ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

তিনের নামতা ভুলে...

  • মাসুদ পারভেজ
শেয়ার
তিনের নামতা ভুলে...

চাইলেই যখন-তখন ইউটিউবে ঢু মেরে শিহরিত হওয়ার মতো বজ্রকণ্ঠ শুনে আসতে পারেন। প্রতি বিশ্বকাপেই তো বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত জয়ের মুহূর্তে গর্জে ওঠেন কেউ না কেউ। কখনো সেই কণ্ঠ নাসের হুসেইনের, কখনো আবার ইয়ান বিশপের।

তিনের নামতা ভুলে...২০১৫-তে ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত করা অ্যাডিলেইড ওভালের সেই জয়ের ঘণ্টা যেন মাইক্রোফোনে আরো জোরেই বাজিয়েছিলেন নাসের, ‘বাংলাদেশ টাইগার্স হ্যাভ নকড দ্য ইংল্যান্ড লায়নস আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ! ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট ডেজ ইন বাংলাদেশ ক্রিকেট হিস্ট্রি, ওয়ান অব দ্য লোয়েস্ট পয়েন্ট ইন ইংলিশ হিস্ট্রি।

সেবার অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে ফেরা শূন্য থালা অবশ্য কানায় কানায় ভরিয়ে নিতে চার বছরই সময় লেগেছিল ইংল্যান্ডের। ওই হারের পর নিজেদের খেলার ধরন বদলে, অন্যভাবে নিজেদের মেলে ধরা দলটি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ শুরুই করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে! আর বাংলাদেশ? এত দিন পর পেছন ফিরে তাকিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার মতো সাফল্যকেও কিনা আর খুব ‘আহামরি কিছু’ বলে মনে হচ্ছে না খোদ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের।

কারণ যতই শেষ আটে খেলুক না কেন, সংখ্যায় জয় তো মাত্র তিনটিই। ২০১৯ সালে পরের আসরে এই তিনের চক্কর থেকে বের হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের শুরুটাও হৈচৈ ফেলে দেওয়ার মতোই হয়।

সেবার প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর গান আরো সুরে সুললিত হয়ে ওঠে বিশপের গলায়, ‘ভিক্টরি ফর বাংলাদেশ। হোয়াট আ ওয়ে টু স্টার্ট দিজ টুর্নামেন্ট অ্যান্ড ইটস অনলি আ রিকনফার্মেশন অব দেম অ্যাজ আ গ্রোয়িং ফোর্স ইন দ্য ওয়ার্ল্ড গেম।’

তিনের নামতা ভুলে...বিশ্বক্রিকেটের বাড়ন্ত সেই শক্তি যদিও শেষ পর্যন্ত আর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত বলে মনে করাতে পারে না। বরং বিশ্বকাপ যেন বাংলাদেশের জন্য অনেকটা তিনের নামতা শেখার আসরেই পরিণত হয়ে যায়।

তিন একে তিন, তিন দু গুণে ছয়, তিন তিনে নয়, তিন চারে বারো...। গত চার-চারটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই সমান তিনটি করে জয় এমন নিয়তি হয়ে গেছে যে কাউকে এখন আর তেমন গর্ব করে কিছু বলতেও শোনা যায় না।

যা শোনা যায়, তা এবার তিনের নামতা ভুলে আরো এগিয়ে যাওয়ার। আগের চার আসরের অতীত অবশ্য যতখানি ওপরে ওঠার, ঠিক ততখানি নেমে যাওয়ারও। এবার শুধুই উত্তরণের সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার আশায় ভরসা দিতে আছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিল।

যেটিতে তিনে থেকে শেষ করেছে বাংলাদেশ। আবার এটিও ঠিক যে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ১৫টি সিরিজ জিতে সরাসরি মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করা দলের কিছু পরীক্ষা হয়ওনি।

ওয়ানডে ক্রিকেটের ট্রেন্ডই এখন এমন যে সাড়ে তিন শ ছাড়ানো কিংবা চার শর কাছাকাছি ইনিংসের দেখা মিলছে নিয়মিতই। এই সেদিন সেঞ্চুরিয়নে ৪১৬ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো দলও। প্রতিপক্ষ এত বড় রানের পাহাড় গড়লে বাংলাদেশের কী অবস্থা হতে পারে, সে ধারণা গত বিশ্বকাপেও পেয়েছিল বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া যথাক্রমে ৩৮৬ এবং ৩৮১ রান করতেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল একরকম। তবে সম্প্রতি এত বড় রান তাড়ার চ্যালেঞ্জও নিতে দেখা গেছে অনেক দলকে। এই বিশ্বকাপে ভারতের ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া ও উইকেটে খেলার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যোগ হতে পারে এমন কিছুও। হলে কী করবে বাংলাদেশ?

ব্যাটিং বিকল্পের অনুসন্ধানে নিউজিল্যান্ড সিরিজে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশ্য খুব আশা দেখায় না। দলে লেগস্পিনার ও পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব নিয়ে আলোচনাও শুরুর আগেই পিছিয়ে রাখে বাংলাদেশকে। তবে পেস আর স্পিন মিলিয়ে জমাট বোলিং আক্রমণ হতাশায় বিলীন হতেও দেয় না। সে জন্য ব্যাটারদের যথাসময়ে গর্জে উঠলেই হবে।

তাঁরা বড় পুঁজি দিতে পারলে তিনের নামতার সিঁড়ি ভেঙে সামনে এগোনোর লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেন বোলাররাও!

 

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ

    রাহেনুর ইসলাম
শেয়ার
বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

গ্রুপ ম্যাচ, ১৯৭৫

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচএজবাস্টনে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান তুলেছিল ২৬৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগুনে বোলিংয়ের মুখে মাজিদ খান (৬০ রান), মুশতাক মোহাম্মদ (৫৫), ওয়াসিম রাজাদের (৫৮) দৃঢ়তায় জয়ের ভালো ভিতই পেয়েছিল পাকিস্তান। এরপর সরফরাজ নেওয়াজের চমৎকার বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের গলা চেপে ধরে পাকিস্তান। ৪৪ রানে ৪ উইকেট পাকিস্তানি এই পেসারের।

তাতেই ২০৯ রান করতে ক্যারিবীয়রা হারিয়ে ফেলে ৯ উইকেট। তখন হয়তো কেউই ভাবেনি যে এই ম্যাচ ২ বল এবং ১ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেবে তারা। উইকেটে তখন ডেরেক মারে। সঙ্গে শেষ ব্যাটার হিসেবে খেলতে নামা অ্যান্ডি রবার্টস।
শেষ উইকেট জুটিতে তাঁরা দুজন ৬৪ রান যোগ করে স্মরণীয় জয়টি এনে দেন দলকে। ৭৬ বলে মারে অপরাজিত ছিলেন ৬১ রানে। ওয়ানডেতে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর। অ্যান্ডি রবার্টস অপরাজিত ছিলেন ২৪ রানে।
তবে সেই ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন সরফরাজ।

 

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ

ভারত-অস্ট্রেলিয়া

গ্রুপ ম্যাচ, ১৯৮৭

গ্রুপ ম্যাচ হলে কী হবে, বিশ্বকাপ এলেই চিপকের সেই ম্যাচটির কথা আসে ঘুরেফিরে। এমন টান টান উত্তেজনার ম্যাচ খুব কমই দেখেছে বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেছিল মাত্র ১ রানে। জিওফ মার্শের সেঞ্চুরিতে (১১০) প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া করে ২৭০ রান।

ভারতের শুরু ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে ফেলে তারা। তবে ৫৬ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ফিরিয়ে আনেন ক্রেইগ ম্যাকডারমট। ম্যাচের আসল নাটকটা হয় শেষ ওভারে। স্টিভ ওয়াহর করা সেই ওভারে ৬ রানের প্রয়োজন ছিল ভারতের। প্রথম দুই বলে ৪ রান তুলে নেওয়ার পর সেটা আরো বেশি করে সম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু পঞ্চম বলে মানিন্দার সিংকে বিদায় করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন ওয়াহ।

 

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ

ভারত-ইংল্যান্ড

গ্রুপ ম্যাচ, ২০১১

রানের উৎসবই হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে। ভারতের ৩৩৮ রানের জবাবে ঠিক ৩৩৮ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। রুদ্ধশ্বাস এই ‘টাই’ ঠাঁই করে নিয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায়। শচীন টেন্ডুলকারের ১২০, গৌতম গম্ভীরের ৫১ আর যুবরাজ সিংয়ের ৫৮-তে ৪৬ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৩০৫। সেটা ৩৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু টিম ব্রেসনানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে (৪৮ রানে ৫ উইকেট) ১ বল বাকি থাকতে ৩৩৮ রানে থামে ভারত। জবাবে ৪৩তম ওভারে ২ উইকেটে ২৮০ করে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ৪৩তম ওভারে জহির খান অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (১৫৮) আর ইয়ান বেলের (৬৯) সঙ্গে ম্যাচে ফেরান ভারতকেও। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার পড়ে ২৯ আর শেষ ওভারে ১৪। গ্রায়েম সোয়ান ও আজমল শেহজাদ শেষ ওভারে মুনাফ প্যাটেলের প্রথম তিন বল থেকে নিয়েছিলেন ৯ রান। কিন্তু শেষ তিন বলে আর ৫ রান নেওয়া হয়নি। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। সোয়ান মিড অফে বল পাঠিয়ে ১ রান নেওয়ায় রুদ্ধশ্বাস ‘টাই’ হয় ম্যাচটি।

 

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচ

অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা

সেমিফাইনাল, ১৯৯৯

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচশুধু বিশ্বকাপ নয়, ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ এটা। বার্মিংহামে শন পোলক (৫ উইকেট) আর অ্যালান ডোনাল্ডের আগুনে পুড়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২১৩ রানে। ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২০০ পেরোয় স্টিভ ওয়াহর ৫৬ আর ‘দ্য ফিনিশার’ মাইকেল বেভানের ৬৫ রানে। জবাবে বিনা উইকেটে ৪৮ থেকে ‘চোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকা শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণিতে ৬১ রানে হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কঠিন হয়ে পড়ে ম্যাচটা। তবে ল্যান্স ক্লুজনারের ১৪ বলে ৩১ রানের ঝড়ে অনেকবার দিক বদলানো ম্যাচটি হাতের মুঠোয় এসে গিয়েছিল প্রোটিয়াদের। চার বলে দরকার মাত্র ১ রান, স্ট্রাইকে ক্লুজনার নিজে। অন্য প্রান্তে শেষ ব্যাটার অ্যালান ডোনাল্ড থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনালে ওঠা নিয়ে তখন আর কোনো সংশয়ের কারণ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ড। ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের চতুর্থ বলে হ্যাঁ-না-হ্যাঁ করতে করতে ওভার থ্রো থেকে একটি রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ডোনাল্ড। ডোনাল্ড ওপ্রান্তে যাওয়ার অনেক আগেই মিড অন থেকে মার্ক ওয়াহর থ্রো অ্যাডাম গিলক্রিস্টের হাত হয়ে ভেঙে দেয় উইকেট। ম্যাচটা ‘টাই’ হলেও আগের রাউন্ডে রান রেটে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া।

 

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড

ফাইনাল, ২০১৯

বিশ্বকাপের সেরা ৫ ম্যাচওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ম্যাচ ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। হেনরি নিকোলসের ৫৫, টম ল্যাথামের ৪৭ আর কেন উইলিয়ামসনের ৩০ রানে নিউজিল্যান্ড থামে ২৪১ রানে। জবাবে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকেই ১১০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান বেন স্টোকস ও জস বাটলার। বাটলার ৫৯ করে আউট হলেও মহাকাব্যিক ৮৭ রানের ইনিংসে ম্যাচ ‘টাই’ করেন স্টোকস। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। চতুর্থ বলে দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় স্টোকসের ব্যাটে বল লেগে পেরিয়ে যায় বাউন্ডারি, আম্পায়াররা দেন ৬ রান। কিন্তু ফিল্ডার থ্রো করার সময় ব্যাটাররা একে অন্যকে অতিক্রম না করলে এটা ৫ রান হতো। শেষ দুই বলে ইংল্যান্ডের দুজন রান আউট হলে ম্যাচ হয়ে যায় ‘টাই’। এরপর সুপার ওভারেও ‘টাই’ করে দুই দল! তবে বেশি বাউন্ডারির সুবাদে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পায় ইংল্যান্ড।

মন্তব্য

এবারই তাঁদের শেষ!

    বিশ্বকাপে কেউ আসে প্রথমবার খেলতে, আবার কেউ-বা শেষবার। এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁরা শেষবারের মতো এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাঁদের নিয়েই এই আয়োজন। লিখেছেন রানা শেখ।
শেয়ার
এবারই তাঁদের শেষ!
রোহিত শর্মা

সাকিব আল হাসান

অধিনায়ক, বাংলাদেশ

এর আগে চারটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ২০১১ সালের পর আবারও বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়ের বয়স এখন ৩৬ বছর। বয়সের তুলনায় এবারই তাঁর হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ।

২০২৭ সালে যখন আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে তখন সাকিবের বয়স পেরিয়ে যাবে চল্লিশের কোটা। তাই শেষ বিশ্বকাপ ধরেই ভারতে পা রেখেছেন সাকিব।

সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে দলীয় ব্যর্থতার মাঝেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পুরো আসরে মোট ৬০৬ রানের করার পাশাপাশি ১১টি উইকেটও তুলে নেওয়ার অনন্য ইতিহাস গড়েন তিনি।

এ ছাড়া এই এক আসরেই নিজের ঝুলিতে পুরেছেন অসংখ্য রেকর্ড। ভারতেও নিজের ছাপ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন সাকিব আল হাসান।

 

মুশফিকুর রহিম

উইকেটরক্ষক, বাংলাদেশ

২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ। এর পরের তিন বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন মুশফিকুর রহিম।

বয়স এখন ৩৬-এর কোটায়। ২০২৭ বিশ্বকাপে তাঁর বয়স পেরিয়ে যাবে ৪০। তাই এটাই হতে পারে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। এবারও বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা হিসেবেই আছেন তিনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতার হিসেবে তিনি শীর্ষেই বলা চলে।
সাকিবের পরে বিশ্বকাপে মুশফিকই বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। ৩৮ গড়ে ৮৭৭ রান করা ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ ছয়টি হাফসেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরিও করেছেন। পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের হিসাবে এবারের আসরেও মুশফিকের ওপর বাংলাদেশ সমর্থকরা ভরসা রাখতেই পারে।

 

মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ

অলরাউন্ডার, বাংলাদেশ

এবারের বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কি না, সেটা নিয়েই তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। অনেকেই তো ভেবেই নিয়েছিল ২০১৯-এ শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের বিমানে চড়েন এই অলরাউন্ডার। জায়গা করে নেন ১৫ সদস্যের দলে। ভারতেই যে শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন, সেটা অনুমেয়ই। কারণ বয়স তাঁর এখন ৩৭ বছর। পরের বিশ্বকাপে বয়স হবে ৪১ বা তার বেশি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান এই মাহমুদ উল্লাহ। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ঐতিহাসিক সেই সেঞ্চুরি। খেলেছিলেন ১০৩ রানের ইনিংস। এর পরের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম ভাবাচ্ছে। এ বছরের মার্চ মাস থেকে দলে ছিলেন না। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুই ইনিংস ব্যাট করে এক ম্যাচে করেছেন ৪৯ রান। তবে সেসব ছাপিয়ে শেষ বিশ্বকাপ ব্যাটে বলে রাঙাতে চাইবেন এক ক্রিকেটার।

 

রোহিত শর্মা

অধিনায়ক, ভারত

এ বছরের এপ্রিলে ৩৬-এ পা দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর অধিনায়কত্বেই এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। বয়সের ব্যাপারটি মুখ্য হলে এটাই হয়তো রোহিতের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। রোহিতও বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০১৫-এর পর খেলেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন রোহিত। প্রথম ক্রিকেটের হিসেবে একটি বিশ্বকাপে পাঁচটি শতরান করার রেকর্ড করেছিলেন তিনি। ৯ ইনিংসে রান করেছিলেন সর্বোচ্চ ৬৪৮। এর মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন পাঁচটি, হাফসেঞ্চুরি একটি। এবার ঘরের মাঠেও চার বছর আগের ফর্ম ফিরিয়ে আনতে চান রোহিত। শেষ বিশ্বকাপটা ব্যাটে ছন্দে থেকেই স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি।

 

কুইন্টন ডি কক

উইকেটরক্ষক, দক্ষিণ আফ্রিকা

বয়স তাঁর এখন ৩০ বছর। ভারত বিশ্বকাপের পর অনায়াসে পরবর্তী বিশ্বকাপও খেলতে পারতেন কুইন্টন ডি কক। কিন্তু সেটা না করে আচমকা ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এমনটা নয় যে বিশ্বকাপের দলে নির্বাচিত না হয়ে অভিমানে খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডি কক। বরং বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াডে নাম রয়েছে তাঁর। কুইন্টন বিশ্বকাপ খেলবেনও। তবে বিশ্বকাপের পরেই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দেশের জার্সি চিরতরে তুলে রাখবেন তিনি।

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয় ডি ককের। এরপর খেলেছেন ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ। গত ১০ বছরে প্রোটিয়াদের হয়ে ১৪৫ ম্যাচে রান করেছেন ছয় হাজার ১৭৬। শতরানের ইনিংস খেলেছেন ১৭টি, আর অর্ধশতক আছে ৩০টি। বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ অবদান রাখতে পারেন তিনি। তাঁর ব্যাটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটে সেটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের। ডি ককও চাইবেন শেষটা দারুণভাবে রাঙিয়ে যেতে।

এবারই তাঁদের শেষ!

ডেভিড ওয়ার্নার

ডেভিড ওয়ার্নার

ব্যাটার, অস্ট্রেলিয়া

ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ভারতেই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। বয়সও সে কথাই বলছে। কারণ পরের বিশ্বকাপে তাঁর বয়স পেরিয়ে যাবে ৪০। আর ওয়ার্নার নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নিতে চান তিনি। তাই বলাই যায়, এটা হয়তো তাঁর শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

অস্ট্রেলিয়ার সব সময়ের সেরা ওপেনারদের একজন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ব্যাটে ঝড় তুলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিতে পারেন এই ব্যাটার। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও তাঁর ব্যাট হেসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪৭ রান করেন তিনি। তিন শতকের পাশাপাশি খেলেছিলেন তিনটি অর্ধশতকের ইনিংস। ভারতেও এবার তাঁর ব্যাটে রানের ফোয়ারা বইবে, এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের।

 

মোহাম্মদ নবি

অলরাউন্ডার, আফগানিস্তান

মোহাম্মদ নবির বয়স ৩৮ বছর পেরিয়ে ৩৯ ছুঁইছুঁই। এমন অবস্থায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডার। সেই সঙ্গে এটাই হয়তো তাঁর বিশ্ব আসরে শেষবারের মতো অংশ নেওয়া। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর থেকেই আফগানিস্তান দলের অন্যতম একজন হয়ে ওঠেন তিনি। ব্যাটে-বলে ছন্দে থেকে আফগানদের এগিয়ে নেওয়ার কাজটা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এবারের বিশ্বকাপেও আফগানদের অন্যতম একজন হয়ে আছেন তিনি। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও আলো ছড়াতে পারেন। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর ১৪৭ ম্যাচ খেলে রান করেছেন তিন হাজার ১৫৩। একটি শতকের সঙ্গে আছে ১৫টি অর্ধশত রানের ইনিংস। আর বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১৫৪টি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ বলেই ভারতে দারুণ কিছু করে দেখাতে চান নবি।

 

 

 

 

মন্তব্য
র‌্যাংকিং ১৪

নেদারল্যান্ডস

শেয়ার
নেদারল্যান্ডস

আয়তন : ৪১৮৬৫ বর্গকিলোমিটার

জনসংখ্যা : ১৭৯২১৮০০ জন

সেরা অর্জন : গ্রুপ পর্ব

 

দল সম্পর্কে

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সুপার সিক্সের শুরুর কয়েকটা ম্যাচ পর সেরা দুইয়ের লড়াইয়ে বেশ পিছিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের তীব্র সম্ভাবনার সামনে ডাচদের সেরা তালিকায় রাখা কিছুটা অসম্ভবই ছিল। কিন্তু সেই প্রায় অসম্ভব কাজটাই করে দেখিয়ে বাছাইয়ের দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে রায়ান কুকের দল। স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়েকে হারানোর পরও ডাচদের সামনে সমীকরণ ছিল বেশ কঠিন।

স্কটিশদের শুধু হারালেই চলত না, ২৭৮ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হতো ৪৪ ওভারের মধ্যে। বাস ডি লিডের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সেই লক্ষ্য সাত বল আগেই পেরিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। আর তাতে ১২ বছর পর বিশ্বসেরা মঞ্চে ফিরেছে ডাচরা।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলে ডাচরা।

এরপর খেলেছে আরো তিনবার। কিন্তু কখনোই নক আউটে খেলা হয়নি তাদের। গ্রুপ পর্ব থেকেই প্রতিবার বিদায় নিতে হয়েছে। ভারতের মাটিতে হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপেও ডাচদের নক আউটে যাওয়ার পথ বেশ কঠিনই।
বলতে গেলে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল দল তারাই। তাই ভালো কিছু করার লক্ষ্যে বিশ্বকাপের আগে বেঙ্গালুরুতে আট দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে ডাচরা।

 

সেরা তারকা

নেদারল্যান্ডসবিশ্বকাপ বাছাইয়ে শেষ ম্যাচের আগেও স্বস্তিতে ছিল না নেদারল্যান্ডস। বিশ্বমঞ্চে খেলতে হলে সুপার সিক্স রাউন্ডের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হতো ডাচদের। জয়ের পাশাপাশি নেট রান রেটেও ছাপিয়ে যেতে হতো।

এর জন্য ছিল নানা অঙ্ক। আর সেই অঙ্কের সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাস ডি লিড। মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের ত্রাতা হয়ে আসেন এই অলরাউন্ডার। বল হাতে পাঁচ উইকেটের পর ব্যাট হাতে খেলেন ৯২ বলে ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ওয়ানডে ক্রিকেটে পঞ্চম খেলোয়াড় (নারী ও পুরুষ) হিসেবে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন ডি লিড। এর আগে ভিভিয়ান রিচার্ডস, পল কলিংউড, রোহান মুস্তাফা এবং অ্যামেলিয়া কের এই কীর্তি গড়েছিলেন।

ডাচদের জার্সিতে ৩০টি ওয়ানডেতে দুটি অর্ধশত এবং একটি শতরানের ইনিংস খেলে রান করেছেন ৭৬৫। নামের পাশে আছে ২৪টি উইকেটও। তাই বিশ্বকাপে এই অলরাউন্ডার ডাচদের অন্যতম ভরসা। ব্যাটে-বলে যদি ছন্দে থাকেন তাহলে ভালো কিছু আশা করতেই পারে ডাচরা।

 

কোচ : রায়ান কুক

খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে কোচিং পেশা বেছে নেওয়ার গল্প খেলাধুলার ইতিহাসে কম নেই। রায়ান কুকও তেমনই একজন। দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যন্তনেদারল্যান্ডস খেলে থেমে যায় কুকের ক্যারিয়ার। ধীরে ধীরে নিজেকে কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত করেন কুক। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কোচিং প্যানেলে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। একসময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায়ও ছিলেন। বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে না পারায় বিসিবির সঙ্গে কুকের দুই বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এখন অবশ্য নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুক। গত মে মাসে রায়ান ক্যাম্পবেলের অসুস্থতাজনিত কারণে আপৎকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। কুকের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে বিশ্বকাপেও জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

 

সাক্ষাৎকার

নেদারল্যান্ডসপ্রশ্ন : প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। কতটা রোমাঞ্চিত?

