ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

পাহাড়ে অস্ত্র আসছে বাইরে থেকে

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি
আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি
শেয়ার
পাহাড়ে অস্ত্র আসছে বাইরে থেকে

পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তে কিছু দুর্গম এলাকা রয়েছে। এসব সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয় তা সীমান্তের ওই দুর্গম এলাকা দিয়ে বাইরে থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সর্বশেষ রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সরকারি অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙে ইউপিডিএফ গঠনের পর এ পর্যন্ত চারটি পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত হন। এঁদের বেশির ভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ মে একইভাবে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে হত্যা করা হয়। একই দিন শক্তিমানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ কয়েকজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়।

গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান সদরের রাজভিলা ইউনিয়নের জামছড়ি বাজারে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি বাচানু মারমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর গত বছর ১ এপ্রিল কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিত্মরম ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের ভাইস চেয়ারম্যান উসুইপ্রু মারমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। জেএসএস (সন্তু) দলের সন্ত্রাসীরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ বিজয় চাকমাকে হত্যার ঘটনায়ও একই দলের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় অনেকের ধারণা, প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আধিপত্য বিস্তার করা। একই সঙ্গে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাতে এরা ভারী অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনও বলছে, ‘ওরা’ এখন ‘সেকেন্ড ফেজ ইনসারজেন্সি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করছে। সীমান্তের ওপারে গড়ে তুলেছে ১৪টি ক্যাম্প। গত এক বছরে মূল জেএসএস এবং ইউপিডিএফের সশস্ত্র রাজনৈতিক শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৮০ জন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশের কয়েকটি দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এই পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কাছ থেকে সম্প্রতি যেসব অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তাতে তাদের ভারী অস্ত্র সংগ্রহের প্রমাণ মিলছে। গত বছর ২৮ নভেম্বর সকালে বাঘাইহাটে একটি আঞ্চলিক দলের গোপন আস্তানা থেকে সেনাবাহিনী দুটি একে-৪৭ ও একটি এসএমসি উদ্ধার করে। এর আগে এলএমজি, ৭.৬২ মিলিমিটার রাইফেল, এম-১৭ রাইফেল, জি-৩ রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, মর্টার, হ্যান্ড গ্রেনেড ও রকেট লঞ্চার উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) গ্রুপের তথ্য ও প্রচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুপিটার চাকমা অভিযোগ করেছেন, সন্তু লারমার পক্ষ ত্যাগের পর এ পর্যন্ত জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের কমপক্ষে ৮৩ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্তু লারমা গ্রুপের হামলায় ৫৮ জন ও ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের হামলায় ২৫ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়।

এদিকে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা জানান, ২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত তাঁদের সংগঠনের ৩১৫ জন এবং এরপর ২০২০ সাল পর্যন্ত আরো ৩৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন।

এর বাইরে পার্বত্য এলাকার সর্বশেষ আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) শীর্ষ নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ কয়েকজনকে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। দলটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকালে এবং প্রতিষ্ঠার পর অন্তত ১৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির বর্তমান সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে জলায়া।

কথা বলার মতো কাউকে না পাওয়ায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির কতজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই সংগঠনেরও অন্তত ৫০০ নেতাকর্মী প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন।

চাঁদার টাকায় অস্ত্র আসছে : আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে তিনটি সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, নজরদারির বাইরে থাকা সীমান্ত ভেদ করেই মূলত অবৈধ অস্ত্র আসছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া জানান, ভারত ও মিয়ানমারের ১৭৮ কিলোমিটার সীমানায় যেখানে নজরদারি কিছুটা শিথিল, সম্ভবত সেখান দিয়েই অস্ত্র আসছে। পার্বত্য এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে সেই টাকায় তারা অস্ত্র কিনছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মূলত চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন তাঁদের লোকজন। এর শিকার হচ্ছেন সাধারণ পাহাড়ি বাঙালিরাও।’ তিনি অবিলম্বে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্বারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান।

জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের তথ্য ও প্রচার বিভাগের যুপিটার চাকমা বলেন, ‘যাদের অবৈধ টাকা আছে তারাই অস্ত্র কারবারিদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে। তবে কিভাবে অস্ত্র ঢুকছে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু জানি না।’

অবশ্য ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা জলায়া বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তের পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিশাল এলাকা অতি দুর্গম হওয়ায় সেখানে ঠিকভাবে নজরদারি করা যায় না।  ফলে টাকা থাকলে অস্ত্র আনা যায়। প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি চাঁদা তুলে সেই টাকায় অস্ত্র কিনে আনছে। সেই অস্ত্র দিয়ে খুনাখুনি চালাচ্ছে।’

প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, ‘কোথা থেকে অস্ত্র আসছে, তা বলা মুশকিল। পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই পাহাড়ে হানাহানি চলছে।’

অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবির দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য

গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২০

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২০
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সোনাকুড়ে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও একই সড়কের সোনাশুরে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সোনাকুড়ে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে বাসের ১৫ যাত্রী আহত হয়।

এদিকে, একই সড়কের সুনাশুর নামক স্থানে সকাল ১০টার দিকে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে দুটি গাড়িই রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গিয়ে ৫ জন আহত হয়। উভয় ঘটনায় আহত ১০ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

মন্তব্য

কাপাসিয়ায় মুসল্লিদের বাধায় ‘আপন দুলাল’ নাটকের মঞ্চায়ন বাতিল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
শেয়ার
কাপাসিয়ায় মুসল্লিদের বাধায় ‘আপন দুলাল’ নাটকের মঞ্চায়ন বাতিল

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মুসল্লিদের বাধায় আপন দুলাল নাটকের মঞ্চায়ন বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ উদয়ন সংঘ মাঠে নাটকটি মঞ্চায়িত হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত ৫২ বছর ধরে ওই মাঠে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজনে নাটক, গীতিনাট্য, পালা গানের মঞ্চায়ন হয়। এটি ছিল ৫২তম আসর।

মাসখানেক ধরে ‘আপন দুলাল’ নাটক মঞ্চায়নের জন্য রিহার্সাল করা হয়েছিল।  

নাটক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাট্যকর্মী খন্দকার শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বুধবার রাতে তাঁরা বাজারে বসেছিলেন। এ সময় সেখানে রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম মো. আজিজুল হক তুষার, মসজিদের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন মুসল্লি এসে তাদেরকে নাটক মঞ্চায়ন করতে নিষেধ করেন। চিরদিনের জন্য এখানে নাটক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে নাটকের জন্য তৈরি মঞ্চ ও প্যান্ডেল খুলে নিয়ে যায় ডেকোরেটরের লোকজন। 

শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, ‘আপন দুলাল’ একটি গীতিনাট্য। এতে কোনো নারী চরিত্র নেই। নাটকে কোনো নারীর অভিনয় নেই।

এটি একটি পরিশীলিত নাটক। তবুও নাটকটি মঞ্চে গড়াতে দেয়নি তারা। আমাদের এতদিনের প্রস্তুতি-শ্রম সব বিফলে গেল। 

এ প্রসঙ্গে রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম মো. আজিজুল হক তুষার বলেন, ‘সমাজে একটি খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নাটক আয়োজক কমিটিকে সেটি অনুষ্ঠিত না করার জন্য অনুরোধ করে। তারাও সমাজের ভালোর জন্য শেষ পর্যন্ত সেই নাটক অনুষ্ঠান করেননি।

এখানে এককভাবে কেউ নিষেধ করেনি। স্থানীয় মুসল্লি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজকদের অনুরোধ করেছেন।’

রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সমাজের মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নাটক বন্ধ করে দিয়েছি। শুধু রানীগঞ্জ নয়, পুরো দুর্গাপুর ইউনিয়নে আর কখনো কোনো নাটক অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব করলে সমাজে খারাপ প্রভাব পড়ে।’

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, ‘নাটক আয়োজক কিংবা বাধা প্রদানকারী কোনো পক্ষই থানায় এ প্রসঙ্গে কিছু জানায়নি। আমার এ বিষয়ে জানা নেই।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

