নিশিরাত। পুরো গ্রাম ঘুমিয়ে গেছে। তবে ছোট্ট আরিবের চোখে ঘুম নেই। তার জানালার বাইরে ঝকঝকে চাঁদটি যেন কথা বলতে চাইছে।
নিশিরাত। পুরো গ্রাম ঘুমিয়ে গেছে। তবে ছোট্ট আরিবের চোখে ঘুম নেই। তার জানালার বাইরে ঝকঝকে চাঁদটি যেন কথা বলতে চাইছে।
হঠাৎ চাঁদ থেকে একটি আলোকরশ্মি ঠিকরে আরিবের ঘরে এসে পড়ল। আর সেই রশ্মির মধ্যে দেখা গেল এক রহস্যময় মানুষ। মাথায়
রুপালি টুপি, হাতে সোনালি দণ্ড। ‘তুমি কে?’ আরিব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল।
‘আমার সাহায্য?’ আরিব অবাক। ‘তোমার মতো শক্তিশালী জাদুকর কেন আমার সাহায্য চাইবে?’
লুনো বলল, ‘চাঁদের আলো জাদুর শক্তি দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি আনে।
লুনো তার সোনালি দণ্ড দিয়ে এক আলোর সিঁড়ি বানাল।
আরিব সাহস করে বলল, ‘ছায়া রাজা, তুমি কেন জাদুর দণ্ড চুরি করেছ, যেটা আলোকিত করে সব?’ ছায়া রাজা বলল, ‘মানুষ আলোতে শুধু নিজের স্বার্থ দেখে। আমি চাই সব কিছু অন্ধকারে ঢেকে যাক, যাতে কেউ কাউকে দেখতে না পায় আর কেউ মিথ্যা বলতে না পারে।’ আরিব বলল, ‘কিন্তু আলো ছাড়া কেউ ভালোবাসা খুঁজে পাবে না। আলোই আমাদের পথ দেখায়।’ ছায়া রাজা থমকে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘তাহলে প্রমাণ করো, আলো শুধু স্বার্থ নয়, মানুষের ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের জন্যও দরকার।’ ছায়া রাজা একটি ধাঁধা দিল, বলল, ‘তিনটি প্রদীপ জ্বালো, যার আলো কখনো নেভে না। যদি পারো, তবে দণ্ড ফেরত পাবে।’ লুনো ফিসফিস করে আরিবকে বলল, ‘ভয় পেয়ো না। এই ধাঁধা শুধুই সাহস আর বুদ্ধির পরীক্ষা।’ আরিব চারদিকে মাথা ঘোরাল। অবশেষে সে তার মনের কথাটি শুনল। তিনটি প্রদীপ জ্বালানোর জন্য সে তার নিজের হৃদয়, বিশ্বাস আর ভালোবাসার শক্তি ব্যবহার করল। হঠাৎ তিনটি প্রদীপ জ্বলে উঠল। চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ল। ছায়া রাজা অবাক হয়ে বলল, ‘তুমি সত্যি প্রমাণ করেছ যে আলো শুধু স্বার্থ নয়, মানুষের ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের জন্যও দরকার। এই নাও তোমার জাদুর দণ্ড।’
লুনো তার দণ্ড ফেরত পেয়ে আবার পৃথিবীতে চাঁদের আলো ফিরিয়ে দিল। আরিব জেগে দেখল, সে তার নিজের বিছানায়। জানালার বাইরে আকাশে ভাসছে পূর্ণিমার চাঁদ।
সম্পর্কিত খবর
ভিনদেশিরা লুটের আশায় এলো আমার দেশে,
লুটতরাজ আর খুনের নেশায় মাতল দানোর বেশে।
সবুজ শ্যামল গ্রাম জনপদ রক্তে হলো লাল,
সেই লহুতে ভাসল দেশের হাওর নদী খাল।
অধিকারের ন্যায্য কথা আনলে কেউ মুখে
অমনি তারে সোজাসুজি করত গুলি বুকে।
ভরত নিয়ে অন্ধকারের বন্ধ কারাগারে;
এমনতর যন্ত্রণা কেউ সইতে কি আর পারে?
জাগল তখন দেশের মানুষ—জাগল মায়ের ছেলে,
মুক্তির নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ে রণের মশাল জ্বেলে।
মার খেয়ে সব পাক সেনারা মানল পরাজয়,
লাল সবুজের বিজয় নিশান উড়ল আকাশময়।
মুক্তিপাগল বীর বাঙালি আনন্দ উল্লাসে
স্বাধীনতার সাগরজলে দৃপ্ত সুখে ভাসে।
রাত্রিবেলা সেনমহলে
হাঁটে নাকি ভূত
জরির জামা গায়ে যেন
ঝলমলে বিদ্যুৎ!
বসন-ভূষণ নিয়ে তাহার
ভীষণই খুঁতখুঁত
নানা রকম টালবাহানা
নানা রকম ছুঁত।
ক্ষণে ক্ষণে একই কথা
ভাল্লাগে না ধুত!
আগের জন্মে ছিল নাকি
জমিদারের পুত।
।
ইনতিসার হক, প্রথম শ্রেণি
চারুপাঠ হাতেখড়ি স্কুল, ঢাকা
রুদ্রদীপ পাল, প্রথম শ্রেণি
টংগিবাড়ি সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন, মুন্সীগঞ্জ
শারমীনা ফাহমিদা বর্ণ, তৃতীয় শ্রেণি
প্রতিভা মডেল স্কুল, ময়মনসিংহ
।মোবাইলের জন্য বায়না ধরেছে খোকন সোনা। কিনে দেয়নি বলে গাল ফুলিয়ে আছে। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বাবা বলছেন :
‘খোকন সোনা রাগ করে না
ফোলায় নাতো গাল,
মোবাইল ফোন কিনে দেব
ঠিক আগামীকাল।’
এই ছড়ার শেষ স্তবকে বাবা আবার বলছেন :
‘বুঝবে তুমি হলে বড়
আজ নয়তো কাল,
জ্ঞান ও চিন্তায় যে-এগিয়ে
সে-ইতো ডিজিটাল।
‘ডিজিটাল শৈশব’ নামের ছড়াটিতে লেখক আসলে সহজ কথায় জীবনের পাঠ দিয়েছেন। ‘নিধিরামের বিধি বাম’ শিরোনামের আরেকটি ছড়া এমন :
‘নিধিরামের বিধি বাম
অসুখ হলো সর্দি-হাম,
বদ্যি এলো ভোলারাম
রোগী দেখে জিজ্ঞেস করে
বল দেখি তোর বাপের নাম?’
এমন ৩৮টি মজার এবং শিক্ষণীয় ছড়া নিয়ে মিহির মুসাকীর বই ‘ভালোবাসি প্রিয় দেশ’। ছড়ায় তিনি পড়িয়েছেন সহজ ছন্দের মালা। কথায়-ছন্দে মাতৃভূমি, বাংলার প্রকৃতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের গল্প তুলে ধরেছেন।
অলকানন্দা রায়