ভ্যান বিক : আমার জন্য দারুণ ব্যাপার। নতুন গল্প লিখতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপে খেলার জন্য কত অপেক্ষা করেছি। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। যদিও এর আগে আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছি, কিন্তু ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে তো আলাদা রোমাঞ্চ থাকে। সেটার স্বাদ নিতে চাই।

প্রশ্ন : বাছাই পর্বে তো অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল আপনাদের সামনে...

ভ্যান বিক : হ্যাঁ, শুরুতে আমরা পিছিয়েই পড়েছিলাম, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। সবাই বিশ্বাস রেখেছিলাম। শেষ বল পর্যন্ত আমাদের লড়াই করতে হবে। এ কারণেই হয়তো সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

ভ্যান বিক : আমি সব সময় একটা ব্যাপার বিশ্বাস করি যে প্রত্যাশা উঁচুতে রাখতে হয়। আমাদের যে স্কোয়াড আছে তাতে আমার কাছে মনে হয়, অন্তত দুটি ম্যাচ জেতা উচিত আমাদের।

 

নেদারল্যান্ডস

শক্তি

এবারের দলে আছে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেল। টপ অর্ডারের সঙ্গে মিডেল অর্ডার তাদের শক্তির বড় জায়গা। ম্যাক্স ও’ডাউডের সঙ্গে বাস ডি লিড ব্যাট হাতে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। বল হাতেও দারুণ কার্যকর হতে পারেন ডি লিড। ব্যাটিংই মূলত ডাচদের আশা ভরসার নাম।

দুর্বলতা

এশিয়ার মাটিতে খুব একটা খেলার সুযোগ হয় না ডাচদের। এ ছাড়া দলে নেই মানসম্মত স্পিন বোলার। ভারতের মাটিতে তাই বল হাতে ভুগতে হতে পারে নেদারল্যান্ডসকে। যে কারণে বিশ্বকাপের আগে বেঙ্গালুরুতে আগেভাগেই কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে ডাচরা।

প্রত্যাশা

চার আসরে খেলে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের জয় মোটে দুটিতে। এবার যেহেতু সব দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে। ইউরোপের দলটি চাইবে ভারত থেকে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে।

নেদারল্যান্ডস

 

 

মন্তব্য
র‌্যাংকিং ৯

আফগানিস্তান

শেয়ার
আফগানিস্তান

আয়তন : ৬৫২৮৬৭ বর্গকিলোমিটার

জনসংখ্যা : ৩৮৩৪৬৭২০ জন

সেরা অর্জন : গ্রুপ পর্ব

 

দল সম্পর্কে

টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। আগের দুই আসরে একটি মাত্র ম্যাচই শুধু তারা জিতেছে, সেটি ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। গত আসরে ৯ ম্যাচের সব কটি হেরেছে। তবে সে আসরে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপহার দিয়েছে দলটি।

দুটি ম্যাচই গড়িয়েছিল শেষ ওভারে। তাতে এই বিশ্বকাপেও যে যেকোনো অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য তারা রাখে তা বোঝা যায়।

তা ছাড়া গতবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের অনভ্যস্ত কন্ডিশনে ছিল খেলা। এবার ভারতীয় উইকেটে আফগানরা স্মরণীয় একটা বিশ্বকাপই উপহার দিতে চাইবে তাদের দেশের মানুষকে।

আর টানা দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভেও খেলেছে তারা সরাসরি। সেরা আট দলের একটি হিসেবে এই বিশ্বকাপেও তারা সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে পেছনে ফেলে।

এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে তারা। বিশ্বকাপে কোনো দলই তাই আফগানদের হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করবে না।

 

সেরা তারকা

আফগানিস্তানদক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস এবারের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের তালিকায় রেখেছেন রশিদ খানকে। বিরাট কোহলি, এনরিক নরকিয়া, জস বাটলার ও বাবর আজমের পাশে রেখেছেন তিনি আফগান অলরাউন্ডারকে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে রশিদ খানের কার্যকারিতাই তাঁকে এগিয়ে রাখছে আরো অনেকের চেয়ে।

