সংবাদ সম্মেলনেও প্রসঙ্গটি তোলা হয়েছিল। কিন্তু নাজমুল হোসেনের মধ্যে সেটি নিয়ে কোনো হেলদোলই দেখা গেল না। এমনকি কোনো শব্দও খরচ করলেন না। পরে বোঝা গেল কারণ।
নাজমুলের প্রশ্ন, ‘আমরা কবে ৩৯৬ করলাম?’
মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে

আগামীকালের ভারত ম্যাচ সামনে রেখে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ দুপুরে তার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন সেরে অনুশীলন ধরার জন্য একরকম ছুটতেই শুরু করেছিলেন তিনি। সেটি আবার আরেক জায়গায়। স্টেডিয়াম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আইসিসি একাডেমি মাঠে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার তাড়ার মধ্যেই এই প্রতিবেদককে নাজমুলের পাল্টা প্রশ্ন, ‘৩৯৬ রান আমরা কবে করলাম?’ তাকে জানানো হলো, ‘ওই যে আপনাদের নিজেদের মধ্যে খেলায়।’ এবার বাংলাদেশ অধিনায়কের জবাব, ‘‘আরে ওটা তো ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে অনুশীলন করেছিলাম আমরা।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে দেশ ছাড়ার আগে অল্প কয়েক দিনই অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে বেশ কিছু সেশন আবার ছিল ‘ক্লোজড ডোর’ বা রুদ্ধদ্বার। সে রকম একদিনে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের অনুশীলনে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে ব্যাটারদের দেওয়া হয়েছিল ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের লাইসেন্স।
সেই ম্যাচে ব্যাটারদের ঝলসে ওঠার বিষয়টিকে নাজমুল হয় খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না অথবা বড় করে দেখাতে চাইছেন না। অবশ্য এ রকম ম্যাচ পরিস্থিতিতে বড় রান করাটা সব সময় সঠিক বার্তা দেয় কি না, তা নিয়েও আছে তর্কের অবকাশ। কারণ তাতে প্রতিপক্ষের আয়নায় নিজেদের দেখে নেওয়ার ব্যাপারটি থাকে না। হতে পারে, সে কারণেই সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটি ওঠায় চট করে এর সঙ্গে নিজের ‘সংযোগ’ ঘটাতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
অবশ্য দেশে নিজেদের মধ্যে রানের বন্যা বইয়ে দিয়ে আসা নাজমুলদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে দুবাইতে এসে।
দেশে রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে চেষ্টা করে দেখেছেন বড় রান করারও। সফলও হয়েছেন। এখন কোন চেষ্টা ফল দেবে, সেটি জানার জন্য আজকের ভারত ম্যাচের অপেক্ষা!
সম্পর্কিত খবর

৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনাকে বাজে বললেন উয়েফা সভাপতি
ক্রীড়া ডেস্ক

তিন মহাদেশে হবে ২০৩০ বিশ্বকাপ। তবে মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো হলেও বিশ্বকাপের শতবছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি করে ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল উরুগুয়েতে।
সেই বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়ানো যায় কি না তা নিয়ে গত ৬ মার্চ অনলাইনে সভা করে ফিফা।
সম্প্রতি উয়েফার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সেফেরিন জানিয়েছেন, এটা বাজে পরিকল্পনা।
সেফেরিনের এমন মন্তব্যর পর নিশ্চয়ই ফিফাতে আলোচনা হবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হবে কি না। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ৪৮ দলের হবে তাতে কারো দ্বিমত নেই। আগের থেকে বেড়েছে ১৬ দল। আগামী বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়।

‘আসল যুদ্ধের’ বাস্তবতায় বাংলাদেশও
- ওয়ানডে নিয়ে আমাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার ছিল যে কিভাবে খেলতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদিক থেকে সবার ফোকাসটা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। সামনে আরো কমে যাবে। আমাদের উপায় নেই। আসল যুদ্ধে টিকে থাকতে গেলে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো করতেই হবে। -নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ওয়ানডে একসময় ভালো খেলত বাংলাদেশ। ‘একসময়’ বলার কারণ এখন আর সেভাবে এই সংস্করণে নিজেদের তারা মেলে ধরতে পারে না। নিকট অতীত অন্তত সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে। তাই বলে পেছনের সোনালি দিনগুলোও মুছে যায়নি।
এর একটি ব্যাখ্যাও আছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে, ‘৫০ ওভারের সংস্করণটি আমাদের সঙ্গে খুব যেত। কারণ টেস্ট ক্রিকেট খেলতে গেলে যেসব দক্ষতা থাকা চাই, এই সংস্করণে এর শতভাগ দরকার পড়ে না। আবার টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য যে ধরনের শারীরিক সক্ষমতা ও গতি থাকা দরকার, সেদিকটাতেও আমরা পিছিয়ে আছি।
অবচেতনেই হোক বা সচেতনে, তিনিও বলছেন যে ‘পারত’। এখন এই না পারার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে এই সংস্করণে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার কোনো বিকল্প নেই।
এই চর্চা অবশ্য নতুন নয়।
অবশ্য বর্তমান বাস্তবতায় ওয়ানডে আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমনকি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছেও। প্রায়ই এই আলোচনাও উঠতে শোনা যায় যে চার বছরে ওয়ানডে বলতে শুধু একটি বিশ্বকাপই হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দুই পক্ষ চাইলেই শুধু ওয়ানডে জায়গা পেতে পারে। এসব আলোচনাকে অবাস্তবসম্মত বলেও মনে হয় না ফাহিমের, ‘এমন আলোচনা বাস্তবসম্মতই। এখন সব কিছুকে সমানভাবে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। অগ্রাধিকারের কথা বললে এখানে প্রথমে আসে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির কথাই। তারপর হয়তো ৫০ ওভারের সংস্করণের কথা আসে। এ জন্যই হয়তো ওয়ানডেটা একটু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এই মুহূর্তে।’
নিজেদের অগ্রাধিকারও বদলানোর সময় এসে গেছে বলে মনে করেন ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান, ‘(টেস্টে বাংলাদেশ যে অবস্থায় আছে) এখান থেকে বের না হয়ে কোনো উপায় নেই। ক্রিকেটে ভালো করতে গেলে এই সংস্করণে ভালো করতেই হবে। এই জায়গাটায় আমরা গুরুত্ব দেব।’ আসল যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ক্রমেই গুরুত্ব হারাতে থাকা ওয়ানডের বাস্তবতাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখেন না তিনি, ‘ওয়ানডে নিয়ে আমাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার ছিল যে কিভাবে খেলতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদিক থেকে সবার ফোকাসটা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। সামনে আরো কমে যাবে। আমাদের উপায় নেই। আসল যুদ্ধে টিকে থাকতে গেলে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো করতেই হবে।’

