গরমের দিনে রোদে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ যদি তোমার হাতে একটা ঠাণ্ডা আইসক্রিম এসে যায়, কেমন লাগবে? আহা! দারুণ, তাই না? হিমায়িত মিষ্টিজাতীয় খাদ্য আইসক্রিম। সাধারণত এটি দুধ, ক্রিম, চিনি এবং বিভিন্ন ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি করা হয়। আইসক্রিমের ইতিহাস অনেক পুরনো। এর উৎপত্তি নিয়ে নানা মত প্রচলিত।
ধারণা করা হয়, চীনে প্রথম আইসক্রিম তৈরি হয়েছিল। তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময় রাজকন্যারা বরফের বিশেষ একটি খাবার উপভোগ করতেন, যা দুধ, ময়দা ও কর্পূর দিয়ে প্রস্তুত করা হতো। এরও আগে প্রায় ২০০ খ্রিস্টপূর্বে, দুধ ও চাল বরফের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল।
পারস্যবাসী বরফ সংরক্ষণ করে ফল, গোলাপজল এবং অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ‘ফালোডেহ’ নামে এক ধরনের হিমায়িত মিষ্টান্ন তৈরি করত, যা আজও ইরানে জনপ্রিয়।
বিখ্যাত অভিযাত্রী মার্কো পোলো চীন থেকে হিমায়িত মিষ্টির ধারণা ইতালিতে নিয়ে আসেন, যা ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়।
তবে যেকোনো হিমায়িত মিষ্টি স্বাদযুক্ত খাবারকেই আইসক্রিম বলা যাবে না। অন্তত ১০ শতাংশ দুগ্ধজাত চর্বি বা মিল্কফ্যাট থাকলেই শুধু তাকে আইসক্রিম বলা যাবে। ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি ফ্লেভারের আইসক্রিম সবচেয়ে জনপ্রিয়।
এর বাইরে পৃথিবীতে এমন কিছু আইসক্রিম আছে, যেগুলোর নাম শুনলেই চমকে উঠবে। যেমন—রসুন আইসক্রিম। ক্যালিফোর্নিয়ার গিলরয় নামের একটি শহরে এই আইসক্রিম জনপ্রিয়। এতে মিষ্টির সঙ্গে কাঁচা রসুনের ঝাঁঝালো স্বাদ পাওয়া যায়। ভারতের কিছু জায়গায় কাঁচা মরিচ আইসক্রিমের দেখা মেলে।
যারা ঝাল পছন্দ করে তাদের জন্য এই আইসক্রিমই সেরা। এ ছাড়া ফ্রান্সের ব্লু চিজ আইসক্রিম, জাপানের অক্টোপাস আইসক্রিম ও স্কুইড ইংক আইসক্রিম এবং মেক্সিকোর ক্যাকটাস আইসক্রিম উল্লেখযোগ্য।
১৬৮৬ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে প্রথম আইসক্রিমের দোকান চালু হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসক্রিম স্কুপ তৈরি হয়েছিল ২০১৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যার ওজন ছিল প্রায় এক হাজার ৩৬৫ কেজি! বিশ্বের সবচেয়ে দামি আইসক্রিমের নাম ‘বিয়াকুয়া’, যা জাপানে তৈরি হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, এই আইসক্রিমের প্রতি স্কুপের দাম প্রায় ৮৮০,০০০ ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত লাখ টাকা!