সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের বীরদের অদম্য চেতনাকে সম্মান জানাতে ‘হিরোস অব ২৪’ গ্র্যান্ড ইফতার এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে। ‘হিরোস অব ২৪’ নামের ইফতারের আয়োজনে জুলাই-আগস্ট মাসের গণ-অভ্যুত্থানের কিছু বিশেষ ছবি আর পুরনো পত্রিকার প্রদর্শনী ছিল গুলশানের লেকশোর হোটেলে।
গত মঙ্গলবার গুলশানের হোটেল লেকশোরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক, বিশিষ্ট সমাজ-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের প্রতি সমর্থন জানান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জুনিয়র অফিসারদের উপস্থিতি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সাবেক সামরিক কর্মীদের অনুরোধেই সেনাবাহিনী গণহত্যা থেকে বিরত থাকে।’ তিনি তরুণদের এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেশ পরিচালনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ক্যাপ্টেন (অব.) আশিক তার ভাইরাল প্রতিবাদের ভিডিওর মাধ্যমে অভ্যুত্থানের অন্ধকার দিনগুলোকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদদের সম্মান জানানোর অর্থ হলো তাদের পরিবার ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের অসহায় অবস্থায় ফেলে না রাখা।
ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যোগ দিয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রমাদান, ন্যায়বিচারের জন্য বিশ্বব্যাপী সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ খচিত উত্তরীয় বিশিষ্ট অতিথিদের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের জন্য সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। পাকিস্তান, সুইডেন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, কমোরোস এবং অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এই গল্পের সর্বজনীন আবেদনকে তুলে ধরেন।
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা এস এম তাসদিদ সোয়াদ জানান, একটি সাধারণ স্মরণসভা হিসেবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ, ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচারের এক শক্তিশালী সংলাপের রূপ নিয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে সারা দিন ও রাত ধরে শহীদ পরিবার এবং আহত বীরদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। এই মানবিক উদ্যোগ ঈদুল ফিতর পর্যন্ত চলবে। সেফটি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, আত্মোৎসর্গকারী ও সাহসী ব্যক্তিদের সম্মানিত করে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অবিচল।