রোজা আহমেদের বাবা ফারুক আহম্মেদ ওরফে ‘পানামা ফারুক’ (ডানে)
সিঙ্গেল লাইফের অবসান ঘটিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। পাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করা মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদ। শনিবার (৪ জানুয়ারি) ফেসবুকে স্ত্রীর ছবি শেয়ার করে তাহসান জানান দেন নিজের নতুন জীবনের। এর আগে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহসান ও রোজার একাধিক ছবি ভাইরাল হয়।
এদিকে, তাহসানের নববধূ রোজা আহমেদের পরিচয় জানতে গতকাল সকাল থেকেই মুখিয়ে ছিলেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এরই মধ্যে খবর ছড়ায়, বরিশালের এক সময়ের যুবলীগ নেতা ফারুক আহাম্মদ ওরফে ‘পানামা ফারুক’ তাহসানের শ্বশুর। ২০১৪ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন পানামা ফারুক।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ আলোচনার মাঝেই বাবা সম্পর্কে রোজার আবেগঘন এক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি গত বছরের জুন মাসে করেছিলেন রোজা।
আরো পড়ুন
আয়ের দিক থেকে রাশ্মিকা-শ্রদ্ধাকেও পেছনে ফেলেছেন যে অভিনেত্রী
যেখানে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন কথা লিখেছেন রোজা আহমেদ। বাবাকে হারানোর পর কি কষ্টে জীবন গিয়েছিল তার সে কথা জানিয়েছেন রোজা। নিজের দীর্ঘ স্ট্যাটাসে রোজা লিখেছেন, ‘সেলফিটা একটু আগেই তুলেছি। সাধারণত আমার অনেক ছবি তোলা হয়। কিন্তু আজ এই সেলফিটা তোলার সময় চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।
অনেক সময় ধরে কাঁদলাম। কিন্তু কি মনে করে কাঁদছি বা কেন কাঁদছি তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। তাই সব থেকে আদরের ছিলাম সবার। আর বাবা আমাকে সব সময় বলতেন ‘আমার ছোট্ট পরীটা কইরে’। সেই সময় বরিশাল শহরে আমাদের পরিবারের বেশ প্রভাব ছিল। ছোট বেলায় কখনো কমতি পাইনি। এর বাসায় দাওয়াত, তার বাসায় দাওয়াত আর যেতেই হবে কারণ আমাদের ছাড়া দাওয়াত অসম্পূর্ণ হবে। এমন দিন গিয়েছে দিনে ৪টা দাওয়াতেও অংশ নিয়েছি। শুধু দেখা করে আসার জন্য। ’
তিনি লেখেন, ‘হঠাৎ বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ওপারে। যতদিনের হায়াত তিনি নিয়ে এসেছেন ততোদিন ছিলেন আমাদের সাথে। অভিযোগ তো অনেক জমা আছে, বাবার সেই ছোট্ট পরীটার, কিন্তু অভিযোগ কার কাছে করব? আর বাবা শুধু আমাদের ছেড়ে চলে যাননি, সাথে সাথে যে মানুষগুলো আমাদের এতো সম্মান করতেন তাদের ভালোবাসাও চলে গেল আমাদের ওপর থেকে। আর সেই দিনটাতেই প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম, যে ভালোবাসা আমরা পেয়েছি তা সবই বাবাকে ঘিরে আর সাথে অনেক অনেক স্বার্থ। বাবা চলে যাওয়ারি ঠিক ২ মাসের মাথায় আমার এক রিলেটিভের বিয়ে। আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম একে ওপরের, কিন্তু বিয়েতে দাওয়াত পেলাম না। যে রিলেটিভরা সেই বিয়েতে অংশ নিয়েছে সবাই ফোন করতে শুরু করল মাকে। কেন আমরা গেলাম না, কোথায় আমরা? বরিশালে আছি কিনা এই সেই। সেদিন সারারাত বসে দেখেছি মায়ের সেই সরল মনের কান্না। আপনারা লেখাটা পড়ে ভাবতে পারেন, দাওয়াত পাইনি বলে কাঁদছি? কিন্তু দাওয়াতের জন্য নয়, একই দালানে সবাই আনন্দ করছে, আমি, মা আর ছোটো ভাই উৎস তখন বাসার এক কোণে। খুব চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, বাবা তুমি একটু দেখে যাও, যাদের জন্য এতো করেছ তারা আমাদের সব ফিরিয়ে দিচ্ছে। ’
আরো পড়ুন
এখন কেমন আছেন মুশফিক ফারহান?
তাহসানপত্মী আরও লিখেছেন, ‘বাবা আমাদের জন্য অনেক কিছুই রেখে গেছেন, দাদা ভাইয়ের অনেক আছে কিন্তু কিছুই গোছানো না, কে বুঝেছেন যে এতো অকালে উনি চলে যাবেন আমাদের ছেড়ে! আর দাদার সব সম্পত্তিতেই চাচা-ফুফুদের ভাগ আছে। মায়ের খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছে। পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। আর আমি চলে আসি তাদের কোলে। আমার মা খুব সরল মনের, দিন-দুনিয়ার কিছুই বোঝে না। সে যে নিজের ভয়েস রেইজ করবে বা তার সেটা রেইজ করার অধিকার আছে সেটা তার ধারণার বাইরে। কখনো তার সেই সাহসটাই ছিল না যে তার শ্বশুরকে বলবে, বাবা আমাদের সম্পত্তিটুকু আমাদের বুঝিয়ে দিন। আর উৎস তো তখন অনেক ছোট। আমরা দুই ভাই-বোন তখন পিচ্চি পিচ্চি। আমাদের পড়াশোনার খরচ তখন একদম হিসাব করে টায় টায় দেওয়া হতো মায়ের হাতে। তাই কিছু খেতে ইচ্ছে করলে বলতাম না যাতে উৎস যেটা চায় সেটা যাতে পায়। আমার দিক থেকে একটু কম হলেও সমস্যা নেই। ’
‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই প্রস্তাব আসা শুরু করে। এই রিলেটিভ একে আনে ওই রিলেটিভ ওকে আনে। সেই সময় আমি প্রথম ভয়েস রেইজ করেছি যে, আমার বয়স কম আর বাবা মারা গেছেন তো কি হয়েছে! বাবার আর আমার স্বপ্ন তো মারা যায়নি! ওই দিন কথাটায় খুব মাইন্ড করেছিল আমার কাছের লোকজন। বড়দের মুখে মুখে কথা, আমি আর মানুষ হব না। আর সেই থেকেই রটানো হয় কতো কথা। সারাদিন নাকি ছেলেদের সাথে ঘুরি, আমার বন্ধু-বান্ধব সার্কেল ভালো না, পর্দা করি না আরও কতো কি! মেয়ে তো নিশ্চয়ই প্রেম করে আর না হলে এতো ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়? আর প্রতিদিন এভাবেই বাসায় অভিযোগ আসা শুরু করে। কিন্তু আমার ভয়েস রেইজে সবাই এভাবে রিঅ্যাক্ট করবে বুঝতে পারিনি। আমার মা এতো অভিযোগ শুনতে শুনতে বললেন, তুই আমাকে ছুঁয়ে বল এসব অভিযোগ কি সত্যি? আমি মাকে ছুঁয়ে বললাম, না মা সব মিথ্যে। আমি তো স্কুল আর বাসা বাদে কোথাও যাই না। এই বলে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলাম মায়ের সাথে। ওইদিনের পর থেকে মা আমার সাথে নিয়মিত কোচিং-এ যেতেন আবার এসে বাসার সবার জন্য রান্না করতে হতো, খুব কষ্ট হয়ে যেত তার। তখন নিজের কাছে মনে হত আমি সবার জন্য একটা বোঝা, সব ক্ষেত্রেই আমার দোষ। দিনের পর দিন এভাবেই চলতে থাকে। হঠাৎ দাদাভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর সেই থেকে আমার সাথে কোচিং-এ যাওয়া বন্ধ করে দেন মা। কারণ তাদের সেবা যত্ন করতে হতো মাকেই। তখন থেকেই একা একা চলা শুরু করলাম। ’
রোজার সঙ্গে তাহসান
জানা গেছে, রোজার বাবার নাম ফারুক আহম্মেদ ওরফে পানামা ফারুক। যিনি ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯৩ সাল থেকে ফারুক আহম্মেদ ওরফে ‘পানামা ফারুক’ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এলে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে পানামা ফারুক এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়ায়। তবে ২০০১ সালের পর দীর্ঘ ৫ বছর পানামা ফারুক আত্মগোপনে ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেও তাকে ওইভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। তবে ২০১৩ সালের দিকে নিজের অবস্থান জানান দিতে গিয়ে আলোচনায় আসেন পানামা ফারুক।
