ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে : সদ্য বিদায়ী বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে : সদ্য বিদায়ী বিচারপতি

নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে মুহূর্তেই বড়লোক হওয়ার মানসিকতা দেশকে বড় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অবসরে যাওয়া বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ। এ বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি দেশবাসীর মধ্যে সৃজনশীলতা, ক্ষমা-ভালোবাসা, জ্ঞান-দক্ষতা, অনুসন্ধিৎসা, ন্যায়বিচার-মহত্বের উৎসাহ যোগানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) আপিল বিভাগের ২ নম্বর বিচার কক্ষে অনুষ্ঠিত নিজের বিদায় অনুষ্ঠান থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

রীতি অনুযায়ী বিচারিক পেশার শেষ দিনে বিচারপতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।

সে জন্য বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে থাকে সুপ্রিম কোর্ট। আর এতে অংশ নেয় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজের পারিবারিক, শিক্ষা ও কর্মজীবনের নানাদিক তুলে ধরেন।

এরপর লিখিত বক্তব্য দেন বিচারপতি হাফিজ। চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে উঠে আসে বিচার বিভাগ, বিচারকাজ, অপরাধের ধরণ, দুর্নীতি, সমাজ-সংস্কৃতি, মূল্যবোধসহ নানা বিষয়। 
 
তিনি বলেন, ‘সময়ের বিবর্তনে অপরাধের ধরণ পাল্টে যাচ্ছে, যা আমাদের সন্তানদের ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিভিন্নমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান, মাদক, সামাজিক অনাচার, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, হুমকি ও আশঙ্কার বিস্তার ঘটেছে। আর এগুলো আমাদের টেকসই উন্নয়ন, শান্তি, ভালোবাসা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্তপাত, স্বার্থপরতা ও ধ্বংসাত্বক কার‌্যকলাপ থেকে দেশবাসীকে বিরত রাখতে হবে। সততার সাথে জীবন-যাপনে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ।

বিচার বিভাগের দায়িত্ব ও সঙ্কট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিচারপতি হাফিজ জনবল সঙ্কট ও বিচারক নিয়েগের কথা উল্লেখ করেন তার লিখিত বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘সম্পদ-সম্পত্তি, নারী ও শিশু নির্যাতন, অধিকার নিয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিচার বিভাগকে এসব মিথ্যা মামলার ভার বহন করতে হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় আদালতের প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

দুর্নীতির প্রভাব ও ব্যপকতা তুলে ধরে শেষ কর্মদিবসে এ বিচারপতি বলেন, ‘দুর্নীতি আমাদের সকল অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্নীতির ব্যাপকতা অনেক। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাত থেকে অফিস-আদালতকে মুক্ত রাখতে হবে। একজন বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী কিবাবে কোটি কোটি এমনকি শতকোটি টাকার মালিক হন তা দেশবাসীকে হতবাক করে। এগুলো রোধ করতে পারলে মানুষ অযাচিত বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।’ স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বিচারকদের স্বাধীন চিত্তের হতে আহ্বান জানান অবসরে যাওয়া বিচারপতি হাফিজ।

সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারক পদের মেয়াদ ৬৭ বছর। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জুন। সে হিসাবে কাল (৩১ মে) তার শেষ কর্মদিবস। কিন্তু ওই দিন সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় একদিন আগেই বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিচারপতি হাফিজ ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল তার নিয়োগ স্থায়ী করা হয়। হাইকোর্টে স্থায়ী নিয়োগের ১৯ বছর পর গত ২৪ এপ্রিল তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন শপথ নেওয়ার মধ্যদিয়ে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে তিনি ৩৭ দিন বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ঋণের শর্ত পর্যালোচনায় কাল ঢাকায় আসছে আইএমএফ মিশন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ঋণের শর্ত পর্যালোচনায় কাল ঢাকায় আসছে আইএমএফ মিশন
সংগৃহীত ছবি

দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে আলোচনা আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত তিনটি কিস্তির অর্থ পাওয়া গেছে। এখন চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে বেশ কিছু শর্ত সামনে এসেছে, যা বাংলাদেশ সরকারকে পূরণ করতে হবে। আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আগামীকাল শনিবার ঢাকায় আসছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের প্রতিনিধিদল ৫ এপ্রিল ঢাকায় এসে ৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহ সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকগুলোতে অংশ নেবে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ইআরডি, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিইআরসি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিবিএস, বাণিজ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে আগামী ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তারা মূল্যায়ন ও সুপারিশ জানাবে।

