ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে গিয়ে তরুণীকে ৪ বন্ধুর ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে গিয়ে তরুণীকে ৪ বন্ধুর ধর্ষণ
সংগৃহীত ছবি

ভালোবাসা দিবসে মামাতো বোনের বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন এক তরুণী। সেখানে তাকে চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। ইতিমধ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ তদন্তও শুরু করেছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুর্গাপুরের ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই আসানসোলের বার্নপুরে মামার বাড়িতে থাকতেন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মামাতো বোনের বন্ধুদের সঙ্গে তিনি বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিহারীনাথ পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। মামাতো বোনের বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন চার তরুণ এবং চার তরুণী।

সেখানে দুর্গাপুরের ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরো পড়ুন
যে কারণে পুরুষের একা প্রবেশ নিষিদ্ধ করল জাপানের এক চিড়িয়াখানা

যে কারণে পুরুষের একা প্রবেশ নিষিদ্ধ করল জাপানের এক চিড়িয়াখানা

 

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রের খবর, বাঁকুড়ায় তরুণীকে ধর্ষণের পরেই সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন চার অভিযুক্ত যুবক। এর পর শুক্রবার তরুণীর বন্ধুরাই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বাড়ি ফিরে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়ার পরেই পরিবারের লোকেদের সন্দেহ হয়। তরুণী বাড়িতে সব কথা জানানোর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন পরিবারের লোকেরা। এর পর পুলিশের কথামতো তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত চারজন আসানসোলের বাসিন্দা। তারা সবাই পলাতক।
তাদের মধ্যে একজনের মা-বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা উড়ছে। ফাইল ছবি : এএফপি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পছন্দ করবেন বলে মন্তব্য করার পর সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে কূটনীতি ও আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে বোমা হামলার হুমকিও দেন ট্রাম্প। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ করতে আগ্রহী। তিনি যুক্তি দেন, ‘আমি মনে করি, এটি দ্রুত এগোবে এবং আপনি অন্য পক্ষকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, যদি আপনি মধ্যস্থতাকারীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কথা বলেন।’

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবার বললেন, ‘যে পক্ষ জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে বলপ্রয়োগের হুমকি দেয় এবং তার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে, তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে অর্থহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরোক্ষ আলোচনার পথ চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’

আরাঘচি বলেন, ‘ইরান সম্ভাব্য সব ঘটনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বারোপ করে, তেমনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বারোপ করবে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার বলেছেন, তার দেশ ‘সাম্যের ভিত্তিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে আগ্রহী।

তিনি আলোচনার আহ্বানে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি আপনি আলোচনা চান, তাহলে হুমকি দেওয়ার অর্থ কী?’

পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো কয়েক দশক ধরে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। ইরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান হোসেইন সালামি শনিবার বলেছেন, দেশ যুদ্ধের জন্য ‘প্রস্তুত’। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিকে (ইরনা) তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। আমরা যুদ্ধের সূচনাকারী হবো না, তবে আমরা যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

২০১৫ সালে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের সেই চুক্তি করা হয় নিশ্চিত করতে, যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে কড়াকড়ির বিনিময়ে দেশটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। তার এক বছর পর ইরান চুক্তিতে তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি সোমবার সতর্ক করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় না, তবে যদি তার দেশের ওপর হামলা হয়, তাহলে ‘তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না’।

মন্তব্য

দক্ষিণ সুদানের সব ভিসা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
দক্ষিণ সুদানের সব ভিসা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি : এএফপি

দক্ষিণ সুদানের সব পাসপোর্টধারীর ভিসা বাতিল ও নতুন আগমনকারীদের আটকে দিচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আফ্রিকান দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়া নাগরিকদের গ্রহণ করছে না। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি রবিবার এ খবর জানিয়েছে।

রুবিও স্থানীয় সময় শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘দক্ষিণ সুদানের সব পাসপোর্টধারীর ভিসা বাতিল করার ও প্রবেশ রোধে ভিসা ইস্যু রোধ করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অভিবাসনবিরোধী প্ল্যাটফরমে প্রচারণা চালিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে এটিই ছিল প্রথম কোনো নির্দিষ্ট দেশের সব পাসপোর্টধারীর আলাদা করে রাখার পদক্ষেপ।