ঈদকে ঘিরে এরই মধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে বেশ অনেক গান। এর মধ্যে কিছু গান শ্রোতা-দর্শকরা পছন্দও করেছেন। আবার কিছু গান ফিরছে মানুষের মুখে মুখে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে জায়গা ধরে রেখেছে এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার তিন গান।
আরো পড়ুন
বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আগে যা খেতেন মানুষী
এর মধ্যে ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের সংগীত বিভাগে শীর্ষে ,অর্থাৎ প্রথম স্থানে রয়েছে মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘চাঁদ মামা’ গানটি। শাকিব খান অভিনীত ছবির এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও দোলা।
এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত ‘জ্বীন ৩’ সিনেমার ‘কন্যা’ গানটি। আব্দুন নূর সজল অভিনীত এ ছবির গানটি লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন।
এতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান মাহমুদুল ও কণা।
আরো পড়ুন
মেসে থাকা উপদেষ্টারা চড়েন ৬ কোটির গাড়িতে, পরেন ৪০ লাখের ঘড়ি : বুলু
সিনেমার গানগুলোর মধ্যে সর্বশেষ, অর্থাৎ তৃতীয় গানটি হচ্ছে ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘দ্বিধা’ গানটি। এটি গেয়েছেন প্রীতম হাসান। এই তিন গানের বাইরে ঈদ সিনেমার আর কোনো গান ট্রেন্ডিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নিতে পারেনি।
দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার জগতের নানা দিক নিয়ে গত বছর একাধিক অভিনেত্রী মুখ খুলেছেন। এবার এক ‘অস্বস্তিকর’ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী শালিনী পান্ডে। দক্ষিণী সিনেমা ‘অর্জুন রেড্ডি’ থেকে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘মহারাজ’ ও ‘ডাব্বা কার্টেল’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী।
সিনেমা জগতে নানা রকমের পুরুষের মুখোমুখি হয়েছেন শালিনী পান্ডে। কেউ কেউ অত্যন্ত ভদ্র। আবার ভদ্রতার ধার ধারেন না এমন কিছু মানুষও আছেন।
আবার কিছু পুরুষের জন্যই নিজের চারদিকে গণ্ডি নাকি টানতে শিখেছেন শালিনী। দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডস্ট্রির এমনই একজন পরিচালকের কথা জানান অভিনেত্রী।
আরো পড়ুন
এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবি অযৌক্তিক : অভিভাবক ঐক্য ফোরাম
তিনি বলেন, একবার প্রসাধনী ভ্যানে তৈরি হচ্ছিলেন। তিনি যখন পোশাক বদলাচ্ছেন, ঠিক তখনই সিনেমার পরিচালক ঢুকে পড়েছিলেন ভ্যানে।
প্রবেশ করার আগে ভ্যানের দরজায় কড়া পর্যন্ত নাড়েননি! এমন ঘটনায় চমকে গিয়েছিলেন শালিনী পান্ডে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎাকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘তিনি ভ্যানে ঢুকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি চিৎকার করতে শুরু করি। আমি থতমত খেয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স মাত্র ২২। পরিচালক বেরিয়ে যাওয়ার পর কলাকুশলীরা বলেছিলেন—শালিনীর ওভাবে চিৎকার করা ঠিক হয়নি।
’ সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
শালিনী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কারো ঘরে ঢোকার আগে কড়া নাড়া ন্যূনতম সভ্যতার মধ্যে পড়ে। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি চিৎকার করছিলাম বলে অনেকেরই মনে হয়েছিল আমি খুব রাগী মানুষ। কিন্তু আমি নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছি মাত্র।’ এ ঘটনার পর থেকে নিজের চারপাশে আরো সচেতনভাবে গণ্ডি টানতে শিখেছেন অভিনেত্রী।
‘যা ঘটেছে তা একদমই মনে রাখবেন না’, কটূক্তি প্রসঙ্গে শাকিব খানকে আফরান নিশো
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
শেয়ার
শাকিব খান ও আফরান নিশো
‘সে সময়ে যেটা ঘটেছিল, এটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। আমি শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না’—এমন মন্তব্য করেছেন আফরান নিশো। বছর দুয়েক আগে ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে আফরান নিশোর। সে সময় সিনেমার প্রচারণায় বিভিন্ন সময়ে শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করেন এই অভিনেতা, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।
আরো পড়ুন
‘দারুণ চুমু খায়’, পরমব্রতকে ইমরান হাশমির সঙ্গে তুলনা কৌশানির
সম্প্রতি সে সময়ের সেই ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন আফরান নিশো। পুরো বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে শাকিব খানের প্রতি আহ্বানও জানান একসঙ্গে কাজ করার। আফরান নিশো বলেন, “আমার ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা রিলিজের সময় যা ঘটেছিল, তা পুরোটাই ভুল-বোঝাবুঝি।
এটা কোনো ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছি না, দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট করে বলছি, কোনো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে কটূক্তি করা কখনোই আমার ইনটেনশন ছিল না। সেটা এখনো নেই, সামনেও থাকবে না। অনেক সময় প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই কথাতে চলে আসে। সেগুলের রেশ ধরে কেউ হয়তো চাইল যে ঝগড়াটা একটু বাড়িয়ে দিই বা একটু কমিয়ে দিই।
আমার জায়গা থেকে কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। কখনো আমি দেখাইও না।’
আরো পড়ুন
মান্নাত ছেড়েছেন, এবার ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন গৌরী খান
এরপর শাকিব খানের কথা টেনে আফরান নিশো বলেন, “যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে সে আমার অগ্রজ। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সিনিয়র। তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি।
আমার যখন ‘সুড়ঙ্গ’ রিলিজ হয় তখনো তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে অনেক কথা বলেছি, অনেক। একজন মানুষ যার এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার, এত কিছু দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে, বিনিময়ে সে সম্মানটুকু ডিজার্ভ করেন। এর বিনিময়ে তিনি সম্মান ছাড়া আর কিছু চান না। আমার তরফ থেকে তিনি সম্মানের তুঙ্গেই থাকবেন সব সময়। তার পরও যদি এই বিষয়টা তিনি (শাকিব খান) মনে নিয়ে থাকেন তাহলে বলব, আপনি এটা একদমই মনে রাখবেন না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা একদমই ভুল-বোঝাবুঝি।”
শাকিব খান এবং আফরান নিশো দুজনকে একসঙ্গে সিনেমাতে পাওয়া যাবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এই অভিনেতা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। এ রকম কিছু এলে আমি বরং খুশিই হবো।’
ঈদের ছুটির আমেজে ঘরে বসেই দেখতে পারেন সেরা ৭টি ‘থ্রিলার’ ছবি
শঙ্খনীল দেব
শঙ্খনীল দেব
শঙ্খনীল দেব
শঙ্খনীল দেব
শেয়ার
বাঁ থেকে ‘মেমোরিস অফ মার্ডার’, ‘শাটার আইল্যান্ড’ এবং ‘আন্ধাধুন’
