ঈদের নির্দিষ্ট তারিখ জানালেন মিসরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ঈদের নির্দিষ্ট তারিখ জানালেন মিসরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
ফাইল ছবি

আগামী ৩০ মার্চ এ বছরের ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মিসরের জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভূ-ভৌতিক গবেষণা ইনস্টিটিউট (এনআরআইএজি)। এই তারিখটি বিভিন্ন আরব দেশের পূর্বাভাসের সঙ্গেও মিল রেখেছে বলে জানিয়েছে এনআরআইএজি। যা রমজানের সমাপ্তি এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডারের শাওয়াল মাসের সূচনার ইঙ্গিত দেয়।

এনআরআইএজি জানিয়েছে, শাওয়াল মাসের চাঁদ ২৯ মার্চ কায়রো সময় দুপুর ১টায় উদিত হবে এবং ওই দিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ১১ মিনিট দৃশ্যমান থাকবে।

এর ভিত্তিতে ৩০ মার্চকে ঈদের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মিসরের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ‘দার আল-ইফতা’ প্রদান করবে, যারা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের তারিখ ঘোষণা করে।

মিসর সরকার নিশ্চিত করেছে যে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে তিন দিন—৩০ মার্চ রবিবার থেকে ১ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত।

এদিকে ঈদুল ফিতরে ৯ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২৮ মার্চ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

পবিত্র শবেকদরে যেসব ইবাদত করবেন

মাইমুনা আক্তার
মাইমুনা আক্তার
শেয়ার
পবিত্র শবেকদরে যেসব ইবাদত করবেন

বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। মহান আল্লাহ এই রাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এই রাতের বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি শবেকদরে। তুমি কি জানো কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।

’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৩)

এই রাতে আল্লাহ তাঁর অফুরন্ত রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খুলে দেন। এই রাতে যারা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে, তাদের ক্ষমা করে দেন। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-ও এই রাতের অনুসন্ধান করতেন। সাহাবায়ে কিরামও এই রাতের অনুসন্ধানকরত গুরুত্ব সহকারে ইবাদত-বন্দেগি করতেন।

 

বর্তমান যুগেও আল্লাহর সৌভাগ্যবান বান্দারা এই রাতের অনুসন্ধানে রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করেন। অনেকে আবার ঘরেও এই রাতের অনুসন্ধানে নির্ঘুম আমলময় রাত কাটান। নিম্নে রাতের করণীয় কিছু আমল তুলে ধরা হলো—

কোরআন তিলাওয়াত

রমজান মাস এবং এই বরকতময় রাতে মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম কাজ হলো কোরআন তিলাওয়াত, তা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে হোক কিংবা নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে হোক। এটি নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের একটি অন্যতম মাধ্যম।

কেননা জিবরাইল (আ.) প্রতিবছর রমজানে নবী (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের বছর জিবরাইল (আ.) দুইবার কোরআন খতম করান।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) কল্যাণের কাজে ছিলেন সর্বাধিক দানশীল, বিশেষভাবে রমজান মাসে। (তাঁর দানশীলতার কোনো সীমা ছিল না) কেননা, রমজান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি কল্যাণের জন্য প্রবহমান বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হতেন।

(বুখারি, হাদিস : ৪৯৯৭)

ইমাম ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায় যে নবী (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল ব্যক্তি, আর রমজান মাসে তিনি আরো বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন। এর কারণ ছিল জিবরাইল (আ.) প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে কোরআন পাঠ করতেন। এই শিক্ষার অনুসরণে পূর্ববর্তী মনীষীরা রমজান মাসে কোরআন পাঠ ও অধ্যয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) রমজানে ৬০ বার কোরআন খতম করতেন। আর ইমাম মালিক (রহ.) রমজান এলে তাঁর অন্যান্য বই বন্ধ করে দিতেন এবং সম্পূর্ণরূপে কোরআন পাঠে মনোনিবেশ করতেন।

তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ

আল্লাহ তাআলা রাতে নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এটিকে মুমিনের সম্মানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাতের নামাজ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম এবং এটি দুনিয়ার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও পরকালের কল্যাণের পথ প্রশস্ত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭)

