বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এদিন ভারতীয় গণমাধ্যম মিন্ট ‘বাংলাদেশের নির্বাচন : ভারতের জন্য শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার অর্থ কী?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান নির্বাচনকে পঞ্চমবারের মতো শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
মিন্টের প্রতিবেদন
ভারতের জন্য শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার অর্থ কী?
অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন ভারতসহ অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরো দৃঢ় হয়েছে। বর্তমান জাতীয় নির্বাচনে তাঁর জয় ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মিন্ট বলছে, দুটি দেশ একটি দীর্ঘ সীমানা ভাগ করে, যার অর্থ হলো দুটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা তাদের প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নদী, পুকুর, কৃষিক্ষেত্র, গ্রাম, এমনকি ঘরবাড়ির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত রয়েছে। যার ফলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সীমান্ত পাহারা দেওয়া কিছুটা কঠিন।
গণমাধ্যমটি আরো বলছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তাঁর মেয়াদে বিদ্রোহী, সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির মাধ্যমে ভারতকে নিরাপত্তার বোঝা কমাতে সাহায্য করেছেন। ইউরেশিয়া রিভিউ অনুসারে, বাংলাদেশ ‘গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছে’।
এদিকে ভারত একে অপরের সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবেলায় সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করে।
মিন্টের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের আগের সরকারগুলো নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত সরকারকে এতটা সমর্থন করেনি। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া সরকারের আমলে সন্ত্রাসবাদ ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।
এর আগে ভারতের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০০৪-০৫-এর উদ্ধৃতি দিয়ে মিন্ট প্রতিবেদন করেছিল, ‘ভারত সময়ে সময়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও’ বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপের বিষয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেছে’।
সম্পর্কিত খবর

পছন্দ না হওয়ায় ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হবু বরকে হত্যাচেষ্ট্রা তরুণীর
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুণেতে পরিবারের পছন্দ করা পাত্রকে পছন্দ না হওয়ায় হওয়ায় ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হবু বরকে হত্যাচেষ্ট্রার অভিযোগ উঠেছে ময়ূরী ডাংড়ে নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ওই তরুণী পলাতক রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বুধবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইয়াভাত থানা পুলিশের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, সম্প্রতি ভারতের পুণের অহল্যানগরের বাসিন্দা ময়ূরী ডাংড়ে নামের ওই তরুণীর সঙ্গে জলগাঁওয়ের বাসিন্দা সাগর জয় সিংহের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক করা হয়। কিন্তু ওই তরুণী ওই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তাই তিনি সন্দীপ গাওড়ে নামের এক পেশাদার খুনিকে ভাড়া করেন হবু বরকে হত্যা করার জন্য। ওই পেশাদার খুনিকে অগ্রিম দুই লাখ ১৪ হাজার টাকাও দেন ওই তরুণী।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী সাগর জলগাঁওয়ের একটি হোটেলে রান্নার কাজ করতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় পুণে-শোলাপুর হাইওয়ের উপর দৌন্ড তালুকের পাশে হামলার শিকার হয় তিনি। এ সময় হামলাকারীরা লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। সাগর গুরুতর আহত হলে তাকে সেখান ফেলে চম্পট দেন দুষ্কৃতীরা।
এ ব্যাপারে ইয়াভাত থানার সহকারী পরিদর্শক মহেশ মানে বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ময়ূরী পলাতক রয়েছে।’

ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নজরদারি করবে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ও অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রশাসনের সমালোচকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। গেল ২৫ মার্চ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো দীর্ঘ এক বার্তায় রুবিও এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সই করার ৯ সপ্তাহ পর। সেই আদেশের মাধ্যমে কিছু বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করার অভিযান শুরু হয়। এরমধ্যে ‘মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতির প্রতি বৈরী মনোভাব’ থাকতে পারে- এমন ব্যক্তি রয়েছেন।
ট্রাম্প আরো একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে তিনি ‘বিরোধী মনোভাবসম্পন্ন’ বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে বলেন, বিশেষ করে যারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
রুবিওর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন পাঠানো হয়েছে প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিটের কাছে। বিশেষ এই ইউনিট ওই শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপরতা যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত মিললে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিট সাধারণত দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার শাখার অংশ, যা ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং করতে সহায়তা করে।
বার্তায় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিলের মানদণ্ড সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সিবিএস নিউজে ১৬ মার্চ দেওয়া রুবিওর এক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের দেশে এমন কাউকে চাই না, যারা অপরাধ করবে বা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এটা খুবই সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যারা অতিথি হিসেবে আমাদের দেশে আসে, কারণ ভিসা হলো অতিথি হয়ে থাকার অনুমতি।’
বার্তায় আরো বলা হয়, যেসব আবেদনকারীর আচরণ বা কর্মকাণ্ড দেখাবে যে তারা ‘মার্কিন নাগরিক বা মার্কিন সংস্কৃতির (সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতি) প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে, তাদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে।
বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি করা হবে।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ
দরিদ্রতম দেশগুলোর জন্য ট্রাম্পের শুল্কনীতি ‘বিপর্যয়কর’
অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন পারস্পরিক শুল্ক বিশেষভাবে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে চলেছে, ফলে তাদের শ্রমনির্ভর রপ্তানি শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সুবিধা হ্রাস পাবে।
বুধবার ঘোষিত ট্রাম্পের শুল্কহার অনুযায়ী, কম্বোডিয়াকে এশিয়ার সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে। পোশাক উৎপাদনের বৃহৎ দেশ বাংলাদেশকে ৩৭ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে মায়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যেখানে গত সপ্তাহের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প যখন বলেন, ‘ওহ, দেখুন কম্বোডিয়াকে, ৯৭ শতাংশ’, তখন তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির আরোপিত শুল্কের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। এতে হাসির রোল ওঠে। তিনি আরো বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একজন কম্বোডিয়ান গড়ে দিনে প্রায় ৬.৬৫ ডলার উপার্জন করেন, যা বৈশ্বিক গড়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রকল্পগুলো বন্ধ করার পর আরো ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এই সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই মায়ানমার ও আফ্রিকাজুড়ে অনুভূত হচ্ছে, যেখানে চীন দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে। হিনরিচ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতির প্রধান ডেবোরা এলমস বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়।
অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেত। কারণ তারা ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। এখন তারা ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারে, কারণ চীনে চাহিদা দুর্বল।
যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্কহার নির্ধারণ করেছে একটি ফর্মুলা অনুযায়ী, যা নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে মোট রপ্তানির সঙ্গে ভাগ করে।
এই পদ্ধতির কারণে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ও ভ্যানিলা উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় মাদাগাস্কার ৪৭ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে।
আফ্রিকায় প্রভাব
দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যমন্ত্রী পার্কস তাউ বৃহস্পতিবার বলেন, তার দল বুঝতে পারছে না কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার শুল্কহার ৬০ শতাংশ হিসাবে নির্ধারণ করল, যেখানে এখন আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। প্রিটোরিয়ার নিজস্ব হিসাবে এ হার মাত্র ৭.৬ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কেবল অনুমান করতে পারি, যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবের ভিত্তিতে বাণিজ্য ভারসাম্য ও অন্যান্য কারণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, কিন্তু বর্তমানে আমাদের জন্য এটা পরিষ্কার নয়।’
২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪.২ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল, যা তার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তাউ বলেন, লেসোথোর ওপর আরোপিত শুল্ক এই ২.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশকে ‘আক্ষরিক অর্থে ধ্বংস’ করবে, যা মূলত হীরার ও পোশাকের রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে প্রধানত হীরার রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল বতসোয়ানার ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেশটির খনিজসম্পদ মন্ত্রী গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এই রত্নপাথরের বিক্রির প্রচার চালানোর জন্য। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী কোকো উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশ আইভরি কোস্টের ওপর ২১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বাণিজ্যনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সহায়তা ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের জন্য সংহত করতে উৎসাহিত করেছিল। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্ট’ চালু করেন, যা এক হাজার ৮০০-এর বেশি পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছিল।
