কথায় আছে-লাগে টাকা দেবে গৌরি সেন। অনেকটা সেভাবেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট বাল্লা স্থলবন্দর। কিন্তু বন্দরটি কাজে আসছে না। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকায় এটি এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
আ. লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী-আমলার তদবিরের বাল্লা স্থলবন্দরের ভবিষৎ অনিশ্চিত
জাহাঙ্গীর আলম, চুনারুঘাট


স্থানীয়রা জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোট গ্রামে স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়। এ সময় স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য প্রায় ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
সরেজমিন বাল্লা স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলা সদর থেকে বাল্লা স্থলবন্দরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। দেখা গেছে, উপজেলা শহর থেকে বাল্লা স্থলবন্দরে যাওয়ার মতো রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়নি। চুনারুঘাট থেকে আসামপাড়া বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্তা থাকলেও আসামপাড়া থেকে বাল্লা স্থলবন্দর পর্যন্ত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা। বন্দরকে ঘিরে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি।
এদিকে, বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণের আগে এ স্থানে শতাধিক পরিবার বসবাস করতেন। স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হলে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ অনেকেই ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা পাননি। সরকার ঘোষিত টাকা না পেয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এখনো ১৬টি পরিবার স্থলবন্দরের সীমানার ভেতরে বসবাস করছেন। বন্দরের ভেতরে গরু-বাছুর চড়াতে দেখা গেছে। বিকেলে শত শত মানুষ আসেন বন্দর ঘুরে দেখতে। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে। বন্দর পাহারা দিতে দেখা গেছে মাত্র এক জন আনসার সদস্যকে। বাংলাদেশের অংশে বন্দর নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলেও ভারতের পাহাড়মুড়া অংশে বন্দর নির্মাণের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। এমনকি কোনো রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি। ভারতের অংশ ঝোপঝাড়ে ভরে আছে।
১১০ বছর বয়সী টেকেরঘাট গ্রামের মুল্লা বাড়রির জমশের আলী জানান, তার শেষ সম্বল প্রায় আড়াই একর জমি বাল্লা স্থলবন্দরের ভেতরে পড়ে ছিল। সরকার তাকে অন্যত্র পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু তিনি এক টাকাও পাননি।
আক্ষেপ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দরও হলো না, আমার জমিও গেল—আমি এখন রাস্তার ভিখারি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত নিজের এলাকার মানুষকে খুশি করতে এবং নিজের পকেট ভারি করতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, এমপি ও প্রভাবশালী আমলা হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক মধাব রায়ের তদবিরে বাল্লা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতের অংশে পাহাড়মুড়া এলাকায় কোনো শুল্ক স্টেশন না থাকায় এটি কেবল নামেই স্থলবন্দর।
অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী জেলহাজতে থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অশোক মধাব রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১২ সালে দুই দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ স্থলবন্দরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমি নৌ সচিব থাকাবস্থায় কিছু কাজ করেছি। ২০১৬ সালে অবসর নেওয়ার পর মূল উন্নয়ন কাজ হয়েছে।’
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। ভারতের অংশে কোনো কাজ হয়নি। ভারত যদি স্থলবন্দর নিয়ে কোনো আগ্রহ না দেখায় তাহলে বাল্লা স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। যোগদান করেই বাল্লা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছি। আমাদের স্থলবন্দরের অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। ভারত অংশে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভারত বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। ভারত যদি তাদের স্থলবন্দরের কার্যক্রম না করে তাহলে বাল্লা স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করছি।’
সম্পর্কিত খবর

কুমিল্লার হোমনায় আন্ত জেলা ডাকাত সর্দার খুন
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার হোমনায় আন্ত জেলা ডাকাতদলের সর্দার ও অর্ধশত মামলার আসামি পাণ্ডু মিয়া খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হোমনা পৌরসভার বাগমারা গ্রামে তিনি খুন হন। আজ শুক্রবার দুপুরে ডাকাত সর্দার পাণ্ডুর লাশ উদ্ধার করে হোমনা থানা পুলিশ।
নিহত ফারুক হোসেন ওরুফে পাণ্ডু মিয়া পৌরসভার বাগমারা গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি ডাকাত সর্দার তিন বছর পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এলাকায় আসেন। পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা, রাতের কোনো একসময় ডাকাতদলের লোকজনের হাতেই তিনি খুন হন।
স্থানীয় কবি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পাণ্ডু মিয়া ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে হোমনা থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় অর্ধশত ডাকাতি ও লুটপাটের মামলা রয়েছে।
হোমনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজেদুল আলম বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ৩/৪ বছর ধরে পলাতক রয়েছে। তবে ডাকাতির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তার দলের লোকজনের হাতে খুন হতে পারেন তিনি। নিহত ডাকাত পান্ডু মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চলে গেল প্রেমা, বেঁচে রইল না পরিবারের কেউ
- নিহত বেড়ে ১১
অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার চার দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম ও লুৎফুন নাহার সুমি দম্পতি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানা (৮) এবং শামীমের ভাগ্নি তানিফা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় শামীম-সুমি দম্পতির বড় মেয়ে তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা (১৮)।
জানা যায়, ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল শিশু আরাধ্য বিশ্বাস (৬) ও তার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)।
অন্যিদকে একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিশু আরাধ্য বিশ্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভূরুঙ্গামারীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আটক
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সালেকুর রহমান (৩৪)-কে আটক করেছে থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সাড়ে ১২টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
সালেকুল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আল হেলাল মাহমুদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় সালেকুরকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

কাশিয়ানীতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদ উপলক্ষে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া বাগিয়া গ্রামে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া বাগিয়া ফুটবল মাঠে মো. ইদ্রিস শেখের উদ্যোগে এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে নড়াইল, মাদারীপুর, ফরিদপুর, যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে ২৫টি ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিরা অংশ নেয়।
ঘোড়দৌড়ে নড়াইলের রবিউল মোল্যার ঘোড়া প্রথম, একই জেলার রাব্বি মোল্যার ঘোড়া দ্বিতীয়, শিমুল শেখের ঘোড়া তৃতীয় ও আরজু মোল্যার ঘোড়া চতুর্থ হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থপুরস্কার তুলে দেন আয়োজকরা।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করা ঘোড়ার মালিক নড়াইলের রবিউল মোল্যা (৪৫) বলেন, নিজের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে খুব ভালো লেগেছে।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতার আয়োজক মো. ইদ্রিস শেখ বলেন, আধুনিকতার ছোয়ায় আমাদের দেশ থেকে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এসব খেলাগুলো ধরে রাখা উচিত।