বিশ্বের নবীনতম ও দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম দক্ষিণ সুদান বর্তমানে রাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার। রুবিও দক্ষিণ সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নেওয়ার’ অভিযোগ করে বলেন, যখন কোনো দেশ কাউকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে চায়, তখন প্রত্যেক দেশকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের যথাসময়ে গ্রহণ করতে হবে।

রুবিও আরো বলেন, ‘দক্ষিণ সুদান পূর্ণ সহযোগিতা করলে, ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করতে প্রস্তুত থাকবে।

এএফপি বলছে, এই পদক্ষেপ এমন এক সময় এলো, যখন পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গৃহযুদ্ধের মতো করে দক্ষিণ সুদান পুনরায় গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পরতে পারে। ওই যুদ্ধে চার লাখ মানুষ নিহত হয়।

ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসন দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস)’ প্রদান করে, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র টিপিএস প্রদান করে, যা মানুষকে নির্বাসন থেকে রক্ষা করে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, টিপিএস প্রগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ সুদানের নাগরিক ছিলেন প্রায় ১৩৩ জন ও আরো ১৪০ জন আবেদন করার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন টিপিএস মর্যাদা বাতিল করতে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার ৬ লক্ষাধিক নাগরিকের সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে। দক্ষিণ সুদান থেকে আফ্রিকানদের ক্রমবর্ধমানসংখ্যক লোকের প্রবেশের চেষ্টার পর ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ সুদানকে আলাদা করে রাখার সিদ্ধান্ত নিল।

এসব অভিবাসী ইউরোপে ঝুঁকিপূর্ণ পথের বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

মন্তব্য

শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ১৯৫তম স্থানে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ১৯৫তম স্থানে পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় পাকিস্তান একেবারে নিচের দিকের দেশগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে।  ১৯৯টি দেশের ওপর করা এই জরিপে পাকিস্তানের অবস্থান ১৯৫তম।

বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ, নাগরিক অধিকার ও কর সুবিধার নিরিখে কোন দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী—সে বিষয়টি প্রতিবছর মূল্যায়ন করে থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা নোমাড ক্যাপিটালিস্ট। 

শুক্রবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের জন্য হালনাগাদ করা তাদের সর্বশেষ সূচকে উঠে এসেছে এই তথ্য।

এবারের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা পেয়েছে আয়ারল্যান্ড।

তালিকায় ৩২ স্কোর পেয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্টের অবস্থান ১৯৫তম স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিশ্বের ৪৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। 

নোমাড ক্যাপিটালিস্টের তালিকায় শীর্ষে থাকা আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্ত স্কোর ১০৯।

এ দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

মন্তব্য

মার্কিন শুল্ক পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মার্কিন শুল্ক পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই শুল্কনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও সেই কাতারে পড়েছে। 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশনের খবরে বলা হয়, এখন পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত পণ্যের ওপর ২৯% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হওয়ায়, এই পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্য কৌশলে বড় রকমের পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হবে পাকিস্তানের। 

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি পাকিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১.৫%, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির মতো খাতে, যা বহুদিন ধরে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল। এই দেশের বাজার হারানো পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলবে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যে এত দিন উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক দিন ধরেই এটা চলে আসছে, যেমন ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে ৯০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে—এখন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ। বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ রেখেছে—এখন আমাদের পণ্যে তার অর্ধেক বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল, এখন তাদের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক বা ২৬ শতাংশ।

পৃথিবীর সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে; কারণ তারা পরাশক্তি, এবং এই উচ্চ শুল্ক ছিল তার এক ধরনের মাশুল। এখন ট্রাম্প সেটা মানবেন না। তাই তিনি এই শুল্ক আরোপ করেছেন। 

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই শুল্ক ঘোষণার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক বিশ্বকে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

তবে এটাকে পাকিস্তানের একটি জাগরণী সংকেত হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পাকিস্তান যাতে এই ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য দেশটিকে জরুরি ভিত্তিতে তার বাণিজ্য সম্পর্ককে বৈচিত্র্যময় করতে হবে, নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে এবং বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে আরো শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