গোটা বছরের কর্মব্যস্ত জীবনের পর ঈদে ছুটির দিনগুলো যেন একটু স্বস্তি নিয়ে আসে সবার জীবনে। ঈদের ছুটিতে বেশিরভাগ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম সিনেমা। টিভি কিংবা বড় পর্দায়, সিনেমা বা সিরিজ দেখা এখন মানুষের নিত্যদিনের অংশ হয়ে উঠছে। আর ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এখন সবকিছুই মানুষের হাতের মুঠোয়।
ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার মজাই যেন আলাদা! আর সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটা অংশ পছন্দ করেন থ্রিলারধর্মী সিনেমা। টান টান উত্তেজনাকর গল্প, একের পর এক সাসপেন্স আর রহস্যময়তা পর্দায় ধরে রাখে দর্শকদের। তাই থ্রিলার জনরার সিনেমা সবার পছন্দের শীর্ষে।
এই ঈদের ছুটির আমেজে ঘরে বসেই দেখে নিতে পারেন, এমন ৭টি থ্রিলার চলচ্চিত্র নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
নাইটক্রলার
নাইটক্রলার : এটি ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান থ্রিলার চলচ্চিত্র, যার চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ড্যান গিলরোয়ের। এতে জ্যাক গিলেনহাল লুই ‘লু-ব্লম’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে গভীর রাতে নানা রকম ঘটনা রেকর্ড করেন এবং একটি স্থানীয় টেলিভিশন নিউজ স্টেশনে ফুটেজ বিক্রি করেন।
তিনি উচ্চাভিলাষী, লোভী ও আত্মবিশ্বাসী।
রিনি রুসো, রিজ আহমেদ এবং বিল প্যাকসনও অভিনয় করেছেন এতে। চলচ্চিত্রের একটি সাধারণ থিম হল অনৈতিক সাংবাদিকতা। সিনেমাটির থ্রিল আপনাদের ভাল লাগবে তা বলাই যায়। আইএমডিবি‘তে ৭.৯ রেটিং রয়েছে এটির।
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান : এটি ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান ওয়েস্টার্ন ক্রাইম থ্রিলার ফিল্ম।
যায়েল এবং ইথান কোয়েন রচিত এবং পরিচালিত সিনেমাটি ২০০৫ সালের কর্ম্যাক ম্যাকার্থির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। টমি লি জোন্স, জাভিয়ার বারডেম এবং জোশ ব্রোলিন অভিনীত এটি ১৯৮০ সালের পশ্চিম টেক্সাসের মরুভূমিতে টেক্সাসের ওয়েল্ডার এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর নির্মিত হয়েছে। টান টান উত্তেজনা ও দারুণ সব টুইস্টের এই থ্রিলারটির আইএমডিবি’তে ৮.১ রেটিং রয়েছে। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন।
আরো পড়ুন
মান্নাত ছেড়েছেন, এবার ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন গৌরী খান
আনকাট জেমস
আনকাট জেমস : জোস এন্ড বোনি পরিচালিত ২০১৯ সালের আমেরিকান ক্রাইম থ্রিলার ‘আনকাট জেমস।’ এতে অ্যাডাম স্যান্ডলার একজন ইহুদি-আমেরিকান। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির একজন ডায়মন্ড জুয়েলার এবং তাঁর ডিস্ট্রিক্ট জুয়ার আসক্তি রয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে ব্যয়বহুল একটি রত্ন উদ্ধার করতে হবে এবং এই নিয়েই এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী। আইএমডিবি’তে ৭.৪ রেটিং রয়েছে এটির। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন থ্রিলার চলচ্চিত্রটি।
আন্ধাধুন
আন্ধাধুন : হলিউডের থ্রিলার সিনেমার ভীড়ে বলিউডের আন্ধাধুনকে রাখতেই হচ্ছে। বলতে গেলে হিন্দি সিনেমার সর্বকালের সেরা থ্রিলার সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এতে একজন অন্ধ সংগীতশিল্পী (পিয়ানোবাদক) এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা। অন্ধ হলেও পিয়ানো বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আয়ুষ্মান। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু তাঁর জীবনে হঠাৎ ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অনাকাঙ্খিতভাবে এক খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই গল্প মোড় নেয় নতুন দিকে। গল্পের পরতে পরতে টুইস্ট আর থ্রিল রীতিমতো মুগ্ধ করবে আপনাকে। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন চমৎকার চলচ্চিত্রটি। আইএমডিবি’তে ৮.৩ রেটিং রয়েছে এটির। আয়ুষ্মানের সঙ্গে এতে অভিনয় করেছেন টাবু ও রাধিকা আপ্তে।
