ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬
দুদকের অভিযান

বিসিএসআইআর ও বাংলা একাডেমিতে ‘দুর্নীতির প্রমাণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বিসিএসআইআর ও বাংলা একাডেমিতে ‘দুর্নীতির প্রমাণ’

বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) অভিযান চালিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট টিম ওই দুটি অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে বাংলা একাডেমিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালে তৎকালীন মহাপরিচালক নুরুল হুদাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাকরির আবেদন ফরম থেকে শুরু করে পদে পদে দুর্নীতি করেছেন। এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ১০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৮০ জনের বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলা একাডেমি। ৫০ হাজার নিয়োগপ্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত দুই কোটি টাকা জমা হয়।
এর মধ্যে অর্ধকোটি টাকা নেন মহাপরিচালক ও নিয়োগ কমিটির অন্যরা। একইভাবে চার হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হলেও মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয় ৫০০ জনকে। আর ফল প্রকাশ না করেই ১৭৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়োগ দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট টিম পরে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

অন্যদিকে নিয়োগ ও গবেষণায় অনিয়ম, পুরস্কার জালিয়াতিসহ বিভিন্ন আর্থিক এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগে বিসিএসআইআরে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে টানা ১৬ বছরের মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের প্রিয়ভাজনরা বিসিএসআইআরে উচ্চপদে বহাল ছিলেন। আইনের ব্যত্যয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ড. মো. আফতাব আলী শেখকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া  হয়।

এ ছাড়া জয়পুরহাটের প্রকল্প চলাকালে মন্ত্রী তাঁর পিএস কায়েছুজ্জামান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পরিচালক জয় মোর্শেদ ও নাজিম জামানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. শোয়েবের নেতৃত্বে আরেকটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়োগ দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

শেয়ার
শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

শেয়ার
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।

এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি।

আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে তারাই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।

প্রশাসনের আশ্বাসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে আসি ঈদ করতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

মন্তব্য
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ

শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