দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে আলোচনা আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত তিনটি কিস্তির অর্থ পাওয়া গেছে। এখন চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে বেশ কিছু শর্ত সামনে এসেছে, যা বাংলাদেশ সরকারকে পূরণ করতে হবে। আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আগামীকাল শনিবার ঢাকায় আসছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের প্রতিনিধিদল ৫ এপ্রিল ঢাকায় এসে ৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহ সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকগুলোতে অংশ নেবে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ইআরডি, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিইআরসি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিবিএস, বাণিজ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে আগামী ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তারা মূল্যায়ন ও সুপারিশ জানাবে।
এই প্রতিনিধিদলের আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আইএমএফের শর্ত পূরণের বিষয়টি এখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকের মাধ্যমে তারা মূল্যায়ন করবে যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আইএমএফের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ।
এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয়। মোট তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৩১ কোটি ডলার। তবে এখনো বাকি রয়েছে ২৩৯ কোটি ডলার, যার চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকার আশা করছে, আগামী জুন মাসেই চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য আইএমএফের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে, যা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাজেট সহায়তার জন্য এই ঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ একমত হয়েছে।
আইএমএফ প্রতিনিধিদল সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে বিশেষত ব্যয়ের কাঠামো ও রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা নিয়ে। সরকার আইএমএফের শর্ত দ্রুত পূরণ করতে পারলে ঋণের কিস্তি সহজে পাওয়া যাবে এবং বাজেট সহায়তা নিশ্চিত হবে। সফল বাস্তবায়ন দেশের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। তবে ব্যর্থ হলে ঋণছাড়ে বিলম্ব হতে পারে, যা বাজেট বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করবে।