মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলেন তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শেয়ার
মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলেন তামিম
তামিম ইকবাল

হি (তামিম) ওয়াজ ডেড’—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদের কণ্ঠে তখনো আতঙ্কের রেশ; যদিও ততক্ষণে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হসপিটালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে সুখবর নিয়েই বেরিয়ে এসেছেন তিনি। তামিম ইকবাল আপাতত বিপদমুক্ত, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বুকে ব্যথার কথা বলেছেন, তবু মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তামিমতাঁর পরিবার ছাপিয়ে এই সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেটবিশ্বে।

গতকাল বিকেএসপিতে শাইনপুকুরের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল মোহামেডানের।

দলটির অধিনায়ক তামিম টস করেছেন ঠিকঠাক। তবে সকাল থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। শুরুতে গ্যাস্ট্রিক ভাবলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে বিকেএসপির সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে ইসিজিতে সমস্যা চোখে পড়ায় চিকিৎসকরা হাসপাতালে থেকে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু উন্নত চিকিৎসার আশায় ততক্ষণে মোহামেডানের ম্যানেজার সাজ্জাদ আহমেদকে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন তামিম। কিছুক্ষণ পর হেলিকপ্টার এসে গেছে শুনে হাসপাতাল ছেড়ে বিকেএসপিতে ফিরে যান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পালের ফোন পান পূর্বনির্ধারিত বোর্ড সভার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়া ফারুক আহমেদ, দেবুর (দেবব্রত) ফোন পেয়ে মনে করেছিলাম, সব শেষ! হাউমাউ করে কাঁদছিল দেবু। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় কয়েকবার শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তামিম।
তখন ওর পালস নেই, প্রেসার নেই...মানে সব শেষ।

বিকেএসপির দুই চিকিৎসক তাত্ক্ষণিক অচেতন তামিমকে নিয়ে আবার রওনা দেন সাভারের হাসপাতালটিতে। যাওয়ার পথে তামিমের হৃত্স্পন্দন ফেরানোর জন্য ক্রমাগত সিপিআর করে গেছেন তাঁরা। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ঢোকানোর পর তিনবার ইলেকট্রিক শক দেওয়ায় ফিরে আসেন তামিম। এরপর এনজিওগ্রাম শেষে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ৬ নম্বর আর্টারিতে সফলভাবে রিং পরান ডাক্তার মারুফ।

অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আল্লাহর রহমতে কন্ডিশন এখন অনুকূলে আছে। তাঁর (তামিম) একটা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাই একটা এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও একটা স্টেন্ট করা হয়েছে। কাজগুলো খুব সুচারুভাবে হয়েছে। এখন তিনি পর্যবেক্ষণে আছেন। একটু সময় লাগবে।

একটু কেন, মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা তামিম ইকবালের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায়ও যেন আপত্তি নেই তাঁর নিকটজনদের। আকরাম খানের গলা বাষ্পরুদ্ধ, ভাগ্যিস এ রকম একটা হাসপাতাল এখানে ছিল। এখানে একটা হাসপাতাল ক্যাথল্যাব থাকবে, ভাবিনি। সব আল্লাহর ইচ্ছা। কেউ বলছেন ভাগ্য আর সবাই বলছেন মানুষের ভালোবাসা আর দোয়া একটা সুযোগ করে দিয়েছে তামিমকে।

আপাতত তামিম কবে আবার মাঠে ফিরবেন, সে নিয়ে কারো কৌতূহল নেই। সাভারের হাসপাতাল কবে ছাড়বেন, সেটিও এখন চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার। হাসপাতালে গোটা তিনেক কেবিনের ব্যবস্থা হয়েছে তামিমের নিকটাত্মীয়দের জন্য। বিকেএসপির অতিথিশালাও রোগীর অ্যাটেনডেন্টদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কে একজন এগিয়ে এসে বিসিবি সভাপতিকে বললেন, ইনস্যুরেন্স কম্পানি থেকে ফোন করেছে। ফারুক তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ওসব নিয়ে কারো কোনো চিন্তা করতে হবে না, বোর্ড দেখবে। তামিম এ দেশের ক্রিকেটের জন্য এত কিছু করেছে, আর...। কথা শেষ করতে পারেন না সভাপতি। ওদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে তখন আরো অনেকে। সভা বাতিল করায় সভামুখী সব বোর্ড পরিচালক হাসপাতালে। তামিমের অগ্রজ নাফিস, মা, চাচি, আত্মীয়ঢাকায় অবস্থানরত সবাই হাজির। পেশাদারের দাবি মিটিয়ে হাজির পুরো মোহামেডান টিম। অবশ্য ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই হাজির তাইজুল ইসলাম। তিনি কিংবা মুশফিকুর রহিম অথবা মাহমুদ উল্লাহর সঙ্গে তামিমের ঘনিষ্ঠতা বহুদিনের। কিন্তু শামসুর রহমান তো আর মোহামেডানে খেলছেন না। বিকেএসপিতে ম্যাচও ছিল না। তবু শামসুর এসেছেন কারণ তামিম তাঁর কাছে স্পেশাল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটু আড়ালে থাকেন খালেদ মাহমুদ। মিরপুরে অনুশীলন করাচ্ছিলেন গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে। তামিমের খবর শুনে প্র্যাকটিসের পোশাকে মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে এসেছেন, যেন যানজট এড়িয়ে দ্রুত পৌঁছতে পারেন। চোখের কোণ চিকচিক করছে বরাবরের আবেগী মাহমুদের। অথচ দুজনের কত বাদানুবাদের খবর হয়েছে সংবাদমাধ্যমে! এগিয়ে আসা টিভি ক্যামেরা দেখে মাহমুদ অনুরোধ করেন, আজ না ভাই। কী একটা ছেলে (তামিম)!

তারও বহু আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিমের জন্য যূথবদ্ধ প্রার্থনায় দেশ ও দেশের বাইরের ক্রিকেট অনুসারীরা। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তামিমকে সম্ভবত ফিরিয়েছেও এই ভালোবাসা। বিসিবির প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে অধস্তন হয়ে হাসপাতালটির কর্মিবাহিনী, এমনকি সংবাদকর্মীদের অনুধাবন এমনটাই।

দিনভর প্রবল উদ্বেগের মধ্যেও একটা কাজ করতে ভোলেনি বিসিবিআনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে কেপিজে হাসপাতাল ও বিকেএসপির চিকিৎসক দলকে। গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখার সময় তামিমের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও কিডনি স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ওই সময় তাঁকে খাবারও দেওয়ার কথা।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

জামায়াত সেক্রেটারি পরওয়ারের দাবি

শেখ মুজিব কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শেখ মুজিব কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক
মিয়া গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক। তিনি দেশপ্রেমে নয়, ক্ষমতার মসনদে বসার লড়াই করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। ৭ মার্চ যদি শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থাকেন, তাহলে ৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন কেন? এই প্রশ্নের জবাব আজও আওয়ামী লীগ জাতির সামনে দিতে পারেনি।

গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ রাজনীতিবিদদের কাদা-ছোড়াছুড়ি পছন্দ করে না। কিছু কিছু দলকে এখন জামায়াতের বিরোধিতা করতে দেখা যায়। জামায়াতের বিরোধিতা করার আগে জামায়াতের অবদানের কথা স্মরণ করতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, এ দেশে আমরা যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছি, তাদের এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের চারদিকে আধিপত্যবাদী শক্তি, আরেক পাশে বঙ্গোপসাগর। ফলে আমাদের জীবন ও অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। আমাদের ঈমান ও ইসলামের স্বার্থে এই দেশকে ভালোবাসি।

তাই ইসলামই মূলত স্বাধীনতার গ্যারান্টি।

তিনি বলেন, ভারত আমাদের এই দেশ নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার মিশনে নেমেছে ভারত। যার কারণে তারা আমাদের দেশ নিয়ে তাদের মিডিয়ায় নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে এবং প্রচার ও প্রকাশ করছে।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের সঙ্গে থাকলে হয় সঙ্গী, আর সঙ্গে না থাকলে হয় জঙ্গি! যারা জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে, তাদের জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র পড়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে অনেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা করার পরও জামায়াতে ইসলামী জাতীয় স্বার্থে সবকিছু ভুলে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ আন্দোলন করেছে। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে সব দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতের অমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে এবং গণহত্যার বিচার করে অন্তর্বর্তী সরকার যখন নির্বাচন দেবে, জামায়াতে ইসলামী তখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জামায়াত শুধু নিয়মরক্ষার একটি নির্বাচন চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

 

মন্তব্য
নাহিদ ইসলাম

কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দিলে মানা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দিলে মানা হবে না
মো. নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একাত্তরের সংগ্রাম ও সাতচল্লিশের আজাদির লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে আমরা যে স্বাধীন, সার্বভৌম এবং মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র পেতে চেয়েছিলাম তার একটি সুযোগ ও সম্ভাবনা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর তৈরি হয়েছে। তাই একাত্তরের স্বাধীনতা ও চব্বিশের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়।

সংস্কার ও বিচারবিহীন জাতীয় নির্বাচন দেওয়া হলে সেটি মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেবল কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য যদি সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে না।

গতকাল বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম। এই বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, ন্যায়বিচার ও অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। যাতে সামনের দিনগুলোতে জনগণের আর রক্ত দিতে না হয়, আজকের দিনে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

৫ আগস্টের আগে ও পরে দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল সেই ঐক্যে কিছুটা ফাটল ধরেছে কি না জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্যের যে সুযোগ এবং ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, আমরা এখনো সেই ভিত্তিতেই আছি।

এখন হয়তো বিভিন্ন দলের এজেন্ডা আলাদা হচ্ছে। তবে আমরা যদি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে চাই, দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের একই পাটাতনে থেকে সামনের দিনে এগোতে হবে। যদি কেউ আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জনগণের যে সংস্কার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, তা থেকে সরে যায়, তাহলে অবশ্যই তাদের সঙ্গে আর ঐক্যের সুযোগ থাকবে না।

 

 

 

মন্তব্য
মির্জা আব্বাস

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যাঁরা বলেন একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের ভূমিকা ছিল না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
দ্বিতীয় স্বাধীনতা যাঁরা বলেন একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের ভূমিকা ছিল না
মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে স্বৈরাচার তাড়িয়ে স্বাধীনতার নতুন স্বাদ পেয়েছি। অনেকে বলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। যাঁরা বলেন, তাঁরা আজকের স্বাধীনতা দিবসকে খাটো করতে চান, একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি বলব, তাঁরা যেন এখানেই বিরত থাকেন।

এই স্বাধীনতা দিবসকে যেন সম্মান জানান এবং সম্মান করেন।

গতকাল বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব আদর্শিক জায়গা আছে, যার যার একটা মতাদর্শ আছে। এটা অনৈক্য বলা যাবে না।

এমন সময় যদি কখনো আসে, জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, তখন কিন্তু আমরা সবাই এক হয়ে যাব। এখানে কোনো ভুল নেই।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় আছে কি নাএমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমরা সেখানেই বিশ্বাস রাখতে চাই।

এখানে আমরা বিশ্বাসের পরিবর্তন করতে চাই না।

 

 

মন্তব্য
মির্জা ফখরুল

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট দ্রুত রোডম্যাপ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট দ্রুত রোডম্যাপ দিন
মির্জা ফখরুল

ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবেপ্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্যকে অস্পষ্ট বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আবারও নির্বাচনের স্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে শেরেবাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে, এটি অস্পষ্ট কথা। ডিসেম্বর থেকে জুন... ছয় মাস সময়। সুতরাং এটা কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই বক্তব্যে নির্বাচনে কোনো রোডম্যাপের কথা বলা হয়নি। আমরা বারবার বলে আসছি যে স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। নইলে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে তা কাটবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের কথা বলছি না।

বিএনপি জাতির স্বার্থে, জাতিকে রক্ষা করার স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার স্বার্থেই নির্বাচনের কথা বলছে এবং নির্বাচিত সংসদ ও সরকারের কথা বলছে। আমরা আশা করব, অন্তর্বর্তী সরকার অতিদ্রুত ন্যূনতম সংস্কার করে অর্থাৎ যেগুলো নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন তা সম্পন্ন করে নির্বাচনের ঘোষণা দেবে।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় হতাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আবারও চাই না, আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস বিকৃত করেছে, এখন আবার সেই ইতিহাস বিকৃত হোক।

প্রকৃত সত্য উদঘাটিত করে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, একটি গণতান্ত্রিক সরকার, সেই গণতান্ত্রিক সরকারে যত দ্রুত ফিরে যাওয়া যাবে আমাদের সমস্যাগুলো ততই সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের দলের পক্ষ থেকে, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা গোটা জাতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং প্রত্যাশা করছি, অতি শিগগির আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ফিরে পাব।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই স্বাধীনতার জন্য আমাদের লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, আমাদের অসংখ্য মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে, কোটি মানুষ তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে এবং অসংখ্য ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

এই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