দেশে চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের ১৭তম দিনে সারা দেশে ৬৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এলজি, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে গত সোমবার দুপুর থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৯৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র এ তথ্য দেয়।
এদিকে সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, জননিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রাজধানীতে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিএমপিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে সমন্বিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে গত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় ৫০০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ৫৪টি পুলিশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির টহল টিমের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে সিটিটিসির সাতটি, এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) চারটি এবং র্যাবের ১০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এর বাইরে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এপিবিএনের পক্ষ থেকে ৩১টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
এদিকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাত ও অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে দেশব্যাপী রোবাস্ট প্যাট্রল, চেকপোস্ট স্থাপনসহ আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করেছে এলিট ফোর্স র্যাব।
জিরো টলারেন্সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী : দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান।
সমাজে স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার বা কারা অধিদপ্তর হোক, যারা ঠিকমতো কাজ করবে না, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধে সোমবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।