ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে যেসব ‘মূল কারণ’ রয়েছে বলে মস্কো মনে করে, সেগুলোর মীমাংসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া মেনে নিতে পারে না।
গত মঙ্গলবার রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার কিছু মূল দাবির প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর এমন মন্তব্য করল মস্কো।
রিয়াবকভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত মডেল ও সমাধানগুলো আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি; কিন্তু বর্তমানে সেগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে আমরা মেনে নিতে পারি না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সমঝোতা আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের আলোচনার পর ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে মতৈক্য হয়।
তবে তা নাকচ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার পুতিনের প্রতি নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিরক্ত। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ বলেছেন, ‘আজ আমাদের কাছে যা আছে, তা হলো এমন কিছু কাঠামো খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা, যা প্রথমে যুদ্ধবিরতির অনুমতি দেবে।
যত দূর দেখতে পাচ্ছি, আমাদের মূল দাবির কোনো স্থান নেই এখানে। অর্থাৎ এই সংঘাতের মূল কারণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা মীমাংসার উদ্যোগ নেই।’
রাশিয়ার কর্মকর্তারা বারবার এই যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ শব্দগুলো ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে গত বছরের জুনে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল থেকে দেশটির বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১০ কোটি ইউরো হলো সহজ শর্তে ঋণ এবং ৪০ কোটি ইউরো অনুদান। এই সাহায্য হলো ইইউয়ের ইউক্রেন ফ্যাসিলিটি প্রোগ্রামের অংশ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইইউ পাঁচ হাজার কোটি ইউরো সাহায্য দেবে ইউক্রেনকে। এখন পর্যন্ত কিয়েভ এক হাজার ৬০০ কোটি ইউরো পেয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করবে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে রাশিয়ার ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর মস্কোর সম্পদ অবরুদ্ধ করা শুরু হয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, ডয়চে ভেলে