এই প্রতিনিধিদলের আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আইএমএফের শর্ত পূরণের বিষয়টি এখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকের মাধ্যমে তারা মূল্যায়ন করবে যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আইএমএফের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ।

এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয়। মোট তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৩১ কোটি ডলার। তবে এখনো বাকি রয়েছে ২৩৯ কোটি ডলার, যার চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকার আশা করছে, আগামী জুন মাসেই চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য আইএমএফের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে, যা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাজেট সহায়তার জন্য এই ঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ একমত হয়েছে।

আইএমএফ প্রতিনিধিদল সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে বিশেষত ব্যয়ের কাঠামো ও রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা নিয়ে। সরকার আইএমএফের শর্ত দ্রুত পূরণ করতে পারলে ঋণের কিস্তি সহজে পাওয়া যাবে এবং বাজেট সহায়তা নিশ্চিত হবে। সফল বাস্তবায়ন দেশের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। তবে ব্যর্থ হলে ঋণছাড়ে বিলম্ব হতে পারে, যা বাজেট বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

মায়ানমারে বিধ্বস্ত ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মায়ানমারে বিধ্বস্ত ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

মায়ানমারে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ উদ্ধারকারীদল স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কয়েকটি বিধ্বস্ত ভবনে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে এবং একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, গত ২৮ মার্চ সংঘটিত ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং মেডিক্যাল টিম মায়ানমারে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নেপিদোর যবুথিরি টাউনশিপসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সহযোগিতায় দলটি কয়েকটি বিধ্বস্ত ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে এবং একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার বাংলাদেশ উদ্ধারকারীদলের সঙ্গে মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য ১৬টি উদ্ধারকারী দেশের প্রতিনিধিদের একটি সমন্বয়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য

দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা সই

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা সই

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন কমিশন (এনএসিসি) এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুর্নীতির প্রতিরোধ ও দমনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং এনএসিসি প্রেসিডেন্ট সুচার্ট ত্রাকুলকাসেমসুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।

দুদক চেয়ারম্যান ড. মোমেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

তিনি বলেন, অনেক দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি প্রতিবেশী কিছু দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই চুক্তি তাদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের ৪৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তির আহ্বান জানায়।

চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রাথমিক তথ্য বিনিময় করবে, তথ্য সংগ্রহে সেরা চর্চা ভাগাভাগি করবে, যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করবে, গবেষণা ও অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেবে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হবে।

মন্তব্য

বিমসটেকের জন্য প্রধান উপদেষ্টার চারটি এজেন্ডা

বাসস
বাসস
শেয়ার
বিমসটেকের জন্য প্রধান উপদেষ্টার চারটি এজেন্ডা
সংগৃহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)-এর জন্য চারটি এজেন্ডা প্রস্তাব করেছেন।

তিনি যুবসমাজের শক্তিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি তরুণরা সামনে থেকে এতটা ইচ্ছা এবং কর্মপ্রচেষ্টা দেখাচ্ছে এমনকি শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী কিছু ধারণা সংস্কার করার জন্যও প্রস্তাব করেছে।

অধ্যাপক ইউনূস কৃষিকাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশেষ করে এই অঞ্চলের বিশাল ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সাথে সংযোগ স্থাপনকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সম্পর্কিত ‘৪ আইআর’ সরঞ্জাম এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেছেন।

সরকার প্রধান বিমসটেক দেশ এবং সম্প্রদায়ের জন্য জ্ঞানের ক্ষেত্রে জোরালোভাবে জড়িত হওয়ার জন্য তাদের সম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন এবং ভাগ করে নেওয়ার জন্য সমস্ত উপায় উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।

তিনি এমন একটি ইকো-সিস্টেম প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করেছেন যেখানে সরকার ছাড়াও অন্যান্য সংস্থাগুলো জনস্বাস্থ্য বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ু অভিযোজন- জরুরি অবস্থা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিমসটেকের সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সময় আমাদের পক্ষে নেই। আমাদের কেবল পরিবর্তন আনতে হবে না, রূপান্তর করতে হবে।

এজন্যই বাংলাদেশ তিনটি শূন্যের বিশ্বকে এগিয়ে নিতে চায়: শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন।’ 

শীর্ষ সম্মেলনের শেষে বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাই ঢাকায় বিমসটেকের সকল নেতাদের দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