চীনের প্রভাব
এশিয়ার অনেক দেশের জন্য, বিশেষ করে কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিকনির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশটি তার বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের ওপর ক্রমে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
কম্বোডিয়ার প্রধান দুই বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও যুক্তরাষ্ট্র, তবে দেশটি ইতিমধ্যে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে, যা বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কম্বোডিয়ার মোট বাণিজ্য ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই কম্বোডিয়ায় উৎপাদিত পোশাক ও জুতা, যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়।
এ ছাড়া পোশাক রপ্তানির জন্য মার্কিন বাজারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশও শুল্ক কমানোর উপায় খুঁজছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুততার সঙ্গে শুল্ক যৌক্তিকীকরণের বিকল্পগুলো চিহ্নিত করছে।’
২০২২ সালের সার্বভৌম ঋণখেলাপির পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কার রপ্তানিকারকরা বলেছেন, তারা ৪৪ শতাংশ শুল্ক বহন করতে পারবে না। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার মোট রপ্তানির ২৩ শতাংশ গ্রহণ করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হিসাবের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ এটি দরিদ্র দেশগুলোর ওপর ভারসাম্যহীন প্রভাব ফেলছে। ওভারসিজ-চায়নিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের এশিয়া ম্যাক্রো গবেষণা প্রধান টমি শি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে এটি ছোট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, যেমন কম্বোডিয়া, যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্যাপ্ত আমদানি করার সামর্থ্য রাখে না।’
এশীয় দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের কারণে সস্তা চীনা পণ্যের স্রোত নিয়ে উদ্বিগ্ন। এলমস বলেন, ‘চীনের পণ্যগুলোকে নতুন বাজার খুঁজতে হবে, যা স্বল্প মেয়াদে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।’

বিবিসির বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের শুল্কারোপ ১০০ বছরে বিশ্ববাণিজ্যে বৃহত্তম পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক হবে। এটি প্রতিফলিত হবে মার্কিন শুল্ক আয়ের গ্রাফের রেখায়, যা এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি—এমনকি বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের উচ্চমাত্রার রক্ষণশীল বাণিজ্যনীতির সময়ও না। এটি প্রকাশ পাবে রাতারাতি শেয়ারবাজারের পতনে, বিশেষ করে এশিয়ায়।
মূলত এটি একটি সর্বজনীন শুল্ক, যা শুক্রবার রাতে কার্যকর হতে যাওয়া সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ হারে প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি ‘সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের’ জন্য তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক ধার্য করা হবে।
এ ছাড়া এশীয় দেশগুলোর ওপর শুল্কের প্রভাব হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তাহলে কি এটি শুধুই একটি বড় কৌশলগত দর-কষাকষি? মার্কিন প্রশাসন তাদের পরিকল্পিত কর হ্রাসের জন্য এই শুল্ক রাজস্ব ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
নতুন শুল্কনীতির কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পাল্টা শুল্ক’ কাঠামো মূলত যেকোনো দেশকে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দণ্ডিত করছে, যদি সেই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত রাখে, অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করে। এমনকি কোনো উদ্বৃত্ত না থাকলেও ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করে।
একটি সুস্থ বাণিজ্য ব্যবস্থায় ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত সাধারণ বিষয়, যেখানে দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন দক্ষতা অনুযায়ী বিশেষায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বাণিজ্যিক ভারসাম্যের মৌলিক যুক্তি সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। কিন্তু কারখানা স্থানান্তর করতে অনেক বছর লাগবে। এশিয়ার ওপর আরোপিত ৩০-৪০ শতাংশ শুল্কের ফলে পোশাক, খেলনা ও ইলেকট্রনিকসের দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী হবে?
কিছু ইউরোপীয় ভোক্তা পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধা পেতে পারে। তবে যখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছে, তখন অন্য বৃহৎ অর্থনীতিগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে পারে।
টেসলার বিক্রির পতন থেকে বোঝা যায়, এটি শুধু সরকারের প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়; বরং ভোক্তারাও এর জবাব দিতে পারেন। এটি হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক নতুন ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ।
ইউরোপ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা আর মার্কিন ব্র্যান্ডের ভোক্তাপণ্য কিনবে না, যা এত দিন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া এই শুল্কবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। ফলাফল হিসেবে বিশ্বব্যাপী একটি বিশৃঙ্খল বাণিজ্যযুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণটি লিখেছেন বিবিসির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম