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন রোহিত। প্রথম ক্রিকেটের হিসেবে একটি বিশ্বকাপে পাঁচটি শতরান করার রেকর্ড করেছিলেন তিনি। ৯ ইনিংসে রান করেছিলেন সর্বোচ্চ ৬৪৮। এর মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন পাঁচটি, হাফসেঞ্চুরি একটি। এবার ঘরের মাঠেও চার বছর আগের ফর্ম ফিরিয়ে আনতে চান রোহিত। শেষ বিশ্বকাপটা ব্যাটে ছন্দে থেকেই স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি।
কুইন্টন ডি কক
উইকেটরক্ষক, দক্ষিণ আফ্রিকা
বয়স তাঁর এখন ৩০ বছর। ভারত বিশ্বকাপের পর অনায়াসে পরবর্তী বিশ্বকাপও খেলতে পারতেন কুইন্টন ডি কক। কিন্তু সেটা না করে আচমকা ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এমনটা নয় যে বিশ্বকাপের দলে নির্বাচিত না হয়ে অভিমানে খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডি কক। বরং বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াডে নাম রয়েছে তাঁর। কুইন্টন বিশ্বকাপ খেলবেনও। তবে বিশ্বকাপের পরেই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দেশের জার্সি চিরতরে তুলে রাখবেন তিনি।
২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয় ডি ককের। এরপর খেলেছেন ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ। গত ১০ বছরে প্রোটিয়াদের হয়ে ১৪৫ ম্যাচে রান করেছেন ছয় হাজার ১৭৬। শতরানের ইনিংস খেলেছেন ১৭টি, আর অর্ধশতক আছে ৩০টি। বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ অবদান রাখতে পারেন তিনি। তাঁর ব্যাটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটে সেটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের। ডি ককও চাইবেন শেষটা দারুণভাবে রাঙিয়ে যেতে।
ডেভিড ওয়ার্নার
ডেভিড ওয়ার্নার
ব্যাটার, অস্ট্রেলিয়া
ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ভারতেই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। বয়সও সে কথাই বলছে। কারণ পরের বিশ্বকাপে তাঁর বয়স পেরিয়ে যাবে ৪০। আর ওয়ার্নার নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নিতে চান তিনি। তাই বলাই যায়, এটা হয়তো তাঁর শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
অস্ট্রেলিয়ার সব সময়ের সেরা ওপেনারদের একজন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ব্যাটে ঝড় তুলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিতে পারেন এই ব্যাটার। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও তাঁর ব্যাট হেসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪৭ রান করেন তিনি। তিন শতকের পাশাপাশি খেলেছিলেন তিনটি অর্ধশতকের ইনিংস। ভারতেও এবার তাঁর ব্যাটে রানের ফোয়ারা বইবে, এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের।
মোহাম্মদ নবি
অলরাউন্ডার, আফগানিস্তান
মোহাম্মদ নবির বয়স ৩৮ বছর পেরিয়ে ৩৯ ছুঁইছুঁই। এমন অবস্থায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডার। সেই সঙ্গে এটাই হয়তো তাঁর বিশ্ব আসরে শেষবারের মতো অংশ নেওয়া। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর থেকেই আফগানিস্তান দলের অন্যতম একজন হয়ে ওঠেন তিনি। ব্যাটে-বলে ছন্দে থেকে আফগানদের এগিয়ে নেওয়ার কাজটা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপেও আফগানদের অন্যতম একজন হয়ে আছেন তিনি। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও আলো ছড়াতে পারেন। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর ১৪৭ ম্যাচ খেলে রান করেছেন তিন হাজার ১৫৩। একটি শতকের সঙ্গে আছে ১৫টি অর্ধশত রানের ইনিংস। আর বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১৫৪টি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ বলেই ভারতে দারুণ কিছু করে দেখাতে চান নবি।

র্যাংকিং ১৪
নেদারল্যান্ডস

আয়তন : ৪১৮৬৫ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা : ১৭৯২১৮০০ জন
সেরা অর্জন : গ্রুপ পর্ব
দল সম্পর্কে
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সুপার সিক্সের শুরুর কয়েকটা ম্যাচ পর সেরা দুইয়ের লড়াইয়ে বেশ পিছিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের তীব্র সম্ভাবনার সামনে ডাচদের সেরা তালিকায় রাখা কিছুটা অসম্ভবই ছিল। কিন্তু সেই প্রায় অসম্ভব কাজটাই করে দেখিয়ে বাছাইয়ের দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে রায়ান কুকের দল। স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়েকে হারানোর পরও ডাচদের সামনে সমীকরণ ছিল বেশ কঠিন।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলে ডাচরা।
