তিনি মন্ত্রী-এমপি নন, নন কোনো সামরিক-বেসামরিক বা উচ্চ পর্যায় সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ধর্মীয় আনুগত্যে বিশ্বাসী নিভৃত পল্লী এলাকার একটি মসজিদের ইমাম।
৩৪ বছর ইমামতি করে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে ফিরলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নতুন কহেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. শাজাহান খান। তার বিদায় সফরে সঙ্গী হিসেবে যুক্ত হয় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল।
হাত নেড়ে ইমামের কর্মজীবনের শেষ বিদায় জানায় গ্রামবাসী।
আরো পড়ুন
সিরিয়ার নতুন মন্ত্রিসভা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো
এর আগে ওই ইমামকে গ্রামবাসীর উদ্যোগে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাকে। বিদায় বেলায় ইমামকে ফুল ছিটিয়ে এবং ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এলাকাাসী। ৬০০ টাকা বেতনের ইমাম শাজাহান খানকে গ্রামবাসী ৯ লাখ ৩০০ টাকার চেক তুলে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় বিদায়ি ইমামকে বিদায় জানাতে নতুন কহেলা গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রামের লোকজন মসজিদের সামনে ভিড় জমায়। মাওলানা মো. শাজাহান খান এ উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মৃত কুরবান আলীর ছেলে।
জানা গেছে, মাওলানা শাজাহান ঢাকার লালবাগের একটি মাদরাসা থেকে মাওলানা পাস করেন। ১৯৯১ সালে ৬০০ টাকা বেতনে উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের নতুন কহেলা জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন।
চাকরি শেষ সময়ে তার বেতন ছিল ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন।
আরো পড়ুন
বোনকে চুলের মুঠি ধরে মারধর, ভাইকে কুপিয়ে জখম
দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি অসংখ্য মানুষকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি জানাজা পড়িয়েছেন হাজারের অধিক মানুষের। ফলে তার বিদায় বেলায় এককালীন পেনশন দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৩০০ টাকা। এই সম্পর্কের কারণে গ্রামবাসী মঙ্গলবার দুপুরে রাজকীয় বিদায় ও সংবর্ধনার আয়োজন করে।
এ ছাড়া গত বছর গ্রামবাসীর উদ্যোগে তাকে ওমরাহ করতে পঠানো হয়।
তিন শতাধিক মানুষ ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইমামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এমন বিদায় জানাতে পেরে খুশি নতুন কহেলা গ্রামবাসীরাও। ইমামের দীর্ঘ দিনের স্মৃতি তার হৃদয়কে ব্যথিত করবে বলেও জানান। এমন ব্যতিক্রমী বিদায়ে এলাকাবাসীর ভালোবাসার কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ইমাম।
নতুন কহেলা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম খান বলেন, ইমান মাওলানা মো. শাজাহান খান তার চাকরি জীবনে গ্রামের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ইমামের প্রতি যে গ্রামবাসীর ভালোবাসা তা জনস্রোতেই বোঝা যায়। আমরা গ্রামবাসী একজন উঁচু মানের ইমামকে হারালাম।
বিদায়ি ইমাম মাওলানা মো. শাজাহান খান বলেন, ‘আমি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের জানাজা পড়াইছি। ৬০০ জনকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমি কাজগুলো করতে পারছি এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিদায়বেলায় এলাকার মানুষ এত বড় আয়োজন করেছে তার জন্য এলাকার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
আরো পড়ুন
ফরিদপুরে সেপটিক ট্যাংক বসাতে গিয়ে মাটিচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু
নতুন কহেলা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম খান বলেন, ‘এমন বিদায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি এলাকার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইমামের পরবর্তী জীবন ভালো কাটতে সরকারি চাকরির মতো সামান্য হলেও পেনশন দেওয়া হয়েছে।’