সেই ২০১৮ সালে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে আইসিসির ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা রশিদ খান এত বছরেও বেশ ধারাবাহিক। এই মুহূর্তে ওয়ানডে বোলিং র্যাংকিংয়ের পাশাপাশি শীর্ষ ১০ অলরাউন্ডারের তালিকায়ও জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি।

২০১৯ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের জার্সি গায়ে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে শুধু ওয়ানডেতেই শততম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় রশিদ। এই সময়ের মধ্যে ১৭২টি উইকেট তাঁর ঝুলিতে, ১০৬.৩২ স্ট্রাইক রেটে রান ১২১১।

বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে অবশ্য এখনো ৬ উইকেট তাঁর, রান ১০৫। ভারতে এবারের আসরে নিশ্চিতভাবেই এই পরিসংখ্যানটাকে আরো উজ্জ্বল চেহারা দিতে চাইবেন তিনি।

 

কোচ : জোনাথন ট্রট

গত বছরের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন জোনাথন ট্রট। ইংল্যান্ডের সাবেক মিডল অর্ডার এই ব্যাটার খেলা ছাড়ার পর ইংলিশদের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজআফগানিস্তান করেছেন। আফগানদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলটিকে শীর্ষ সারিতে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। তাঁর অধীনে আয়ারল্যান্ডে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-৩-এ হেরেছিল আফগানিস্তান। তবে সে বছর টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সুপার ফোরে খেলে দলটি। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটাও তারা ড্র করে। এ বছরের শুরুতে আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর বাংলাদেশে এসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিয়েছে আফগানরা। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠতে না পারাটা রশিদ খানদের দুর্ভাগ্যই অনেকটা।

 

আফগানিস্তানসাক্ষাত্কার

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের চাওয়া কী?

হাশমতউল্লাহ শহীদি : এই বিশ্বকাপে শুধু আমরা অংশগ্রহণ করতে যেতে চাই না। আমরা একটা ছাপ রাখতে চাই। আমাদের একটা সোনালি প্রজন্ম এই বিশ্বকাপে হয়তো শেষবার খেলবে। সুতরাং আমরা চাই তাদের ভালোভাবে বিদায় দিতে।

প্রশ্ন : দলটা কতটা তৈরি?

শহীদি : আমি মনে করি এই বিশ্বকাপের জন্য আমাদের দলটা যথেষ্টই অভিজ্ঞ। আমরা এর আগে যখন খেলেছি, তখন অংশ নেওয়াটাই বড় ব্যাপার ছিল। এবার তা নয়। এবার আমরা কিছু করতে চাই। এক দিনের ক্রিকেটে আফগানিস্তান যে একটা ভালো দলে পরিণত হয়েছে, সেটা বোঝানোর জন্য এই বিশ্বকাপই আদর্শ মঞ্চ।

প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টির বৃত্ত ভাঙার কথা বলছেন?

শহীদি : হ্যাঁ, মানুষ এখনো মনে করে আমরা শুধু টি-টোয়েন্টির দল। এই বিশ্বকাপটা তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তান

শক্তি

টপ অর্ডার ব্যাটিং এবং স্পিন বোলিং আফগানিস্তানের মূল শক্তির জায়গা। টপ অর্ডারে রহমানুল্লাহ গুরবাজ যেকোনো দলের জন্যই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। দুই স্পিনার রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান তেমনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক। আইসিসি ওয়ানডে বোলিং র্যাংকিংয়ে মুজিব চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে আছেন রশিদ খান।

দুর্বলতা

এ বছর খুব বেশি ওয়ানডে খেলেনি আফগানিস্তান। আর যা-ও খেলেছে তার সবই এশিয়ার দলগুলোর বিপক্ষে। এশিয়ার বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা নিশ্চিতভাবেই ভোগাবে তাদের এ বিশ্বকাপে।

প্রত্যাশা

বিশ্বকাপে সবার বিপক্ষেই খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। লম্বা এই আসরে সুযোগ থাকবে ক্রমে নিজেদের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। তার পরও দুটির বেশি ম্যাচ জিততে পারাই তাদের জন্য হবে সাফল্য।

আফগানিস্তান

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