সেরা তারকা
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শেষ ম্যাচের আগেও স্বস্তিতে ছিল না নেদারল্যান্ডস। বিশ্বমঞ্চে খেলতে হলে সুপার সিক্স রাউন্ডের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হতো ডাচদের। জয়ের পাশাপাশি নেট রান রেটেও ছাপিয়ে যেতে হতো।
ডাচদের জার্সিতে ৩০টি ওয়ানডেতে দুটি অর্ধশত এবং একটি শতরানের ইনিংস খেলে রান করেছেন ৭৬৫। নামের পাশে আছে ২৪টি উইকেটও। তাই বিশ্বকাপে এই অলরাউন্ডার ডাচদের অন্যতম ভরসা। ব্যাটে-বলে যদি ছন্দে থাকেন তাহলে ভালো কিছু আশা করতেই পারে ডাচরা।
কোচ : রায়ান কুক
খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে কোচিং পেশা বেছে নেওয়ার গল্প খেলাধুলার ইতিহাসে কম নেই। রায়ান কুকও তেমনই একজন। দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যন্ত খেলে থেমে যায় কুকের ক্যারিয়ার। ধীরে ধীরে নিজেকে কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত করেন কুক। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কোচিং প্যানেলে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। একসময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায়ও ছিলেন। বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে না পারায় বিসিবির সঙ্গে কুকের দুই বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এখন অবশ্য নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুক। গত মে মাসে রায়ান ক্যাম্পবেলের অসুস্থতাজনিত কারণে আপৎকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। কুকের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে বিশ্বকাপেও জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন : প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। কতটা রোমাঞ্চিত?
ভ্যান বিক : আমার জন্য দারুণ ব্যাপার। নতুন গল্প লিখতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপে খেলার জন্য কত অপেক্ষা করেছি। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। যদিও এর আগে আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছি, কিন্তু ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে তো আলাদা রোমাঞ্চ থাকে। সেটার স্বাদ নিতে চাই।
প্রশ্ন : বাছাই পর্বে তো অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল আপনাদের সামনে...
ভ্যান বিক : হ্যাঁ, শুরুতে আমরা পিছিয়েই পড়েছিলাম, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। সবাই বিশ্বাস রেখেছিলাম। শেষ বল পর্যন্ত আমাদের লড়াই করতে হবে। এ কারণেই হয়তো সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
ভ্যান বিক : আমি সব সময় একটা ব্যাপার বিশ্বাস করি যে প্রত্যাশা উঁচুতে রাখতে হয়। আমাদের যে স্কোয়াড আছে তাতে আমার কাছে মনে হয়, অন্তত দুটি ম্যাচ জেতা উচিত আমাদের।
শক্তি
এবারের দলে আছে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেল। টপ অর্ডারের সঙ্গে মিডেল অর্ডার তাদের শক্তির বড় জায়গা। ম্যাক্স ও’ডাউডের সঙ্গে বাস ডি লিড ব্যাট হাতে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। বল হাতেও দারুণ কার্যকর হতে পারেন ডি লিড। ব্যাটিংই মূলত ডাচদের আশা ভরসার নাম।
দুর্বলতা
এশিয়ার মাটিতে খুব একটা খেলার সুযোগ হয় না ডাচদের। এ ছাড়া দলে নেই মানসম্মত স্পিন বোলার। ভারতের মাটিতে তাই বল হাতে ভুগতে হতে পারে নেদারল্যান্ডসকে। যে কারণে বিশ্বকাপের আগে বেঙ্গালুরুতে আগেভাগেই কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে ডাচরা।
প্রত্যাশা
চার আসরে খেলে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের জয় মোটে দুটিতে। এবার যেহেতু সব দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে। ইউরোপের দলটি চাইবে ভারত থেকে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে।

র্যাংকিং ৯
আফগানিস্তান

আয়তন : ৬৫২৮৬৭ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা : ৩৮৩৪৬৭২০ জন
সেরা অর্জন : গ্রুপ পর্ব
দল সম্পর্কে
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। আগের দুই আসরে একটি মাত্র ম্যাচই শুধু তারা জিতেছে, সেটি ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। গত আসরে ৯ ম্যাচের সব কটি হেরেছে। তবে সে আসরে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপহার দিয়েছে দলটি।