জিকির ও দোয়া

রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং এই মাসে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময় রয়েছে। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উচিত, বিশেষ করে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের জন্য। আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি যদি শবেকদর পেয়ে যাই, তবে কোন দোয়া পড়ব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, পড়বে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ (হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করুন)। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

এ ছাড়া অন্যান্য সময়ের মতো রমজানে যেকোনো জিকির করা যেতে পারে।

দান-সদকা

রমজানের যেকোনো দিন দান-সদকা করা ফজিলতপূর্ণ, তবে শেষ দশকের মধ্যে এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। যে রাতের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৩)

ইতিকাফ

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এরপর তাঁর স্ত্রীরাও এ আমল অনুসরণ করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২০২৬)

এক কথায় এই রাতের মূল আমল হলো—নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, তাওবা ও ইস্তিগফার এবং দান-সদকা। আল্লাহ এই রাতের বরকত আমাদের নসিব করুন। আমিন!

 

মন্তব্য

শবেকদরের বিশেষ আমল

আলেমা হাবিবা আক্তার
আলেমা হাবিবা আক্তার
শেয়ার
শবেকদরের বিশেষ আমল

শবেকদর, লাইতুল কদর বা কদরের রাতই হলো রমজানের অনন্য মর্যাদার একটি দিক। আল্লাহ মহিমান্বিত এ রাতে কোরআন নাজিল করেছেন এবং রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৩)

কদরের রাতের মর্যাদা একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারাও প্রমাণিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো সে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।

কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪৪)

শবেকদরের অনন্য মর্যাদা

আল্লাহ মহিমান্বিত এই রাতকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে কদরের রাতের এমন কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—

১. কোরআন নাজিল হওয়া : আল্লাহ কদরের রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা কদরের রাতে একসঙ্গে লওহে মাহফুজ থেকে সম্পূর্ণ কোরআন পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ করেন।

অতঃপর সেখান থেকে ধীরে ধীরে নবুয়তের ২৩ বছরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৫২৯)

২. হাজার মাসের চেয়ে উত্তম : আল্লাহ কদরের রাতকে হাজার রাতের চেয়ে উত্তম ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১-৩)

৩. বরকতময় রাত : আল্লাহ কদরের রাতকে বরকতময় রাত বলেও ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি তা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা : দুখান, আয়াত : ৩-৪)

৪. পৃথিবীতে ফেরেশতাদের আগমন : কদরের রাতে আল্লাহ পৃথিবীতে জিবরাইল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা প্রেরণ করেন। আল্লাহ অধিক পরিমাণ বরকত ও রহমত নাজিল করেন এবং তার ধারক-বাহক হিসেবে ফেরেশতাদের আগমন ঘটে। এ ছাড়া এই রাতে অধিক পরিমাণ ইবাদত হওয়ায় রহমতের ফেরেশতারা অধিক হারে আগমন করেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৫৩১)

৫. শয়তান থেকে নিরাপদ : মুজাহিদ (রহ.) বলেন, আল্লাহ তাআলা কদরের রাতকে শয়তানের প্ররোচনা ও ধোঁকা থেকে তাঁর বান্দাদের রক্ষা করেন। ফলে শয়তান ও তার বাহিনী মুমিনদের মন্দ কাজে প্ররোচিত করতে পারে না। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৫৩১)

৬. ভাগ্যলিপি বণ্টন : কদরের রাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতের ভাগ্যলিপি বণ্টন করেন। অর্থাৎ লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত মানুষের ভাগ্যলিপি থেকে এক বছরের বরাদ্দ ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয়। যেমন আল্লাহ বলেছেন, ‘এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা : দুখান, আয়াত : ৪; শরহুল মুসলিম লিন-নববী : ৮/৫৭)

৭. গুনাহ ক্ষমা : কদরের রাতে আল্লাহ বান্দার পাপ মার্জনা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৬৮)

শবেকদরে বিশেষ আমল

বেশির ভাগ হাদিস থেকে অনুমিত হয় যে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত রমজানের শেষ দশকে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ হাদিসে ছয় ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। তাই প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা আবশ্যক। কেউ যদি তাতে অক্ষম হয় তবে সে যেন শেষ তিন রাতে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করে। আর তা-ও যদি সম্ভব না হয় তবে সে যেন ২৭ রমজানের রাতে তা অনুসন্ধান করে। প্রাজ্ঞ আলেমরা হাদিসের আলোকে ‘লাইলাতুল কদর’ অনুসন্ধানে চারটি বিশেষ আমলের কথা বলেছেন। তা হলো—

১. দেহ-মনের পবিত্রতা অর্জন : লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের প্রধান শর্ত ভেতর ও বাইরের পবিত্রতা লাভ এবং একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও জাকাত দিতে, এটাই সঠিক দ্বিন।’ (সুরা : বাইয়িনাহ, আয়াত : ৫)

২. রাতে নামাজ ও ইবাদত : রাসুলুল্লাহ (সা.) কদরের রাতে ইবাদত ও নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষত তাহাজ্জুদের নামাজের মাধ্যমে মুমিন কদরের রাতের বরকত অনুসন্ধান করবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫)

৩. ক্ষমা প্রার্থনা : আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি লাইলাতুল কদর কোনটি, তাহলে আমি সে রাতে কী বলব? তিনি বলেন—তুমি বোলো,

‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’ 

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

৪. প্রত্যেক বিজোড় রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকা : যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন, তাই শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতকে ইবাদতের জন্য অবসর রাখা এবং তাতে ইবাদতে মগ্ন থাকা উত্তম। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদ‌র অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

ওলামায়ে কিরাম এ রাতে সম্মিলিত ইবাদতের পরিবর্তে একান্তে ইবাদত করতে উৎসাহিত করেছেন। যদি কারো ঘরে ইবাদতের উত্তম পরিবেশ না থাকে। তবে সে মসজিদে সম্মিলিত ইবাদত, জিকির ও মোনাজাতে অংশ নিতে পারে।

আল্লাহ সবাইকে লাইলাতুল কদরের বরকত ও অনুগ্রহ দান করুন। আমিন।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
প্রশ্ন-উত্তর

বর্গা দেওয়া গরুর খাবারের খরচ কে বহন করবে?

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামী জীবন ডেস্ক
শেয়ার
বর্গা দেওয়া গরুর খাবারের খরচ কে বহন করবে?
প্রতীকী ছবি

প্রশ্ন : বর্গা দেওয়া গরুর খাবারের খরচ কে বহন করবে?

-ইবরাহিম, কুমিল্লা

উত্তর : গরু বর্গা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি শরিয়তসম্মত নয়। তাই তা নাজায়েজ। এখন আপনার করণীয় হলো—আপনি বর্গাগ্রহীতাকে গরু লালন-পালন বাবদ ন্যায্য পারিশ্রমিক দেবেন। গরু বিক্রির পূর্ণ লভ্যাংশের মালিক আপনি একাই হবেন।

গরুর খাওয়া ও চিকিৎসা খরচও আপনিই বহন করবেন। (হিন্দিয়া : ৪/৪৪৫, তাবয়িনুল হাকায়েক : ৫/২৭৮, ফাতাওয়া হক্কানিয়া : ৬/৩৫১)

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

পবিত্র শবেকদর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
পবিত্র শবেকদর আজ
সংগৃহীত ছবি

আজ ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর পালিত হবে। এই রাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবেকদর পালন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই রাত কাটান।

ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এই রাতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত। ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত শবেকদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত।

 

ইবাদতের মাধ্যমে এই রাত জাগরণ করলে জীবনের পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ২০১৪)
শবেকদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়েছে।

‘শবেকদর’ ফারসি শব্দ। শব মানে রাত বা রজনী, আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবেকদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবেকদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং বেশি সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

শবেকদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আজ বাদ মাগরিব শবেকদরের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা এবং দোয়া মাহফিল হবে। শবেকদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