চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দুই স্থানে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন। এতে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিসাধন করা হয়। পরে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে রাতেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জানা যায়, আজ বুধবার (২ এপ্রিল) রামপুর বাজারের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কালেচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর বাজারে ও আজ বুধবার শেষে রাতে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে পৌর এলাকার রান্ধুনীমুড়া দুটি ওয়ার্ডের কিশোরদের মধ্যে।
আরো পড়ুন
চোখের যে সমস্যা বলে দেবে ডায়াবেটিসের লক্ষণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপুর বাজারের ঘটনাটি মাইক্রোবাসকে সাইড দেওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪/৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। পরে ঘটনাটি রান্ধুনীমুড়া গ্রামে কিশোরদের সিগারেট খাওয়া নিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়।
এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। তবে উভয় ঘটনা এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামপুর বাজারে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের চালকদের মাঝে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে রামপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষ ইট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক যৌথবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা স্বপন মুঠোফোনে বলেন, ‘রামপুর বাজারে সিএনজি ও মাইক্রোবাসের চালকদের মাঝে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রথমে এটি ছোট পর্যায়ে থাকলেও পরে ব্যবসায়ী ইউসুফ আহত হওয়ার খবরে কয়েকটি গ্রামের লোকজন এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।’
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরায় স্পিরিট পানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ ২ জনের মৃত্যু
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় ইউসুফ, রাব্বি ও কুদ্দুসসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী আর পুলিশ এসে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তামিম বলেন, ‘রামপুর বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রেফার করা হয়েছে।’
অপরদিকে পৌর রান্ধুনীমুড়া ও মনিনাগ গ্রামে সিগারেট পান করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া ও মনিনাগ এলাকার লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, রান্ধুনীমুড়া এলাকা হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে গত সোমবার বিকেলে সিগারেট পান করা নিয়ে রান্ধুনিমূড়া গ্রামের আমিরা বাড়ির সোহাগের ছেলে নাহিদ ও মনিনাগ এলাকার হাওলাদার বাড়ির দেলোয়ারের ছেলে রাহুলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার বিকেলের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে রান্ধুনীমূড়ার নাহিদ তার বন্ধু-বান্ধবসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে মনিনাগ এলাকার নাহিদকে মারধর করার অপেক্ষায় থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে মনিনাগ এলাকার লোকজন মাইকিং করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে দুই এলাকার লোকজন মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আরো পড়ুন
কমলনগরে চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর বসতঘরে হামলার অভিযোগ, আহত ৪
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিহাব, আলম, বাহাদুর, হাবিব, রিয়াদ, নাইম, আলাউদ্দিন, সবুজ, রাব্বিসহ আরো বেশ কয়েকজন ছিলেন।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রামপুর বাজারে সিএনজি ও মাইক্রো চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে কয়েকটি গ্রামে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে যৌথবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করি। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অপরদিকে রান্ধুনীমুড়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে ও যৌথ বাহনী পোঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।’