তা ছাড়া গতবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের অনভ্যস্ত কন্ডিশনে ছিল খেলা। এবার ভারতীয় উইকেটে আফগানরা স্মরণীয় একটা বিশ্বকাপই উপহার দিতে চাইবে তাদের দেশের মানুষকে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে তারা। বিশ্বকাপে কোনো দলই তাই আফগানদের হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করবে না।
সেরা তারকা
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস এবারের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের তালিকায় রেখেছেন রশিদ খানকে। বিরাট কোহলি, এনরিক নরকিয়া, জস বাটলার ও বাবর আজমের পাশে রেখেছেন তিনি আফগান অলরাউন্ডারকে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে রশিদ খানের কার্যকারিতাই তাঁকে এগিয়ে রাখছে আরো অনেকের চেয়ে।
সেই ২০১৮ সালে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে আইসিসির ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা রশিদ খান এত বছরেও বেশ ধারাবাহিক। এই মুহূর্তে ওয়ানডে বোলিং র্যাংকিংয়ের পাশাপাশি শীর্ষ ১০ অলরাউন্ডারের তালিকায়ও জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে অবশ্য এখনো ৬ উইকেট তাঁর, রান ১০৫। ভারতে এবারের আসরে নিশ্চিতভাবেই এই পরিসংখ্যানটাকে আরো উজ্জ্বল চেহারা দিতে চাইবেন তিনি।
কোচ : জোনাথন ট্রট
গত বছরের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন জোনাথন ট্রট। ইংল্যান্ডের সাবেক মিডল অর্ডার এই ব্যাটার খেলা ছাড়ার পর ইংলিশদের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। আফগানদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলটিকে শীর্ষ সারিতে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। তাঁর অধীনে আয়ারল্যান্ডে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-৩-এ হেরেছিল আফগানিস্তান। তবে সে বছর টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সুপার ফোরে খেলে দলটি। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটাও তারা ড্র করে। এ বছরের শুরুতে আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর বাংলাদেশে এসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিয়েছে আফগানরা। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠতে না পারাটা রশিদ খানদের দুর্ভাগ্যই অনেকটা।
সাক্ষাত্কার
প্রশ্ন : বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের চাওয়া কী?
হাশমতউল্লাহ শহীদি : এই বিশ্বকাপে শুধু আমরা অংশগ্রহণ করতে যেতে চাই না। আমরা একটা ছাপ রাখতে চাই। আমাদের একটা সোনালি প্রজন্ম এই বিশ্বকাপে হয়তো শেষবার খেলবে। সুতরাং আমরা চাই তাদের ভালোভাবে বিদায় দিতে।
প্রশ্ন : দলটা কতটা তৈরি?
শহীদি : আমি মনে করি এই বিশ্বকাপের জন্য আমাদের দলটা যথেষ্টই অভিজ্ঞ। আমরা এর আগে যখন খেলেছি, তখন অংশ নেওয়াটাই বড় ব্যাপার ছিল। এবার তা নয়। এবার আমরা কিছু করতে চাই। এক দিনের ক্রিকেটে আফগানিস্তান যে একটা ভালো দলে পরিণত হয়েছে, সেটা বোঝানোর জন্য এই বিশ্বকাপই আদর্শ মঞ্চ।
প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টির বৃত্ত ভাঙার কথা বলছেন?
শহীদি : হ্যাঁ, মানুষ এখনো মনে করে আমরা শুধু টি-টোয়েন্টির দল। এই বিশ্বকাপটা তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শক্তি
টপ অর্ডার ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিং আফগানিস্তানের মূল শক্তির জায়গা। টপ অর্ডারে রহমানুল্লাহ গুরবাজ যেকোনো দলের জন্যই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। দুই স্পিনার রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান তেমনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক। আইসিসি ওয়ানডে বোলিং র্যাংকিংয়ে মুজিব চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে আছেন রশিদ খান।
দুর্বলতা
এ বছর খুব বেশি ওয়ানডে খেলেনি আফগানিস্তান। আর যা-ও খেলেছে তার সবই এশিয়ার দলগুলোর বিপক্ষে। এশিয়ার বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা নিশ্চিতভাবেই ভোগাবে তাদের এ বিশ্বকাপে।
প্রত্যাশা
বিশ্বকাপে সবার বিপক্ষেই খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। লম্বা এই আসরে সুযোগ থাকবে ক্রমে নিজেদের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। তার পরও দুটির বেশি ম্যাচ জিততে পারাই তাদের জন্য হবে সাফল্য।