দুই হাতে বোলিং করে উইকেট নিয়ে আইপিএলে রেকর্ড শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডারের
ক্রীড়া ডেস্ক

কামিন্দু মেন্ডিসকে সব্যসাচী ক্রিকেটার বললে ভুল হবে না। কেননা দুই হাতেই বোলিং করতে পারদর্শী তিনি। সঙ্গে ব্যাটিংটাও ভালো পারেন বাঁহাতি ব্যাটার। গতকাল ইডেন গার্ডেনসে এমন দক্ষতা দেখিয়ে রেকর্ডও গড়েছেন শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার।
আইপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে দুই হাতে বোলিং করার কীর্তি গড়েছেন কামিন্দু। সেটিও আবার আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে। শুধু কি ওভার করেই নিজের কাজ সেরেছেন তিনি, সঙ্গে একটি উইকেটও নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটার। গতকাল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষেই এই কীর্তি গড়েছেন শ্রীলঙ্কার তিন সংস্করণের একাদশের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠা এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচে অবশ্য একটি ওভারই করেছেন কামিন্দু। ১৩তম ওভারের তিনটি করে বল বাম ও ডান হাতে করেছেন তিনি। সেই ওভারের চতুর্থ বলে সতীর্থ হার্শাল প্যাটেলের দারুণ এক ক্যাচে অঙ্কৃশ রঘুবংশীকে আউট করেন শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার। এমন কীর্তি দিনে অবশ্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি।
দুই হাতে বল করার অভ্যাসটা শৈশব থেকেই করে আসছেন কামিন্দু। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে এসে দুই হাতে বোলিং করে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা পরে জাতীয় দলেও দেখিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য দুই হাতে বল করা প্রথম ক্রিকেটার কামিন্দু নন, এমনকি শ্রীলঙ্কারও নন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন বাংলাদেশের নারী দলের সাবেক প্রধান কোচ হাশান তিলকরত্নে। আর দুই শ্রীলঙ্কানের আগে এই কীর্তি গড়েছেন মোহাম্মদ হানিফ।
১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই হাতে বল করেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার হানিফ। কিংস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেদিন ৩৬৫ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স। ১৯৯৪ সালের আগ পর্যন্ত টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস ছিল সেটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেন্ট জনসে ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলে পূর্বসূরীর রেকর্ড ভাঙেন ওয়েস্ট ইন্ডিজির আরেক কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।

‘বড় ইনিংস খেলে সমালোচকদের মুখেই প্রশংসা শুনবেন রোহিত’
ক্রীড়া ডেস্ক

সময়টা বড্ড বাজে যাচ্ছে রোহিত শর্মার। জাতীয় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলিয়ে সর্বশেষ ৯ ইনিংসে করতে পেরেছেন মাত্র এক ফিফটি। সেই ফিফটিই এসেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে। এরপর আগে পরে শুধুই রান খরা গেছে তার ব্যাটে।
আইপিএলে সেই বাজে ফর্ম চলমান থাকায় রোহিতকে শুনতে হচ্ছে নানান রকমের সমালোচনা। ভারতের সাবেক ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মতে, ভারতীয় অধিনায়কের সময় ফুরিয়েছে এসেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন জানিয়েছেন, নামটা রোহিত বলেই তিনি মুম্বাইয়ের একাদশে এমন বাজে পারফরম্যান্সের পরও সুযোগ পাচ্ছেন।
সমালোচনা শুনে রোহিত কোনো জবাব না দিলেও তার হয়ে যেন ‘ব্যাট’ চালালেন কাইরন পোলার্ড।
রোহিত খুব শিগরিই ছন্দে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন পোলার্ড। তিনি বলেছেন, ‘অনেক সময় আসে যখন আপনি অল্প রানে আউট হবেন... তবে সে ব্যক্তি হিসেবে নিজের ক্রিকেট উপভোগ করছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাপের মুখেও পড়ে না।
ক্রিকেটে সে কিভাবে নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে তার ইতিহাসও কিছুটা তুলে ধরেছেন পোলার্ড।
এখন দেখার বিষয় এক সময়কার মুম্বাই সতীর্থ ও বর্তমানে গুরুর ভূমিকায় থাকা পোলার্ডের মুখের কথা ব্যাটে আনতে পারেন কি না রোহিত। এর জন্য অবশ্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না তাকে। আজই সেই সুযোগ পাচ্ছেন তিনি, লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে।