ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬
জাবির ‘ধর্ষণকাণ্ড’

আপসে ঘটে, অনুতপ্ত তরুণী!

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
শেয়ার
আপসে ঘটে, অনুতপ্ত তরুণী!

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হলে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে তাঁর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একমাত্র আসামি মামুনুর রশিদ ছাড়া সবাই জামিন পেয়েছেন। তবে ১৯ বছর বয়সী তরুণীর সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনাটি আপসে ঘটেছে এবং এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে ও তাঁর স্বামী অনুতপ্ত উল্লেখ করে আদালতে হলফনামা দিয়েছেন।

তদন্তের সময় এক বছর পার হলেও আশুলিয়া থানা পুলিশ আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। 

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে দেখতে হবে ভিকটিমের সম্মতিতে এ ঘটনা ঘটেছে কি না বা আসলেই ধর্ষণ ছিল, না ছিল না। যদি ধর্ষণের বিষয়টি উঠে আসে তাহলে ভাবতে হবে তিনি সামাজিক বা আসামিদের চাপে বা ভয়ে এই হলফনামা দিয়েছেন। তবে এই হলফনামা গ্রহণ করার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত আগামী ২০ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ও ২৪ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে পৃথক হলফনামা দাখিল করেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বামী। একটিতে উল্লেখ করা হয়, আসামি মামুনের ভুলের কারণে এই মামলা হয়েছে। আসামি মো. সাব্বির হাসান সাগর, সাগর সিদ্দিক ও হাসানুজ্জামান মামলার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

ঘটনার দিন বা ঘটনার আগে-পরে কখনোই আমরা তাঁদের দেখিনি, কেন তাঁদের এ মামলায় সম্পৃক্ত করেছেন তাও জানি না। আসামি মো. মুরাদের সঙ্গে ঘটনার দিন তরুণীর স্বামীর পরিচয় হলেও তিনি জোর করে তাঁকে আটকে রাখেননি বা কোনো হুমকি দেননি। আসামিদের অব্যাহতি বা খালাস পাওয়ার ব্যাপারে অনাপত্তি জানাচ্ছি।

আরেকটি হলফনামায় বলা হয়, মামলার অনেক দিন পর তরুণী তাঁর স্বামীর কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি স্বেচ্চায় মামুনের সঙ্গে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়েছিলেন। সেখানে মোস্তাফিজুর রহমান ও মামুনুর রশিদের সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনাটি আপসে হয়।

মামুন তাঁর স্বামীকে জানিয়ে দেবেন বলায় তরুণী আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন।

মামলার আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, একই বিভাগের সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাব্বির হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মো. মুরাদ ও ভুক্তভোগীর পূর্ব পরিচিত মামুনুর রশিদ। মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

শেয়ার
শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

শেয়ার
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।

এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি।

আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে তারাই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।

প্রশাসনের আশ্বাসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে আসি ঈদ করতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

মন্তব্য
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ

শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