আরো পড়ুন
‘দারুণ চুমু খায়’, পরমব্রতকে ইমরান হাশমির সঙ্গে তুলনা কৌশানির
প্যারাসাইট
প্যারাসাইট : থ্রিলার দেখবেন আর কোরিয়ান সিনেমা দেখবেন না, তা হতে পারে না। থ্রিলার ঘরানায় কোরিয়ানরা এক কথায় অনবদ্য। একের পর এক মাস্টারপিস থ্রিলার রয়েছে কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিতে। যার মধ্যে রয়েছে অস্কারজয়ী সিনেমা ‘প্যারাসাইট।’ দুই পরিবারের গল্প, সমাজের বিত্তশালী সম্প্রদায়ের রূপের পাশাপাশি আরও অনেক গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয় ওঠে এসেছে এতে। সং কাং হো, লি সান কিউ, চো ইয়ো জিয়ং অভিনীত সিনেমাটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করার পাশাপাশি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রচুর প্রশংসাও পায়। প্রথম বিদেশি ভাষার কোনো চলচ্চিত্র হিসেবে জিতে নেয় অস্কার। আইএমডিবি’তে ৮.৫ রেটিং রয়েছে কোরিয়ান এই মাস্টারপিসের।
মেমোরিস অফ মার্ডার
মেমোরিস অফ মার্ডার : বিশ্বের সেরা থ্রিলারধর্মী সিনেমার তালিকায় রয়েছে বং জুন-হু পরিচালিত আরও এক কোরিয়ান সিনেমা ‘মেমোরিস অফ মার্ডার।’ ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল এটি। কাং হো সং এবং হে ইল পার্ক অভিনীত থ্রিলারধর্মী এই সিনেমার পরত পরতে জড়িয়ে রয়েছে সাসপেন্স। ১৯৮৬ সালে দুই নারীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই খুনের তদন্ত করতে শুরু করেন দুই গোয়েন্দা। কিন্তু ওই এলাকায় একই ভাবে খুন হতে থাকে। খুনের নেপথ্যে আসলে কে, তদন্তই বা কীভাবে করা হচ্ছে সেসব নিয়েই গল্প এগিয়ে যায়। তবে সিনেমাটির শেষের টুইস্ট আপনাকে হতবাক করে দেবে। আইএমডিবি’তে ৮.১ রেটিং রয়েছে এটির। সময় থাকলে দেখে নিন সেরা এই থ্রিলারটি।
আরো পড়ুন
অযথা টাকা নষ্ট করাটা পছন্দ করি না : রুনা লায়লা
শাটার আইল্যান্ড
শাটার আইল্যান্ড : ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া মার্টিন স্কোরসেজি পরিচালিত শাটার আইল্যান্ডকে বলা হয় থ্রিলার ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। ২০০৩ সালে প্রকাশিত শাটার আইল্যান্ড নামক উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র এটি। থ্রিলারধর্মী এই সিনেমাটি মূলত ইউএস মার্শাল টেডি ডেনিয়েলের (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) মানসিক হাসপাতাল থেকে গায়েব হওয়া এক খুনির খোঁজে শাটার আইল্যান্ডে আগমনকে ঘিরে আবর্তিত। অতঃপর হাসপাতালে সেবার আড়ালে ভয়াবহ কার্যক্রমের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রমাণ খোঁজার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এর গল্প। এর শেষ অংশের টুইস্ট আপনাকে চিন্তায় ফেলে দিতে বাধ্য। হিসাব মেলাতে হিমশিম খাবেন আপনিও। লিওনার্দোর সঙ্গে সমানতালে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন বেন কিংসলে ও মার্ক রাফলোর মতো তারকারা। আইএমডিবি’তে ৮.২ রেটিং রয়েছে এটির। ছুটির দিনে দেখে নিতে পারেন অন্যতম সেরা থ্রিলার ‘শাটার আইল্যান্ড।’