বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়ে সংবাদ প্রকাশে করেছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন। সেই সংবাদ বিশ্লেষণ করে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এতে প্রকাশের এক দিন পরই ওয়েবসাইট থেকে সংবাদটি সরিয়ে নিয়েছে আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টে একটি পোস্টে ওই সংবাদ বিশ্লেষণ করে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।
এর পর থেকে আনন্দবাজার অনলাইনেও ওই সংবাদ আর পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টের পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে আনন্দবাজারের সংবাদের বাস্তবিক কোনো ভিত্তিই নেই। তাদের গল্প বলিউডের কোনো রোমান্টিক কমেডি সিনেমার চেয়ে কম নয়। আপনারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাংবাদিকতা অনুশীলন করবেন, নাকি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার প্রচারণার অংশ হিসেবে কুিসত কল্পকাহিনি প্রচার করবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে।
’
পোস্টে আরো বলা হয়, ‘হাইব্রিড যুদ্ধ বা তথ্য অভিযান, যাকে ডিসইনফরমেশন বলা হয়; একটি ডিসইনফরমেশনমূলক প্রতিবেদন সাধারণত একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট গল্প দিয়ে শুরু হয়, যার কোনো প্রমাণ বা সূত্র থাকে না, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের মন্তব্য দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। গল্পটি এমন রসালো ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে অন্যান্য গণমাধ্যমও গল্পটি সত্য ভেবে প্রকাশ করে। আর বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই গল্প প্রকাশ পেলে মানুষের মধ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।’
এটি ভারতীয় গণমাধ্যমের কৌশল উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উত্খাত হওয়া শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতে ভারতীয় গণমাধ্যম এমন হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করছে।
কারণ শেখ হাসিনা তাদের দীর্ঘদিনের প্রক্সি। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ গত ৩০ জানুয়ারি আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনে ‘সেনা অভ্যুত্থান ঢাকায়? নজর দিল্লির’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে ধারণার ভিত্তিতে দাবি করা হয়, সেনাবাহিনীর একটি অংশ বাহিনীটির দখল নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।