মৃত বাবার ঋণের মামলায় নাবালক তিন সন্তান আসামি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
শেয়ার
মৃত বাবার ঋণের মামলায় নাবালক তিন সন্তান আসামি
অবুঝ শিশু জান্নাতুল নাঈমা আর আহমাদুল্লাহর একমাত্র ভরসা বড় বোন আইরিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ওদের মায়ের জামিন করাতে আদালতে ঋণের সাত লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অভাগা নাতি-নাতনিরা এখনো ঠিকমতো টাকা, ঋণ ও লেনদেনের অর্থই বোঝে না। মামলায় তাদের বয়স লুকিয়ে আসামি করা হয়েছে। নাই জমিজমা, নাই ভিটেমাটি।

সহায়-সম্বল হারিয়ে তিন-তিনটি এতিম শিশু নিয়ে এমনিতেই দিশেহারা অবস্থা আমার। আমার মেয়ে পপি খাতুন জেলে যাওয়ার পর আমার কাছে আশ্রয় নিয়েছে তিনটি অবুঝ শিশু। আমি দিনমজুর। নিজেরই সংসার চলে না তার ওপর যুক্ত হয়েছে মেয়ের এতিম তিন নাবালক সন্তান।
গত রবিবার বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর বাজারের খান প্লাজায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ সিরাজ শেখ।

জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদরের পোলট্রি মুরগি ব্যবসায়ী আমিন শেখ-পপি খাতুন দম্পতির নাবালক তিন শিশু আইরিন (১০), আহমাদুল্লাহ (৫) আর জান্নাতুল নাঈমা (৪)। তাদের বাবা ঋণের দায়ে ব্র্যাক ব্যাংকের দায়ের করা অর্থঋণ মামলার আসামি ছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মারা যান আমিন শেখ।

স্বামীর মৃত্যুর দুই বছর পর ওই মামলায় পপি খাতুনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় তিনি দুই মাস ধরে জেলহাজতে আছেন। আমিন শেখ ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় কিস্তিতে সুদে-আসলে ছয় লাখ ২১ হাজার ৩৭৮ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা জজ ১ম অর্থঋণ আদালতে মৃত আমিন শেখের স্ত্রী পপি খাতুন, তিন নাবালক শিশুসন্তানসহ ছয়জনের নামে মামলা করে ব্যাংক।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বোয়ালমারী শাখার ব্যবস্থাপক রাসেল আহমেদ বলেন, শর্তাবলি মেনেই ঋণের টাকা অনাদায়ে জামিনদার ও ওয়ারিশদের নামে মামলা হয়েছে। বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের আসামি করা তামাদি আইন সমর্থন করে না।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

শেয়ার
শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

শেয়ার
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।

এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি।

আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে তারাই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।

প্রশাসনের আশ্বাসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে আসি ঈদ করতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

মন্তব্য
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ

শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