কালকিনিতে দুর্বৃত্তের কোপে মাছচাষির হাত বিচ্ছিন্ন

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
শেয়ার
কালকিনিতে দুর্বৃত্তের কোপে মাছচাষির হাত বিচ্ছিন্ন
ইউনুস সরদার। ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনিতে এক মাছচাষি ইউনুস সরদারকে (৪৫) কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে তারা। স্ত্রী শঙ্কামুক্ত হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনুসকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইউনুস কালকিনি উপজেলার সিডিখান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিমচর গ্রামের মফেজ সরদারের ছেলে।

আরো পড়ুন
৯ বছরেও চালু হয়নি দেড় কোটির কোয়ারেন্টাইন স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

৯ বছরেও চালু হয়নি দেড় কোটির কোয়ারেন্টাইন স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

 

পুলিশ, আহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, আজ শুক্রবার ভোররাতে একদল দুর্বৃত্ত মাছচাষি ইউনুস সরদারের বসতঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ইউনুসকে কুপিয়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বাধা দিলে মাছচাষির স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে।

তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ইউনুসকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশের বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

কালকিনির সিডিখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আহত ইউনুসের চাচা সহিদ সরদার বলেন, ‘ইউনুস আমার বংশের ছেলে।

তার বাড়ি আমার বাড়ির কাছাকাছি। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। রাতের বেলার ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি এখনো পরিষ্কার বলা যাচ্ছে না।’

আরো পড়ুন
যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

 

কালকিনি থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘কে বা কারা এই হামলা চালিয়ে এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

আহতের চিকিৎসা হাসপাতালে চলছে। এলাকার আধিপত্য নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা তা তদন্তের পরে বলা যাবে।’

মন্তব্য

৯ বছরেও চালু হয়নি দেড় কোটির কোয়ারেন্টাইন স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
শেয়ার
৯ বছরেও চালু হয়নি দেড় কোটির কোয়ারেন্টাইন স্টেশন, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা চেকপোস্টে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালে। তবে ভবন হস্তান্তরের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও তা চালু করা হয়নি। পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি। 

দামুড়হুদা প্রণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে বিদেশ থেকে আসা পশুপাখি ও প্রাণিজখাদ্যের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ২০১৪ সালে দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় ৫ শতাংশ জমির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন গড়ে তোলা হয়।

২০১৬ সালে  তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা কহিনুর ইসলাম ও দামুড়হুদা উপজেলা প্রণিসম্পদ অফিসার মশিউর রহমানের কাছে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় ৬ জন জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের একজন অফিস সহকারী, একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান, একজন অফিস সহায়ক ও একজন নিরাপত্তা প্রহরী। এদের মধ্যে একজন দর্শনা প্রণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যালয়ে ও দুই জন দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ অফিসে কর্মরত আছেন।
স্টেশনটি চালু না থাকায় শুধুমাত্র নৈশ প্রহরী থাকেন স্টেশনটিতে। 

দর্শনা পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে বার্ডফ্লু আক্রান্ত হয়ে ব্যাপকহারে পাখি মারা যাচ্ছে। এমন ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন স্টেশন থেকে অনেক সহায়তা পাওয়া যায়। দর্শনার জয়নগর চেকপোস্টে স্টেশনটি চালু হলে ভারত থেকে আসা পশুখাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এতে আমরা কিছুটা নিরাপদ বোধ করতাম। 

প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের সহকারী পরিচালক নিলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, ২০৪১ সালে দেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে, এমন কথা চিন্তা করে সরকার চেকপোস্টে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ করে। দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে গবাদিপশু না আসলেও প্রাণীজ খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটির প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারীর পর থেকে চেকপোস্টটি জৌলুস হারিয়েছে। আগের মতো সরগরম আর নেই।

কোয়ারেন্টাইন স্টেশনে প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি রয়েছে কিন্তু তা ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লোকবল চাওয়া হবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