পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আরব আমিরাতে তৈরি হয় সামাজিক সংহতি ও ঐক্য। ইফতার ও সাহরি ঘিরে মুসলিম ও অমুসলিম সবার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন। মুসলিমদের রোজার প্রতি সংহতি জানিয়ে উপবাস থাকেন অনেক অমুসলিম অভিবাসী। তাঁরা মুসলিমদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন এবং পারষ্পরিক সহানুভূতিতে অংশ নেন।
রমজান মাসের রোজাকে শিক্ষার্থীদের সংযোগ তৈরির একটি উপায় হিসেবে মনে করেন দুবাইয়ের ব্রিটিশ শিক্ষিকা সোফি মিড। তিনি বলেন, ‘স্কুলের সারাদিনের রোজা রাখাকে অনুধাবন করতে আমিও তাদরে সঙ্গে এ কাজে অংশ নেই। আমি সবসময় মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেই। ইফতারের সময় খেজুর, তাহিনির সঙ্গে খেজুর এবং এক কাপ কারাক চা আমার পছন্দের খাবার।
’
রমজান মাসে শুধু রোজা রেখেই ক্ষান্ত হন না। বরং তিনি আবায়া বিশেষ পোশাক পরিধান করেন তিনি। সোফি মিড বলেন, ‘আমি সাধারণত শালীন পোশাক পরিধান করি। তবে রমজানে বিশেষভাবে সতর্ক থাকি।
সৌদি আরবে সাড়ে তিন বছর থাকার ফলে আমার বেশ কিছু আবায়া সংগ্রহ হয়েছে। তাই রমজান মাসে এসব পরে আমি ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’
রমজানের বিভন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন আবুধাবিভিত্তিক একটি মার্কেটিং কম্পানির নির্বাহী ডেভিড থমসন। তিনি বলেন, আমি দুই বছর যাবত আমিরাতে বসবাস করছি। এই রমজান আমার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আমার মুসলিম বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করি। এর মাধ্যমে আমি একসঙ্গে রোজার ভাঙার সৌন্দর্য দেখার সুযোগ পাই। রমজানের শিক্ষা সম্পর্কে জানার পর থেকে আমিও খাওয়া, পান করা এমনকি প্রকাশ্যে ধূমপান থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় আমি দুপুরের উন্মুক্ত স্থানে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকি।
এ বছর ডেভিড সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার বিতরণের আয়োজন করেছেন। ‘আমরা সবাই মিলে ইফতারের খাবার বিতরণের প্রস্তুত করেছি ও বিতরণ করেছি। সবাই মিলে রমজানের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী ছিল। সবাই মিলে রমজানের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।’
দুবাইয়ে বসবাসরত ইতালিয়ান নাগরিক আদ্রিয়ানো ভি. জানান, মুসলিম বন্ধুদের প্রতি সংহতি জানাতে এই প্রথমবারের মতো রোজা রাখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ধৈর্যশীল হতে শিখেছি এবং বুঝতে পারছি, কম সৌভাগ্যবান মানুষের জীবন কেমন হতে পারে।’
তিনি জানান, প্রথমে রমজানে রাতের দিকে দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলো দেরিতে খোলা থাকায় তার কৌতূহল জন্মেছিল। পরে ইসলামের রীতিনীতি সম্পর্কে জানার ইচ্ছে তৈরি হয় এবং প্রথমবারের মতো রোজা রাখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ‘এটি আমাকে অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কেও জানার আগ্রহী করেছে। রমজানের শিক্ষা আমার চিন্তাধারাকে আরও বিস্তৃত করেছে।’