কহিনুর বেগম। ষাটোর্ধ বয়স তাঁর। নিঃসন্তান তার উপরে বিধবা। ভিক্ষে করেই কোনমতে চলে তাঁর জীবন।
ভিক্ষার চাল বিক্রি করে 'প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা' পেতে ঘুষ!
বরগুনা প্রতিনিধি

মঙ্গলবার বিকালে কহিনুর বেগমের বাড়ি উরবুনিয়া গ্রামে গিয়ে তাঁর ঘরের অবস্থা দেখে বোঝা গেছে দরিদ্র সীমার কতটা নীচে তিনি বসবাস করেন। ভাঙ্গা-চোরা টিনের জোড়াতালির কোনরকম একটি খুপরিতে একাই থাকেন হতদরিদ্র অসহায় বৃদ্ধা কহিনুর বেগম।
সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী আরও একাধিক দরিদ্র অসহায় মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু কহিনুর বেগম নয় একই এলাকার আরও অনেক অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য শামীমগাজী ও তার পিতা আ. কাদের গাজী। একই গ্রামের ড্রেজার শ্রমিক আ. সালাম, দিনমজুর বশির আকন, হেলালমিয়া, এবং সেলিনাসহ একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে তারাও একই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাবুগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিৎ সরকার বলেন, এ বিষয়ে তাকে কেউ কিছু জানায়নি।
তবে এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, হতদরিদ্র কহিনুর বেগমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তাছাড়া গত সোমবার তাঁর কাছে একই এলাকার আব্দুল সালাম নামের একজন ভুক্তভোগী ওই ইউপি সদস্য মো. শামীম গাজী এবং তার পিতা আ. কাদের গাজীর বিরুদ্ধে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে তিনি আরও অনেকের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের কাছ থেকেও ওই ইউপি সদস্য ও তার পিতা আ. কাদের গাজী ৫০০ করে টাকা তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান।

দীঘিনালায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বোয়ালখালি নতুন বাজারে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নুর ইসলাম (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত নুর ইসলাম বোয়ালখালি (সদর) ইউনিয়নের বোয়ালখালি গ্রামের মো. শানু মিয়ার ছেলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দীঘিনালা থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সাধন ঘোষ।
দীঘিনালা থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, ‘২৫ মার্চ গভীর রাতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বোয়ালখালি নতুন বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২০টি দোকান পুড়ে যায়। অন্তত ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তিনি আগুন দিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

ঈদ পরবর্তী আড্ডায় আমন্ত্রণ না পেয়ে হট্টগোল, যুবদল নেতা শোকজ
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর

ঈদ পরবর্তী আড্ডায় আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে জমায়েত বানচাল চেষ্টার অভিযোগে কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে গাজীপুর জেলা যুব দল।
আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসির আকরাম পলাশ স্বাক্ষরিত নোটিশে এই শোকজ করা হয়। গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের পরদিন মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কালিগঞ্জ উপজেলার জাঙালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে ঈদ পরবর্তী আড্ডায় বসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় বিএনপি বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিতে গণমাধ্যমের খবর সঠিক নয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর একদিন পর আজ শুক্রবার দেলায়ার হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করা হলো।

বগুড়ায় জামিনে মুক্তি পাওয়া আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা
নন্দীগ্রাম(বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামিনে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা মামুনুর রশিদ (৪২) নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
মামুনুর রশিদের ভাতিজা হাদিসুর রহমান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নন্দীগ্রাম পৌর শহরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মামুনুর রশিদ। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত তার পথ রোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মামুনুর রশিদকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন দিগন্তময় সরকার জানান, মামুনুর রশিদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, মামুনুর রশিদের নামে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা ছিল।

ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
বরগুনা প্রতিনিধি

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বরগুনা থেকে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামগামী বাসগুলোর টিকিটে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করেই বাস মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন, অথচ দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বরগুনা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ৭৩৭ টাকা, বরগুনা থেকে গাবতলী পর্যন্ত (ভায়া পাটুরিয়া ফেরী পারাপার) ৮৯৭ টাকা।
বরগুনা বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরছেন টিকিটের আশায়।
বাস পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঈদের পর যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন ৬০ থেকে ৬৫টি বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যাচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এ পথে ৪০টি বাস চলাচল করে।
ঢাকায় কর্মরত পোশাকশ্রমিক তানজিলা বলেন, ‘ছয় দিনের ছুটি পেয়ে বাড়ি এসেছিলাম। গার্মেন্টস খোলার কারণে এখন ফিরছি। গ্রিন ভিউতে ৯০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ছিল ৬০০ টাকা।
গাজীপুরে কর্মরত আরেক পোশাক শ্রমিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে ৯০০ টাকায় টিকিট কেটে বাড়ি এসেছি, আর এখন ১১০০ টাকা দিয়ে ফেরার টিকিট কিনতে হয়েছে। এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায়।’
বরগুনা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের বিশেষ সার্ভিসের জন্য বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। তাই ৯০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আগে যাত্রীসংকটের কারণে ভাড়া কম নেওয়া হত।’
শ্রাবনী পরিবহনের স্থানীয় টিকিট কাউন্টারের ইনচার্জ লিটন বলেন, ‘কম্পানি ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, তাই বাড়তি টাকায় টিকিট বিক্রি করছি। এটা শুধু ঈদ উপলক্ষে।’
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেওয়ার একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তবে বিষয়টি আমি এখনো কারো সঙ্গে কথা বলে জানতে পারিনি। তবে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করাটা ঠিক হবে না। এই সিদ্ধান্তটা আসে মালিক সমিতির কাছ থেকে।’
বরগুনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ফারুক শিকদার বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের করার জন্য বলা হয়েছে। যদি কেউ বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকে সে বিষয়টা আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’